Saturday, 2 January 2016

Global Spiders Info

যত ভয়ংকর মাকড়শা (পর্ব ১)

আবু সাইদ নয়ন : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:03 Jan 2016   06:45:51 AM   Sunday   ||   Updated:03 Jan 2016   08:08:36 AM   Sunday
যত ভয়ংকর মাকড়শা (পর্ব ১)
আবু সাইদ নয়ন : পৃথিবীর সব প্রায় সব অঞ্চলে মাকড়শা দেখা যায়। আট পায়ের এই ক্ষুদে প্রাণী নিয়ে অনেকের মধ্যে ভীতি কাজ করে। মাকড়শাভীতিকে বলা হয় আরাচনোফোবিয়া। পৃথিবীতে প্রায় ৪০ হাজার প্রজাতির মাকড়শা আছে। তবে খুব অল্পসংখ্যক প্রজাতি মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অধিকাংশ প্রজাতি শান্ত স্বভাবের এবং বিপদ দেখলে নিজেদের গুঁটিয়ে নেয়। মাত্র কয়েক প্রজাতির মাকড়শা চরম অবস্থায় বিষদাঁত বসাতে ওস্তাদ। এদের বিষ মানবদেহে প্রবেশ করলে কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুপর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্বের ভয়ংকর কিছু প্রজাতির মাকড়শা নিয়ে দুই পর্বের ধারবাহিকের আজ পড়ুন প্রথম পর্ব।

ব্রাজিলিয়ান ওনডারিং স্পাইডার
এই প্রজাতির মাকড়শার নাম বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ব্রাজিলীয় ভবঘুরে মাকড়শা’। নাম দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এরা এক জায়গায় থাকতে মোটেও পছন্দ করে না। অঞ্চল ভেদে এর কিছু মজার নাম আছে। আর্মড স্পাইডার বা বাহুওয়ালা মাকড়শা, ব্যানানা স্পাইডার বা কলা মাকড়শা এমন দুটি নাম। তবে বৈজ্ঞানিক নাম ফনেট্রিয়া ফেরা।

এবার জেনে নেওয়া যাক এর ভয়ংকর চরিত্রের কথা। ব্রাজিলীয় ভবঘুরে মাকড়শার বিষ এতটাই ক্ষতিকর যে, এর কামড়ে মানুষের পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে মৃত্যুও হতে পারে।



বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মাকড়শা হিসেবে ২০১০ সালে গিনেস বুকে নাম ওঠে কলা মাকড়শার। গিনেস বুকে বলা হয়, মাকড়শার জগতে ব্রাজিলীয় ভবঘুরে মাকড়শার বিষ সবচেয়ে ক্ষতিকর। দেখতেও ভয়ংকর।

বাহুওয়ালা এই মাকড়শার কামড়ে মানব শরীরে খিঁচুনি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শরীরের অংশবিশেষ অকার্যকর (পক্ষাঘাত) হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যুও হতে পারে। সুতরাং এদের দেখামাত্রই দূরে সরে যাওয়া ভালো।

রেডব্যাক স্পাইডার
এদের পিঠে একটি টানা লাল দাগ থাকে বলে নাম হয়েছে রেডব্যাক বা লালপিঠে মাকড়শা। বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাট্রোডেক্টাস হ্যাসেলটি। দেখলে অনেকে ভয় পায়, আবার অনেকে বিস্ময়াভিভূত হয়। পিঠে লাল দাগ থাকায় সহজেই চেনা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় এদের দেখা মেলে বেশি।



স্বভাবে হিংস্র না হলেও আত্মরক্ষার্থে বিষ উগ্রে দিতে দ্বিধা করে না। বাধার মুখে পড়লে বা ডিম বাঁচানোর প্রয়োজনে বিষদাঁত বসিয়ে দেয়। যেখানে কামড়ে দেয়, তার আশপাশে যন্ত্রণা অনুভূত হয়। তা ছাড়া এর বিষ শরীরে প্রবেশ করলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বমি হওয়া, বিবমিষা এবং ঘাম ছুটতে পারে।

ব্রাউন রিক্লুস স্পাইডার
মানুষ ও অন্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর যত প্রজাতির মাকড়শা আছে, তার মধ্যে ব্রাউন রিক্লুস স্পাইডার অন্যতম। এর নাম বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘বাদামি সন্ন্যাসী মাকড়শা’। বৈজ্ঞানিক নাম লক্সোসসেলেস রিক্লুসা। এদের মাথা ভায়োলিন আকৃতির ও কালচে, যা দেখে সহজে চেনা যায়।



