Sunday, 22 January 2017

Scientist in Bangladesh

বশিক্ষিত বিজ্ঞানী জুমনের ৮ আবিষ্কার

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৩ ৭:৩৭:১২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৩ ১০:৫৬:২৮ এএম

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : ছোটবেলা থেকেই যন্ত্রপাতি নিয়ে খেলাধুলা করা ছিল জুমনের নেশা। সব সময় কৌতূহলের বশে খোঁচাখুঁচি করে নিজের বাসার টিভি, রেডিও, মোবাইলসহ বহু যন্ত্রপাতি নষ্ট করতেন, আবার নিজে নিজে ঠিকও করতেন।

তার কর্মকাণ্ড দেখে পাড়ার লোকেরা হাসাহাসি করত। পাগল বলত। নতুন কিছু আবিষ্কার করলে, সবাইকে ডেকে এনে দেখাতেন। তবে কেউ পাত্তা দিত না। সেই পাত্তা না পাওয়া তরুণটি সবাইকে চমকে দিয়ে মানুষের প্রয়োজনীয় আটটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করবেন, হয়তো কেউ তা ভাবতেই পারেননি।

পুরো নাম কাজী এমরান হোসেন জুমন (৩১)। জন্মেছেন কুমিল্লার বাখরাবাদ চাপাপুর কাজীবাড়িতে। তিনি হলেন চার বোনের একমাত্র ভাই। অতিরিক্ত ক্রিকেটপ্রীতি থাকায় অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশো্না হয়নি। পরিবারের চাপাচাপিতে শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তিনি মেকানিকের কাজ করতেন। তখন কিছু কন্ট্রাক্টর আইটেমের কাজ শিখে নেন। জুমন খুব পরিশ্রমী হওয়ায় দুই মালিকের টানাটানির দ্বন্দ্বে দুই বছরের মাথায় দেশে ফিরে আসেন। মাস্টাররোলে কর্মচারী হিসেবে চাকরি নেন বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে।


২০১২ সালে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ঢাকায়। তা শুনে জুমনের মাথায় চিন্তা এল এমন কী করা যায়, যাতে ফ্ল্যাট বাসায় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। বউয়ের গয়না বিক্রির টাকা দিয়ে কিছু সরঞ্জাম কিনে শুরু করলেন গবেষণা।

দীর্ঘ গবেষণার পর তিনি আবিষ্কার করলেন লাইফ সিকিউরিটি সিস্টেম। হত্যাকারী বাসায় ঢুকেছে- টের পেলে শুধু একটা সুইচে ক্লিক করলেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে দরজা লক হয়ে যাবে, যাতে হত্যাকারী পালাতে না পারে। অ্যালার্ম বাজবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে থানায় কল যাবে। তার এই অভিনব আবিষ্কারের জন্য বিসিএসআইআর বিজ্ঞান ও শিল্পপ্রযুক্তি মেলা ২০১৬ তে স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পান। নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ পুরস্কার তুলে দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। উৎসাহ অনেক গুণ বেড়ে যায়।

প্রতিনিয়ত যখন গার্মেন্টস ও মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও শ্রমিক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, তখন জুমন নড়েচড়ে বসেন, কিছু একটা করতে হবে। নতুন ফর্মুলা আবিষ্কারের নেশায় রাত জেগে গবেষণা করতে থাকেন। আবিষ্কার করেন সিকিউরিটি ফায়ার সিস্টেম। ধোঁয়া বা উত্তাপ সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে তিনটি কাজ করবে- বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ হয়ে যাবে, বিকট শব্দে অ্যালার্ম বাজতে থাকবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঁচটি নম্বরে কল যাবে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে কেউ এগিয়ে না এলে অটো আগুন নেভাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হবে। ২৫ মিনিট পর অটো পানির পাম্প চালু হয়ে পানি নির্গত হবে। ততক্ষণে আগুন নিভে যাবে।

এ ছাড়া জুমন আরো আবিষ্কার করেন ভূমিকম্পন অনুভব সিস্টেম, দোকান সিকিউরিটি সিস্টেম, অটো লক সিকিউরিটি, লাইট সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ, বাউন্ডারি ওয়াল সিকিউরিটি, দরজা অটো লক ও পানির পাম্প নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।


