Friday, 30 December 2016

Tipu sultan history

দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান

ফেরদৌস জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:30 Dec 2016   02:07:18 PM   Friday   
দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান
ফেরদৌস জামান : ‘দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান’র কথা মনে আছে? কাহিনি মনে না থাকলেও যতদূর মনে পড়ে একটি পর্বও দেখা বাদ দেইনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাড়া জাগানো ইন্ডিয়ান এই ধারাবাহিক প্রচার হতো সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিন রাত নয়টায়। গ্রামে একটি মাত্র রঙ্গিন টিভি হওয়ায় আশপাশের সকলেই ছুটে আসত আমাদের বাড়ি। প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে বসে থাকত কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দিনই শুরু হতো না এক বেসরকারী ব্যাংকের বিরক্তিকর বিজ্ঞাপনের কারণে। পর্ব শেষ হলেও সকলের মুখে মুখে তার রেশ থেকে যেত আরও কিছুক্ষণ। অবশেষে সপ্তাহ ঘুরে পরবর্তী পর্বের দিন কবে ফিরে আসবে সেই প্রতীক্ষা মেনে নিয়ে সবাই ফিরে যেত যে যার বাড়ি।

ধারাবাহিকটিতে আমরা দেখেছি টিপু সুলতানের সৌর্য-বীর্য এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইংরেজ দ্বারা তাকে ধরাশায়ী হতে। কার্যত ১৭৯৯ সালের ৪ মে মহীশূর জয় করার মধ্য দিয়েই ইংরেজ ঔপনিবেশিক শক্তি ভারতবর্ষের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়। ব্যাঙ্গালুরু গিয়ে সর্বপ্রথম যে জায়গাটি ভ্রমণ করার ইচ্ছা ছিল তা হলো, টিপু সুলতানের স্মৃতিবজড়িত মহীশূর। ঘোরাঘুরির পরিমাণ এতটাই বেড়ে গেল যে, মাস শেষে নিজের থাকা-খাওয়ার হিসাবে টান পড়ে যাওয়ার উপক্রম। এবার কিছু দিনের বিরতি দিয়ে প্রস্তুত হতে থাকলাম টিপু সুলতানের জন্মস্থান এবং তার সেই দূর্গ দেখার জন্য।

আমার স্কুলের বন্ধু রিংকুর বাসায় চলছে পরিকল্পনা, সে নিজেও রাজাজী নগরের থাকে। কীভাবে যাওয়া যায়? প্রথমে চিন্তা করা হলো মোটর সাইকেল নিয়ে পারি দিলে কেমন হয়? তারপর ভেবে দেখা গেল, মোটর সাইকেল নিয়ে গেলে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে নির্ঘাত বিপত্তি হতে পারে। তাছাড়া, দলে সদস্যের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়ে গিয়ে ঠেকল আটে। অথচ, প্রথম যখন উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন কারও পক্ষ থেকেই তেমন সাড়া মেলেনি। সুতরাং সব শেষে সিদ্ধান্ত হয়, গতানুগতিকভাবেই যাওয়া হবে। চাঁদপুরের আনসার এবং আসাম গৌহাটির নির্মলের একযোগে অসুস্থতার কারণে ভ্রমন পরিকল্পনা পেছাতে হলো এক সপ্তাহ। তার আগেও ব্যাঙ্গালুরু আরটি নগরের ননিত কানাড়ির অসুস্থতার জন্য প্রথম দফা ট্যুর পেছানো হয়েছিল। এবার সিদ্ধান্ত হলো নির্ধারিত তারিখেই রওনা দেব। যারা অসুস্থ বা ব্যস্ত তাদের জন্য আর কোনো তারিখ পরিবর্তন নয়!

