Friday, 18 November 2016


এবার ভোরে ঘুম ভাঙবেই

সিয়াম সারোয়ার জামিল : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:18 Nov 2016   08:14:42 AM   Friday   ||   Updated:18 Nov 2016   08:30:28 AM   Friday
এবার ভোরে ঘুম ভাঙবেই
সিয়াম সারোয়ার জামিল : নগরজীবনে রাতজাগা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অফিসের কাজ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ইত্যাদি কারণে রাত প্রায় শেষ করে ঘুমাতে যান অনেকেই। তারা সকালে কিছুতেই ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। সময় মতো অফিস ধরতে তাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। কিন্তু সুস্থ থাকতে অন্তত ছয় ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য প্রয়োজন। অন্যদিকে অফিস কিংবা ক্লাস কোনোটাই মিস করার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে উপায়? জেনে নিন কয়েকটি টিপস।

অ্যালার্ম ঘড়ির কথা শুনে ঠোঁট উল্টে বলতে শুরু করবেন না, এ তো জানা কথা। ওসবে কিছুই হবে না। এখানে একটু ট্রিকস খাটাতে হবে আপনাকে। অ্যালার্ম ঘড়ি খাট থেকে দূরে রাখুন যাতে বাজলে হাত বাড়িয়ে দ্রুত বন্ধ করে আবার ঘুমাতে না পারেন। এমন জায়গায় ঘড়িটি রাখুন যাতে আপনাকে অন্তত খাট থেকে উঠতে হয়। এজন্যই বলছি, অ্যালার্ম ঘড়িটি হাতের কাছে রাখবেন না৷

সকালে ব্রেকফাস্টে দারুণ কিছু মেনু রাখুন৷ যেগুলো খেতে আপনার বেশ সুস্বাদু লাগে। স্যুপ, স্যান্ডউইচ, জুস বা ফল মেনুতে রাখতে পারেন৷ মাঝে মাঝে ফ্রেঞ্চ টোস্ট, পাস্তা কিংবা লুচিও বানিয়ে ফেলুন৷ খাবারের লোভেও আপনার ঘুম ভাঙতে পারে নিজে থেকেই।

রাতে ঘুমানোর সময় ঘরের পর্দা সরিয়ে রাখুন৷ এতে সকাল হলে ঘরে সূর্যের আলো ঢুকবে৷ যা মস্তিষ্ককে নিজে থেকেই সতর্ক করবে। ফলে ঘুম ভেঙে যাবে৷

তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে৷ রাত জেগে মুভি দেখার অভ্যাস কমিয়ে দিন। দেখলেও দশটার পর নতুন কোনো মুভি দেখা শুরু করবেন না। স্মার্টফোন ব্যবহারেও সতর্ক থাকুন।

সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও আপনাকে করে ফেলতে হবে৷ ছুটির দিনেও এই অভ্যাস ছাড়বেন না৷ রোজ একই সময়ে অ্যালার্ম দিলে ওই সময় অ্যালার্ম না বাজলেও ঘুম ভেঙে যাবে৷

দুধওয়ালা, কাজের লোক কিংবা পেপারওয়ালাকে সকাল বেলা আসতে বলুন। যাতে কলিং বেল বাজলে আপনাকে উঠতেই হয়৷


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ নভেম্বর ২০১৬/তারা

BS Naypal sir info nov 2016

কে এই স্যর

বিদ্যাধর সুরজপ্রসাদ নাইপল, কাদের লোক?

অভিজিৎ মুখার্জি : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:17 Nov 2016   06:14:36 PM   Thursday   ||   Updated:18 Nov 2016   04:03:29 PM   Friday
বিদ্যাধর সুরজপ্রসাদ নাইপল

বিদ্যাধর সুরজপ্রসাদ নাইপল

|| অভিজিৎ মুখার্জি ||

‘‘উনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি আমার সঙ্গে আসতে চাও?’, আনন্দ অল্প একটু হাসে, তারপর মুখ নিচু করে। বুড়ো আঙুল দিয়ে সাইকেলের প্যাডেলটা ঘুরিয়েই যায়। শিগগিরি অন্ধকার হয়ে যাবে। মি. বিশ্বাসের সাইকেলে আলো নেই। বড় রাস্তা ধরে উনি চালাতে শুরু করলেন। ‘লাল-গোলাপ চা, ভালো চা’, এই সাইনবোর্ডটা ছাড়িয়েই পেছনে একবার তাকালেন। গোল দরজার নিচে আনন্দ তখনও দাঁড়িয়ে আছে, একটা মোটা সাদা থামের পাশে। থামটার গোড়াতে একটা বড় পদ্মের ছাঁচ; আরেকদিন সূর্য ডোবার মুহূর্তে মি. বিশ্বাস এক জায়গায় একটা নিচু কুঁড়ের সামনে যে একটা ছেলেকে দেখেছিলেন, ঠিক তার মতো করে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
গ্রিন-ভেলে পৌঁছোতে পৌঁছোতে পুরো অন্ধকার হয়ে গেছে। গাছের নিচে তখন রাত। আওয়াজ যেগুলো ভেসে আসছিল ব্যারাকের দিক থেকে, জোরালো, কিন্তু বিক্ষিপ্ত কিছু টুকরো কথা, রান্নাঘরের ছ্যাঁকছোঁক, এক আধটা চড়া গলায় কথা, হয়তো একটা বাচ্চার কান্না : একটা অকিঞ্চিতকর জায়গা থেকে নক্ষত্রভরা আকাশের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া সব আওয়াজ। দ্বীপটার মানচিত্রে একটা বিন্দু থেকে, যে দ্বীপটাই কিনা পৃথিবীর মানচিত্রে একটা বিন্দু। স্তব্ধ গাছেরা ব্যারাকটাকে ঘিরে আছে, যেন নিশ্ছিদ্র কালো একটা দেয়াল।”