জুমন অর্জন করেছেন চে গুয়েভারা অ্যাওয়ার্ড ২০১৬। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জুমনের আবিষ্কারগুলো পরিদর্শন করে ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জুমনের আবিষ্কারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জুমনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময় করেছে।

জুমন জানান, ৯টা-৫টা বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে কাজ করেন, রাতে বাসায় ফিরে যা সময় পান গবেষণার পেছনে সময় দেন। জুমন গবেষণা করে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চান। জুমন বলেন, ‘যেভাবে হোক বড় কিছু করতে হবে। মইরা যামু, তবুও হাল ছাড়ুম না।’

বিবাহিত জুমন দুই সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে সাত বছরের কাজী জায়েদুল ইসলাম জুবায়ের এখন নার্সারিতে পড়ে। জুমনের ইচ্ছা ছোট বেলা থেকে ছেলেকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলবেন, বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন, যাতে ছেলে বড় হয়ে বড় বিজ্ঞানী হতে পারে।

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ/ এএন

Piraliging electricity produce

পাইরালাইজিং প্রযুক্তিতে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

ড. এসএম আবু হানিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২২ ৬:৩৩:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২২ ৬:৩৩:৪০ পিএম

ড. এসএম আবু হানিফ : আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে মানব বর্জ্য ও অন্যান্য বর্জ্য রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করার বিষয়টি আমাদের দেশে এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ সার্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই বর্জ্য আমাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারসংকট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই ভূমিকা রাখতে পারত। বলাবাহুল্য আমাদের গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর ক্রমেই চাপ বেড়ে চলেছে। অথচ বিদ্যুৎ একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের চালিকা শক্তি।

আমেরিকার ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের Terralogix Group কর্তৃক আবিষ্কৃত অত্যাধুনিক পাইরালাইজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব ও অন্যান্য সুয়ারেজ প্রবাহিত বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বিবিধ বায়োপ্রোডাক্ট উৎপাদন করা সম্ভব। পাইরালাইজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতি ১০ হাজার লোকের মানব বর্জ্য (night oil) হতে দশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎসহ প্রতিদিন ‘বায়োচার’ নামক পরিবেশ বান্ধব ও কেমিক্যাল মুক্ত জৈবসার উৎপাদন করা যাবে যা জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া বায়ো-গ্যাস, বায়ো-ডিজেল ও বিশুদ্ধ খাবার পানির মতো বাই প্রডাক্ট উৎপাদনও করা সম্ভব।

বায়োচার নামক এই জৈবসার জমিতে ব্যবহার করা গেলে জমিতে পানি ধারণ ক্ষমতা (water retention) ও উর্বরতা অতিমাত্রায় বাড়বে যা কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে কখনই সম্ভব নয়। বায়ো-গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বাজারজাত করা যাবে। বায়ো-ডিজেল ফুয়েল হিসেবে গাড়িতে ব্যবহার করা যাবে যা সম্পূর্ণ পরিবেশ সহায়ক।

পাইরালাইজিং পদ্ধতিতে ৬০০-৮০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা উৎপন্ন হবে। Turbine ঘূর্ণায়মান অবস্থায় ঐ তাপ থেকে পানি বাষ্প হয়ে ওপরের দিকে উঠবে। ঐ বাষ্প হতে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে পানি ধারণ করা যাবে, তা খাবার পানি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ জ্বালানীর অপ্রতুলতা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ জ্বালানী তেল আমদানি করতে হয়। আর এ জন্য সরকারকে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আধুনিক পাইরালাইজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে আগ্রহী হলে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা আর ভর্তুকি দিতে হবে না, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বিশেষ মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে।

বাংলাদেশে যে কয়টি ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে এগুলো পাইরালাইজিং পদ্ধতির মাধ্যমে কনভারশন করে চালালে ডিজেল ও ফার্নেস ওয়েল ভতূর্কি দিতে হবে না। সরকারের ডিজেল ও ফার্নেস ওয়েল আমদানি করতে যে বিরাট অংকের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়, তা বেঁচে যাবে।