tipu

এপ্রিল মাসের এক সকালে গিয়ে পৌঁছলাম টিপু সুলতানের জন্মস্থান দেওয়ানহাল্লিতে। ১৭৫১ সালে তিনি এখানেই জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান পরম যত্নে আজও চিহ্নিত রয়েছে। খোদাই করা একটি প্রস্তর খণ্ডে সুন্দর করে লেখা- বার্থ প্লেস অব টিপু সুলতান। পিতা হায়দার আলীর মৃত্যুর পর তিনি মহীশূরের সুলতান হিসেবে সিংহাসনে বসেন। তার রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল উত্তরে কৃষ্ণ নাদী, পূর্বে পূর্ব ঘাট এবং পশ্চিমে আরব সাগর পর্যন্ত।

দূর্গ প্রাচীর ও তার আশপাশের পরিবেশ দেখে সহজেই অনুমান করা যায়, শাসক হিসেবে টিপু সুলতান কতটা পরাক্রমশালী ছিলেন। বড় বড় পাথর খণ্ডে নির্মিত দূর্গ প্রাচীর। সংরক্ষিত অংশগুলি দেখে অনুমান করা যায়, কী সুনিপূণ ছিল তার নির্মাণশৈলী। যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারী ও তদারকীতে সম্পূর্ণ দূর্গ এলাকা বর্তমানে পর্যটকদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো। প্রাচীরগুলোর আশপাশ দিয়ে লাগানো মিহি ঘাসের পড়ত দেখে মনে হবে সবুজ কার্পেট বিছানো। মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল সংস্কার করে তাতেও দেওয়া হয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। প্রতি দিন হাজার হাজার দর্শনার্থী দূর্গ ভ্রমণ করেন।

যুক্ত হয়ে যাই এক স্কুল থেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। গোল হয়ে বসে শিক্ষকের কাছ থেকে তারা শুনছিল টিপু সুলতানের ইতিহাস। পিতার মৃত্যুর পর তিনি যখন সিংহাসনে বসলেন তখন পুরনো সিংহাসন তার পছন্দ হলো না। তাই তিনি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ কারিগর দিয়ে কাঠের কাঠামোতে সোনার পাত বসিয়ে মণি-মুক্তাখচিত একটি সিংহাসন বানিয়ে নিলেন। আট কোণা আসনটির ঠিক মাঝখানে ছিল একটি বাঘের মূর্তি। আট ফুট চওড়া আসনের দুই রেলিং-এর মাথায় বসানো ছিল সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরি দুটি বাঘের মাথা। তার রাজ্যের প্রতীকই ছিল বাঘ। বাঘ ছিল তার অনুপ্রেরণার। রাজ্যের পতাকায় পর্যন্ত কানাড়ী ভাষায় লেখা ছিল ‘বাঘই ঈশ্বর’। সিংহাসনে বসে মাঝে মাঝে নাকি তিনি বলতেন, শিয়ালের মতো দুইশ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দুদিন বেঁচে থাকাও উত্তম। তার পোষাকও ছিল বাঘের শরীরের মতো হলুদের উপর কালো ডোরা কাটা নকশার। তিনি যে তলোয়ার ব্যবহার করতেন তার হাতলেও ছিল খোদাই করা বাঘের মূর্তি।

tipu

আমাদের দলের আনসার মৃধা এতক্ষণ বেশ চুপচাপ ছিল। স্যারের কথা শুনতে শুনতে হাত তুলে সে কিছু বলতে চাইল। অমনি সবার দৃষ্টি ঘুরে গেল তার দিকে। স্যার জানতে চাইলেন তার জিজ্ঞাসা। সে বলল, টিপু সুলতানের ব্যাঘ্র প্রীতির কারণটা কী হতে পারে?

