চট্টগ্রামে ৩ হাজার কোটি টাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
রেজাউল : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:30 Jan 2016 11:21:11 AM Saturday || Updated:30 Jan 2016 02:38:41 PM Saturday
চট্টগ্রামে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মডেল
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহর থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর পর্যন্ত অতি দ্রুততম সময়ে চলাচল বা যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম রাইজিংবিডিকে জানান, ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর এ সম্পর্কিত অনুশাসন দেন। পরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) সমীক্ষা করে দেখেছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির ২০ বছরের মধ্যেই বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত আসবে আদায় করা টোল থেকে। চার লেনের ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েটি হবে চট্টগ্রামের লাইফলাইন। সঙ্গে বহদ্দারহাট থেকে ওয়াসা আউটার রিং রোড ও কর্ণফুলী টানেলের সংযোগ থাকবে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশে অর্থায়ন কোনো সমস্যা নয়। এক্সপ্রেসওয়ের সুফল শুধু বিমানযাত্রী, শিল্পোদ্যোক্তা, দেশি-বিদেশি পর্যটক ও নগরবাসী ভোগ করবেন তা নয়। এর বড় সুফলভোগী হবে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। তাই বন্দরের তহবিলে যে ৮ হাজার কোটি টাকা এফডিআর করে রাখা হয়েছে সেখান থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে খাতে ধার হিসেবে তিন হাজার কোটি টাকা দেওয়া যেতে পারে। এটা একসঙ্গে দিতে হবে তা-ও নয়। ধাপে ধাপে দিলেও হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান আরো জানান, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বিমানবন্দর থেকে মূল শহরে আসার জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, টোল রোড, এক্সপ্রেস রেলওয়ে তিনটিই থাকে। অথচ আমাদের যানজটের কারণে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে বিমানবন্দর থেকে মূল শহরে আসতে। আগামী ১০ বছর পর হয়তো মূল শহরের মানুষকে নৌকায় চড়ে বিমানবন্দর গিয়ে ফ্লাইট ধরতে হবে। আগামী ১০ বছরে ১ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে বৃহত্তর চট্টগ্রামে। ৩০-৩২ বিলিয়ন ডলারের যে এক্সপোর্ট তা অল্পদিনের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। এর সিংহভাগই হবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে, এখন মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯২ শতাংশের বেশি এ বন্দর দিয়ে হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই প্রয়োজনের তাগিদেই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। একটা সময় আসবে দৈনিক বিমানযাত্রী কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে তখন এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির আর সুযোগ থাকবে না। আগামী ১শ’ বছরের চিন্তা মাথায় রেখে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/৩০ জানুয়ারি ২০১৬/রেজাউল/দিলারা
No comments:
Post a Comment