অ্যাপলের অজানা ১৬ তথ্য
মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:04 Jan 2016 12:40:53 AM Monday || Updated:04 Jan 2016 01:07:49 AM Monday
কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন, টিভি, সফটওয়্যার অর্থাৎ যে প্রযুক্তি পণ্যই অ্যাপল বাজারে নিয়ে আসুক না কেন, তা প্রযুক্তি বিশ্বে বরাবরই আগ্রহের শীর্ষে থাকে।
২০০৭ সালে বাজারে আইফোন নিয়ে আসার মাধ্যমে জনপ্রিয়তায় নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির ১৬টি অজানা তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন, যেগুলোর অনেকগুলোই হয়তো আপনার জানা নেই।
১. অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কেন অ্যাপল রাখা হয়েছে সেটা ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্টিভ জবসকে নিয়ে রচিত একটি বায়োগ্রাফিতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, স্টিভ জবস ফলভোজী ছিলেন এবং অ্যাপল তার পছন্দের ফল ছিল।
২. অনেকে সাধারণত এটাই জানেন যে, অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা দুইজন- স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওজনিয়াক। কিন্তু অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা আসলে দুইজন নয়, তিনজন। আরেকজন হচ্ছে, রোনাল্ড ওয়েন। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম লোগো ডিজাইন তিনি করেছিলেন। তবে অ্যাপল প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছর পরেই ১৯৭৭ সালে তিনি অ্যাপল ত্যাগ করেন। স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওজনিয়াকের কাছে মাত্র ৮০০ ডলারে নিজের শেয়ার বিক্রি করে দেন রোনাল্ড ওয়েন।
৩. অ্যাপলের প্রথম কম্পিউটার ‘অ্যাপল ওয়ান’। ১৯৭৬ সালে দুইশত অ্যাপল ওয়ান কম্পিউটার বাজারে ছাড়া যায়। যার প্রতিটির দাম ছিল ৬৬৬.৬৬ ডলার। তবে এটি ছিল আসলে ‘নিজেই তৈরি করো’ টাইপের ডিভাইস। কেননা ব্যবহারকারীদেরকে অ্যাপল ওয়ানের কেসিং নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করে নিতে হতো।
৪. ১৯৮২ সালে অ্যাপলের আইপিও অফারে প্রতিটি শেয়ার যারা ২২ ডলার মূল্যে ১০০টি শেয়ার কিনেছিলেন, লভ্যাংশ ছাড়াই ওই শেয়ারের বর্তমান দাম প্রায় ৬ লাখ ডলার।
৫. ১৯৮০’র দশকের প্রথম দিকে স্টিভ জবসের ডিজাইনে বাজারে আসে ‘অ্যাপল লিসা’ নামক কম্পিউটার। স্টিভ জবস তার মেয়ে লিসার নামানুসারে এই মডেলটির নাম ‘লিসা’ রাখেন। এটি গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস সুবিধার প্রথম কম্পিউটার, যাতে প্রথমবারের মতো আইকন, মাউস-নিয়ন্ত্রিত কারসর ব্যবহারের সুবিধা ছিল। কিন্তু দাম বেশি থাকায়, অ্যাপল লিসা বাজারে ব্যর্থ হয়। সে সময় এই মডেলটির মূল্য ১০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়, তাই মডেলটি খুব বেশি বিক্রি হয়নি।
ভিডিও লিংক : http://www.youtube.com/embed/OYecfV3ubP8
৬. প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপল ব্যাপক পরিচিত লাভ করে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার বাজারে নিয়ে আসার মাধ্যমে। অ্যাপল তাদের এই কম্পিউটারটির সঙ্গে সকলকে পরিচয় করিয়ে দেয় ‘১৯৮৪’ শিরোনামের একটি সুপার বোল টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে। বেশ জনপ্রিয়তা পায় বিজ্ঞাপনটি। সাশ্রয়ী দাম ও সহজ ব্যবহার সুবিধার হওয়ায় অ্যাপলকে জনপ্রিয় করে তোলে ১৯৮৪ সালে বাজারে নিয়ে আসা ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার।