স্যর ভি এস নাইপলকে বুঝতে চাইলে ওপরের এই অংশটুকু বারবার ধীরে ধীরে পড়ুন, কল্পনা করার চেষ্টা করুন সবটা। এত উপন্যাস, নন-ফিকশনের জন্য খ্যাতির পরেও নাইপল বললেই এ যুগের যে এপিক উপন্যাসটার নাম সঙ্গে সঙ্গেই উঠে আসে, সেই ‘এ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস’ থেকে নেওয়া একটা অংশ। কাহিনীর এই আনন্দ হয়তো উনি নিজে, মি. বিশ্বাস ওঁর বাবা। সেই ইঙ্গিত বারবারই উপন্যাসের বাইরেও নানা সূত্রে পাওয়া গেছে। একজন অসহায় দুর্বল মানুষের ট্র্যাজেডির ছবি। নিজের ছেলে, স্ত্রী থাকে শ্বশুরবাড়িতে। ওঁর কোনও নিজস্ব ঠাঁই নেই, নিজের সত্তার, অস্তিত্বের, পরিচয়ের যাবতীয় অংশের থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে এক অকিঞ্চিতকর জীবন, এক অকিঞ্চিতকর বিন্দুতে, ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্র অস্তিত্বে।

আর এটাই কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের এক বৃহদাংশের ট্র্যাজেডিও বটে। উপনিবেশের দেশগুলোর ঔপনিবেশিক পরিণতিতে, নিজের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা, দর্শনে, অভিব্যক্তিতে, ভাষায়, জ্ঞানচর্চায়, শিল্পে, নৈতিকতার ধারণায়, এই সব কিছুতে পরনির্ভরতায় নিয়ন্ত্রিত হওয়া এক অকিঞ্চিতকর প্রান্তিক অস্তিত্বের কথা কে না জানে। উপনিবেশের মানুষগুলোর সাহিত্যে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের যে ধারা, যাকে উপনিবেশিকোত্তর সাহিত্যের একটা মুখ্য অংশই বলা যায়, তারই অবিসংবাদিত প্রধান পুরুষ এই স্যর ভি এস নাইপল, সাহিত্যের ইতিহাসেরই এক বিস্ময় পুরুষ। ইতিহাসের এই পর্যায়টার উনি নাম দিলেন, ‘নতুন পৃথিবী’, আমরা যেটাকে বলছি পোস্ট-কলোনিয়াল। একদিকে উপনিবেশ লুণ্ঠন করে আসছে সম্পদের স্রোত, অন্যদিকে শিল্পবিপ্লবের হাত ধরে নিশ্চিত করা হচ্ছে বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে, চিকিৎসায়, প্রত্নতত্ত্বে, সমস্ত রকম জ্ঞানচর্চায় একসহস্র বছরের জন্য প্রাধান্য, তৈরি হচ্ছে সেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি যেখানে উপনিবেশকারীই চেতনার কেন্দ্র, নৈতিকতার একমাত্র নিয়ামক ও ইতিহাসে নির্ধারক, উপনিবেশ নিজেকে চিনবে কেন্দ্রেরই আলোয় প্রান্ত হিসেবে।

এই যে প্রায় চিরস্থায়ী এরকম একটা বন্দোবস্তো, এটা এলো কোন পথে, কীভাবে? ইতিহাসের, সাফল্যের আলোয় আলোকিত দিকগুলো খানিক জানা যায় গ্রন্থিত ইতিহাস থেকে। কিন্তু অসাফল্যের, হারিয়ে যাওয়ার, পরাভূত হওয়ার ইতিহাসগুলো তো অন্ধকারেই রয়ে গেছে। ভারত থেকে উনবিংশ শতকজুড়ে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ত্রিনিদাদে আখের ক্ষেতে চাষ করতে। চুক্তির শর্ত ছিল যে, চুক্তির মেয়াদ ফুরোলে এদের দেশে ফেরার জাহাজের টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হবে, আর থোক কিছু টাকা। কিন্তু ইতিমধ্যে মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে উঠে গেল এই চুক্তিবদ্ধ দাসত্ব প্রথা। ত্রিনিদাদের ওই শ্রমিকগুলোর তখন কী হবে? বিদ্যাধরের দাদুও গিয়েছিলেন ওদের সঙ্গেই পূর্ব-ইউপি থেকে ১৮৮০-র দশকে, জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণ বলে পুরোহিত হিসেবে। লোকগুলো তখন রাস্তায় ঘাটে শুয়ে থাকত, চুক্তি আর বলবৎ নেই, কাজ নেই, দেশে ফেরার টিকিটও আর পাওয়া যায়নি। এদের সম্বন্ধে কেউ কিচ্ছু জানতো না, এরা কারা, কোত্থেকে এলো, কোথায়ইবা যাবে! এভাবেই পৃথিবীর বহু কোণের ইতিহাস আলোকিত বৃত্তের বাইরে প্রায়ন্ধকার ছায়া, উপচ্ছায়া, প্রচ্ছায়ায় পড়ে আছে স্মৃতির অগোচরে।