বাদামি সন্ন্যাসীদের বসবাস উত্তর আমেরিকায়, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে। এরা লম্বায় সাধারণত ছয় থেকে ২০ মিলিটার হয়ে থাকে। তবে এর চেয়ে লম্বাও হয় কোনো কোনোটি। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, বাদামি সন্ন্যাসীদের বিষ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এদের কামড়ে জ্বর ও দেহকোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে বাদামি সন্ন্যাসীদের কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

ব্রাউন উইডো স্পাইডার
ইংরেজি থেকে হুবহু বাংলা করলে এর নাম বেশ মজারই হয়- বাদামি বিধবা। বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাট্রোডেক্টাস জিওম্যাট্রিকাস। এই প্রজাতির মাকড়শার সঙ্গে খুব মিল রয়েছে ব্লাক উইডো ও রেডব্যাকের। বলা যায় এরা একে অন্যের চাচাতো ভাই। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এদের দেখা যায়। এদের বিষ মারাত্মক। তবে একসঙ্গে খুবই অল্প বের হওয়ায় অন্য প্রাণীর জন্য তেমন ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে না।



মাকড়শাদের সম্পর্কে একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার। সাধারণত স্ত্রী মাকড়শারাই বেশি বিষধর হয়ে থাকে। বাদামি সন্ন্যাসীদের বেলায়ও তাই। এদের কামড়ে পেশিতে ব্যথা ও পক্ষাঘাত হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হলে মৃত্যুও হতে পারে। ফলে বাদামি সন্ন্যাসীদের কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

ব্ল্যাক উইডো স্পাইডার
ভয়ংকর মাকড়শাদের মধ্যে ব্ল্যাক উইডো বা কৃষ্ণ বিধবা অন্যতম। এর বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাট্রোডেক্টাস ম্যাকটান্স। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এদের অবাধ বিচরণ। দেখতে সুশ্রীই বলা যায়। মনে হয়, পিঠে ও তলপেটে রক্তের ছোপ লেগে আছে। সঙ্গমের পর এরা পুরুষ সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে।



কৃষ্ণ বিধবাদের বিষ অন্য প্রাণীর জন্য বেশ ক্ষতিকর। মানবদেহে এদের কামড় বসলে পেশিতে ব্যথা, পেশি সংকোচন-প্রসারণে বাধা, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে। তবে এদের বিষ এত বেশি মারাত্মক নয় যে, তাতে অন্য প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জানুয়ারি ২০১৬/রাসেল পারভেজ

Enjoy the PSC and JSC Result 2015












PSC and JSC exam result in Bangladesh with the presence of Education Minister.

Note: Be a World Class Human than you will be automatically become a  World class leader.



 বেলুন উড়িয়ে বই উৎসব উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।  (ছবি- শাহীন ভূইয়া)

শুক্রবার সারাদেশে শুরু হয়েছে বই উৎসব। রাজধানীর ধানমন্ডির গভঃ ল্যাবরেটরি হাইস্কুল মাঠে নতুন বই হাতে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষার্থীরা।  (ছবি- শাহীন ভূইয়া)

শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণে উদ্বেলিত, উচ্ছ্বসিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা।  (ছবি- শাহীন ভূইয়া)
২০১৬ সালের শিক্ষাবর্ষের নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ।  (ছবি- শাহীন ভূইয়া)

Be a World Class Human

4G will start 2016

এ বছরেই ফোর জি চালু : তারানা হালিম

শাহরিয়ার সিফাত : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2016   05:00:49 PM   Saturday   
এ বছরেই ফোর জি চালু : তারানা হালিম
নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল : ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. তারানা হালিম বলেছেন, ইন্টারনেট সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যান্ডউইথের মূল্য সহজলভ্য করাসহ এ বছরেই ফোর জি চালু করা হবে।

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া বেলায়েত হোসেন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য যে কোনো সময় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অল্প সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করা হয়েছিল এবং জনগণ তা মেনে নিয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন সময় তাদের দেশের পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থাই বন্ধ করে দিয়েছিল দীর্ঘ সময়ের জন্য।

সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রায় দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল বাতেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও আশপাশের গ্রামের মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল।



রাইজিংবিডি/টাঙ্গাইল/২ জানুয়ারি ২০১৬/শাহরিয়ার সিফাত/মুশফিক

Goods from Netrokona, Bangladesh to Global market

বিদেশের বাজারে নেত্রকোনার শপিং ব্যাগ

ইকবাল হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2016   12:51:00 PM   Saturday   ||   Updated:02 Jan 2016   01:39:39 PM   Saturday
কামরুন্নাহারের নারীনেত্র উন্নয়ন সমিতিতে শপিংব্যাগ তৈরির কাজ চলছে (ছবি : রাইজিংবিডি)