এবার স্যার পুনরায় শুরু করলেন, ‘টিপু কানাড়ী শব্দ, যার বাংলা অর্থ বাঘ বা শের। সুতরাং, কেউ কেউ ধারণা করে, এখান থেকেই তার নাম রাখা হয়েছে টিপু। কিন্তু ইতিহাস থেকে জানা যায়, পিতা হায়দার আলী ও মাতা ফখরুন্নেসার ঔরসে অনেক দিন হয়ে যায় কোনো সন্তান ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে টিপু নামক এক ফকির-দরবেশের দোয়ায় ফখরুন্নেসা গর্ভবতী হন। আর সে কারণেই দরবেশের নামানুসারে সন্তানের নাম রাখা হয় টিপু সুলতান। তাছাড়া, ছোট বেলা থেকেই টিপু বাঘের গল্প শুনতে ভালোবাসতেন। মূলত পিতা হায়দার আলীই তাকে বাঘের গল্প শোনাতেন। এক পর্যায়ে তিনি কিশোর বয়সে বাঘ পালতে শুরু করেন। বাঘের প্রতি তার দূর্বলতা এতটাই অধিক ছিল যে, রাজ্যের সৈনিকদের পোষাকেও থাকত বাঘের ছবি।

সৈনিকদের ব্যবহৃত তলোয়ার, তীর, বল্লম ইত্যাদিতে থাকত বাঘের প্রতিকৃতি। এমনকি তিনি তার রাজ্যের প্রধান প্রধান সড়কের পাশের বাড়িগুলোতে বাঘের ছবি আঁকার নির্দেশ জারি করেছিলেন। শাসক হওয়ার পরও তার বাঘ পোষার বাতিক যায়নি, প্রাসাদে বেশ কয়েকটি পোষা বাঘ ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি আবার তার ঘরের দরজার সামনে বাঁধা থাকত। ইংরেজদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধে টিপু সুলতানের পিতা মারাত্মকভাবে আহত হন এবং মহীশূরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। যুদ্ধে ইংরেজ পক্ষের নেতৃত্বে ছিল হেক্টর মুনরো। সঙ্গত কারণেই তিনি ইংরেজদের এতটাই শত্রুজ্ঞান করতেন। হেক্টর মুনরোর ছেলে একবার এক দ্বীপে বাঘ শিকার করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান। এই সংবাদ পেয়ে টিপু সুলতান তৎকালীন ফরাসী যন্ত্রকুশলীদের দ্বারা একটি খেলনা বানিয়ে নেন, দম দিয়ে ছেড়ে দিলে রক্ত হীম করা গর্জন এবং একইসঙ্গে ইংরেজদের  গোঙ্গানীর শব্দ শোনা যেত। খেলনাটি ছিল বাঘ একজন ইংরেজকে আক্রমণ করেছে, ইংরেজটি প্রাণ বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। মাঝে মাঝে নাকি টিপু সুলতান গভীর রাতে এই যন্ত্রের শব্দ শুনে সময় পার করতেন। যদিও টিপু সুলতানকে শের-ই-মহীশূর উপাধি ইংরেজদেরই দেওয়া।

tipu

স্যারের কথা শুনতে শুনতে শিক্ষা সফরে আসা স্কুল শিক্ষার্থীদের সাথে আমরাও জুড়ে গেলাম এবং বাকি সময় তাদের সাথেই কেটে গেল। দেখা বাকি রয়েছে টিপু সুলতানের মৃত্যুস্থান। অর্থাৎ যে জায়গায় তাকে ষড়যন্ত্রকারী মীর সাদিক ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। লাইন ধরে একে একে পৌঁছে যাই সেই বিশেষ জায়গাটিতে। এখানেও একটি প্রস্তর খণ্ড স্থাপন করা রয়েছে, ধূসর পাথরের গায়ে খোদাই করা ইংরেজি বর্ণে লেখা- দ্য বডি অব টিপু সুলতান ওয়াজ ফাউন্ড হেয়ার।

