Cox's Bazar Stadium .
মুগ্ধতা ছড়াল কক্সবাজার স্টেডিয়াম
ইয়াসিন হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:03 Feb 2016 12:33:16 PM Wednesday || Updated:03 Feb 2016 01:43:50 PM Wednesday
ঘুরে আসুন কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজারে যেভাবে স্টেডিয়াম গড়ে উঠেছে তা শুধু মুগ্ধতাই ছড়াবে না, ক্রিকেটের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসারও জন্ম দেবে।
বিধাতা যেন রূপসী বাংলার সব রূপ কক্সবাজারে ঢেলে দিয়েছেন বালুর আঁচলে। ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এখানেই। তার পাশেই গড়ে উঠেছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্স। পুরোটা কমপ্লেক্স গড়ে উঠছে আধুনিক ক্রিকেটের সকল সুবিধা নিয়ে।
কক্সবাজার স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স: লাবনী পয়েন্টে ৫৫ একর জায়গায় ৯ হোলের পরিত্যক্ত গলফ কোর্সটি এখন শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্স। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে টার্গেট করে তড়িঘড়ি করে কক্সবাজার স্টেডিয়াম নির্মানের কাজ শুরু করা হয়েছিল। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হলেও বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি এখানে।
আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ না হলেও এখানে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট ও বয়স ভিত্তিক দলগুলোর ম্যাচ হয়ে আসছে। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো বড় আসর এবার এখানে আয়োজন হচ্ছে। যুব বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হবে কক্সবাজারে। ১৭টি ম্যাচ হবে সেখানে। মূল স্টেডিয়ামে নয়টি ও একাডেমি মাঠে হচ্ছে আটটি ম্যাচ।
কমপ্লেক্সের ভেতরে যা আছে: স্টেডিয়ামের কমপ্লেক্সে ঢুকতেই বাম পাশে চোখে পড়বে ২ নম্বর মাঠ। ডানপাশে ৩ নম্বর মাঠে। ২ নম্বর মাঠে খেলা চালু হলেও ৩ নম্বর মাঠ এখন শুধু অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। মাঠ পেরিয়ে যেতে পথে দুই পাশে দুটি পুকুর। যদিও এখন পুকুর রয়েছে কিছুদিন পরই এগুলোর একটি পূর্ণ সুইমিং পুলের রূপ ধারণ করবে। অন্যটিকে অবকাঠামো সুবিধা দিয়ে সাধারণ দর্শকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে সেখানে চলবে ছোট ছোট নৌকা। পুকুরের পাশে সারি সারি ৪০০ নারিকেল গাছের চারা লাগানো রয়েছে। শুধু নারিকেল গাছই না বেশ কিছু গাছের চারাও লক্ষ্য করা গেল।
মাঠের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে ছোট্ট গ্যালারি করা হয়েছে। গ্যালারিতে ১ হাজার ৬০০ জনের মতো দর্শক ধারণক্ষমতা আছে। ২ তলায় গ্যালারি আর ৩ তলায় প্রেসিডেন্ট বক্স, প্রেসবক্স, কমেন্ট্রি বক্সসহ প্রয়োজনীয় কিছু কক্ষ। সাগরমুখী করেই গ্যালারিগুলো তৈরী করা হয়েছে। যেন খেলা দেখার পাশাপাশি সাগরের সৌন্দর্য্য কিছুটা উপভোগ করা যায়। সঙ্গে রয়েছে বিস্তৃত ঝাউবন। মূল স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিশাল মাঠ। বিসিবির ইচ্ছে সেখানে গড়ে তুলবে ডরমেনটোরি। ক্রিকেটারদের একাডেমি হবে সেখানেই। জিম, সুইমিংপুল, একাডেমি মাঠে সব কিছু থাকবে কমপ্লেক্সের ভেতরেই।
অবকাঠোমো সুবিধা: কক্সবাজার স্টেডিয়ামে যতগুলো উইকেট আছে দেশের অন্য কোনো ভেন্যুতে তা নেই। স্টেডিয়ামের মূল মাঠে ৭টি সেন্টার উইকেট, একাডেমি মাঠে ৫টি সেন্টার উইকেটের পাশাপাশি আছে ১২টি অনুশীলন উইকেট। পাশের একাডেমি মাঠে আরো ১২টি। সব মিলিয়ে এই কমপ্লেক্সে আছে ৩৬টি মানসম্পন্ন উইকেট।
বিসিবির নিজস্ব মাঠ: বাংলাদেশের আইনে কোনো ফেডারেশনের মাঠের মালিক হওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এ মাঠটি বিসিবিকে দেওয়ায় বিসিবি নিজেই এটি তত্ত্বাবধান ও অর্থায়ন করছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একমাত্র নিজস্ব মাঠ এটি। এরই মধ্যে ৩৩ কোটি টাকা বিসিবি নিজের ফান্ড থেকে এ মাঠের জন্য খরচ করেছে। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ৯৯ বছরের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছ থেকে লিজ নেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যান্য ভেন্যুগুলোও লিজ নেওয়া। ব্যতিক্রম কেবল কক্সবাজারই।
কক্সবাজার শহরে ঢুকতেই কানে বাজবে উত্তাল সাগরের গর্জন। সাগরের বিশাল মায়াবী গোধূলী ও সুর্যাস্ত, রাতের নিস্তব্ধতায় এক অন্য জগত। সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে ব্যাট-বলের মধুর ঠুকঠাক শব্দ। অন্য রকম এক রোমাঞ্চ। সেই রোমাঞ্চ আপাতত যুব ক্রিকেটাররা দিলেও কয়েক বছর পরই হয় হয়তো মুস্তাফিজ-সাব্বির আর সৌম্যদের পদচারণায় মুগ্ধ হয়ে উঠবে ক্রিকেটের তীর্থস্থান!
রাইজিংবিডি/কক্সবাজার/৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/ইয়াসিন/পরাগ
No comments:
Post a Comment