কামরুন্নাহারের নারীনেত্র উন্নয়ন সমিতিতে শপিংব্যাগ তৈরির কাজ চলছে (ছবি : রাইজিংবিডি)

ইকবাল হাসান, নেত্রকোনা : ইচ্ছে ও মেধা খাটিয়ে যে কোন অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। তার প্রমাণ করেছেন নেত্রকোনার কামরুন্নাহার লিপি। নিজের চেষ্টায় বাড়ির পাশে ছাপড়া ঘরে কারখানা বসিয়ে চটের ব্যাগ তৈরি করে দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশের বাজারে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। তার কারখানার তৈরি ব্যাগ দেশের সীমানা পেরিয়ে ইতালী, সৌদি আরব ও ভারতের বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটী ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের কামরুন্নাহার লিপির বয়স মাত্র ২৯ বছর। এই বয়সেই দারুণ সম্ভাবনা দেখিয়ে দিলেন তিনি।

২০০৫ সালে স্থানীয় স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতিতে মাসিক ৬০০ টাকা বেতন কাজ শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর কাজ করার পর বেতন ৩০০০ টাকায় তুলতেন। এতে নিজের আত্ম-সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন সফল হবে না বুঝতে পারলেন। তার মনে ইচ্ছে জাগল, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাবেন। ভাবনা শেয়ার করলেন ছোট ভাই সোহেলের সঙ্গে।

ভাবনা আর কাজ শুরু করা এক সঙ্গেই হল। পুঁজি হিসেবে ছিল সেলাই প্রশিক্ষণ। কয়েক বছর একটানা কাজ করে সেলাই কাজে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। ‘নারীনেত্র উন্নয়ন সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি মাত্র সেলাই মেশিন নিয়ে তার যাত্রা শুরু।

অনন্তপুর গ্রামে নারীনেত্র উন্নয়ন সমিতি ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে তৈরি ছাপড়া একটি ঘর। সমিতির ঘরটি পরিপাটি করে সাজানো। ওই ঘরে ২০টি সেলাই মেশিন। সেখানে নারী পুরুষ মিলে প্রায় ৪০ জন লোক কাজ করছেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। কেউ সেলাই করছেন, কেউ বাটিকের কাজ করছেন, আবার কেউ সাজিয়ে রাখছেন।

অন্যদিকে সমিতির পরিচালক কামরুন্নাহারের কক্ষটি পাকা ভিটির। ৪টি টেবিল, ৪টি আলমিরা, ১টি কম্পিউটার এবং ঘরের বেড়ায় সমাজ সচেতনতার কয়েকটি ব্যানার সাটানো। শপিং ব্যাগে স্কিন প্রিন্টের কাজ করছিলেন ক’জন।

কামরুন্নাহার জানান,নিজের সেলাই মেশিন না থাকায় পরিচিত একজনের কাছ থেকে একটি মেশিন ধার নেন। আশেপাশের পাঁচজন নারীকে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেন। তা দিয়েই স্থির করলেন কাজ শুরু করার। একদিন জেলা শহরে গিয়ে দেখেন ছোট ছোট দোকানদার ফুটপাতে কম দামে বা””াদের হাফ প্যান্ট বিক্রি করছে। দোকানিকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোথা থেকে এবং কত টাকায় প্যান্ট তৈরি করা হয়। সব জেনে অন্যদের চেয়ে কম মূল্যে প্যান্ট সরবরাহের কথা দিয়ে অল্প পারিশ্রমিকে ১০০ পিচ প্যান্ট তৈরির অর্ডার নেন। এভাবে চলতে থাকে তার কর্মজীবন।



মাঝে মাঝে ভূর্তকীও দিতে হতো। তিনি চিন্তা করেন ‘ঝুঁকি না নিলে উন্নতি করা যাবে না’। এক সময় জানতে পারেন ঢাকার কালীগঞ্জ হতে কেজি হিসেবে কাপড় কিনে আনা যায়। একদিন নিজেই কিছু টাকা নিয়ে চলে যান ঢাকার কালিগঞ্জে। মাত্র ৮০০ টাকার কাপড় কিনে বিক্রি করে দেখেন অর্ধেক লাভ।

এমন অবস্থার মধ্যেই চোখ পড়ল শপিং ব্যাগে। চিন্তা করলেন প্যান্টের চেয়ে সহজে তা বানানো যায়। একটি ব্যাগ কিনে তার সেলাই পদ্ধতি দেখেন। শুরু করেন ব্যাগ তৈরির কাজ। ওই ব্যাগের বাজারে চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। কিছু দিন নিজে কাজ করার পর শুরুতে যে ৫ জন মহিলাকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে প্যান্ট তৈরি করছিলেন, তারাই ব্যাগ তৈরির কাজ শুরু করল। এখন ওই প্রতিষ্ঠানে বাজারের ব্যাগ ছাড়াও স্কুল ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগও তৈরি করা হয়।