ফলকটি দেখার পর চোখের সামনে যেন দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান-এর শেষ দৃশ্যটি ভেসে উঠল। দূর্গের কাঠের শক্ত দরজা ভেঙ্গে লাল পোষাক পরিহিত ইংরেজ বাহিনী প্রবেশ করছে আর তলোয়ার দিয়ে প্রবল প্রতিরোধ করে যাচ্ছেন শের-ই-মহীশূর টিপু সুলতান। দূর থেকে হঠাৎ একটি বুলেট এসে বিধল তার বুকে। তবুও টিপুর তলোয়ার চলছে বীরবিক্রমে। কণ্ঠ দিয়ে বেরিয়ে আসছে বাঘের গর্জন।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ ডিসেম্বর ২০১৬/তারা

President Saddam history

‘সাদ্দামের মৃত্যু যেমন বেদনার তেমনি সম্মানের’

তৈয়বুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:30 Dec 2016   07:16:47 PM   Friday   ||   Updated:31 Dec 2016   11:01:08 AM   Saturday
‘সাদ্দামের মৃত্যু যেমন বেদনার তেমনি সম্মানের’
তৈয়বুর রহমান : ২০০৬ সালে পবিত্র ঈদুল আজহার সকাল। ভোর প্রায় ৬টা। রাঘাত সাদ্দাম হোসেন তার বোন ও তাদের ছেলেমেয়েরা সকলেই সকলকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিলেন। তাদের চোখ থেকে অনবরত ঝরছিল জল। তখন তারা ইরাকে ছিলেন না। ছিলেন আম্মানে রাঘাতের বাসায়। চোখ ছিল টেলিভিশনের পর্দায়। দেখছিলেন সাদ্দামকে ফাঁসি দেওয়ার দৃশ্য।

১৯৭৯ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ইরাকের একছত্র অধিপতি ছিলেন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচারে আদালত তাকে মৃত্যুদ- দেন। তাকে যেদিন ফাঁসিতে ঝোলানো হয়, সেদিন ফাঁসির মঞ্চে তিনি মাথায় জমটুপি পড়তে অস্বীকার করেন। এমনকি, গলায় ফাঁসির দড়ি পড়ানোর সময় চোখ থেকে এক ফোটা জলও ফেলেননি।

‘কিন্তু কখনোই সেই মুহূর্ত (মৃত্যুর মুহূর্ত) আমি দেখিনি এবং তা দেখার বিষয়ে সব সময় অনীহা প্রকাশ করেছি।’ সিএনএনকে বললেন সদ্দামের বড় মেয়ে রাঘাত হোসেন। বাবার মৃত্যুর দশ বছর পর এই প্রথম সাক্ষাতকার দিলেন রাঘাত।

ফাঁসির ওই দৃশ্যে দেখা যায়, সাদ্দাম হোসেনকে টিটকিরি দিচ্ছেন উপস্থিত লোকজন। তারা চিৎকার করে বারবার বলছিলেন, ‘মুক্তাদা!, মুক্তাদা!, মুক্তাদা!’ ইরাকের শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদরের নাম স্মরণ করে তারা এভাবে কথা বলছিলেন। এদিকে ফাঁসির দড়ি চেপে বসছিল সাদ্দাম হোসেনের গলায়। তারপরও তিনি সেই লোকদের বক্তব্য ও টিটকিরি উপেক্ষা করেছেন এবং গায়ে মাখেননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তা উপেক্ষা করে গেছেন। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ১৯৮২ সালে ১৪৮ শিয়াকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

‘তার ফাঁসির দৃশ্য যেমন ভয়ংকর তেমন বেদনাদায়ক কিন্তু সম্মানজনক,’ জর্ডানের রাজধানী থেকে টেলিফোনে বললেন রাঘাত। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে হামলা চলানোর পর সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে রাঘাত সাদ্দাম দেশত্যাগ করেন।

