Friday, 8 January 2016

Sundarban - Eco tourism




ইকো ট্যুরিষ্ট আকর্ষণ হারাচ্ছেসুন্দরবন
আলী আকবর টুটুল : রাইজিংবিডি ডট কমPublished: 25 Mar 2015   12:24:28 PM   Wednesday   

সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী
সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী
আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট : ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস সুপার সাইক্লোন বুকে ধারণ করে উপকুলবাসীকে বাঁচিয়ে রাখা সুন্দরবনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ এখানের আশপাশের বাসিন্দারা ফলে বিশেষ আবেগের সঙ্গে কয়েক বছর ধরেই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেসুন্দরবন দিবসহিসাবে পালন করে আসছে সংশ্লিষ্ট জনপদের মানুষ  সুন্দরবন সুন্দরবন সন্নিকটের পাঁচটি জেলার প্রেসক্লাব নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করছে

বিশ্বখ্যাত এই ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট জাতির গর্ব হলেও দেশি-বিদেশি ইকো ট্যুরিষ্টদের কাছে সুন্দরবনকে আকর্ষনীয় করার নেই কোন উদ্যোগ জীববৈচিত্র্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষনের তবে পর্যটকের সুন্দরবন ভ্রমণে অবকাঠামোগত সুবিধাটুকুও নেই

সুন্দরবনের বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে ২০১০ সালে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার অধিক ব্যয়েসুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, চাঁদপাই শরনখোলায়পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন রক্ষণাবেক্ষণনামে একটি প্রকল্প তৈরি করে বন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করলেও আজও তা আলোর মুখ দেখেনি কারণে প্রতিবছরই সুন্দরবনে ইকো ট্যুরিষ্টদের সংখ্যা কমছে
  
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের হিসাব মতে, এই বিভাগে গত বছর যেখানে দেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল লাখ ১৬ হাজার ৫শ ৬০ জন বিদেশি পর্যটক ছিল হাজার ৮শ ৫৪ জন সেখানে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসে নানা কারনে দেশি পর্যটকদের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র হাজার ১শ ৮৬ জন বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে হাজার ১শ ৯৭ জনে যা গত বছরের ১২ ভাগের ভাগ মাত্র

সমগ্র সুন্দরবনের মোট আয়তনের মধ্যে বনভাগের পরিমাণ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার জলভাগের পরিমাণ হাজার ৮৭৪ বর্গকিলোমিটার বনে রয়েছে প্রায় ৪৫০টি নদ-নদী খাল সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, গরান, গোলপাতাসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ১৩ প্রজাতির অর্কিড রয়েছে

বন্যপ্রাণীর বৃহত্তম আবাসস্থল সুন্দরবনে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল-মায়া হরিণ, লোনা পানির কুমির, অজগর, কচ্ছপ, বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতীসহ প্রকার ডলফিন, প্রকার তিমিসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে বনে এর মধ্যে ৩২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরিসৃপ, প্রজাতির উভচর ৩০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে

সুন্দরবনের নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ইকো ট্যুরিষ্টদের সব সময় আকর্ষণ করে কারণে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বিষধর সাপ কুমিরের  আক্রমনের ভয় উপেক্ষা করে দুঃসাহসী ইকো ট্যুরিষ্টরা সুন্দরবনের আকর্ষনে বারবার এখানে ছুটে আসেন

হাজার ১৭ কিলোমিটার আয়তনের বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট এই সুন্দরবন ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ৬বার তার রূপ বদলায় খুব ভোরে এক রূপ, দুপুরে অন্যরূপ, পড়ন্ত বিকেলে অন্যরূপ, সন্ধ্যায় অপরূপ রূপে সজ্জিত হয় মধ্য গভীর রাতে এক রকম চাঁদনি রাতে মোহনীয় রূপে সজ্জিত হয় সুন্দরবন

ছাড়া গভীরভাবে দেখলে ১২ মাসে সুন্দরবন ১২ রকমের রূপ ধারণ করে যা দারুণ ভাবে পর্যটদের বিমোহিত করে ছাড়া কচিখালী সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যোদয় সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ তো রয়েছেই

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি ইকো ট্যুরিষ্টদের আকর্ষণ করলেও সুন্দরবন ভ্রমণে তাদের রয়েছে পদে পদে বিড়ম্বনা এখানে পর্যটকদের জন্য নেই কোন নিরাপদ আধুনিক নৌযান, পর্যাপ্ত হোটেল, রেষ্টুরেন্ট ব্যবস্থা এমনকি পর্যটকদের জন্য নেই সুপেয় পানির কোন ব্যবস্থা ইংরেজি জানা বন সম্পর্কে অভিজ্ঞ গাইডদের রয়েছে অপ্রতুলতা

প্রেক্ষাপটে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে ২০১০ সালে ১৩ কোটি ৬১ লাখ ৭৭৮ টাকা ব্যয়ে করমজল, হাড়বাড়িয়া, চাঁদপাই শরণখোলা পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন রক্ষণাবেক্ষণ নামে একটি প্রকল্প তৈরি করে বন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বন বিভাগ বছর ব্যাপি নির্মাণকাল ধরে ৪টি স্থানে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন রক্ষণাবেক্ষণ নামের প্রস্তাবিত প্রকল্পটিতে রয়েছে কুমির পালন-প্রজনন কেন্দ্র, হরিণ পালন প্রজনন কেন্দ্র, সাপ সংরক্ষণ প্রজনন কেন্দ্র, বানরের বসবাসের জন্য পাকাঘর

প্রকল্পটিতে রয়েছে অবজার্বেশন টাওয়ার, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটন কেন্দ্রের চারদিকে প্লাষ্টিকের আবরণযুক্ত তারের বেড়া, পর্যটকদের বসার জন্য ২২টি ছাউনিযুক্ত বসার স্থান আরসিসি জেটি নির্মাণ, সেমি পাকা অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, পর্যটকদের বন অভ্যন্তরে কাঠের ডেকিংযুক্ত ফুটটেইল সোলার প্যানেল, মটরযান ক্রয়, লঞ্চ নির্মাণ, ষ্টিলবডি ট্রলার নির্মাণ, অডিও-ভিডিও ক্যামেরা, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ট্রাংকুলাইজিং (বন্যপ্রাণী অচেতন করা বন্দুক) গান ক্রয়

প্রস্তাবিত ৪টি পর্যটন কেন্দ্রের জন্য সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ, পর্যটন কেন্দ্রের ভূমি উন্নয়ন, দ্বিতল ভবনবিশিষ্ট সুন্দরবন তথ্য কেন্দ্র নির্মাণ, সেমিপাকা টিকেট ঘর, সেন্ট্রি বক্স, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, সুন্দরবনের ডিসপ্লে ম্যাপ পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণের কথা ছিল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণ অনেক নিরাপদ আরামদায়ক হতো সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা আরো বাড়তো

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষার জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট দফতরে দাখিল করা হয়েছে  প্রকল্পটি এখনও অনুমোদন হয়নি তবে সুন্দরবনে করমজলে একটি আরসিসি অবজার্বেশন টাওয়ার নির্মাণ কুমির প্রজনন খামার সম্প্রসারণ করা হয়েছে ইকো ট্যুরিষ্টদের সুন্দরবনে যাতায়াতসহ আবাসনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যাবে

  রাইজিংবিডি/বাগেরহাট/২৫ মার্চ ২০১৫/ টুটুল/শাহ মতিন টিপু 

No comments:

Post a Comment