নারী নেত্র উন্নয়ন সমিতির ব্যাগ জেলা শহরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হত। ওই ব্যাগের গায়ে পরিচালক কামরুন্নহারের বিদেশ যাত্রী কেউ এসব দোকান থেকে পণ্য কিনলে তা দিয়ে তৈরি ব্যাগে করে পণ্য নিয়ে বিদেশে যান। ব্যাগের গায়ে তার মোবাইল নম্বর থাকায় সেখান থেকে ফোনে ব্যাগের অর্ডার দেওয়া হয়। অর্ডার আসে বিদেশ থেকে। দেশের বাইরে থাইল্যান্ড থেকে তিনি ব্যাগ সাপ্লাই দেওয়ার অর্ডার পান। পরিচিত একজনের মাধ্যমে ব্যাগ পাঠাতে শুরু করেন তিনি। এভাবে বাজার বাড়তে থাকে তার।

এখন সৌদি আরব এবং ভারতে কিছুদিন পর পর ২০-২৫ হাজার ব্যাগ পাঠান। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঞ্চল হতেও ব্যাগ বানিয়ে দেওয়ার অর্ডার পান। তার তৈরি শপিং ব্যাগ এখন ইতালি, সৌদি আরব ও ভারতে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আমেরিকার বাজারে ওই ব্যাগ নেওয়ার জন্য ওখানকার লোকজনের সাথে আলোচনা চলছে। তবে এক্্রপোর্ট লাইসেন্স না থাকার কারণে তিনি বিদেশের বাজার ঠিকমত ধরতে পারছেন না। তাকে স্থানীয় প্রশাসন বা বড় কোন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেনি। যদি করত তবে তিনি আরও এগিয়ে যেতে পারতেন।

কাজের সফলতা স্বীকৃতি যখন পেতে থাকেন তখন উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধন করিয়ে নেন। সফল সমবায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কৃত হন। স্বীকৃতি পেয়েছেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিভিন্ন এনজিও হতেও। সামাজিক অধিকার আইনের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবেও কাজ করছেন।

প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে তেমন সামাজিক সহযোগিতা পাননি। স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৯০ হাজার টাকার ঋণ নেন। বর্তমানে সেলাই কার্যক্রমে ৭ লক্ষ এবং স্যানিটেশন ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে ৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প চলছে। অন্যদিকে পুষ্টি ও কৃষি, জন সচেতনতা বৃদ্ধি, উন্নত চুলা বিক্রি, স্ক্রিন প্রিন্ট কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রায় ২০০জন লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠানে।




রাইজিংবিডি/নেত্রকোনা/২ জানুয়ারি ২০১৬/ইকবাল/টিপু

Prof Md Zafor Iqball 10 demand 2016

নববর্ষে দশটি চাওয়া ।। মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মুহাম্মদ জাফর ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:01 Jan 2016   12:05:14 AM   Friday   ||   Updated:02 Jan 2016   12:08:11 AM   Saturday
নববর্ষে দশটি চাওয়া ।। মুহম্মদ জাফর ইকবাল
ইংরেজী নববর্ষের দিনটি কোনোভাবেই অন্য কোনোদিন থেকে আলাদা নয়। বাংলা নববর্ষের তবুও একটা এস্ট্রোনমিক্যাল যোগাযোগ আছে, নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থান দিয়ে আকাশকে যে বারোটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে (তড়ফরধপ) সেগুলো উদয়ের সময় দিয়েই বাংলা মাসগুলো ঠিক করা হয়েছে- তাই বাংলা নববর্ষ মোটেও জোড়াতালি দেয়া কিছু নয়! ইংরেজী মাসগুলোর বিভাজনে কিংবা ইংরেজী নববর্ষে আমি এখনো সেরকম কিছু খুঁজে পাইনি। (ইংরেজী নববর্ষ যদি জুন মাসের ২১ তারিখ কিংবা ডিসেম্বরের ২১ তারিখ হতো তবুও একটা কথা ছিল, কারণ তাহলে বলতে পারতাম সূর্য তখন ঠিক কর্কট ক্রান্তির উপর কিংবা ঠিক মকর ক্রান্তির ওপর এসে হাজির হয়!) কাজেই ইংরেজী নববর্ষ আসলে অন্য যে কোনো একটা দিনের মত- তার আলাদা কোনো গুরুত্ব নেই। তারপরও যেহেতু এটা ইংরেজি নববর্ষ সেটা নিয়ে সারা পৃথিবীতেই নানা ধরনের বাড়াবাড়ি হয়, আমাদের দেশেও হয়েছে, পুলিশকে লাঠি পেটা করে নববর্ষের পার্টিকে ভাঙতে হয়েছে! (আমার পরিচিত একটা সংগঠন ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ রাতে সবাই যখন উদ্দাম পার্টি করার প্রস্তুতি নেয় তখন সংগঠনের সদস্যরা কিছু কম্বল কিনে পথে ঘাটে স্টেশনে শীতের রাতে কু-ুলি পাকিয়ে শুয়ে থাকা মানুষদের জীবনে একটু উষ্ণতার সুযোগ কর দিয়ে আসে- আমার মনে হয়েছে একটা নববর্ষ পালনের জন্যে এটা খুবই চমৎকার একটা উপায়।)

