১০১টি ভুল ধারণা (পর্ব-২)
মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:10 Feb 2016 12:30:43 AM Wednesday || Updated:10 Feb 2016 11:28:59 AM Wednesday
কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান অনেক উন্নত। তাই এই সময়ে ভুল ধারণা নিয়ে থাকাটা অনেক সময় বিব্রতকর হতে পারে।
খাবার, প্রাণী, পৃথিবী, স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ে প্রচলিত অনেক ধারণাকে, বিজ্ঞানীরা ভুল প্রমাণ করেছেন। তাই এখন সময় আকর্ষণীয় সব ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার।
প্রচলিত ১০১টি ভুল ধারণা নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবপোর্টাল বিজনেস ইনসাইডার। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য প্রথম পর্বে ১০টি ভুল ধারণা প্রকাশ করা হয়েছিল। পড়ুন : ১০১টি ভুল ধারণা (পর্ব-১)।
আজ ২য় পর্বে আরো কিছু প্রচলিত ধারণা প্রকাশ করা হলো, যেগুলো বিজ্ঞানসম্মত নয়।
ধারণা-১১ : হাই ব্লাড প্রেসার হয় মানসিক চাপে থাকলে
মানুষের হাই ব্লাড প্রেসার হওয়ার জন্য কেবল মানসিক চাপ খুব বড় ভূমিকা রাখে না। তীব্র মানসিক চাপ সাময়িকভাবে ব্লাড প্রেসার বাড়ায়, কিন্তু সামগ্রিকভাবে এটা হাই ব্লাড প্রেসারের প্রধান কারণ নয়। বরঞ্চ জেনিটিকভাবে, বা ধূমপান ও খারাপ খাদ্য অভ্যাসের মতো কারণগুলো ব্লাড প্রেসার তৈরির জন্য অনেক বেশি ভূমিকা রাখে।
ধারণা-১২: জিরাফ প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট ঘুমায়
জিরাফের ঘুম নিয়ে প্রচলিত এই ধারণাটি ভুল। প্রাণী বিজ্ঞানীরা পাঁচটি বড় জিরাফ এবং ৩টি ছোট জিরাফের স্বল্প ও গভীর ঘুম খুব কাছ থেকে খেয়াল করেছেন ১৫২ দিনের একটি গবেষণনায়। জিরাফ রাতে গভীর ঘুম দেয় এবং বিকালের দিকে স্বল্প ঘুম। সব মিলিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি জিরাফ প্রতিদিন প্রায় ৪.৬ ঘণ্টা ঘুমায়।
ধারণা-১৩ : বজ্রপাত একই জায়গায় একাধিক বার হয় না
একই জায়গায় কখনো দুইবার বজ্রপাত হয় না, এমন ধারণা রয়েছে অনেকের। কিন্তু এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ বজ্রপাত একই জায়গায় একাধিকবার আঘাত হানতে পারে।
ধারণা-১৪: ভিটামিন ট্যাবলেট স্বাস্থ্যকর করে তুলবে
ভিটামিন ট্যাবলেট নিয়ে একটা বড় কথা বলা হয়ে থাকে যে, প্রতিদিন একটা ভিটামিন ট্যাবলেট আপনাকে স্বাস্থ্যকর করে তোলার জন্য যথেষ্ট। কারণ স্বাস্থ্যকর করে তোলার জন্য যা দরকার তার সবই রয়েছে ভিটামিট ট্যাবলেটে। যদি সত্যিই তা কাজ করে। তবে ভিটামিন ট্যাবলেটের ওপর এক দশকের গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত মাল্টি ভিটামিন খাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা গবেষকরা খুঁজে পাননি। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ভিটামিন আসলে বিভিন্ন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ধারণা-১৫: মানুষ এইচআইভি পেয়েছিল, কারণ কেউ বানরের সঙ্গে সেক্স করেছিল