তরুণ বয়েসেই লিখতে গিয়ে দেখলেন, অনুসরণ করার মতো কোনও পূর্বসূরি নেই! তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের নিয়ে, সমাজ নিয়ে, ইতিহাস নিয়ে যা কিছু লেখা, তা সব বিদেশি উপনিবেশকের অভিজ্ঞতা থেকে। তাদের আংশিকতার দোষে দুষ্ট খতিয়ানের বাইরে নিজের শেকড়ের কিছু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ১৯৬২-তে নিজের উৎস সভ্যতা ভারত দেখতে এসে যে বই লিখলেন, তার নাম দিলেন, ‘ইন্ডিয়া : অ্যান এরিয়া অব ডার্কনেস’। পরে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি জরুরি অবস্থার সময়ে আবারও ভারতে এসে, সব দেখে-টেখে লিখলেন, ‘ইন্ডিয়া: দ্য উন্ডেড সিবিলাইজেশন’। ভৎর্সনায় ক্ষমাহীনভাবে দেখালেন কীভাবে দেশটার ভাবমূর্তি, পরিচয়টা, দেশেরই লোকের কাছে আটকে রয়েছে সেই সুদূর অতীতের কিছু মিথ আর ধারণার মধ্যে, সময়কে স্বীকৃতি দিয়ে, ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিয়ে, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে মোটেই বিবর্তিত হয়নি। নিজের শেকড়টা ডার্কনেসের মধ্যে, যে তৃতীয় বিশ্বের মানুষ হিসেবে পরিচয়, সেই তৃতীয় বিশ্বের ইতিহাসের অধিকাংশটা আবছায়া আর ডার্কনেসের মধ্যে, অকিঞ্চিতকরদের মধ্যে জন্ম, জীবনের শুরু। অবচেতনে এসবের গ্লানিরই প্রতিফলন কি আমরা গ্রিনভেলের ব্যারাকের ওই রাত্রির বর্ণনার মধ্যে খুঁজে পেয়েছি বলে ভাববো না? অথচ ২০০১-এ নোবেল পুরস্কার গ্রহণের সময় বক্তৃতায় অগ্রজ ফরাসি সাহিত্যিক পরুস্তকে উদ্ধৃত করে বললেন, ‘...একটা বই বেরিয়ে আসে একটা অন্য সত্তা থেকে। আমাদের রোজকার অভ্যাসে, আমাদের সামাজিক জীবনে, এমনকি আমাদের পাপাচারে যে সত্তার প্রকাশ, এ তার থেকে ভিন্ন। এই বিশেষ সত্তাটিকে চেনার চেষ্টা করলে যেতে হবে আমাদের একেবারে অভ্যন্তরে। সেইখানে পুনর্নির্মাণ করতে হবে...।’ সঙ্গে এও বললেন, ‘আমি বলব, আমার সমস্ত লেখাকে একসঙ্গে করলে তবে আমি। প্রত্যেকটা লেখা... যা তার আগে পর্যন্ত ঘটে গেছে, তার ওপর দাঁড়িয়ে এবং তার থেকেই তৈরি হওয়া। আমি বিশ্বাস করি, আমার সাহিত্যজীবনের যে কোনো পর্যায়ে বলা যেতে পারত যে-আমার সর্বশেষ লেখাটাতে ধরা আছে বাকি সমস্ত লেখাগুলো।’ কী বলব, স্ববিরোধ, নাকি ব্যতিক্রমহীন ধারাবাহিকতা? সে যা-ই হোক, স্ববিরোধিতাও লেখকের সততারই নিদর্শন, স্ববিরোধিতা এড়াতে পারে একমাত্র প্রচারমূলক অভিসন্ধিই, যথেষ্ট সতর্ক থাকলে, কিন্তু বিশ্বসাহিত্যের উচ্চতম স্তরের স্বীকৃতি তাতে মেলে না।

১৯৩২-এ জন্মে, অসম্ভব দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠছিলেন কৈশোরে, আর ভুগছিলেন নিরাময়হীন হাঁপানিতে। খুব বেশি দিন সেভাবে টিকে যাওয়ার আশা প্রায় ছিলই না। স্কুলস্তরের সর্বশেষ পরীক্ষায় প্রথম হয়ে, পুরো দ্বীপটার জন্য বরাদ্দ একটি মাত্র স্কলারশিপ পেয়ে এসেছিলেন বিলেতে, অক্সফোর্ডে। বেঁচে গিয়েছিলেন। বিলেতে আসার সময় জাহাজে সর্বক্ষণের সঙ্গী একখানা ডায়েরি, আকাঙ্ক্ষা ছিল বিশ্ববিখ্যাত সব পর্যটক-সাহিত্যিকদের আদলে লিপিবদ্ধ করে রাখবেন যাবতীয় অভিজ্ঞতা। কিন্তু, হা হতোস্মি, তাঁরা ছিলেন সব সাহেব, উপনিবেশ স্থাপনকারী জাতির লোক, আর এ কিশোর তো উপনিবেশের কৃষ্ণাঙ্গ! বহু দশক বাদে সেই অভিজ্ঞতার বিবরণ দিতে গিয়ে, ‘দ্য এনিগমা অব অ্যারাইভাল’ (The Enigma of Arrival) বইতে লিখছেন, ‘লেখক হিসেবে আমি তখন আমার অভিজ্ঞতাগুলোকে আমার নিজেরই কাছ থেকে আড়াল করছিলাম। নিজেকে আড়াল করছিলাম নিজের অভিজ্ঞতার থেকে... একটা লড়াই, একদিকে পর্যটক লেখকের গ্ল্যামার, আর আরেকদিকে উপনিবেশের লোকেদের মধ্যে তাদেরই একজন হওয়া সত্ত্বেও পর্যটক ভাব করার স্নায়ুর চাপ-লেখার পক্ষে খুবই প্রতিকূল।’

