পৃথিবীর ভয়ংকর আট রাস্তা
সাদিয়া ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:12 Dec 2015 12:23:35 AM Saturday || Updated:12 Dec 2015 11:51:53 AM Saturday
ছবির কোলাজ
তবে প্রযুক্তি আর চিন্তা-ভাবনার এতটা বিকাশ লাভের পরেও আজও পৃথিবীর কিছু রাস্তাকে একদমই নিজের আয়ত্বে আনতে পারেনি মানুষ। সেই প্রথম থেকেই যতটা প্রাণসংহারী আর ভয়নক ছিল সেগুলো, আজ এতদিন পরে এসেও সেগুলো মরন ফাঁদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সবার কাছে। আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন এমনই কিছু রাস্তার পরিচিতি।
সিচুয়ান-টিবেট হাইওয়ে
চীনের এই মহাসড়কটি এমনিতে বেশ ভালো হলেও হুটহাট ভেঙে পড়ে এর বিভিন্ন অংশ। এই পথে চলতে গেছে হঠাৎ করেই ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তাই এই হাইওয়ে ধরে চলার সময় চালক ও যাত্রীরা প্রাণ হারানোর ভয়ে থাকেন সবসময়। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় বছরে প্রায় ১,০০,০০০ টি দুর্ঘটনার ঘটে থাকে এই সড়কে। আর এতে প্রাণ হারায় প্রায় ৭,৫০০ জন গাড়িচালক।
নানারকম সমস্যা রয়েছে এ রাস্তাটির। কখনো পাথর ধ্বসে যায়। আবার কখনো কেঁপে উঠে এর মাটি। কিন্তু এতসব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোন প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার পরও থেমে থাকেনি গাড়ি চলানো। আর অব্যাহত রয়েছে এ হাইওয়ে ধরে চলা গাড়ি চালকের মৃত্যুও।
স্টেলভিয়ো পাস
ইতালির পূর্ব আল্পস পাহাড়গুলোর মধ্যে সবচাইতে উঁচু পাহাড়ের উপর দিয়ে গেছে স্টেলভিয়া পাস নামের রাস্তাটি। বছরের বেশ কয়েকটি দূর্ঘটনা ঘটে ৯০৪৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই রাস্তায়। দেখতে অনেকটা বাচ্চাদের তৈরি পথের মতন এই পথটি প্রায় দুই কিলোমিটার অব্দি খাড়া উঠে গেছে প্রথমে।
এরপর হঠাৎ করেই কেবল নীচের দিকে নেমে গেছে তা। এই পথে গাড়ির গতি যদি একটুও বেশি থাকে তাহলে আর রক্ষা নেই।
লস কারাকোলস পাস
চিলি আর আর্জেন্টিনার ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া চিলির এই পথটি গেছে সাপের মতো এঁকেবেঁকে। রাস্তাটির খানিক পরপর রয়েছে প্রচন্ড বাঁকানো মোড় আর সিঁড়ি। শুধু তাই নয় গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতন ভয়ংকর সব বাঁক আর সিঁড়ির সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রচুর পরিমাণে তুষার। স্থানীয় আবহাওয়ার বদৌলতে প্রতিনিয়ত ভীষন তুষারপাত হয় এখানে। ফলে রাস্তা হয়ে থাকে প্রচন্ড পিচ্ছিল।
প্রতিবছর যে ঠিক কত মানুষ মারা যায় এখানে আর কত দূর্ঘটনা ঘটে সেটার ইয়ত্তা নেই। তবুও জান হাতে নিয়ে রোজ এই পথে যাতায়াত করে ছোটখাটো গাড়ি থেকে শুরু করে দৈত্যাকৃতির ট্রাকও!
