Tuesday, 15 December 2015

Great Freedom Fighter -1971

Great Freedom Fighter - 1971 as National recognized :

গৌরবের বীরশ্রেষ্ঠ, বিস্মৃতপ্রায় ইতিহাস

Published:16 Dec 2015   01:17:22 AM   Wednesday   ||   Updated:16 Dec 2015   08:55:52 AM   Wednesday
গৌরবের বীরশ্রেষ্ঠ, বিস্মৃতপ্রায় ইতিহাস
রাইজিংবিডি ডেস্ক : একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাংলার ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার ত্যাগ অনস্বীকার্য। যারা জীবন দিয়েছেন- তাদের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ মানুষ। দেশমাতার প্রয়োজনে পরিবার-পরিজন ফেলে সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তাদের সেই সংগ্রাম বৃথা যায়নি।

যুদ্ধ শেষে স্বাধীনতার সূর্য ওঠে বাংলাদেশের দিগন্তে। দেশের জন্য আত্মত্যাগী সেই সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্বজনরা এখন কেমন আছেন? কী অবস্থায় আছে তাদের স্মৃতিস্থানগুলো? এ সব বিষয় নিয়ে এবারের বিজয় দিবসে রাইজিংবিডির বিশেষ আয়োজন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নরসিংদী প্রতিনিধি গাজী হানিফ মাহমুদ, বরিশাল বিভাগীয় প্রতিবেদক জে কে স্বপন, ফরিদপুর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম টিটু, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদ, নড়াইল প্রতিনিধি ফরহাদ খান, নোয়াখালী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ও ভোলা প্রতিনিধি ফয়সাল বিন নয়ন।

পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি মতিউরের গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর
নরসিংদীর রায়পুরায় প্রতিষ্ঠার সাত বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। গ্রন্থাগারে কিছু বই থাকলেও জাদুঘরে বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিচিহ্ন নেই। অবহেলায় পড়ে আছে- তার পৈত্রিক ভিটা  বাড়িটি। বাড়ির ঘরটি জরাজীর্ণ হওয়ায় সেখানে তৈরি করা হয়েছে দু’চালা টিনের ঘর। উঠানেই রয়েছে মতিউর রহমানের নামফলক। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে তাদের গ্রামের করার সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো তা আটকে আছে কাগজ-কলমে।

বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত সাত জন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধার অন্যতম ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। তিনি ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকার ১০৯ আগা সাদেক রোডের ‘মোবারক লজ’-এ জন্ম নেন। তার বাবার নাম মৌলভী আবদুস সামাদ ও মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। নয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মতিউর ছিলেন ষষ্ঠ।

১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তানের সিন্দুতে থাট্টা নামক স্থানে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শাহাদৎবরণ করেন এ অসম সাহসী এবং অত্মবিশ্বাসী সামরিক অফিসার। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের পৈত্রিক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনা নদীর গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে রামনগর গ্রাম। এখানে কাটে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শৈশব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বীরশ্রেষ্ঠ পদক প্রাপ্তদের স্মরণে বীরশ্রেষ্ঠের নামে তাদের গ্রামের নাম করার সিদ্ধান্ত  নেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে মতিউর রহমানের পৈত্রিক গ্রামটি আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ করা হয়েছিল মতিউর নগর হিসেবে। পরে রামনগর গ্রামের প্রধান ফটকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মতিউর নগর নামে সাইন বোর্ড লাগানো হয়। বর্তমানে এটি মতিউর নগর সাইন বোর্ডেই সীমাবদ্ধ। সরকারের সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়িত না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে রামনগর হিসেবে পরিচিতি রয়েছে।

মতিউর রহমানের স্মরণে ওই গ্রামের ঠিক মধ্যখানে রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পূর্বদিকে নরসিংদী জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০০৮ সালে ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। কিন্তু এ গ্রন্থাগার ও জাদুঘরে নেই মতিউর রহমানের স্মৃতি।



তত্ত্বাবধায় সরকারের আমলে নরসিংদী জেলা স্টেডিয়ামটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম নামকরণ করা হলেও বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার এটি নামকরণ করেছেন মুসলেউদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়াম নামে। এ ছাড়া বীরশ্রেষ্ঠের জন্ম ও শাহাদৎবার্ষিকী স্মরণেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত পালন করা হয়নি কোনো অনুষ্ঠান।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক এনামুল হক বলেন, জাদুঘরটি এক নজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসলেও তাদের নিরাশ হয়ে চলে যেতে হচ্ছে। গ্রন্থাগার ও জাদুঘরে প্রবেশ করে বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিচিহ্ন দেখতে না পেয়ে তারা হতাশা ব্যক্ত করেন।

গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের সহকারী গ্রন্থাগারিক আকলিমা আক্তার জানান, গ্রন্থাগারটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে প্রায় পাঁচ বছর আগের কিছু বই ছাড়া নতুন বই নেই। তাই দিন দিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। গ্রন্থাগারে নতুন নতুন বই যোগ হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইয়ের চাহিদা রয়েছে বেশি।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাতিজা নান্নু রহমান জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন গ্রন্থাগার ও জাদুঘর পরিদর্শনের পাশাপাশি মতিউর রহমানের পৈত্রিক বাড়িতেও আসেন। তারা তার চাচার সম্পর্কে জানতে চান। নিজের চোখে দেখা মতিউর রহমানকে তাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তার বিশ্বাস সকলে মতিউর রহমানের গল্প শুনে উদ্বুদ্ধ হয় দেশপ্রেমে।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ থাকায় তার বোন রোজি কুদ্দুস রাইজিংবিডিকে বলেন, মতিউর রহমান দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। গ্রামবাসী রামনগরের পরিবর্তে মতিউর নগর নামটি গ্রহণ করে এদেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে বরণ করে নিয়েছিল। তবে সরকার গেজেট প্রকাশে বিলম্ব করায় প্রশাসনিকভাবে নামটি ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা শুনেছেন, নামের গেজেট হয়ে গেছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিজি প্রেসে রয়েছে, তাদের হাতে পৌঁচ্ছেনি।

ভাতা ছাড়া কিছুই পায় না বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিনের পরিবার
সরকারিভাবে মাসিক ভাতা ছাড়া তেমন কিছু পায় না ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের পরিবার। বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণসহ যাবতীয় খরচের জোগান দিতে হয় পরিবারের। বিশেষ দিনে এলাকার মানুষ ঘটা করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করলেও বাকি সময় কেউ খোঁজ রাখে না।

মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার রহিমগঞ্জ গ্রামে (বর্তমান জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবদুল মোতালেব হাওলাদার ও মা সাফিয়া বেগম। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ছিলেন সবার বড়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাবা-মা মারা যান। ২০০১ সালে মারা যান তার বড় বোন হেলেনা বেগম। দুই বোনের বিয়ের পর ভাই মঞ্জুর আহম্মেদ পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন।



মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৬৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৬৬ সালে আইএসসি পাস করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায়ই তিনি পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ করেন। ১৯৬৮ সালে ২ জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ার্স কোরে কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর পাকিস্তানে ১৭৩ নম্বর ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি পালিয়ে আসেন পাকিস্তানের দুর্গম এলাকা থেকে। পরে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মেহেদীপুরে মুক্তিবাহিনীর ৭নং সেক্টরে সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যোগ দেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হকের অধীনে যুদ্ধ করেন। বিভিন্ন রণাঙ্গনে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখানোর কারণে তাকে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর আনুমানিক ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশ্চিমে বারঘরিয়ায় অবস্থান নেন। ১৪ ডিসেম্বর ভোরে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে মহানন্দা নদী পার হয়ে উত্তর দিক থেকে আক্রমণ শুরু করেন। একপর্যায়ে শত্রুর একটি গুলি এসে বিদ্ধ হয় জাহাঙ্গীরের কপালে। শহীদ হন তিনি। মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ আঙিনায় সমাহিত করা হয়। যুদ্ধে যাওয়ার আগে সহকর্মীদের কাছে তিনি বলেছিলেন, ‘মৃত্যু হলে আমাকে এই এলাকাতেই কবর দিও।’

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদক বীরশ্রেষ্ঠ পদক দেওয়া হয় মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরকে। বরিশালের নিজ গ্রামের নাম তার দাদার নামে হওয়ায় পরিবার ও গ্রামবাসীর ইচ্ছায় তার ইউনিয়নের নাম `আগরপুর` পরিবর্তন করে `মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর` ইউনিয়ন করা হয়েছে।



মঞ্জুর আহম্মেদ বলেন, বছর ঘুরে বিশেষ দিন আসলেই এখানকার মানুষ ঘটা করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকে। কিন্তু বাকি সময় কেউ খোঁজ রাখে না। সরকারিভাবে ২০ শতক জমিতে ২০০৮ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর জাদুঘরটি রক্ষণাবেক্ষণসহ যাবতীয় খরচের জোগান দিতে হয় তাদের পরিবারকে। শুধু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানকার এক নিরাপত্তাকর্মীকে মাসে ৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন এখানকার লাইব্রেরিয়ান পদটি শূন্য থাকলেও নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বড় ভাইয়ের স্মৃতিকে আগলে রাখতে তিনি বীরশ্রেষ্ঠ নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতি বছর তিনি ব্যক্তিগতভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকেন। এই ফাউন্ডেশনটি সরকারিকরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

