Saturday, 2 January 2016

Global Spiders Info

যত ভয়ংকর মাকড়শা (পর্ব ১)

আবু সাইদ নয়ন : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:03 Jan 2016   06:45:51 AM   Sunday   ||   Updated:03 Jan 2016   08:08:36 AM   Sunday
যত ভয়ংকর মাকড়শা (পর্ব ১)
আবু সাইদ নয়ন : পৃথিবীর সব প্রায় সব অঞ্চলে মাকড়শা দেখা যায়। আট পায়ের এই ক্ষুদে প্রাণী নিয়ে অনেকের মধ্যে ভীতি কাজ করে। মাকড়শাভীতিকে বলা হয় আরাচনোফোবিয়া। পৃথিবীতে প্রায় ৪০ হাজার প্রজাতির মাকড়শা আছে। তবে খুব অল্পসংখ্যক প্রজাতি মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অধিকাংশ প্রজাতি শান্ত স্বভাবের এবং বিপদ দেখলে নিজেদের গুঁটিয়ে নেয়। মাত্র কয়েক প্রজাতির মাকড়শা চরম অবস্থায় বিষদাঁত বসাতে ওস্তাদ। এদের বিষ মানবদেহে প্রবেশ করলে কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুপর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্বের ভয়ংকর কিছু প্রজাতির মাকড়শা নিয়ে দুই পর্বের ধারবাহিকের আজ পড়ুন প্রথম পর্ব।

ব্রাজিলিয়ান ওনডারিং স্পাইডার
এই প্রজাতির মাকড়শার নাম বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ব্রাজিলীয় ভবঘুরে মাকড়শা’। নাম দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এরা এক জায়গায় থাকতে মোটেও পছন্দ করে না। অঞ্চল ভেদে এর কিছু মজার নাম আছে। আর্মড স্পাইডার বা বাহুওয়ালা মাকড়শা, ব্যানানা স্পাইডার বা কলা মাকড়শা এমন দুটি নাম। তবে বৈজ্ঞানিক নাম ফনেট্রিয়া ফেরা।

এবার জেনে নেওয়া যাক এর ভয়ংকর চরিত্রের কথা। ব্রাজিলীয় ভবঘুরে মাকড়শার বিষ এতটাই ক্ষতিকর যে, এর কামড়ে মানুষের পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে মৃত্যুও হতে পারে।



বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মাকড়শা হিসেবে ২০১০ সালে গিনেস বুকে নাম ওঠে কলা মাকড়শার। গিনেস বুকে বলা হয়, মাকড়শার জগতে ব্রাজিলীয় ভবঘুরে মাকড়শার বিষ সবচেয়ে ক্ষতিকর। দেখতেও ভয়ংকর।

বাহুওয়ালা এই মাকড়শার কামড়ে মানব শরীরে খিঁচুনি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শরীরের অংশবিশেষ অকার্যকর (পক্ষাঘাত) হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যুও হতে পারে। সুতরাং এদের দেখামাত্রই দূরে সরে যাওয়া ভালো।

রেডব্যাক স্পাইডার
এদের পিঠে একটি টানা লাল দাগ থাকে বলে নাম হয়েছে রেডব্যাক বা লালপিঠে মাকড়শা। বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাট্রোডেক্টাস হ্যাসেলটি। দেখলে অনেকে ভয় পায়, আবার অনেকে বিস্ময়াভিভূত হয়। পিঠে লাল দাগ থাকায় সহজেই চেনা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় এদের দেখা মেলে বেশি।



স্বভাবে হিংস্র না হলেও আত্মরক্ষার্থে বিষ উগ্রে দিতে দ্বিধা করে না। বাধার মুখে পড়লে বা ডিম বাঁচানোর প্রয়োজনে বিষদাঁত বসিয়ে দেয়। যেখানে কামড়ে দেয়, তার আশপাশে যন্ত্রণা অনুভূত হয়। তা ছাড়া এর বিষ শরীরে প্রবেশ করলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বমি হওয়া, বিবমিষা এবং ঘাম ছুটতে পারে।

ব্রাউন রিক্লুস স্পাইডার
মানুষ ও অন্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর যত প্রজাতির মাকড়শা আছে, তার মধ্যে ব্রাউন রিক্লুস স্পাইডার অন্যতম। এর নাম বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘বাদামি সন্ন্যাসী মাকড়শা’। বৈজ্ঞানিক নাম লক্সোসসেলেস রিক্লুসা। এদের মাথা ভায়োলিন আকৃতির ও কালচে, যা দেখে সহজে চেনা যায়।



বাদামি সন্ন্যাসীদের বসবাস উত্তর আমেরিকায়, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে। এরা লম্বায় সাধারণত ছয় থেকে ২০ মিলিটার হয়ে থাকে। তবে এর চেয়ে লম্বাও হয় কোনো কোনোটি। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, বাদামি সন্ন্যাসীদের বিষ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এদের কামড়ে জ্বর ও দেহকোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে বাদামি সন্ন্যাসীদের কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

ব্রাউন উইডো স্পাইডার
ইংরেজি থেকে হুবহু বাংলা করলে এর নাম বেশ মজারই হয়- বাদামি বিধবা। বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাট্রোডেক্টাস জিওম্যাট্রিকাস। এই প্রজাতির মাকড়শার সঙ্গে খুব মিল রয়েছে ব্লাক উইডো ও রেডব্যাকের। বলা যায় এরা একে অন্যের চাচাতো ভাই। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এদের দেখা যায়। এদের বিষ মারাত্মক। তবে একসঙ্গে খুবই অল্প বের হওয়ায় অন্য প্রাণীর জন্য তেমন ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে না।



মাকড়শাদের সম্পর্কে একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার। সাধারণত স্ত্রী মাকড়শারাই বেশি বিষধর হয়ে থাকে। বাদামি সন্ন্যাসীদের বেলায়ও তাই। এদের কামড়ে পেশিতে ব্যথা ও পক্ষাঘাত হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হলে মৃত্যুও হতে পারে। ফলে বাদামি সন্ন্যাসীদের কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

ব্ল্যাক উইডো স্পাইডার
ভয়ংকর মাকড়শাদের মধ্যে ব্ল্যাক উইডো বা কৃষ্ণ বিধবা অন্যতম। এর বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাট্রোডেক্টাস ম্যাকটান্স। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এদের অবাধ বিচরণ। দেখতে সুশ্রীই বলা যায়। মনে হয়, পিঠে ও তলপেটে রক্তের ছোপ লেগে আছে। সঙ্গমের পর এরা পুরুষ সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে।



কৃষ্ণ বিধবাদের বিষ অন্য প্রাণীর জন্য বেশ ক্ষতিকর। মানবদেহে এদের কামড় বসলে পেশিতে ব্যথা, পেশি সংকোচন-প্রসারণে বাধা, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে। তবে এদের বিষ এত বেশি মারাত্মক নয় যে, তাতে অন্য প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জানুয়ারি ২০১৬/রাসেল পারভেজ

No comments:

Post a Comment