যেহেতু আমাদের সবাইকেই ইংরেজি নববর্ষ নিয়ে অনেক হইচই করতে হবে তাই আমিও তার প্রস্তুতি নিয়েছি। ইংরেজি নববর্ষে আমি কী চাই তার একটা তালিকা করেছি। আমি যখন কোনো কিছুর তালিকা করি সেটা অনেক বড় হয়ে যায়- সেই বিশাল তালিকা থেকে আমি দশটি বেছে নিয়ে আজকে এই লেখাটি লিখতে বসেছি। এই নববর্ষে আমি কী কী চাই সেগুলো এরকম ;

১. ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিচার : ১৯৭১ সালের বিজয় দিবসে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার পর সেখান থেকে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে আলাদা করা হয়েছিল (তার ভেতরে আমার বাবার হত্যাকারীও একজন)। নতুন স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ তাদের বিচার করার জন্যে যখন প্রস্তুতি নিয়েছিল তখন জুলফিকার আলী ভূট্টোর পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকনোর জন্য আটকে পড়া প্রায় চার লাখ বাঙালিকে জিম্মি করে ফেলেছিল। শুধু তাই নয় তারা ২০৫ জন বাঙালিকে পাল্টা বিচার করার হুমকি দিতে শুরু করেছিল। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ যখনই জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছিল তখনই পাকিস্তান চীনকে দিয়ে ভেটো দিতে শুরু করেছিল। পাকিস্তান নিজেরাই এই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে অঙ্গীকার করার পর বাংলাদেশ আর কোনো উপায় না দেখে তাদেরকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে দেয়।

পাকিস্তান কখনো তাদের বিচার করেনি। শুধু তাই নয় এতো বছর পর তারা আস্ফালন করে ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে কোনো গণহত্যা করেনি! কাজেই আমাদের সামনে এখন এই ১৯৫ জনকে বিচার করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। বিচার করে গ্লানিমুক্ত হওয়ার সাথে সাথে সারা পৃথিবীকে দেখানো যাবে, পাকিস্তান নামক বর্বর রাষ্ট্রটি এই দেশের উপর ১৯৭১ সালে কী ভয়ঙ্কর একটি হত্যাকা- ঘটিয়েছে। কাজেই এই নববর্ষে আমার প্রথম চাওয়া পাকিস্তানের ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করা।

২. হেনরি কিসিঞ্জারের প্রতীকি বিচার : আমি যতটুকু জানি পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধীদের এই দেশের মাটিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব কিন্তু হেনরি কিসিঞ্জারের হয়তো সত্যিকারভাবে এই দেশের মাটিতে বিচার করা সম্ভব নয়। এই মানুষটি বাংলাদেশের জন্যে একটি অভিশাপ, সে শুধু যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিল তা নয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর সেটাকে একটা তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে ঘোষণা করেছিল!

মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশের যে মানুষগুলো এই দেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল আমরা তাদের সবাইকে গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছি। আর যে মানুষগুলো আমার দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল তাদের প্রতীকি বিচার কেন করতে পারব না? ক্রিস্টেফার হিচেন্সের লেখা ‘ট্রায়ালস অফ হেনরি কিসিঞ্জার’ বইটিতে তাকে বিচার করার জন্যে প্রয়োজনীয় যথেষ্ট মাল মশলা রয়েছে।

কাজেই এই নববর্ষে আমার দ্বিতীয় চাওয়াটি হচ্ছে হেনরি কিসিঞ্জারের একটি প্রতীকি বিচার!