বর্তমানে সরকারি সেক্টরে দেশে যে কয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে এর ৭০ শতাংশ গ্যাস চালিত। বাকী ৩০শতাংশ ডিজেল ও ফার্নেস ওয়েল দ্বারা চালিত। প্রাইভেট সেক্টরেও পাইরালাইজিং পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকল্পগুলো কনভারশন করা সম্ভব। ফলে গ্যাস ও ডিজেল চালিত স্থাপনাগুলোতে জ্বালানির ভর্তুকির চাপ একেবারই কমে আসবে। বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাস অন্যান্য শিল্প কারখানায় ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে ঢাকা শহরে ৩০শতাংশ বর্জ্যর জন্য ওয়াসার সুয়ারেজ কভারেজ আছে। দেখা যায় সুয়ারেজ লাইন কভারেজের ৫-১০শতাংশ  লাইন বিকল অবস্থায় থাকে। ফলে এলাকাবাসীর ভোগান্তি সীমাহীন হয়ে পড়ে। কোনো একটি এলাকার লাইন ব্লক হয়ে গেলে ঐ এলাকার বর্জ্য ওভার ফ্লো করে সরাসরি রাস্তায় চলে আসে। সে সময় রাস্তাগুলো চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। বাকী ৭০ শতাংশ বর্জ্যের ঢাকায় সুয়ারেজ কভারেজ না থাকায় ঐ সব এলাকায় বসবাসরত বাড়ি-ঘরের লোকজন সেইফটি ট্যাংক ব্যবহার করে। সেইফটি ট্যাংক যখন ফুল লোড হয়, তখন ক্লিনার দিয়ে সেগুলো পরিষ্কার করে বর্জ্যগুলো সিটি কর্পোরেশনের সারফেস ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়।

ঐ বর্জ্য ধীরে ধীরে সারফেস ড্রেন দিয়ে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার আশপাশে অন্যান্য নদীতে এসে পড়ে। এর ফলে নদীগুলো আজ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এই নদীর পানি ব্যবহারের অযোগ্য ও জলজ প্রাণী নাই বললেই চলে। নদী দূষণের ৭০ শতাংশ দায়ভার সারফেস ড্রেন প্রবাহিত, বাকি ৩০ শতাংশ দূষণের কারণ টেনারি ও পশু জবাইখানা ও অন্যান্য।

বিআইডব্লিউটিএ-এর সাম্প্রতিকতম জরিপে বলা হয়েছে, নদীতে ১১৫টি পথে প্রতিনিয়ত বর্জ্য যাচ্ছে। ওয়াসার গত বছরের এক হিসাব মতে রাজধানীতে পয়ঃবর্জ্যের পরিমাণ ১৩ লক্ষ টন ঘন মিটার। এসব বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ঘন মিটার পরিশোধন ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়াসার পরিশোধনাগার রয়েছে পাগলায়। অথচ সেখানে বর্জ্য পরিশোধন করা হচ্ছে ৫০ হাজার টন ঘন মিটার। বাকী ১২ লক্ষ ৫০হাজার টন ঘন মিটার বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। অথচ এই সব বর্জ্য রিসাইক্লিং করে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য বাই প্রোডাক্ট তৈরি করা যেতে পারে। ফলে এই বর্জ্য দেশের সম্পদে পরিণত হবে।

ঢাকার কসাইখানাগুলোতে কত পশু জবাই করা হয় তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রায় দুই কোটি মানুষের মাংসের যোগান দিতে গিয়ে গরু, মহিষ, ছাগল, মুরগি ও অন্যান্য প্রাণীর রক্ত ও পরিত্যক্ত বর্জ্য বিভীষিকাময় অবস্থায় গিয়ে পরিশেষে বিভিন্ন অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বুড়িগঙ্গা ও আশপাশের নদীগুলোতে গিয়ে পানি বিষাক্ত ও ঢাকার পরিবেশ আবাস অযোগ্য করে তুলছে। কিন্তু পাইরালাইজিং পদ্ধতিতে এই বর্জ্য সম্পদে পরিণত করে সেখান থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করা যায়।

ট্যানারী কারখানার বর্জ্য দ্বারা ঢাকা শহর এতটাই দূষিত হয়েছে যে, সরকার বাধ্য হয়েছে এই শিল্পকে শহর থেকে দূরে সরিয়ে নিতে। ট্যানারীতে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রন তরল দ্রবণ নদীকে দূষিত করে, তা দ্রুত মানুষের মরণ ব্যাধি ক্যানসারের দিকে ধাবিত করে। এই বিষাক্ত দ্রবণকেও পারাইলাইজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্যানারীতে পূনঃব্যবহার করা যাবে ও অবশিষ্ট বর্জ্যদ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