স্কিপার্স ক্যনিয়ন রোড
ভাবুন তো প্রচন্ড সরু একটা রাস্তার কথা যেখান দিয়ে গাড়ি নিয়ে একাই পথ চলা কষ্টকর সেই সড়কে হঠাৎ করে মূর্তিমান মৃত্যূর মত সামনে চলে এল আরেকটা গাড়ি! শুধু সরুই নয় রাস্তাটি যদি তা যায় উঁচু এক পাহাড়ের চূড়ার উপর দিয়ে, তাহলে কি ভয়ানক কাণ্ড ঘটতে পারে তখন? এমনই এক রাস্তা রয়েছে নিউজিল্যান্ডে। এর নাম স্কিপার্স ক্যানিয়ন রোড।
পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই রাস্তাতে দুর্ঘটনা ও মানুষের মৃত্যু খুব স্বাভাবিক ঘটনা।
জোজি পাস
ভারতের শ্রীনগর আর লেহের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া এই রাস্তাটি কাশ্মীর আর লাদাখের সংযোগ স্থাপন করেছে। এক কথায় বলা যায় লাদাখের সঙ্গে পুরো পৃথিবীর যোগাযোগ হয় এই পথটির মাধ্যমে। কিন্তু ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে এই রাস্তার পুরোটাই ভারতের অন্যতম উঁচু পাহাড় জোজি লা-এর উপরে।
ভয়ংকর এই রাস্তাটি শীতকালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু পুরোটা শীত দুনিয়ার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও বছরের অন্য সময় অনেকটা প্রাণ হাতে নিয়েই মরন ফাঁদ পাতা রাস্তাটিতে চলাচল করে মানুষজন।
কারাকোরাম রোড
পাকিস্তান আর চীনের ভেতরে সংযোগ স্থাপনাকারী একমাত্র রাস্তা হচ্ছে এই কারাকোরাম আন্তর্জাতিক রাস্তা। পাকিস্তানের কারাকোরামের উপর দিয়ে তৈরি হওয়া এই রাস্তাটি এমনিতে বন্ধুত্বের রাস্তা বলে পরিচিত হলেও এখানে রয়েছে প্রাণের হারানোর ঝুঁকি।
কেবল উচ্চতাই নয়, খানিক পরপর পাথর ধ্বসের ভয় এবং বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে এই পথ চলে মানুষ। তবে এতটা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্বেও প্রতি বছরই প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করে এ রাস্তাটি দেখতে।
জালালাবাদ- কাবুল রোড
পৃথিবীতে অনেক অনেক রাস্তাকে ভয়ংকর আর প্রাণসংহারক বলা হলেও তাদের কোনটিই হয়তো আফগানিস্তানে অবস্থিত এই জালালাবাদ-কাবুল রাস্তাটির ধারে কাছে নয়। কেবল আফগানিস্তানের ভেতরে চলা কোন্দল আর সংঘাতের কারণেই নয়, প্রচণ্ড সরু রাস্তারটিতে চলাচলকারী যাত্রীরা যেকোনো সময় পড়তে পারেন ঝড়ের কবলে। ভূপৃষ্ট থেকে রাস্তাটি বেশ উঁচুতে অবস্থিত হওয়ার কারণেও যোগ হয়েছে বাড়তি ভয়। তবে এ সবের পাশাপাশি যোগ হয়েছে ভয়ের আরো একটি উপাদান। তা হচ্ছে আফগানিস্তানের দূর্ধর্ষ গাড়ি চালকেরা। যারা রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় আপপাশের কোনদিকেই নজর রাখেন না। প্রচন্ড গতিতে চারপাশের সবকিছুকে তুচ্ছ করে এগিয়ে যায় তারা। এর ফলফাল মারাত্মক দূর্ঘটনা ছাড়া আর কিই বা হতে পারে?
উত্তর ইউঙ্গাস রোড
বাইকে করে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে কার না থাকে? নিজের ইচ্ছে মতন মাটিতে হাওয়ার বেগে উড়ে চলার এই অভিজ্ঞতা প্রায় সবাই নিতে চায়। বিশেষ করে বলিভিয়ায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকেরা। আঁকাবাকা রাস্তা ধরে টানা বাইকে ঘোরাঘুরি কেবল। শুনতে আরো রোমাঞ্চকর লাগবে আপনার, যখন আপনি জানবেন যে এই রাস্তাটা পুরোটাই চলে গেছে পাহাড়ের উপর দিয়ে।
নিশ্চয় রোমাঞ্চ অনুভব করছেন আপনিও। তবে আপনি খানিক দমে যাবেন এবারে। কেননা যে রাস্তাটির কথা বলছি সেটি যেমন উঁচু তেমনি সরু। এই রাস্তাটিতেও মোড়ে মোড়ে ওঁতপেতে থাকে মৃত্যু। তবু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জনের নেশায় কিছু মানুষ এই সড়কে বাইক চালিয়ে যান। বলিভিয়ার সবচাইতে বিপদজনক এ রাস্তাটি গেছে ইউনগাসের উপর দিয়েই। এই রাস্তায় প্রতি বছর প্রায় ২০০ জন পর্যটক মৃত্যুবরন করেন।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ ডিসেম্বর ২০১৫/রাশেদ
No comments:
Post a Comment