৩. জামায়াত মুক্ত বিএনপি: বাংলাদেশের সরকারি দল এবং বিরোধী দল দুটোকেই হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। বিএনপি যতদিন জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে রাখবে ততদিন সেটা হওয়া সম্ভব না। কাজেই আমি মনে করি জামায়াতকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত বিরোধী দল দূরে থাকুক বিএনপির বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল হওয়ারই নৈতিক অধিকার নেই।

কাজেই এই নববর্ষে আমার তৃতীয় চাওয়া হচ্ছে জামায়াত মুক্ত বিএনপি। আমার ধারণা, এটি যদি না ঘটে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটিই ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে। (বিএনপি যদি জামায়াতকে পরিত্যাগ করে সম্ভবত গয়েশ্বর রায় এবং তার মত মানুষেরাও বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেবে কিন্তু সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই!)

৪. আলাদা সাইকেল লেন : আমার ছাত্র এবং সহকর্মীরা মিলে আমাকে একটা সাইকেল উপহার দিয়েছে, বাংলাদেশের তৈরি সাইকেল এবং সাইকেলটি দেখে আমার চোখ জুড়িয়ে গেছে। আজকাল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক শিক্ষিকারা সাইকেলে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। আমার মনে হচ্ছে শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশেই সাইকেল নিয়ে এক ধরণের আন্দোলনের মত শুরু হয়েছে। শুধু আন্দোলন নয় এটাকে রীতিমত বিপ্লব করে ফেলা সম্ভব যদি শুধু বড় বড় রাস্তার পাশে পাশে ছোট এক চিলতে জায়গায় একটা সাইকেলের লেন করে দেয়া যায়। ঢাকার যে বিশাল ট্রাফিক জ্যাম সেটা দূর করে আমাদের সময় বাঁচানোর এর থেকে সহজ কোনো পরীক্ষিত পথ আছে বলে আমার জানা নেই।

কাজেই এই নববর্ষে আমার চতুর্থ চাওয়াটি হচ্ছে দেশের বড় বড় সড়কের পাশে পাশে আলাদা সাইকেল লেন।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা : দেশে এখন যতগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে তাদের সবগুলোর আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার মত দিন খুঁজে পাওয়া যায় না। কাজেই ছাত্র ছাত্রীদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়ার জন্যে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিত্যাগ করতে হয়। দূরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের হলেও ছেলে মেয়েরা বাধ্য হয়ে কাছাকাছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জাতীয় চরিত্রটি ধীরে ধীরে আঞ্চলিক চরিত্রে পাল্টে যাচ্ছে। এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার অমানবিক বিষয়টা এতদিনে সবাই জেনে গেছে। এটা সম্পর্কে নূতন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু যে বিষয়টা সবাই জানে না, সেটি হচ্ছে একই সাথে অনেক বিম্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা বেশ কয়েকটাতে সুযোগ পাবার পর মাত্র একটাকে বেছে নেয়ার কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু সিট ফাঁকা থেকে যায়। শেষ মুহূর্তে সেই ফাঁকা সিট বন্ধ করার জন্যে অনেক তোড় জোড় করার পরও কিন্তু সব সিট পূরণ হয় না। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সিটের জন্যে ছেলেমেয়েরা পাগলের মত চেষ্টা করে অন্যদিকে সেই বিম্ববিদ্যালয়ে সিট ফাঁকা থেকে যায়, এর চাইতে দুঃখের ব্যাপার আর কী হতে পারে?

সমন্বিত ভাবে সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটা ভর্তি পরীক্ষা নিলে এই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো। কাজেই এখন এটা হচ্ছে শুধু সময়ের ব্যাপার যখন এই দেশের ছেলেমেয়েরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা দেবে। তার কারণ, এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
এই নববর্ষে এটি হচ্ছে আমার পঞ্চম চাওয়া আমি এই বছরেই এটি দেখতে চাই!

৬. দুটি পাবলিক পরীক্ষা : এই দেশে শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করার সময় দুটি পাবলিক পরীক্ষার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু ছেলেমেয়েদের এখন চার চারটি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়। আমাদের ছেলেমেয়েরা যথেস্ট চৌকস। তারা খুব সহজেই চারটি কেন, আরো বেশী পরীক্ষা দিতে পারতো, যদি সেগুলো তারা নিজের মত করে দিতো। কিন্তু আমাদের অভিভাবকেরা মোটামুটি উন্মাদের মত হয়ে গেছেন, এই চারটি পাবলিক পরীক্ষাতেই গোল্ডেন ফাইভ নামক বিচিত্র বিষয়টি পেতেই হবে বলে তারা তাদের ছেলেমেয়েদের এতো ভয়ঙ্কর চাপের মুখে রাখেন যে, এই ছেলেমেয়েদের শৈশবটি এখন বিষাক্ত হয়ে গেছে। যারা ছোট শিশুদের সংগঠন করেন তারা বলেছেন পঞ্চম শ্রেণি, অষ্টম শ্রেণি বা দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ছেলেমেয়েগুলোকে তারা সাহিত্য সংস্কৃতি শিল্প কোনো বিষয়ে আনতে পারেন না। কারণ, তাদের বাবা মায়েরা প্রাইভেট, কোচিং কিংবা ব্যাচে তাদেরকে পড়ানো ছাড়া অন্য কিছুতে সময় দেয়ার বিষয়টা মানতেই রাজী না।