পাগলাতে ওয়াসার সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে বর্তমানে দৈনিক এক হাজার মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার কথা বাদ দিয়ে যদি ঢাকা সিটির কথাই বলা হয়, তাহলে দেখা যাবে এখানে প্রায় ২ কোটি লোকের বাস রয়েছে। এক কোটি লোকের মানব বর্জ্য ব্যবহারের মাধ্যমে কেবল ঢাকাতেই ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত করা সম্ভব।

তাছাড়া প্রত্যেক বড় ও মাঝারী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে তাদের নিজস্ব জেনারেটর রয়েছে। ন্যাশনাল গ্রীড হতে বিদ্যুৎ পেতে ব্যর্থ হলে ফ্যাক্টরি মালিকগনণ নিজস্ব উপায়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ফ্যাক্টরি চলমান রাখে। এতে প্রোডাক্টশন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। যেহেতু গার্মেন্টর ফ্যাক্টরিগুলো লেবার ইনটেনসিভ অর্থাৎ অনেক শ্রমিক কাজ করে, তাদের নিজস্ব বর্জ্য হতে পাইরালাইজিং পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে পারে। জাতীয় গ্রীড হতে তাদের চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ না কিনলেও চলবে।

বর্তমানে দেশে গ্যাস সংকটের কারণে সার কারখানাগুলো প্রায়ই বন্ধ থাকে। ফলে সরকারকে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে সার আমদানী করতে হয়। অথচ বিদ্যুৎ সেক্টরে যে গ্যাস ব্যবহারিত হচ্ছে তা সার ফ্যাক্টরিতে বহার করে দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশে উদ্ধৃত্ত সার রপ্তানী করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সেমিনারে প্রায় বলে থাকেন, ঢাকার আশেপাশের নদীগুলো দূষিত হয়ে গেছে। আপনার এই নদী দূষণ থেকে রক্ষার উপায় পাইরালাইজিং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়ন। যা পরিবেশ ও নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করবে।

লেখক : অর্থনীতিবিদ



রাইজিংবিডি/ঢাকা/ ২২ জানুয়ারি ২০১৭/হাসনাত/তারা

National pita festival

রাজধানীতে শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় পিঠা উৎসব’

তাহের : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৩ ৮:২৬:৫৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৩ ১০:০২:০৪ এএম
জাতীয় পিঠা উৎসব ১৪২২ এর একটি ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ থেকে শুরু হচ্ছে রাজধানীতে আট দিনব্যাপী দশম ‘জাতীয় পিঠা উৎসব-১৪২৩’।

শিল্পকলা একাডেমিতে আজ বিকেলে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

উৎসবের আয়োজন করছে জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদ। শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে জাতীয় এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদযাপন পরিষদের সভাপতি ম. হামিদ সভাপতিত্ব করবেন। এ ছাড়া থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, নৃত্যশিল্পী আমানুল হক।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, উৎসবে প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পিঠা তৈরি, প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হবে। আর প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উৎসব মঞ্চে নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, পথনাটক ও জাদু পরিবেশিত হবে।

এই উৎসবে থাকবে ৫০টি স্টল। এসব স্টলে প্রায় ১৭৮ রকমের পিঠা থাকবে বলে জানিয়েছেন উদযাপন পরিষদের সভাপতি ম. হামিদ।

আগামী ৩০ জানুয়ারি শেষ হবে এই পিঠা উৎসব। আর সমাপনী আসরে উৎসবে অংশগ্রহণকারী পাঁচজন পিঠাশিল্পীকে সেরা পিঠাশিল্পীর সম্মাননা স্মারক দেওয়া হবে।
  

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ জানুয়ারি ২০১৭/এসটি/হাসান/এসএন/ এএন

google apps to need update

গুগলের যেসব অ্যাপ আপডেট করা লাগবে

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২২ ৪:১৭:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২২ ৪:২৮:৪৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : গুগল সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, তাদের কিছু অ্যাপের পুরোনো সংস্করণ কয়েক মাসের মধ্যে কাজ করা বন্ধ করে দেবে। তাই যারা গুগল ড্রাইভ, গুগল ডক্স, গুগল শিট এবং গুগল স্লাইড অ্যাপের পুরোনো ভার্সন ব্যবহার করছেন, তারা দ্রুত এসব অ্যাপ আপডেট করে ফেলুন।