বোঝাই যায়, লেখক হিসেবে নিজের সঠিক পথটি খুঁজে নেয়া খুব সহজ হয়নি, তৃতীয় বিশ্ব থেকে আসা ইংরেজি সাহিত্যের এই অগ্রগণ্য লেখকটির পক্ষে। কিন্তু লিখতে যে হতোই! অক্সফোর্ড থেকে বাবার কাছে লেখা চিঠিতে রয়েছে : ‘দ্যাখো, মানুষ একটা কোনো কাঠের টুকরো নয় যে তাকে বিদেশ পাঠানো হলো আর শিক্ষার দু’টো ছাপ তার গায়ে খোদাই হলো। তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। তার অনুভূতি আছে। চিন্তা আছে। কারও কারও আবার অনুভূতি বেশি, চিন্তার শক্তিও বেশি। তাদের কষ্টও বেশি। সংবেদনশীল মানুষ অন্যের চেয়ে সুখী অথবা মহান, এটা ভাবা মোটেও ঠিক নয়। কেননা শেষ অবধি কারুর কাছেই তোমার ট্র্যাজেডির কোনও দাম নেই যদি না তুমি সেটা লাগসই করে প্রকাশ করতে পার। অথচ তার জন্য চাই মনকে খানিকটা শান্ত রাখা।’

বিশ্বের যে একশোটা উপন্যাস একজন সাহিত্যপ্রেমীকে পড়তেই হবে, সেই তালিকায় নাইপলের যে উপন্যাসটি স্থান পেয়েছে, তার নাম, ‘এ বেন্ড ইন দ্য রিভার’(A Bend in the River)। উপন্যাস শুরু হচ্ছে যে লাইনটা দিয়ে সেটা হলো : The world is what it is; men who are nothing, who allow themselves to become nothing, have no place in it. উপন্যাসের এক চরিত্র, পূর্ব আফ্রিকার এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত, ইন্দার বলছে, ‘রথস্ চাইল্ডরা আজ যা হতে পেরেছে তার পেছনে আছে সঠিক সময়ে তাদের ইয়োরোপকে বেছে নেয়া। যোগ্যতায় কোনও অংশে খাটো নয় এমন অন্য ইহুদিরা, যারা কারবার খুলেছিল ওটোমান সাম্রাজ্যে, অথবা তুরস্কে বা মিশরে, যেখানেই হোক, তাদের কিন্তু সেই সমৃদ্ধি হয়নি। কেউ তাদের নাম জানে না। এবং আমরাও শতাব্দীর পর শতাব্দী ঠিক এইটাই করে আসছি। আমরা হেরে যাওয়াকেই নিয়তি হিসেবে আঁকড়ে থেকে ভুলে বসে আছি আমরাও ঠিক অন্যদের মতোই মানুষ। সবসময় ভুল দিক বেছে নিয়েছি। হারতে হারতে আমি ক্লান্ত। আমি সেই ভিড়ে মিশে যাব না... এবার থেকে জিততে চাই, জিততে চাই, জিততে চাই।’

আরেক ভারতীয় সেলিম, সে কিন্তু সাফ বোঝে, ‘অন্যদের মতোই ইয়োরোপিয়ানদের দরকার ছিল সোনা আর ক্রীতদাস। কেবল, সেই সঙ্গে তারা চাইল যে এই ক্রীতদাসদের ত্রাতা হিসেবে তাদের মূর্তিও বসুক... তাদের সভ্যতার এই দু’টো দিকই তাদের কাজে প্রকাশ পেয়েছে। তারা ক্রীতদাস আর মূর্তি, দু’টোই হাসিল করেছে। এটা তারা পেরেছে কারণ তাদের আত্মসমীক্ষায় গাফিলতি ছিল না। পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে চলতে তাদের প্রস্তুতি ছিল বেশি... তাদের প্রাথমিক দায় ছিল নিজেদের ইয়োরোপীয় সভ্যতার কাছে। এখানেই তাদের তুলনায় আমাদের দুর্বলতা মারাত্মক।’