আমি চাই এই ছেলেমেয়েগুলো তাদের নিজেদের শৈশবকে উপভোগ করুক। এই দেশের শিক্ষাবিদেরা মিলে দুটি পাবলিক পরীক্ষার কথা বলেছিলেন। নববর্ষে আমার চাওয়া দেশের শিশুদের আবার দুটি পাবলিক পরীক্ষার মাঝে সীমাবদ্ধ রাখা হোক।

৭. পত্রিকায় গাইড বই প্রকাশ বন্ধ করা : আমাদের দেশে গাইড বই প্রকাশ করার উপর বিধি নিষেধ আছে কিন্তু দেশের বড় বড় বিখ্যাত দৈনিক পত্রিকাগুলো বড় বড় গালভরা নাম দিয়ে নিয়মিতভাবে গাইড বই প্রকাশ করে। দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর যখন সত্যিকার শিক্ষার জন্যে যুদ্ধ করার কথা তখন তারা যখন নিজেরাই গাইড বই ছাপায় (অনেক সময় সেটি গর্ব করে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করে) তখন আমাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

এই নববর্ষে আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলতে চাই না, আমি চাই এই বছরেই যেন সকল দৈনিক পত্রিকা তাদের গাইড বই প্রকাশ বন্ধ করে সেই পৃষ্ঠাটিতে জ্ঞান বিজ্ঞান সাহিত্য সংস্কৃতি ইতিহাসের চমকপ্রদ গল্প দিয়ে দেশের শিশুদের মুগ্ধ করে।

৮. প্রশ্ন ফাঁস থেকে মুক্তি : এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চিৎকার করা হয়েছে। এটি অবিশ্বাস্য যে, একটি রাষ্ট্র তার লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর জন্যে তৈরি করা প্রশ্নের ফাঁস হয়ে যাওয়া বন্ধ করতে পারে না। পরীক্ষায় প্রশ্নই যদি ফাঁস হয়ে যায়, সেই পরীক্ষার কিংবা সেই শিক্ষার আদৌ কি কোনো অর্থ আছে?

এই নববর্ষে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাওয়া হচ্ছে সবরকম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করে দেয়া।

৯. ফেসবুক থেকে মোহমুক্তি : খবরের কাগজের সংবাদ, এই দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দিনে এক ঘণ্টা থেকে বেশী সময় ফেসবুক করে (শুদ্ধ করে বলতে হলে বলতে হবে সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে)। খবরটার আরো ভয়ঙ্কর অংশটি হচ্ছে ২৩ শতাংশ মানুষ দিনে ৫ ঘণ্টা থেকে বেশী সময় ফেসবুক করে কাটায়। কী ভয়ঙ্কর ব্যাপার! অল্প কয়দিনের একটা জীবন নিয়ে আমরা সবাই পৃথিবীতে এসেছি। সেই জীবনে কতো কী দেখার আছে, কতো কিছু করার আছে, তার কিছুই না দেখে কিছুই না করে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পেছনে কয়টা লাইক পড়েছে সেটা গুণে গুণে জীবন কাটিয়ে দেব?

এই নববর্ষে আমার নবম চাওয়া, তরুণ সমাজ যেন বুঝতে শেখে যে, আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করব, প্রযুক্তিকে কখনোই আমাদের ব্যবহার করতে দেব না। ফেববুকের বাইরেও একটা জীবন আছে, ভার্চুয়াল জীবন থেকে সেই জীবন অনেক আনন্দের।

১০. সবার জন্যে প্রবেশগম্যতা : একটি দেশ কতোটুকু সভ্য হয়েছে সেটা একেকজন একেকভাবে বিচার করেন। আমার বিচার করার মাপকাঠিটা খুবই সহজ। যে দেশে প্রতিবন্ধী মানুষেরা যত বেশি স্বাভাবিক মানুষের মত জীবন যাপন করবেন, সেই দেশ তত বেশী সভ্য। সেই বিচারে আমরা কিন্তু এখনো সেরকম সভ্য হতে পারিনি। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে হয় এরকম মানুষেরা কিন্তু আমাদের দেশে এখনো পথে ঘাটে বিল্ডিংয়ে স্বাভাবিক মানুষের মত চলাফেরা করতে পারে না। দেশে সে ব্যাপারে আইন হয়েছে কিন্তু এখনো সেই আইন কার্যকর হয়নি।