গুগল ড্রাইভ এবং তার জি সুইট অ্যাপস যেমন গুগল ডক্স, গুগল শিট ও গুগল স্লাইড অত্যন্ত জনপ্রিয় অ্যাপ। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যাবহারকারী এসব অ্যাপস ব্যবহার করেন, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস উভয় প্লাটফর্মের ব্যবহারকারীরা।

যা হোক, এত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও অনেকে এসব অ্যাপের আপডেট ভার্সন ব্যবহার করেন না। যদিও এর ফলে সাধারণত কোনো সমস্যা হবে না, কেবলমাত্র যেসব সংস্করণ গুগল বন্ধ করছে সেগুলো ব্যতীত।

যেসব অ্যাপস খুব শিগগির কাজ করা বন্ধ করে দেবে
গুগল ড্রাইভ, গুগল ডক্স, গুগল শিট, এবং গুগল স্লাইডের নিচে উল্লেখিত অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস সংস্করণগুলো আগামী ৩ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে :
* গুগল ড্রাইভ (2.4.311 এর আগেকার ভার্সন)
* গুগল ডক্স (1.6.292 এর আগেকার ভার্সন)
* গুগল শিট (1.6.292 এর আগেকার ভার্সন)
* গুগল স্লাইড (1.6.292 এর আগেকার ভার্সন)

আইফোনে :
* গুগল ড্রাইভ (4.16 এর আগেরকার ভার্সন)
* গুগল ডক্স (1.2016.12204 এর আগেকার ভার্সন)
* গুগল শিট (1.2016.12208 এর আগেকার ভার্সন)
* গুগল স্লাইড (1.2016.12203 এর আগেকার ভার্সন)

বন্ধ করার আগে মার্চের ১ তারিখ থেকে গুগল অবশ্য এসব পুরোনো ভার্সনের অ্যাপ ব্যবহারকারীদের নতুন ভার্সন ব্যবহারের জন্য প্ররোচনা শুরু করবে।

তথ্যসূত্র : মেকইউজঅব



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ

Saturday, 21 January 2017

unknown think

অদ্ভুত ১০ ভয়

স্বপ্নীল মাহফুজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২২ ৮:০৭:১৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২২ ৮:০৭:১৬ এএম
হিপনোফোবিয়ার প্রতীকী ছবি
স্বপ্নীল মাহফুজ :  ফোবিয়া বা অস্বাভাবিক ভীতি- অনেকেরই অনেক বিষয়ে রয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো এই ফোবিয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আজ আপনাদের অদ্ভুত ১০টি ফোবিয়ার কথা জানাবো।

ক্রোমাটোফোবিয়া- রঙ ভীতি
ক্রোমাটোফোবিয়ায় আক্রান্তদের জন্য পৃথিবী একটি ভয়ংকর জায়গা। তারা রঙিন বস্তু দেখলেই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তাহলে একবার ভাবুন রংধনু দেখলে তাদের অবস্থা কেমন হবে। রংধনু যেন তাদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। এই ভীতি অবচেতন মন দ্বারা সৃষ্টি হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেপথ্যে একটি আঘাতের ঘটনা থাকে, যার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রঙ কোনোভাবে জড়িত ছিল।

হিপনোফোবিয়া- ঘুমিয়ে পড়ার ভীতি
এই ফোবিয়ায় আক্রান্তরা ‘যদি ঘুমিয়ে পড়ি’ এমন চিন্তায় অস্থির থাকেন। তারা ঘুমকে খুব বেশি মাত্রায় ভয় পান। ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর কোনো ঘটনার শিকার হওয়ার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে।

ক্লাস্টোফোবিয়া- বদ্ধ স্থানে ভীতি
বদ্ধ স্থানের প্রতি ভীতি বা আতঙ্ককে বলা হয় ক্লাস্টোফোবিয়া। অনেকেই লিফটে উঠতে ভয় পান এই মানসিক ব্যাধির কারণে। এক জরিপে দেখা গিয়েছে, পৃথিবীর ৫-৭ শতাংশ লোকই এই মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত, কিন্তু খুব কম সংখ্যক লোকই উপযুক্ত চিকিৎসা পেয়ে থাকেন। খনিশ্রমিকরা অনেকেই এই ভীতির স্বীকার হন।