এই ‘তৃতীয় বিশ্বেরই’ একটা মুখ্য অংশ আজকের ইসলামিক বিশ্বের দেশগুলো। আরব দেশগুলোর বাইরে যে ইসলামিক সভ্যতা, তার চারটি দেশ ঘুরে এসে লিখেছিলেন, প্রথমে, ‘অ্যামাং দ্য বিলিভারস’(Among the Believers) আর তার কিছু পরে আরেকবার ঘুরে এসে, ‘বিয়োন্ড বিলিফ’(Beyond Belief: Islamic Excursions among the Converted Peoples)। এই নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। নাইপলকে তার জীবনভর সাহিত্যিক/ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখে রটিয়ে দেয়া হয়েছিল যে, উনি ইসলামি সভ্যতাকে ছোট করে দেখিয়েছেন। অথচ, এযাবৎ এখানে যা লিখলাম, তার পরিপ্রেক্ষিতে যখন আমরা পড়ব উনি ঠিক কী লিখেছিলেন, বুঝবো যে নিজের ইতিহাসের এক শরিক হিসেবেই আজকের ইসলামিক সভ্যতার দুর্বলতার দিকটাকে উনি উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন মাত্র। ইরানের এক লেখকের লেখা উপন্যাসের একটি ডাক্তার চরিত্রের দিকে নির্দেশ করে আজকের ইসলামিক আদর্শ সম্বন্ধে লিখলেন:

‘মনন এবং উদ্যমের জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে... তারা আবার আবিষ্কার করবে তাদের আত্মসম্মান, পূর্ণতা, আর এইভাবে পবিত্র হয়ে উঠবে... এবং জীবন চলতেই থাকবে। আত্মিক দিক থেকে উষর অন্য কোথাও, অন্য লোকেরা সেইসব যন্ত্র তৈরি করবে যা নিজের কাছে আছে বলে ডাক্তারের গর্ব, চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণা পত্রিকা বের করবে যা পড়ে ডাক্তারের গৌরব।
এই যে ভরসা-অন্যরা সৃষ্টি করবে, অন্য বিদেশি সভ্যতা অটুট থাকবে-এটা কিন্তু অন্তর্লীনভাবে রয়ে গেছে এই প্রত্যাখ্যানের মধ্যে, পরিহারের মধ্যে। এটাই এর মস্ত ত্রুটি।’

ইসলামবিরোধী হলে, নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র, ভারতীয় যুবকটির নাম রাখতেন না সেলিম।বিজ্ঞানে, দর্শনে, শিল্পে, প্রযুক্তিতে, আন্তর্জাতিক নৈতিকতায়, আরো সব দিক দিয়ে এক হাজার বছরের জন্য এখন প্রথম বিশ্বটিই কেন্দ্র, তৃতীয় বিশ্বটি প্রান্তিক। শুধু ভাষার ব্যবহারে, ইতিহাসের মৌলিক বয়ানে চোখ ঝলসে দেয়া একাকী যোগ্যতায় নিজেকে কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করে, ‘এরিয়া অব ডার্কনেস’ থেকে উঠে এসে তৃতীয় বিশ্বকে জয় এনে দিয়েছেন যে একটি মাত্র মানুষ, তাঁর নাম ভি এস নাইপল, স্যর বিডিয়া!

লেখক পরিচিতি : অভিজিৎ মুখার্জি কলকাতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক। একসময় পড়িয়েছেন জাপানে কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির কোনও না কোনও ক্ষেত্রের সঙ্গে, এমনকি দৈনন্দিন জীবনেও, সুযোগমত খানিকটা সম্পর্ক রেখে চলা মানসিকতায় ও রুচিতে ভারসাম্য আনে বলে উনি বিশ্বাস করেন। পেশার কারণে গবেষণাপত্র ইত্যাদি ছাড়াও, উপরোক্ত কারণেই সাহিত্যের ক্ষেত্রেও কিছুটা লেখালেখি কখনো সখনো করেছেন, তবে মূলত বিশ্বসাহিত্যের আগ্রহী ‘পাঠক’ বলেই নিজের পরিচয় দেন। প্রিয় লেখকের সংখ্যা বহু, তার মধ্যেও স্যর ভি এস নাইপলের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত টান ঘনিষ্ঠরা সকলেই অবগত আছেন। ‘সমুদ্রতটে কাফকা’, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড, হারুকি মুরাকামির নির্বাচিত গল্প, যে ভারতীয়রা ইংরিজিতে লিখছেন, যেটুকু জাপান তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। জাপানি ভাষা শিক্ষকতায় জাপান ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রীমুখার্জি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষারও অধ্যাপনা করেন।







রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ নভেম্বর ২০১৬/তারা

Tuesday, 15 November 2016

Zinzer care info for health Nov 2016

রূপচর্চায় যেভাবে ব্যবহার করবেন আদা

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:15 Nov 2016   06:49:14 PM   Tuesday   ||   Updated:15 Nov 2016   07:02:09 PM   Tuesday
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

লাইফস্টাইল ডেস্ক : রান্নায় মশলা হিসেবে আদা যেমন সুস্বাদ এনে দেয়, তেমনি শারীরিক সুস্থতা যেমন সর্দি-কাশি নিরাময় সহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধেও আদা উপকারী।

আদাতে রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। তাই ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করতে পারেন আদা। জেনে নিন ত্বকের যত্নে আদার কিছু ব্যবহার।

ক্ষতের দাগ হালকা করতে: একটি আদা ছিলে, কেটে ও ঘষে রস বের করে নিন। ঠাণ্ডা করতে কিছুক্ষণের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। প্রভাবিত এলাকায় আদার রস লাগান। ক্ষতের দাগ হাল্কা করতে দিনে কমপক্ষে দুইবার আদার রস লাগান।  ৬ সপ্তাহ বা তারও কম সময়ের মধ্যেই আপনি পার্থক্য দেখতে পাবেন।