কাজেই এই নববর্ষে আমার শেষ চাওয়াটি প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে। আমি চাই এই বছরে আমরা যেন সব জায়গায় সব মানুষের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করি। এখানে একটা বিষয় আমি একটু পরিষ্কার করে নিতে চাই, যদিও আমি ‘প্রতিবন্ধী’ শব্দটি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছি কিন্তু আমি এই শব্দটি বিশ্বাস করি না। যাদেরকে আমরা প্রতিবন্ধী বলি আমি তাদের অনেককে খুব কাছে থেকে দেখেছি এবং আবিষ্কার করেছি, তারা কিন্তু মোটেও প্রতিবন্ধী নন। তারা বিশেষ ধরণের মানুষ, একটা বিশেষ সুযোগ দেয়া হলেই তারা কিন্তু আমাদের পাশাপাশি ঠিক আমাদের মতই সব কাজ করতে পারেন।

নববর্ষে এই দশটি চাওয়া ছাড়াও আমার আরো অনেক চাওয়া আছে। কিছু নিজের কাছে, কিছু পরিবারের কাছে, কিছু সহকর্মীদের কাছে, ছাত্রছাত্রী বা তরুণ তরুণীদের কাছে এবং বেশ কিছু রাষ্ট্রের কাছে। সবগুলো থেকে আমি এই দশটি বেছে নিয়েছি শুধু একটা কারণে এই দশটি বাস্তবায়ন করতে কাউকে কোনো টাকা খরচ করতে হবে না।

দরকার শুধু একটুখানি সদিচ্ছার। সেই সদিচ্ছাটুকু কেন আমরা দেখাব না?

৩০.১২.১৫

লেখক : শিক্ষাবিদ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ জানুয়ারি ২০১৬/শাহনেওয়াজ

health Tips 2016

দ্রুত সৌন্দর্য চর্চার টিপস

অহ নওরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2016   02:13:28 PM   Saturday   
মডেল: নুসরাত, ফটোগ্রাফি: অপূর্ব খন্দকার

মডেল: নুসরাত, ফটোগ্রাফি: অপূর্ব খন্দকার

অহ নওরোজ : দিন বদলাবার সঙ্গে সঙ্গে যেমন বেড়েছে মানুষের ব্যস্ততা তেমনি তারা হয়ে পড়েছেন দ্রুতগামী। সব কিছুতেই দ্রুততা যেন অনিবার্য।

রূপচর্চার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। তাই রূপচর্চার জন্য যারা সময় দীর্ঘ করতে চান না তারা জেনে নিন সৌন্দর্যের জন্য দ্রুত কোন কোন বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখবেন।

খুশকি: চুলের ওপরে যদি খুশকি দৃশ্যমান হয় তাইলে যতই রূপচর্চা করুন না কেন আপনাকে স্মার্ট দেখাবার প্রশ্নই আসেনা। এক্ষেত্রে হালকা গরম তেল আপনাকে সহয়তা করতে পারে। চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহার উপকারী।

শুষ্ক চুল: আপনার চুল যদি রুক্ষ শুষ্ক হয়ে থাকে তাহলে অল্পসময়ে আপনি চুলকে স্বাস্থ্যবান করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি চুলে অলিভ ওয়েল লাগাতে পারেন। শুষ্ক চুল সবসময়ই আপনার সুন্দর রূপের বিপরীতে অবস্থান করে। তাই এ ব্যাপারে খেয়াল রাখা জরুরি।

প্রি ওয়াক্সিং: প্রি ওয়াক্সিং আপনাকে আরো বেশি সতেজ করতে সাহায্য করবে। প্রি ওয়াক্সি হাত ও পায়ের অন্তবর্ধিত লোম এবং মরা চামড়া থেকে আপনাকে মুক্ত করবে। আপনি হয়ে উঠবেন আরো সুন্দর।

উজ্জ্বল নখ: খেয়াল করুন আপনার নখে ময়লা রয়েছে কিনা। উজ্জ্বল চকচকে নখ সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক। নখকে আরো বেশি উজ্জ্বল করতে বেকিং সোডা ও পানির মিশ্রণে সাত মিনিট ভিজিয়ে রাখলে অল্প সময়ে ফল পাওয়া যায়।

মুখের দাগ: মুখে যদি কোনো দাগ থাকে তাহলে দাগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। মুখের কোনো ক্ষুদ্র দাগও আপনাকে বিব্রত অবস্থায় ফেলতে পারে। তাই কোথাও যাবার আগে এই ব্যাপারটা অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে আপনাকে। মুখের দাগ দূরীকরণে ঘরোয়া কোনো প্যাক ব্যবহার করুন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৫/ফিরোজ