রাজবাড়ীর মিষ্টি পানের সাত দেশ জয়
সোহেল মিয়া : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:09 Feb 2016 05:21:12 PM Tuesday
পান সাজাচ্ছেন নারীরা (ছবি : গোলাম মোর্তবা রিজু)
পরিবার পরিজন নিয়ে যারা এক সময় দুর্বিসহ জীবন যাপন করত তারা আজ সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করছেন। সংসার চালানোর পাশাপাশি আজ তাদের সন্তানদেরকেও লেখাপড়া শেখাচ্ছেন।
এই জেলার স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর পান ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, দুবাই ও নেপালে রফতানি করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সাধারণত মিষ্টি ও সাচি জাতের পান উৎপাদন হয়।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার আড়কান্দি, বেতাঙ্গা, চরআড়কান্দি, ইলিশকোল, স্বর্পবেতাঙ্গা, খালকুলা ও বহরপুর এলাকায় ব্যাপক পানের আবাদ হয়। পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই অঞ্চলের চাষিরা পানের আবাদ করে আসছেন বলে জানান তারা।
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে শুধু বালিয়াকান্দিতেই ৮১৪টি পানের বরজ রয়েছে। যাতে প্রায় ২ হাজার চাষি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পান চাষের সঙ্গে জড়িত এবং প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হচ্ছে।
পানচাষির সঙ্গে কথা বলছেন রাইজিংবিডির প্রতিনিধি সোহেল মিয়া
সরেজমিনে আড়কান্দিতে গিয়ে দেখা যায়, বরজ থেকে পান তুলে এনে নারীরা ঘরের বারান্দায় নিপুণ হাতে পান সাজাচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজে অংশগ্রহণ করছেন।
পানচাষি সুরজিৎ ও আব্দুল বারেক জানান, এই পান চাষ করে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। আজ আমরা স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করছি। বরজ থেকে পান তুলে আমরা রাজবাড়ীর মোকামে নিয়ে পাইকারি দামে বিক্রি করি। আর ওখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকার ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান।
পানচাষিরা আরো জানান, এ বছর পানের দাম বেশ ভাল। মাঝারি ৪০ পন পানের দাম ১ থেকে দেড় হাজার এবং ভাল পান প্রায় ৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজবাড়ীর পান রফতানি করার ব্যাপারে পানের আড়ৎদার মনোজিৎ ভট্ট, পরিমল কর, রনজিৎ কর ও কার্তিক পাল জানান, আমাদের এই অঞ্চলের পান সুস্বাদু হওয়ায় বিভিন্ন দেশে এই সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ায় চাহিদা বেড়ে গেছে। আর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পানচাষিরাও ভাল দাম পাচ্ছেন।
স্বর্পবেতাঙ্গা গ্রামের পানচাষি আব্দুল খালেক ও নরেশ দেবনাথ জানান, পান বিক্রি করে আমরা লাভবান হচ্ছি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক সময় পানচাষিরা ক্ষতির সম্মুখিন হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায় না। তারা এসময় দাবি করেন অর্থকরি ফসল হিসেবে পানের হারানো গৌরব উজ্জ্বল দিন ফিরে পেতে হলে পানচাষিদের সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে চাষিরা যেমন উপকৃত হবে তেমনই সরকারও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
বালিয়াকান্দির একটি পানের বরজ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ভৌগোলিক কারণেই এখানকার মাটি পান চাষের উপযুক্ত। যদি পানচাষিদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও নজরদারিতে রাখা হয় এবং সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয় তাহলে এই অঞ্চলে পানে চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
রাইজিংবিডি/রাজবাড়ী/৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/সোহেল মিয়া/রিশিত খান
No comments:
Post a Comment