‘এভাবে মৃত্যু হওয়ায় তিনি সম্মানিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, আমি নিজেও সম্মানিত হয়েছি। আমার ছেলেমেয়েদের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। আমার বোন ও তাদের ছেলেমেয়েদের জন্যও সম্মান বয়ে এনেছে। তাকে যারা ভালোবাসতেন তাদের সকলের জন্যও সম্মান বয়ে এনেছে। আর তাদের মনে তাকে চিরতরে স্থান করে দিয়েছে।’

রাঘাত ইরাকে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুশের চেয়ে অন্যরকম হবেন।

‘লোকটি আমেরিকার নেতৃত্ব দিতে কেবলই আসলেন। কিন্তু দেখে মনে হয় তার মধ্যে উচ্চ মাত্রার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা রয়েছে। এ কারণেই তিনি বুশের চেয়ে ভীষণ আলাদা হবেন,’ সিএনএনকে রাঘাত বলেন, ‘তিনি বিশেষ করে ইরাক সম্পর্কে অন্যদের ভুল বুঝতে পারেন এবং তা তুলেও ধরেছেন। এর অর্থ হচ্ছে ইরাক সম্পর্কে তিনি খুবই সচেতন রয়েছেন। ফলে যেমনটা আমার বাবার ক্ষেত্রে ঘটেছে তেমনটা আর ঘটবে না বলে আশা করা যায়।’

প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরাক যুদ্ধের বিরোধী। তবে ইরাক যুদ্ধের আগে ও পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি একথাও বলেন যে, ইরাক যুদ্ধের প্রতি তার সমর্থন রয়েছে। তিনি সাদ্দাম হোসেনকে খারাপ চরিত্রের মানুষ বলেও অভিহিত করেন। আবার কার্যকরভাবে সন্ত্রাসীদের হত্যা করার জন্য তার প্রশংসাও করেন।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ ডিসেম্বর ২০১৬/টিআর/শাহনেওয়াজ

Great Poem and robi song program

জাদুঘরে রবীন্দ্র সংগীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যা

এসটি : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:31 Dec 2016   10:26:36 AM   Saturday   
জাদুঘরে রবীন্দ্র সংগীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে রবীন্দ্র সংগীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন করেছে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় এই রবীন্দ্র সংগীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যা শুরু হবে। এতে মিরা মণ্ডল রবীন্দ্র সংগীত ও নিমাই মণ্ডল আবৃত্তি করবেন।

ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

হাইকমিশন সূত্র জানায়, মিরা মণ্ডল উস্তাদ নিত্যগোপাল সাহা ও তার পুত্র অপূর্ব সাহার কাছ থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতে দীক্ষা নেন। তিনি ছায়ানটে সংগীতে পাঁচ বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করেন।

মিরা মণ্ডল বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সংগীত পরিবেশন করেন। তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং বর্তমানে একটি ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড সংগীত বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

অপরদিকে ড. নিমাই মণ্ডল প্রখ্যাত আবৃত্তি শিল্পী ওয়াহিদুল হক, নরেণ বিশ্বাস, কাজী আবু জাফর সিদ্দিক, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের কাছ থেকে আবৃত্তির ওপর প্রশিক্ষণ নেন। তিনি আবৃত্তিতে বাংলাদেশের একমাত্র পিএইচডি ডিগ্রিধারী।

এই সংগীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এতে অংশগ্রহণের জন্য কোনো আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহের প্রয়োজন নেই বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ ডিসেম্বর ২০১৬/এসটি/হাসান/এসএন

Tuesday, 27 December 2016

Dina Lila ward - Dhaka child hospitality


শিশু হাসপাতালে পরিবার নিয়ে রুনা লায়লা

এসটি : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:27 Dec 2016   10:03:27 PM   Tuesday   ||   Updated:28 Dec 2016   10:07:46 AM   Wednesday
শিশু হাসপাতালে পরিবার নিয়ে রুনা লায়লা
নিজস্ব প্রতিবেদক : ৪০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর বড় বোন দিনা লায়লাকে হারান দেশের জীবন্ত কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। ঢাকা শিশু হাসপাতালে তার বোনের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করে একটি ওয়ার্ড রয়েছে। মঙ্গলবার পরিবার নিয়ে সেটি পরিদর্শন করেন তিনি।