অ্যাক্রোফোবিয়া- উচ্চতা ভীতি
অনেকে আছেন, পাহাড়ে উঠতে বা উচুঁ স্থানে উঠতে ভয় পান, উচ্চতা ভীতিকে বলে অ্যাক্রোফোবিয়া। অ্যাক্রো শব্দটি এসেছে গ্রিক অ্যাক্রোন থেকে, এর অর্থ শীর্ষ স্থান। এই ফোবিয়ায় আক্রান্তদের উঁচু স্থান এড়িয়ে চলাই ভালো।

নিউমিরোফোবিয়া- সংখ্যা ভীতি
অনেকেই তাদের জীবনে কোনো কোনো সংখ্যাকে তাদের দুর্ভাগ্যর কারণ হিসেবে দেখেন। আর এমন হতে হতে একসময় এটা ভীতির কারণ হয়। যেমন -১৩, ৬৬৬ ইত্যাদি। তারা সবসময় তাদের নিজ নিজ ভীতিকর সংখ্যা থেকে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন।

অ্যাম্বুলোফোবিয়া- হাঁটায় ভীতি
অনেককেই দেখবেন কোথাও ঘুরতে গিয়েছে, কিন্তু সেখানে কিছু দূর হাঁটতে হবে এমন কথা শুনেই অস্থির হয়ে পড়েন। বলেন, কিভাবে হাঁটবো! ওরে বাবা! তারা আসলে অ্যাম্বুলোফোবিয়ায় আক্রান্ত।

হিপ্পোপ্তমনস্ট্রসেস্কোইপেডালিওফোবিয়া- দীর্ঘ উচ্চারণে ভীতি
আমাদের চলার পথে অনেক সময় চোখের সামনে দীর্ঘ শব্দ আসে। এমন দীর্ঘ শব্দ উচ্চারণে অনেকেরই ভীতি আছে। তারা যত সম্ভব এগুলো এড়িয়ে চলেন। আর এই ভীতিই হল, হিপ্পোপ্তমনস্ট্রসেস্কোইপেডালিওফোবিয়া।

এটিচিফোবিয়া- অকৃতকার্য হওয়ার ভয়
এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত লোকেরা যেকোনো পরীক্ষায় কিংবা কাজে অকৃতকার্য হওয়ার ভয়ে সবসময় ভীত থাকেন। তাদের এই ভীতি যখন প্রবল হয় তখন যেকোনো কাজ করতেই ভয় পান এই ভেবে যে, যদি না পারি।

এরেখনোফোবিয়া– মাকড়শার ভয়
এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত লোকেরা মাকড়শা দেখলেই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এটার মাত্রা যখন বাড়তে থাকে তখন তারা মাকড়শার নাম শুনলেও ভয় পায়। বিশেষ করে নারীদের এমনটা বেশি হয়ে থাকে।

এজিরোফোবিয়া- রাস্তা পারাপারের ভয়
এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত লোকেরা রাস্তা পারাপারে ভয় পান। হয়তো আপন কোনো লোক অথবা চোখের সামনে রাস্তা পারাপারে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হতে দেখে এমন ভীতি তৈরি হয়ে থাকে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ

weight lost tips

ওজন কমানোর ভুল টিপস

মোখলেছুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৬ ১:৫১:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৮ ৭:০১:৩৩ পিএম
প্রতীকী ছবি
মোখলেছুর রহমান : সুস্বাস্থ্যের জন্য তো বটেই, শারীরিক সৌন্দর্যের জন্যও নারী-পুরুষ উভয়েই ভাবেন ওজন কমাবেন। কিন্তু ওজন কমাতে অনেকেই নানা ভুল উপায় গ্রহণ করে থাকেন। আপনি যদি সত্যিই ওজন কমাতে চান, তাহলে সেকেলে ধারণা, বিপথে চালিত টিপস উপেক্ষা করুন এবং স্মার্ট উপায় বেছে নিন।

ওজন কমানোর ভুল ১৫টি টিপস নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ ১ম পর্বে ৭টি ভুল টিপস তুলে ধরা হল। ওজন কমানোর এসব বাজে টিপস পরিহার করে চলুন।