এইচআইভি সম্ভবত মানব-বানর সেক্সের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আসেনি। এইচআইভি সম্ভবত মানুষের মধ্যে এসেছে বানর শিকার করে বানরের কাঁচা মাংস খাওয়ার মধ্যে দিয়ে, যা রক্ত থেকে রক্তে ছড়িয়েছিল।
ধারণা-১৬: শরীরের ডিএনএ কোডের প্রতিটি জিন হচ্ছে এক একটি প্রোটিন
শরীরের একটি জিন মানেই কিন্তু একটি প্রোটিন নয়। শরীরের এমআরএনএ এর বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে অনেক জিন বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন তৈরি করে। এবং অন্যান্য অনেক জিন আসলে প্রোটিন তৈরি করে না।
ধারণা-১৭: বেশি পরিমাণে গাজর খেলে অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা বাড়ে
গাজরের অন্যতম প্রধান উপকারিতা হচ্ছে, এতে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের জন্য ভালো। কেননা ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। কিন্তু গাজর নিয়ে একটা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, অনেক বেশি পরিমাণে গাজর খেলে, ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতেও সবকিছু স্পষ্ট দেখার ক্ষমতা পাওয়া যায়। এই সুপারশক্তি আসলে পাওয়া যায় না।
ধারণা- ১৮: ব্যাঙ থেকে মানুষের আঁচিল হয়
মানুষের আঁচিলের জন্য ব্যাঙ দায়ী নয়, বরঞ্চ আঁচিল রয়েছে এমন কারো সংস্পর্শ থেকেই আপনার আঁচিল হতে পারে। মানুষের আঁচিলের জন্য পেপিলোমা নামক একটি ভাইরাস দায়ী এবং তা খুবই ইউনিক।
ধারণা-১৯: পৃথিবী গোলাকার
পৃথিবী দেখতে পুরোপুরি গোলাকার নয়, বরং কমলালেবুর মত ওপর ও নিচের দিকে কিছুটা চাপা এবং মধ্যভাগ (নিরক্ষরেখার কাছাকাছি) স্ফীত। এ ধরণের স্ফীতি তৈরি হয়েছে নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে এর ঘূর্ণনের কারণে। একই কারণে বিষুব অঞ্চলীয় ব্যাস মেরু অঞ্চলীয় ব্যাসের তুলনায় প্রায় ৪৩ কিমি বেশি।বিজ্ঞানীরা মনে করছেন বর্তমানে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং হিমবাহ গলনের কারণে (কম ওজন ভূতকের নীচে চাপ তৈরি করছে) পৃথিবীর স্ফাতি এখন বাড়ছে।
ধারণা-২০: পানিতে অনেক মাইল দূর থেকেও হাঙর এক ফোটা রক্তের ঘ্রান পেয়ে যায়
এটা আসলে একটা অতিরঞ্জিত গুজব। মহাসাগরে আপনি রক্তাক্ত হলে, হাঙর সেই রক্তের ঘ্রানেই আপনার দিকে ছুটে আসবে না। এটা সত্যি যে, হাঙরের খুবই উচ্চ ঘ্রাণসমৃদ্ধ প্রাণী, কিন্তু সেজন্য ১০০ বিলিয়ন পানির অংশে সামান্য ১ অংশ রক্তের ঘ্রাণ খোঁজার মতো যথেষ্ট নয়। যেমন বলা যেতে পারে মোটামুটি একটা অলিস্পিক সাইজের পুলের মধ্যে এক ফোঁটা রক্ত পড়লে সেটা হাঙর চিহ্নিত করতে পারে। কিন্তু সমুদ্র অনেক অনেক অনেক বেশি বড়, তাই সেখানে ঘ্রাণ মুহূতেই মিলিয়ে যেতে পারে। স্রোত যেদিন অনুকূলে প্রবাহিত হয়, সেদিন একটি হাঙর ঘ্রাণ পেতে পারে কিছু ফুটবল মাঠের মতো দূরত্ব থেকে, অনেক অনেক মাইল দূর থেকে নয়।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/ফিরোজ
No comments:
Post a Comment