৭. ১৯৮৩ সালে স্টিভ জবস এবং বিল গেটস প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়ে। অ্যাপলের ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের জন্য সফটওয়্যারের পরিবর্তে মাইক্রোসফট নিজস্ব উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার বাজারে নিয়ে আসে। যা সরাসরি অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে ওঠে।
৮. ১৯৮৫ সালে অ্যাপলের বোর্ড থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন স্কালিকে হটানোর চেষ্ঠার অভিযোগে স্টিভ জবসকে ম্যাকিন্টশ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অ্যাপল থেকে পদত্যাগ করেন স্টিভ জবস এবং পরবর্তীতে নিজস্ব উদ্যোগে ‘নেক্সট কম্পিউটার’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন তিনি।
৯ এবং ১০ : ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে অ্যাপলের কম্পিউটারের বাজার হ্রাস পায়। ফলে কম্পিউটার ছাড়াও অ্যাপল আরো নানা ধরনের প্রযুক্তি পণ্য বাজারে নিয়ে আসে, যেমন ডিজিটাল ক্যামেরা, ভিডিও গেম কনসোল প্রভৃতি।
১০. এমনকি জামা-কাপড়ের ব্যবসাও শুরু করেছিল অ্যাপল।
১১. ১৯৯৭ সালে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রত্যাবর্তন করেন জবস। তখনো খুব খারাপ সময় পার করছিল প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে প্রথম ম্যাকওয়ার্ল্ড অনুষ্ঠানকে ঘিরে এক বক্তব্যে জবস জানান, অ্যাপলে ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে মাইক্রোসফট। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে জবস বলেন, এ মুহূর্তে যেকোনো ধরনের সাহায্যই আমাদের প্রয়োজন।
১২. ১৯৯৭ সালে অ্যাপলের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যায় যে, তা দেখে ডেলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল, তিনি মাইক্রোসফটের অন্যতম বড় অংশীদার একদিন বলে বসেন যে, তিনি যদি স্টিভ জবস হতেন তাহলে অ্যাপল আর না চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়ে শেয়ার হোল্ডারদের টাকা ফেরত দিতেন।
১৩. ১৯৯৮ সালের শুরুতেই অ্যাপলকে পুনরায় লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করা প্রচেষ্টা হিসেবে অ্যাপল নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সান ফ্রান্সিসকোয় আয়োজিত ম্যাকওয়ার্ল্ড এক্সপোতে প্রথমবারের মতো বক্তব্য শেষ করেন তার আলোচিত ‘ওয়ান মোর থিং’ সংলাপটির মাধ্যমে। পরবর্তীতে নানা উদ্যোগের মাধ্যমে খুব দ্রুত তিনি অ্যাপলকে পুণরায় লাভজনক অবস্থানে নিয়ে আসেন।
১৪. স্টিভ জবস প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মীদের জন্যও নানা সুযোগ সুবিধা চালু করেন। কর্মীদের জন্য উন্নত খাবর এবং ক্যাফের ব্যবস্থা করেন তিনি।
১৫. ১৯৯৮ সালে অ্যাপলের কম্পিউটারের নামে ‘আই’ বর্ণ যুক্ত করে অ্যাপল। সেসময় বাজারে আসা কম্পিউটারটির নাম দেয়া হয় ‘আইম্যাক’। সহজেই এই কম্পিউটারের সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা বোঝাতে ইন্টারনেটের প্রথম অক্ষর হিসেবে ‘আই’ নিয়ে নাম রাখা হয় ‘আইম্যাক’। তবে অ্যাপল অবশ্য এটাও জানিয়েছে যে, ‘আই’ অক্ষরটি দিয়ে ‘ইন্ডিভিজুয়্যালিটি’ এবং ‘ইনোভেশন’ এর কারণেও এর ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের প্রযুক্তি পণ্যের নামকরণে ‘আই’ এর প্রাধান্য পরবর্তীতেও দেখা গেছে। এমনকি এখনো বিদ্যমান। যেমন আইফোন ও আইপ্যাড।
১৬. ২০১১ সালে চমক সৃষ্টি করে অ্যাপল। জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের চেয়েও বেশি নগদ অর্থ মজুদ রয়েছে অ্যাপলের।
তথ্যসূত্র: বিজনেসে ইনসাইডার
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ জানুয়ারি ২০১৫/ফিরোজ
No comments:
Post a Comment