ভুল টিপস: একদিনেই কমিয়ে ফেলুন কয়েক পাউন্ড
‘৭ দিনের ডায়েট’ বা ‘৪৮ ঘন্টায় ডায়েট’- এ ধরণের শিরোনাম সম্বলিত ডায়েট টিপসগুলো এড়িয়ে চলুন। ফিলাডেলফিয়া মেডিকেলের ওজন হ্রাস বিশেষজ্ঞ চার্লি সেল্টসার বলেন, ‘এতে করে আপনি প্রথমত আপনার ওজন বৃদ্ধির কারণই চিহ্নিত করছেন না। সমস্যা চিহ্নিত করে তাকে পরাস্ত করার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করলে সে পরিবর্তনটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

ভুল টিপস: দ্রুত খাদ্যতালিকা পরিবর্তন
কিছু মানুষ মনে করে যে জামস্টার্ট (গুরুতরভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক দুই বা তিন দিনের ডায়েটিং) প্রায়ই তাদের অবিলম্বে ফলাফল পেতে সাহায্য করে। তবে ড. সেল্টসারের মতে, একটি বদ্ধমূল অভ্যাস পরিবর্তন করা খুবই কঠিন কাজ। জামস্টার্ট এর মাধ্যমে একবারেই আপনার অভ্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করলেও তারপর আপনাকে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়েও আবার আপনার অভ্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনাটিকে আপনার বাকি জীবনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ভুল টিপস: ক্যালোরি বড় বিষয়
অবশ্যই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্যালোরি একটি বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু শুধু ক্যালোরির পরিমাণ কমিয়েই সবসময় আপনি আপনার কাংঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবেন না। কারণ আপনার ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে আপনার চর্বি এবং পেশী- উভয়ই হ্রাস পায়, যা মোটেও ফলপ্রসু নয়। ক্যালোরি ঝরাতে পেশী মেশিন হিসেবে কাজ করে। তাই পেশীর অত্যধিক ক্ষয় হলে আপনি সহজেই আবার ওজন ফিরে পাবেন। এক্ষেত্রে আপনি ব্যায়াম করে এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার মাধ্যমে পেশী শক্তিশালী রাখতে পারেন।

ভুল টিপস: কার্বোহাইড্রেড নয়
আমরা দীর্ঘ দিন থেকেই একটি কথা শুনে আসছি যে, আপনি যদি দ্রুত চর্বি কমাতে চান তবে পাউরুটি এবং পাস্তা কে না বলুন। কিন্তু এ তত্ত্ব ভুলে গিয়ে কুইনোয়া প্রেমীরা এবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেন, খেতে পারেন কার্বোহাইড্রেড সমৃদ্ধ খাবার। কারণ ২০১৫ সালের ‘ক্যালোরির-জন্য-ক্যালোরি’ নামক ছয় দিন ধরে চলা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেড না খাওয়ার তুলনায় খাদ্যে কম চর্বি খাওয়া মানুষের শরীরের মেদ কমাতে বেশি সাহায্য করে। তাই আপনাকে আভাকাডো বা বাদাম মাখন খাওয়া বন্ধ করতে হবে। গবেষণায় আসলে পার্থক্যটা খুব সামান্য ছিল। তাই আপনার লাইফস্টাইলের সঙ্গে মানানসই এমন সাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নেওয়াই ভালো, সেটা কার্বো হাইড্রেড সমৃদ্ধ খাবার হোক বা না হোক।

ভুল টিপস: প্রতিদিন ১ ঘণ্টা ব্যায়াম
আসলে যদি আপনি ড. হামদি কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন তাহলে তার উত্তর হবে, এই তত্ত্বটি মানা আপনার সময় নষ্ট করারই নামান্তর। তিনি বলেন, আমরা এমন সব মানুষকেও দেখতে পাই যারা সারা দিনে মাত্র ১০ মিনিট শরীরচর্চা করেও সবচেয়ে সফল হয়েছেন। নিয়মমাফিক ৬০ সেকেন্ডের ব্যায়ামও আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ভুল টিপস: ভারী খাবারের পরিবর্তে স্ন্যাকস
ওজন কমাতে অনেকেই ভারী খাবার এড়িয়ে চলেন এবং এর পরিবর্তে স্ন্যাকস বেছে নেন। ড. হামদির মতে, অধিকাংশ মানুষ ভারী খাবার না, বরং স্ন্যাকস খাওয়ার কারণেই মোটা হয়। তাই ঘন ঘন স্ন্যাকস খাওয়া পরিহার করুন। খেতে চাইলে এমন স্ন্যাকস খান যা অনেকক্ষণ আপনার শরীরের ক্ষমতা ধরে রাখবে (একটি কঠিন ডিম সিদ্ধ বা কুটির পনির ধরনের খাবার)।

