Monday, 21 December 2015

Mathematics - scholar

Mathematics - scholar

গণিতবিদ রামানুজনের জন্মদিন

দীপংকর গৌতম : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:22 Dec 2015   12:07:04 AM   Tuesday   ||   Updated:22 Dec 2015   08:17:54 AM   Tuesday
গণিতবিদ রামানুজনের জন্মদিন
দীপংকর গৌতম : রামানুজনকে ইংরেজ গণিতবিদ জি এইচ হার্ডি ‘গণিতবিদের গণিতবিদ’ বলেছেন। অসামান্য প্রতিভাবান ছিলেন ভারতীয় এই গণিতবিদ। পুরো নাম শ্রীনিবাস রামানুজন। তিনি ১৮৮৭ সালের ২২ ডিসেম্বর ভারতের মাদ্রাজে ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শ্রীনিবাস ইয়োঙ্গার ছিলেন শহরের একটি কাপড়ের দোকানের হিসাব রক্ষক। মা ইরোদ ছিলেন গৃহিণী এবং বুদ্ধিসম্পন্ন মহিলা। প্রচলিত আছে যে, বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর সন্তান না হওয়ায়, রামানুজনের মাতামহ নামগিরি দেবীর নিকট সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেন। এরপরই ইরোদের গর্ভে রামানুজন জন্মগ্রহণ করেন।

রামানুজন খুব অল্প সময় বাঁচলেও তিনি গণিতে সুদূরপ্রসারী অবদান রেখে গেছেন। প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় তিনি গণিতের বিভিন্ন শাখায়, বিশেষ করে গাণিতিক বিশ্লেষণ, সংখ্যাতত্ত্ব, অসীম ধারা ও আবৃত্ত ভগ্নাংশ শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।  তার রেখে যাওয়া নোটবুক বা ডায়েরি হতে পরবর্তীতে আরও অনেক নতুন সমাধান পাওয়া গেছে। রামানুজন ১০ বছর বয়সে গণিতের সঙ্গে পরিচিত হোন। পাঁচ বছর বয়সে রামানুজনকে পাড়ার পাঠশালায় ভর্তি করা হয়। রামানুজন সাধারণত কম কথা বলতেন এবং মনে হতো তিনি কিছুটা ধ্যানমগ্ন থাকতেন। তার অসাধারণ প্রতিভা স্কুল কর্তৃপক্ষের গোচরে আসে এবং প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বৃত্তি দেওয়া হয়।

রামানুজন বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে বিভিন্ন গাণিতিক উপপাদ্য, গণিতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। তিনি পাই ও দুই-এর বর্গমূল-এর মান যে কোনো সংখ্যক দশমিক স্থান পর্যন্ত বলতে পারতেন। প্রথমে নিজের এই অদ্ভুত প্রতিভার বিচার তিনি নিজেই করতে পারেননি। তার এক বন্ধু তাকে  জি.এস. কারের লেখা ‘সিনপসিস অফ এলিম্যান্টরি রেজাল্ট ইন পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ম্যাথাম্যাটিক্স’ বইটি পড়তে দেন। মূলত এই বইটি পড়েই তার গাণিতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটতে শুরু করে।

রামানুজন এই বইয়ের প্রদত্ত বিভিন্ন গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা পরীক্ষা শুরু করেন। তিনি ম্যাজিক স্কোয়ার গঠনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। বৃত্তের বর্গ সম্পর্কীত তার গবেষণা পৃথিবীর বিষুবরৈখিক পরিধির দৈর্ঘ্য নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্যামিতির সীমাবদ্ধতা দেখে তিনি শুরু করেন বীজগণিত বিষয়ে গবেষণা কাজ। কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের ফেলো জি এইচ হার্ডির আমন্ত্রণে তিনি ইংল্যান্ড যান এবং তার সঙ্গে গবেষণার সুযোগ পান।

১৯০৯ সালে রামানুজান বিয়ে করেন। কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান না থাকাতে তিনি স্বভাববিরুদ্ধ নানা কাজের সন্ধান করতেন। তাই তাঁর নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করারও সৌভাগ্য হয়নি। ইংল্যান্ড গমনের পর তিনি স্বস্তিতে কাজ করেন জীবনের বাকি দিনগুলো। ১৯১৭ সালের বসন্তকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ভর্তি করা হয় কেমব্রিজের একটি নার্সিং হোমে। কিন্তু এরপর তিনি আর কখনো সুস্থ হয়ে ওঠেননি। ১৯১৯ সালে তিনি ভারতবর্ষে ফিরে আসেন। ১৯২০ সালের ২৬ এপ্রিল মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রামানুজনের উদ্ভাবনসমূহ ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। গণিতে তার মতো গবেষক  উপমহাদেশে আর আসেনি। এই বিস্ময়কর প্রতিভাবান গণিতবিদ অল্পদিন বেঁচে থাকলেও তার কাজের পরিধি বিস্তর। আজ জন্মদিনে তার জীবন ও কর্মের প্রতি জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ ডিসেম্বর ২০১৫/তারা

No comments:

Post a Comment