ব্রণ দূর করতে : ১ চা-চামচ আদার গুঁড়ার সঙ্গে ১ চা-চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। ভালোভাবে মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। ব্রণ আক্রান্ত স্থানে মিশ্রণটি লাগান। ৩০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণকে সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে ফেলতে সপ্তাহে একবার এই ফেস প্যাক করুন।

ত্বকের উজ্জ্বলতায়: ১ চা-চামচ সদ্য নির্যাসিত আদার রস নিন। এর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ গোলাপ জল ও ১ টেবিল চামচ মধু মেশান। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে যাওয়া পর্যন্ত মেশাতে থাকুন। আপনার মুখ ও গলায় এই প্যাক লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

পেশির আরামে: কিছু কিছু পেশিকে রিল্যাক্স করতে ও শরীরে রক্ত প্রবাহ উদ্দীপিত করতে গোসলের ক্ষেত্রে হালকা গরম পানিতে হাফ কাপ এপসম লবণ ও দুই টেবিল চামচ আদা গুঁড়া মিশিয়ে নিন। এই পানিতে দিয়ে গোসলে পেশি শিথিলতা পাবে।

বডি স্ক্রাব: ২ টেবিল চামচ ওলিভ অয়েল, সমপরিমান চিনি, ২ টেবিল চামচ আদা বাটা এবং কয়েক ফোঁটা লেমন ওয়েল নিন। মেশাতে থাকুন যতক্ষণ না আপনি একটি দানাদার পেস্ট পাচ্ছেন। শরীর সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে, এই মিশ্রণটি পা থেকে গলা পর্যন্ত ম্যাসাজ করুন। ধুয়ে ফেলার আগে, ১০-১৫ মিনিট ধরে এই ম্যাসাজ করুন।

চুলের বৃদ্ধির জন্য: আধা কাপ জোজোবা তেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ আদার রস মেশান। ১-২ মিনিটের জন্য তেলটিকে গরম করে নিন। ত্বকে সহ্য করার মতো অবস্থা পর্যন্ত তেলটিকে ঠান্ডা করে নিন। এই হালকা গরম তেলটিকে আপনার স্কাল্পে ম্যাসাজ করুন। তেলকে ভালোভাবে শুষে নিতে ও রক্ত সঞ্চালিত করতে, আপনার আঙুলের নরম ডগা দিয়ে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের বৃদ্ধির জন্য, সপ্তাহে কমপক্ষে একবার আদা ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Monday, 14 November 2016

Health tips brian

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবে যেসব খাবার

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:15 Nov 2016   07:57:00 AM   Tuesday   ||   Updated:15 Nov 2016   08:21:33 AM   Tuesday
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আফরিনা ফেরদৌস : স্ট্রোক সাধারণত ব্রেইন বা মস্তিষ্কে হয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ থেকেই স্ট্রোকের সম্ভাবনা দেখা দেয়।

স্ট্রোকের ফলে অনেকে প্যারালাইজড সমস্যায় ভোগেন। শরীরের কোনো একটি অঙ্গ বা পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে স্ট্রোকের ফলে। তবে এই স্ট্রোক থেকে বাঁচার জন্য আমরা কি করছি?

রক্তচাপ কম থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া প্রতিদিনের খাবারের তালিকা গঠনের মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অর্থাৎ এমন অনেক খাবার আছে যা খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ কমিয়ে ফেলা যায়। তাই আজই এই খাবারগুলো দিয়ে সাজিয়ে ফেলুন আপনার খাবারের তালিকা এবং কমিয়ে ফেলুন স্ট্রোকের ঝুঁকি।

মাছ
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল প্রায় ১২ বছর ধরে ৫০০০ পূর্ণ বয়স্কদের নিয়ে একটি গবেষণা করে যাদের বয়স ৬৫ বছর অথবা তার বেশি। এই গবেষণায় দেখানো হয় যে, যারা সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন মাছ খান তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ কম। যেসব মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ রয়েছে সেসব মাছ রক্তের প্রবাহ বাড়ায় এবং রক্তচাপ কমায়। আর খাদ্য তালিকায় বেশি পরিমাণে মাছ রাখা মানে লাল মাংসের জায়গা কমে যায়। যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

ওটমিল
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকলে তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই সর্বপ্রথম আপনার উচিত হবে রক্তে কোলেস্টেরল কমানো। তার জন্য ওটমিল বেশ ভালো। ওটমিলে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে যা ক্ষুধা মেটায় কিন্তু ক্যালরি বা কার্বো কম বাড়ায়। তাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আপনি প্রতিদিন ওটমিল খেতে পারেন।

মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলু প্রচুর পরিমাণে ফাইবারে ভর্তি একটি সবজি। রাতের খাবারে মিষ্টি আলু রাখাটা ভালো খাদ্য তালিকার প্রমাণ। এটি শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। প্রতি আধা কাপ মিষ্টি আলুতে ১.৮ গ্রাম দ্রাব্য আঁশ থাকে।

ব্লুবেরি
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। ব্লুবেরিও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এটি ইনফ্লামেশন থেকেও রক্ষা করে শরীরকে। চেষ্টা করুন প্রতিদিন ৭ থেকে ১০টি ব্লুবেরি আপনার খাদ্য তালিকায় রাখার।

