বিশ্বের সবচেয়ে বর্ণিল উৎসব
রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:10 Feb 2016 12:11:32 AM Wednesday || Updated:10 Feb 2016 09:57:03 AM Wednesday
চোখ ধাঁধানো পরিবেশনা, উচ্ছ্বাস-উল্লাসে রিও ভরে যায় প্রাণের সঞ্চারণে। কোনো বাধা নেই, যেমন ইচ্ছা সাজসজ্জা নিয়ে রাস্তায় নেমে আনন্দ করার পূর্ণ আয়োজন থাকে রিওতে। এ শুধু ব্রাজিলের উৎসব- তা বললে বড্ড ভুল হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ জড়ো হয় রিও কার্নিভালে।
এবার রিও কার্নিভাল শুরু হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে। চলছে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই পাঁচ দিন আনন্দের বন্যা বয়ে যাবে। প্রতিবারের মতো এবারও বাঁধভাঙা প্লাবনের মতো রিও রাস্তায় উচ্ছ্বসিত জনতার ঢল নেমেছে। এবার প্রায় ২০ লাখ বিদেশি এসেছেন রিওর রঙে রঙিন হতে।
রিও কার্নিভাল শুরু হয় ১৭২৩ সালে। সেই থেকে প্রতিবছর এই উৎসব চলে আসছে মহা ধুমধামে। ইস্টার সানডের ৫১ দিন আগে কার্নিভাল শুরু হয়। কার্নিভালের আগে যিশুর উদ্দেশে অনেক উপোস করে থাকেন। তারপর উৎসবের মধ্য দিয়ে যিশুর উদ্দেশে শুভ বার্তা দেন ব্রাজিলের লোকেরা। অবশ্য একই সময়ে বিশ্বের অনেক দেশে একই উদ্দেশে কার্নিভাল হয়ে থাকে। অর্থাৎ রিও কার্নিভালের মধ্যমনি যিশু।
রিও কার্নিভালে সাম্বা নাচের স্কুলগুলো তাদের নাচ পরিবেশন করে। এটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশনা। এবার যে স্কুল সাম্বা নাচে প্রথম হবে আগামী বছর তারাই কার্নিভালের নাচে নেতৃত্ব দেবে। এভাবেই চলে আসছে বেশ আগে থেকে।
রিও কার্নিভালের অংশগ্রহণকারীরা এখন অনেক খোলামেলা পোশাকে আসে। নিকট অতীতেও এমন ছিল না। রিওতে এই সময়ে প্রচণ্ড গরম থাকে। তাই লোকজন সাদা পোশাক পরে থাকে। কার্নিভালেও সাদা পোশাক পরার রীতি ছিল। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত কার্নিভালে সাদা পোশাকের চল ছিল। তারপর তা ভাঙতে শুরু করে। পরের ২০ বছরের সাদার সঙ্গে অন্যান্য রঙের পোশাকও দেখা যায়। আর ১৯৫০ সাল থেকে ছোট পোশাক পরে কার্নিভালে আসতে দেখা যায় অনেককে। বর্তমানে খোলামেলা পোশাক পরেই বেশির ভাগ লোক কার্নিভালে যোগ দেয়।
কার্নিভালে যোগ দিতে কারো কোনো বাধা নেই। কেউ আসছে বিকিনি পরে তো কেউ আসছে ঊর্ধ্বাঙ্গ ফাঁকা করে। তবে মাথায়, পিঠে, বুকে বর্ণিল সজ্জা থাকে। এই সজ্জাগুলোই যতো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়।
রিও কার্নিভালকে আরো জাঁকজমকপূর্ণ করতে ১৯৮০ সালে রিও প্রশাসন তৈরি করে সাম্বাদ্রোমো স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামে সাম্বা নাচ প্রদর্শন করা হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়েও সাম্বা নাচ করা হয়।
রিও কার্নিভাল নিয়ে ব্রাজিলের প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্ততি থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে উৎসরের জায়গা প্রস্তুত, নিরাপত্তা নিশ্চিত পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়। আর বেসরকারিভাবে খাবার, হোটেল-মোটেলের সুব্যবস্থা করা হয়। এ থেকে প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের আয়ও হয় ব্রাজিলের। দেশটির জাতীয় আয়ে রিও কার্নিভালের অবদান উল্লেখ করার মতো।
এবার রিও কার্নিভাল নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগে ছিলেন আয়োজকরা। জিকা ভাইরাসের কারণে অনেক পর্যটক আসেননি। বিশ্বে যতগুলো দেশে জিকা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে, তার মধ্যে ব্রাজিল সবার ওপরে।
দেশটির প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নারী গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে জিকা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রোধে ব্রাজিল সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। অবশ্য উদ্বেগ উপেক্ষা করেও বছরের সবচেয়ে বর্ণিল আয়োজনে অংশ নিতে এসেছেন অনেকে।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/রাসেল পারভেজ/নওশের
No comments:
Post a Comment