শেষ ইচ্ছে পূরণ হয়নি বীরশ্রেষ্ঠ রউফের মার
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার (পূর্বে বোয়ালমারী উপজেলার অন্তর্গত) সালামতপুর গ্রামের সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ। স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী সাত বীরশ্রেষ্ঠের অন্যতম। ৪৪ বছরেও স্বজন ও বন্ধুদের কাছে একটুও ম্লান হয়নি তার স্মৃতি। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর শোক আর দেশের জন্য জীবনদানের গর্ব নিয়ে স্বাধীনতার পরে ৪৩ বছর বেঁচে ছিলেন বীরমাতা বেগম মকিদুন্নেছা। গত বছরের ২২ জুন মারা যান তিনি। দেখে যেতে পারেননি নিজের শেষ ইচ্ছের বাস্তবায়ন। আর এখন বীরমাতার সেই শেষ ইচ্ছার বাস্তবায়নই এলাকার মানুষের দাবি।

বড় বোন জোহরা বেগম জানান, ছোট বোনের বিয়ে দিতে হবে সেই খবর নিয়ে বীরশ্রেষ্ঠের কাছে গিয়েছিলেন চাচা (বাবা আগেই মারা যাওয়ায় চাচা ছিলেন অবিভাবক)। কথা ছিল বিয়েতে বোনকে লাল শাড়ি দেবেন তিনি। সেই ইচ্ছা তিনি পূরণ করতে পারেননি। তার আগেই দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তবে কথা রেখেছিলেন তৎকালীন বিডিআর সদস্যরা। বীরশ্রেষ্ঠ রউফের ইচ্ছা অনুযায়ী ছোট বোন হাজেরা বেগমের বিয়েতে লাল শাড়ি দিয়েছিলেন তারা। এমন হাজারো স্মৃতি আর গর্ব নিয়ে স্বজনদের মাঝে বেঁচে আছেন মুন্সী আব্দুর রউফ।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের চাচা মুন্সী নজরুল ইসলাম জানান, মুন্সী আব্দুর রউফের বাবা মুন্সী মেহেদী হাসান আর মা মুকিদুন্নেছা। তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় রউফ। তার পরে দুই বোন জোহরা বেগম, আর হাজেরা বেগম। মাত্র দুই বছর বয়সে বাবা মারা গেলে অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ। কিন্তু বড় চাচাসহ অন্য চাচাদের সহায়তায় কামারখালী আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন তিনি। অনেকটা বাধ্য হয়েই পরিবারের জন্য ছোট চাচার হাত ধরে যোগ দেন ইপিআরে।



বাল্যবন্ধু আজাহার মাস্টার জানান, বীরশ্রেষ্ঠের ছোট দুইবোন বেঁচে আছেন। ছোট বোন হাজেরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও অভাব অনটনে দিন কাটছে বড় বোন জোহরার। বীরমাতা মুকিদুন্নেছা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকতেন সরকারের দেওয়া বাড়িতে, মুন্সী আব্দুর রউফের এক চাচাতো ভাই আর বীরমাতার পালক ছেলে মুন্সী আইয়ুব আলীর সঙ্গে।

আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান বাবু জানান, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বীরমাতার শেষ ইচ্ছে ছিল বীরশ্রেষ্ঠের নামে একটি উপজেলা গঠন করার। যার নাম হবে রউফ নগর। সেই ইচ্ছের কথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও বলেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছিলেন। তার নির্দেশের পরে জরিপের জন্য কাগজপত্র এসেছিল ফরিদপুর প্রশাসনে। কিন্তু তারপর এর অগ্রগতি হয়নি। স্বজনসহ স্থানীয়দের দাবি, বীরমাতার শেষ ইচ্ছে যেন দ্রুতই পূরণ করে সরকার।

আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান জানান, বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফের বাড়ি সালামতপুরে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির কয়েকশ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। বাড়িটিও রয়েছে নদীভাঙনের মুখে। যেকোনো সময় বাড়িসহ মিউজিয়ামটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বাসভবন
স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের বাসভবন ও গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়নি। সরকারিভাবে তৈরি জরাজীর্ণ বাড়িতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা। বীরশ্রেষ্ঠের নামে একটি গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর তৈরি হলেও আজও এর কেয়ারটেকারের চাকরি সরকারিকরণ হয়নি।

মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের জন্ম ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তদানিন্তন যশোর জেলার (বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা) মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে। তার পিতার নাম আব্বাস আলী মণ্ডল এবং মায়ের নাম মোসাম্মাৎ কায়সুন্নেসা। শৈশবে তিনি খালিশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরবর্তীকালে স্থানীয় নাইট স্কুলে সামান্য লেখাপড়া করেন।

১৯৭০ সালে হামিদুর যোগ দেন সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে৷ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে চাকরিস্থল থেকে নিজ গ্রামে চলে আসেন। বাড়িতে একদিন থেকে পরদিনই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য চলে যান সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল থানার ধলই চা বাগানের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ধলই বর্ডার আউটপোস্টে। তিনি ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।



১৯৮১ সালে তৎকালীন সরকার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বসতবাড়িটি তৈরি করে দেয়। ঠিকাদার ভবনের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম করে। ফলে অল্পদিনেই সেটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ছাদ খসে পড়ছে। দেয়াল ভেঙে পড়ছে। এখন ঝুঁকি নিয়েই বাড়িতে বসবাস করছে পরিবারের সদস্যরা।

বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামটি নামেই হামিদনগর, খাতাকলমে এখনো খোর্দখালিশপুর। পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামটি দ্রুত হামিদনগর নামেই খাতাকলমে যেন ব্যবহার শুরু হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মেঝভাই হামজুর রহমান জানান, তার ভাই ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক। তিনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। ফলে আজ সবাই গর্বিত। তাদের বসবাসের বাড়িটি সংরক্ষণসহ রাস্তাঘাট চলাচলেরযোগ্য করার জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান।


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মোস্তাফিজুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, তার চাচা একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তার নামে এলাকায় একটি গ্রন্থাগার ও স্থৃতি জাদুঘর হয়েছে। তিনি সেখানে কেয়ারটেকারের চাকরি নিয়েছেন। বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হলেও চাকরি সরকারিকরণ হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলেও তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বাল্যবন্ধু আব্দুর রহমান বলেন, তারা যে বীরসেনার গ্রামে বসবাস করেন, সেই রাস্তাটুকু চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ইচ্ছা থাকলেও হামিদুরের একমাত্র স্মৃতি তার বসতভিটা দেখতে আসতে পারেন না মানুষ।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মকবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি দ্রুত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

দুর্দশায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর
দুর্দশায় বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। লোকবলের অভাবে চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ২০০৮ সালে নির্মিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ হলেও নেই প্রয়োজনীয় লোকবল।



১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে নূর মোহাম্মদ শেখ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ, মাতা জেন্নাতুন্নেসা। অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারান ফলে শৈশবেই ডানপিটে হয়ে যান। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণীর পর আর পড়াশোনা করেননি। ১৯৫৯-এর ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআর-এ যোগদান করেন। ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই নূর মোহাম্মদকে দিনাজপুর থেকে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে যুদ্ধে যোগ দেন।

নড়াইল শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়’ চত্বরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে এবং জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন।



৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নূর মোহাম্মদের বসতভিটায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও নির্মিত হয়নি সীমানা প্রাচীর ও বিশ্রামাগার। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশীপুর থেকে নূর মোহাম্মদের কবর জন্মভূমি নড়াইলের ‘নূর মোহাম্মদনগর’ এ স্থানান্তরের দাবিও রয়ে গেছে উপেক্ষিত।

গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর সম্পর্কে তত্ত্বাবধায়ক ইউনুস শেখ জানান, লোকবলের অভাবে একা দায়িত্ব পালন করতে সমস্যা হয় তার। সাত বছরেও পিয়ন ও আয়া নিয়োগ হয়নি। জেলা পরিষদে চাকরিরত একজন এখানে (গ্রন্থাগার) ‘লাইব্রেরিয়ান’ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তা ছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় গ্রন্থাগার চত্বরে অবাধে গবাদি পশু বিচরণ করে।



বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা রাইজিংবিডিকে বলেন, যশোরের শার্শা উপজেলার কাশীপুর থেকে নূর মোহাম্মদের কবর তার জন্মভূমি নূর মোহাম্মদনগরে স্থানান্তরের দাবি এখনো পূরণ হয়নি।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, নূর মোহাম্মদের বাড়ি যাওয়ার প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা বেহাল। এ ছাড়া ১৯৯৯ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে ২০১০ সালের মে মাসে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে বেতন চালু হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এখনো বেতন চালু হয়নি।



জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, ধাপে ধাপে লোকবল নিয়োগ করে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