রুনা লায়লার সঙ্গে ছিলেন কন্যা তানি লায়লা ইসলাম ও দুই নাতি অ্যারন ও জাইন। হাসপাতালে অসুস্থ শিশু ও তাদের মায়েদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তারা। শিশুদের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন তারা। পাশাপাশি সাক্ষাৎ করেছেন নার্স ও চিকিৎসকদের সঙ্গে।

এমন বেশকিছু সাধারণ শিশু ও তাদের মায়েদের পাশে সময় কাটান রুনা লায়লা।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রুনা লায়লা লিখেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য ছিল আবেগঘন মুহূর্ত। এই শিশুদের মাঝে এবং আমাদের স্মৃতিতে দিনা আপা বেঁচে থাকবেন। তাকে কখনও ভুলব না। তিনিই সবসময় আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’

runa

শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন রুনা লায়লা ও তার কন্যা-নাতিরা।

প্রসঙ্গত, আজকের এই দিনে মারা গিয়েছিলেন রুনা লায়লার বোন দীনা লায়লা। ১৯৭৬ সালে দিনা লায়লার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। টানা ছয় মাস লন্ডনে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর মাত্র ২৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। পৃথিবীতে রেখে যান পাঁচ বছরের একমাত্র ছেলে নাজিবকে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ ডিসেম্বর ২০১৬/এসটি/হাসান/মুশফিক

Load shading to know !!

লোডশেডিং বুঝতে ফ্রিজে একটি কয়েন রাখুন

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:27 Dec 2016   06:17:26 PM   Tuesday   ||   Updated:27 Dec 2016   07:06:43 PM   Tuesday
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ব্যস্ত জীবনে রান্না প্রতিদিন হয়ে ওঠে না। চটজলদি জীবনের জন্য সবাই এখন ফ্রিজের ওপর নির্ভরশীল। অনেকেই দুই-তিনদিনের রান্না একদিনে করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন।

খাবার টাটকা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করার জন্য ফ্রিজের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু মাঝে মাঝেই ইলেক্ট্রিসিটি লম্বা সময়ের জন্য চলে যায়, তখন ফ্রিজে রাখা খাবার যায় পঁচে। আপনি বাইরে থেকে এসে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে মুখে দেওয়ার পর বুঝলেন যে, তা পঁচে গেছে। তখন ভালো মেজাজ খারাপ হতে সময় লাগে না। নেয় না।

সুতরাং আপনি বাইরে থাকা অবস্থায় বাসায় লোডশেডিং হয়েছে কিনা, সে কৌশল জেনে রাখা জরুরি। তাহলে ফ্রিজের পঁচা খাবার মুখে দেওয়ার আগে অন্তত জানতে পারবেন কী ঘটেছিল আপনার অনুপস্থিতিতে। তাহলে জেনে নিন, লোডশেডিং হয়েছিল কিনা বুঝবেন যেভাবে।

বাইরে যাওয়ার আগে একটি কাপে পানি ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। পানি জমে গেলে তার ওপর একটি কয়েন রাখুন।  বাইরে থেকে এসে যদি দেখেন, কয়েনটি কাপের নিচে চলে গেছে, তাহলে বুঝবেন লোডশেডিং হয়েছিল এবং এক্ষেত্রে আপনাকে সতর্ক হতে হবে। কিন্তু যদি কয়েনটি ওপরেই থাকে, তার মানে হলো লোডশেডিং হয়নি। সুতরাং তখন আর খাবার খেতে বাধা নেই।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ/তারা 

Oldest water - 250 crore years


পৃথিবীর প্রাচীনতম পানি!