লো ফ্যাট দুধ
যুক্তরাষ্ট্রের পুয়ের্তো রিকান পুরুষের ওপর একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিন দুধ খান তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলক কম, যারা প্রতিদিন দুধ খান না তাদের থেকে। তাই বলে ফ্যাটযুক্ত দুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এতে করে শরীরের অন্য সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই চেষ্টা করুন প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় লো ফ্যাট দুধ রাখার।

কলা
একটি গবেষণায় দেখানো হয়, প্রতিদিন ১.৮ গ্রাম পটাশিয়াম খেলে তা ২৮ শতাংশ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আর পটাশিয়ামের ভালো উৎস হল পাকা কলা। তাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে চাইলে প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে কলা রাখুন ফল হিসেবে।

পুঁইশাক
পুঁইশাকে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম ভিটামিন বি (ফলেট) এবং ফলিক এসিড রয়েছে, যা ২০ শতাংশ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রায় দশ হাজার পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ওপর করা ২০ বছরের একটি গবেষণা থেকে বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় ২০০ মাইক্রোগ্রাম ফলেট ভিটামিন অনেকাংশে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

বাদাম
বলা হয় প্রতিদিন এক মুষ্টি বাদাম আপনাকে কোলেস্টেরল থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তাই কয়েক ধরনের বাদাম মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত এক মুঠ বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ আপনার কোলেস্টেরল যত কম থাকবে, রক্তচাপও ততটাই কম থাকবে। আর রক্তচাপ কম থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকির পরিমাণও কম থাকবে।

তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : * ১১টি ফল যে কারণে খাওয়া উচিত

* যেসব খাবারে মাথাব্যথা


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Great singer in great position (BD heart )

‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’র শিল্পী লিওন রাসেল আর নেই

মারুফ খান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:14 Nov 2016   06:12:27 PM   Monday   ||   Updated:15 Nov 2016   08:21:54 AM   Tuesday
লিওন রাসেল

লিওন রাসেল

বিনোদন ডেস্ক : মার্কিন ‘রক অ্যান্ড রোল’ তারকা লিওন রাসেল আর নেই। গতকাল রোববার ন্যাশভ্যাইলে ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। তার স্ত্রী জ্যানেট ব্রিজেসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

রাসেলের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে তার স্ত্রী জানিয়েছেন, ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে জনপ্রিয় এ শিল্পীর।

১৯৭১ সালে ম্যাডিসন স্কয়ারে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এ জর্জ হ্যারিসন ও বব ডিলানের সঙ্গে তিনিও অবদান রেখেছিলেন। ‘জাম্পিন জ্যাক ফ্ল্যাশ’ গান গাওয়ার পাশাপাশি কনসার্টে পিয়ানো বাজিয়েছিলেন তিনি। ‘ক্লড রাসেল ব্রিজেস’ নামে বহুল পরিচিত এ তারকা দীর্ঘ সংগীতজীবনে রেকর্ড করেছিলেন ৪৩০টি গান। প্রকাশ করেছেন ৩১টি অ্যালবাম। পিয়ানিস্ট, গিটারিস্ট এবং গীতিকার হিসেবে কাজের অবদানস্বরূপ ২০১১ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে জায়গা পান লিওন রাসেল।

বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন রাসেল। ২০১০ সালে ব্রেন ফ্লুইড লিক ঠেকানোর জন্য তার সার্জারি করা হয়েছিল। এছাড়া জুলাইয়ে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। মৃত্যুকালে স্ত্রী, চার মেয়ে এবং তিন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন তিনি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ নভেম্বর ২০১৬/মারুফ/শান্ত

Earth quack and save animal life video


Earth quack and save animal life video 

ভূমিকম্পের পর অলৌকিক বেঁচে থাকা (ভিডিও)

মারুফ খান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:14 Nov 2016   07:29:26 PM   Monday   ||   Updated:15 Nov 2016   08:39:07 AM   Tuesday
ভূমিকম্পের পর অলৌকিক বেঁচে থাকা (ভিডিও)
সাতসতেরো ডেস্ক : গত রোববার মধ্যরাতে নিউজিল্যান্ডে আঘাত ঘানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এরপর সুনামি ও দফায় দফায় ভূমিকম্পে বিপর্যন্ত দেশটি।

ভূমিকম্পের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেশটির জনগণ তো বটেই গবাদিপশুও দুরবস্থার শিকার হয়েছে। তাদের বিপত্তিও উঠে এসেছে সংবাদ শিরোনাম হয়ে।

ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ভূমিকম্পের বিভিন্ন ভিডিও। তেমনই প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় দুইটি গরু একটি বাছুরসহ একটি টিলায় আটকা পড়েছে। ভূমিকম্পের কারণে সেই টিলার চারপাশ ধসে গেছে। ফলে ছোট একটি উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে গবাদি পশুগুলো অসহায় অবস্থায়। আজ সোমবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভিডিওটি নিউজিল্যান্ডের কাইকোওরার উত্তর অংশ থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  

কাইকোওরা নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের পূর্বঅঞ্চলে অবস্থিত। ভূমিকম্পের কারণে শহরের প্রবশে পথ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধার কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। হেলিকপ্টার থেকেই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। এবং এ দৃশ্য দেখে অনেকেই বিষয়টি অলৌকিক মনে করছেন। কারণ টিলার ওপর গবাদি পশুগুলো থাকা অবস্থাতেই ভূমিকম্প হয়। ভাগ্যগুণে আশপাশের এলাকা ধসে গেলেও টিলার ওই সামান্য অংশটুকু অক্ষত আছে। আর সেখানেই আটকা পড়েছে গবাদি পশুগুলো।