কষ্টে আছেন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের ছেলে শওকত আলী
বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীনের পরিবারের অন্য সদস্য শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হলেও কষ্টে আছেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছোট ছেলে শওকত আলী। স্ত্রী-কন্যা নিয়ে বাবার স্মৃতিজড়িত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাচড়া গ্রামে (বর্তমান শহীদ রুহুল আমিন নগর) বসবাস করছেন। নৌ-বাহিনীর সহায়তায় নির্মিত একতলা পাকা বাড়িটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এ অবস্থায় বাড়িটি সংস্কার, শওকত আলীর উন্নত চিকিৎসা ও ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম।



বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন ১৯৩৪ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাচড়া গ্রামে (বর্তমান শহীদ রুহুল আমিন নগর) জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আজহার পাটোয়ারী ও মা জুলেখা খাতুন। রুহুল আমিন ১৯৫৩ সালে নৌ-বাহিনীতে যোগ  দেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে ২ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন তিনি। ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে শহীদ হন রুহল আমিন। রূপসা নদীর পাড়ে তাকে সমাহিত করা হয়।

রুহুল আমিনের ছোট ছেলে শওকত আলী মাসিক ভাতা আর রেশম, বছরে ২ বার উপজেলা পরিষদে ডাকা পাওয়া ছাড়া আর কিছুই জানেন না। শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ শওকত আলী ও স্ত্রী সামান্য শিক্ষিত। তাদের একমাত্র মেয়ে আমেনা আক্তার বৃষ্টি (১০) স্থানীয় অক্সফোর্ড মডেল একাডেমিতে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের তিন মেয়ে ও দুই ছেল। বড় ছেলে বাহার ১৯৯৮ সালে মারা যান। তার পরিবারের সবাই লন্ডনে বসবাস করছেন। ছোট ছেলে শওকত আলী বাবার স্মৃতি বিজড়িত সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাচড়া গ্রামে বসবাস করছেন। তিন মেয়ে নূরজাহান বেগম, রিজিয়া বেগম, ফাতেমা বেগম স্বামী-সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বাড়িতে বসবাস করছেন।

সরকারিভাবে ৬ হাজার ৯৯০ টাকা ভাতা পান শওকত আলীর পরিবার। এই টাকা দিয়ে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে বর্তমান সময় চলা খুবই কষ্টকর।



শওকত আলীর স্ত্রী রাবেয়া বেগম রাইজিংবিডিকে বলেন, সবাই মুখে মুখে সাহায্যের কথা বলেন। টেলিভিশনে কত কিছুর কথা শুনি। কিন্তু তারা ভাতা, রেশম ছাড়া আর কিছুই পান না।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের পরিবার আজো অবহেলিত
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামালের পরিবার আজও অবহেলিত। ভোলা শহরতলীর বাড়িতে হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বীরশ্রেষ্ঠের মা মালেকা বেগম। সরকারি ভাতার টাকা ব্যয় হয় তার চিকিৎসায়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি পেলেও তা বাস্তায়ন হয় না।



মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাবিবুর রহমান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার ছিলেন। শৈশব থেকেই দুঃসাহসী হিসেবে খ্যাত ছিলেন মোস্তফা কামাল। পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারেননি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর উচ্চ বিদ্যালয়ে দু-এক বছর অধ্যয়ন করেন।

১৯৬৭-র ১৬ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি নেন। তিনি ছিলেন চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক। যুদ্ধের সময় মৌখিকভাবে তাঁকে ল্যান্স নায়েকের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়।



মা মালেকা বেগমের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। সেই স্মৃতি আজো ভুলতে পারেননি তার মা মালেকা বেগম। অবহেলার মধ্যেই কেটে যাচ্ছে তাদের জীবন। সরকারি ভাতা যা পান, তা ব্যয় হয়ে যায় চিকিৎসা খরচে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি আজও এমপিওভুক্ত হয়নি। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্থৃতি জাদুঘরটিও রয়েছে অবহেলিত।



মালেকা বেগম রাইজিংবিডিকে বলেন, ছেলে যুদ্ধে যাওয়ার আগে বলেছিল- ‘মা যুদ্ধে যাচ্ছি, সবাই ফিরে এলেও আমি যুদ্ধ শেষ না করে ফিরে আসব না।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু ছেলে আর ফিরে এলো না। দেশের জন্য রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। এমন সন্তান জন্ম দিতে পেরে আমি গর্বিত, আনন্দিত।’




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ ডিসেম্বর ২০১৫/টিপু/দিলারা/উজ্জল/সাইফ/বকুল

No comments:

Post a Comment