এস এস জামিল : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:28 Dec 2016   10:07:08 AM   Wednesday   ||   Updated:28 Dec 2016   10:07:21 AM   Wednesday
পৃথিবীর প্রাচীনতম পানি!
এস এস জামিল : আদিমতম পানি? সেটাই বা হয় কী করে! প্রাচীন মমি হয়, পূরাকীর্তি হয়, ধ্বংসাবশেষ হয়। কিন্তু এবার প্রাচীনতম পানি আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন,  একশ` বা দুইশ` বছর নয়, আনুমানিক ২৫০ কোটি বছর আগের পানি পাওয়া গেছে। এই পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে কানাডার একটি খনিতে।

পৃথিবীর জন্মের ২০০ থেকে ২৫০ কোটি বছর পরই যে পানির স্রোতে ভেসে গিয়েছিল পৃথিবী নামের গ্রহ, এটি সেই পানি। ভূপৃষ্ঠ থেকে তিন কিলোমিটার গভীরতায় এ পানির অবস্থান নির্ণয় করেছেন কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞানীরা আরো জানিয়েছেন, প্রায় ২০০ কোটি বছর আগেকার এ জলস্রোত, যা এখনো একটি নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে রয়েছে বদ্ধ জলাশয়ের স্রোতের মতো। এটিই পৃথিবীর `আদিমতম জলস্রোত`।

Water

তবে ভূতত্ত্ববিদদের বিশ্বাস, এ পানি এখনো টিকে রয়েছে আদিমতম অণুজীবকে ঘিরে। যাদের সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। সাধারণত পৃথিবীতে পানির অস্তিত্ব মেলে পৃথিবীর জন্মের পরই। পৃথিবীর বয়স এখন ৪৫৪ কোটি বছর বলে মনে করছেন গবেষকরা।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, `প্রাচীনতম পানি` বিবেচনা করা হয় কী করে? প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পানির আইসোটোপ থেকেই এই বিষয়টি নির্ণয় করা সম্ভব। পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই এটা আমরা নির্ধারণ করি। 

ওই টিমের অলিভার ওয়ার নামে একজন বলেন, এখানে যে পানি পেয়েছি, এর সবকিছুই নতুন, অভিনব। এই পানির আইসোটোপে যা দেখেছি, অন্য কোথাও এমনটা দেখিনি।

আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নও এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ ডিসেম্বর ২০১৬/এসএসজে/ইভা

Actor need money for buy book

টাকা ধার নিতেন শাহরুখ

আমিনুল ই শান্ত : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:27 Dec 2016   02:38:16 PM   Tuesday   ||   Updated:27 Dec 2016   03:52:03 PM   Tuesday
শাহরুখ খান

শাহরুখ খান

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড কিং শাহরুখ খান। পৃথিবীর ধনী অভিনেতার তালিকাতেও রয়েছেন তিনি। কিন্তু তিনিও টাকা ধার করতেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

সম্প্রতি নিকেলোদিয়ন কিডস চয়েস অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন শাহরুখ। সেখানে তার বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

শাহরুখ বলেন, ‘আমার মনে আছে, প্রিয় লটপট কমিক বই কেনার জন্য আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতাম। কার্টুন আমি অনেক পছন্দ করি। সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে ফিরলেও ঘুমানোর আগে পূর্বের ধারণকৃত কার্টুন দেখতাম।’

‘আমি যখন ছোট ছিলাম তখন চাইতাম বড় হতে। এখন আমি বড় হয়েছি। সত্যি আমি আমার শৈশবকে খুব মিস করি। আমার মনে হয়, শৈশবকালই আমাদের জীবনের সেরা সময় কারণ তখন আমরা ভাবনাহীন ছিলাম।’ বলেন তিনি।

শাহরুখের পরবর্তী সিনেমা ‘রইস’। বর্তমানে এ সিনেমার প্রচারণার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেতা।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ ডিসেম্বর ২০১৬/শান্ত/মারুফ