ভুল টিপস: কম চর্বিযুক্ত খাবার
ধারণা করা হয় যে, যদি আপনি কম চর্বিযুক্ত খাবার কিনেন, তাতে কম ক্যালোরি থাকবে। এটা আসলে শুধু কোম্পানির প্রত্যাশা যেন আপনি তাই মনে করেন। কিন্তু ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, কম চর্বিযুক্ত খাবারে মাত্র ৬০ শতাংশতে কম ক্যালোরি থাকে। আপনি যদি ক্যালোরি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে পুষ্টি লেবেল পড়ে দেখতে পারেন যে একটি কম চর্বিযুক্ত খাদ্য ঠিক কত ক্যালোরি রয়েছে। এর পরিবর্তে আপনি ওই খাবারটির পূর্ণ চর্বিযুক্ত ভার্সনটাই বেছে নিতে পারেন, যেমন দই। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি এটা আপনাকে আরো তৃপ্ত ও সন্তুষ্ট রাখে।

তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ

Healthy Medation

মেডিটেশন কেন করবেন?

ঝুমকি বসু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৭ ১:৪৬:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৭ ২:০৬:২২ পিএম
প্রতীকী ছবি
ঝুমকি বসু : ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে তাল মেলাতে সুস্থ শরীর ও ঠান্ডা মেজাজ একান্ত জরুরি। আর এক্ষেত্রে মেডিটেশন আপনার শরীর ও মনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে খুব কম সময়েই।

মেডিটেশন করতে যা প্রয়োজন
* প্রথমেই দরকার একটা খোলা জায়গা। এটা হতে পারে বারান্দা, বাগান বা খোলা ছাদ। বড় জানালা আছে এমন বড়সড় ঘরেও মেডিটেশন করা যায়।
* বসার জন্য মাদুর বা এই জাতীয় কোনো কিছু।
* আরামদায়ক পোশাক।
* আগরবাতি বা সুগন্ধি মোমবাতি।
* অন্তত আধা ঘণ্টা সময় রাখুন। এ সময়ে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখুন।

যেভাবে করবেন
* মাদুর বিছিয়ে জ্বেলে দিন আগরবাতি বা সুগন্ধি মোমবাতি।
* যেভাবে আপনি আরাম পান সেভাবে বসুন। হাঁটু মুড়ে বসতে পারেন।
* মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। হাত দুটো কোলের ওপর রাখুন।
* ঘন ঘন শ্বাস নিন।
* চোখ বুজে মনঃসংযোগ করুন। মাথায় কোনো সাংসারিক বা বৈষয়িক চিন্তা একদমই আনবেন না।
* ২০-২৫ মিনিট সময় এভাবেই থাকুন।

উপকারিতা
* শরীরের রক্ত চলাচল বাড়ে। পরিপাকক্রিয়া বাড়ায়। হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী।
* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
* পেশী শিথিল করে এবং মাথাব্যথা কমায়।
* মস্তিষ্কে সেরোটোনিন বাড়িয়ে বিষণ্নতা ও অনিদ্রা কমায়।
* নারীদের মাসিকের আগের পেটব্যথা কমিয়ে আনে।

গর্ভাবস্থায় মেডিটেশন
গর্ভাবস্থা খুব কষ্টকর একটা সময়। এ সময় শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন আর আগত সন্তানের জন্য নানা আশঙ্কা গর্ভবতী নারীদের কাবু করে ফেলে। শারীরিক কারণে ব্যায়াম করাও যায় না। স্নায়ু ঠান্ডা রাখতে, মন শান্ত করতে এবং শরীরে স্বস্তি ফেরাতে এই সময় মেডিটেশনের কোনো জুড়ি নেই।

* একটা আরামদায়ক চেয়ারে বসুন। সামনে ছোট টুল রেখে পা দুটো  তুলে দিন। পেটের ওপর হাত দুটো রাখুন।
* ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন।
* এ সময় আপনার আগত সন্তানের কথা ভাবুন। মন ভালো থাকবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ জানুয়ারি ২০১৬/ফিরোজ