ভিডিও……

 http://www.risingbd.com/%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A7%97%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%93/210110

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ নভেম্বর ২০১৬/মারুফ

Food for life and time pass

ক্ষুধায় যখন তখন

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:14 Nov 2016   07:54:23 AM   Monday   ||   Updated:14 Nov 2016   02:23:26 PM   Monday
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আফরিনা ফেরদৌস : ক্ষুধা মানুষের সাধারণ প্রবৃত্তি। ক্ষুধার তাড়না থেকেই মানুষের চাহিদা এবং জীবিকার জন্ম। ক্ষুধা নিবারণের জন্যই মানুষ খাবার খায়। তবে সেই খাবারকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে।

খাদ্য শুধু মানুষের ক্ষুধা নিবারণ করে না বরং মানুষের শরীরে শক্তি যোগায়। তাই ক্ষুধা লাগলে বাইরের জাঙ্ক ফুড বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া ভালো। তার থেকে সঙ্গে রাখতে পারেন কিছু বিশেষ খাবার যা আপনার ক্ষুধা মেটাবে আবার স্বাস্থ্যকর হবে।

আর যদি বাড়িতেই থাকেন তাহলে ঝটপট হাতের কাছে তৈরি রাখুন কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার। যাতে ক্ষুধা লাগলে যখন তখন খেতে পারেন। আসুন জেনে নিই এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।

বাদাম
বাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার রয়েছে। এটি খুব দ্রুত ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করে। অবশ্য অসাময়িক ক্ষুধা মেটানোর জন্য অনেক খানি বাদাম খাওয়ার দরকার হয় না। খুবই পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার হচ্ছে বাদাম। প্রতিদিন অন্তত ৭টি করে বাদাম খেলে মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং এটি ক্যানসার ও আরথ্রাইটিসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফল
আপনি যদি হালকা নাস্তাতে বা যখন তখন ক্ষুধায় কিছু খাবার চেয়ে থাকেন তাহলে ফল খেতে পারেন। স্বাদ এবং স্বাস্থ্য দুটোই বজায় থাকবে। বিশেষ করে আপেল। বলা হয়ে থাকে যে, প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে শরীরে অনেক রোগ বাসা বাধতে পারে না। এর সঙ্গে যোগ করতে পারে নাট বাটার বা বাদামের মাখন। এটিও খেতে অনেক সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর।

পনির
যখন তখনকার ক্ষুধায় খেতে পারেন এক টুকরা বা স্লাইস পনির। পনিরে প্রচুর ফাইবার থাকে এবং এর অল্প পরিমাণ অংশই আপনাকে ক্ষুধা মুক্ত করে দিতে পারে মুহূর্তে। নিয়মিত পনির খাওয়া হাড়ের জন্য বেশ ভালো। তবে যারা ওজন কমানোর চিন্তা করছেন বা অন্য শারীরিক আছে তারা এই খাবারগুলো বেশ সাবধানতার সঙ্গে বাছাই করুন।

দই
হালকা খাবার হিসেবে দই বেশ ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। আপনি মিষ্টি এড়াতে চাইলে টক দই খেতে পারেন। আর যদি স্বাদ বাড়াতে চান তাহলে এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন আপনার পছন্দের ফলের টুকরা। দই হজমের জন্যও বেশ ভালো। তাই কোনো বেলায় যদি ভারী খাবার খান এবং পরের বেলার খাবার বাদ দিতে চান সেক্ষেত্রে দই খেতে পারেন। দই পরিমাণে বেশি খেলে সমস্যা নেই তবে টক দইটাই বেশি ভালো।

সবজি
হালকা ক্ষুধায় সবজি খাবেন কথাটা শুনলেই অনেকে হেসে দেন। তবে জেনে রাখুন সবজি সব থেকে ভালো খাবার। যারা ওজন কমাতে চান ডাক্তাররা তাদেরকে বলেন সকাল বা রাতের খাবার বাদ না দিয়ে বরং শুধু সবজি খান। সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে যা অল্প পরিমাণ খেলেই এক বেলার খাওয়ার সমান হয়ে যায় কিন্তু ক্যালরি একেবারেই কম। আর আপনার সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসকল ভিটামিন এবং মিনারেল দরকার তার সবই আছে সবজিতে। তাই নির্দ্বিধায় অল্প ক্ষুধায় খেতে পারেন সবজি।

শুকনা খাবার
শুকনা খাবার বা ড্রাই ফুড আপনার যখন তখন ক্ষুধার সঙ্গী হতে পারে। চেষ্টা করুন বাসায় এই শুকনা খাবারগুলো বানাতে। যেমন অল্প কিছু উপাদান দিয়েই বানাতে পারেন বিস্কুট অথবা ক্রাকারস। আপনি চাইলে এর সঙ্গে পছন্দের ফ্লেবার বা ফল যোগ করতে পারেন। মিষ্টি অথবা নোনতা বানাতে পারেন। এছাড়া ড্রাই ফ্রুটও রাখতে পারেন হাতের কাছে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