Thursday, 31 March 2016

Drug info

গাঁজা যখন ওষুধ

শাহনেওয়াজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:31 Mar 2016   12:22:19 PM   Thursday   ||   Updated:31 Mar 2016   01:07:01 PM   Thursday
গাঁজা

গাঁজা

রেজাউল হক সজল : আধুনিককালে গাঁজা বিনোদন বা চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার বছর আগে প্রাথমিককালে ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এর ব্যবহার হতো। বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে গাঁজা আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয় হয়ে ওঠে। ফলে এর ব্যবহার এবং সাইকোঅ্যাক্টিভ ক্যানাবিনয়েডস ধারণকারী গাঁজা প্রস্তুত ও বিক্রয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশে অবৈধ হয়ে যায়। জাতিসংঘ একে বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত অবৈধ ড্রাগ হিসেবে বিবেচনা করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে মারিজুয়ানা বা গাঁজা মূলত চিকিৎসক প্রস্তাবিত ভেষজ থেরাপি হিসেবে ব্যবহার বোঝায়, যা ইতিমধ্যে কানাডা, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনে স্থান করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩২টি অঙ্গরাজ্যেও এটি একইভাবে স্থান করে নিয়েছে।

ইতিহাস :
গাঁজা একধরনের উদ্দীপক মাদক। খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ সাল থেকে মাদক হিসেবে গাঁজার ব্যবহার হয়ে আসছে । সনাতন ধর্মগ্রন্থ অথর্ব বেদে এবং পুরাণেও গাঁজার কথা উল্লেখ আছে। পুরাণে উল্লেখ আছে যে, দেবতারা গাঁজা গাছের জন্ম দিয়েছেন এবং সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত থেকে গাঁজা গাছের উৎপত্তি হয়েছে। ইউরোপে গাঁজা ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ সালে গ্রিক দার্শনিক হেরোডোটাসের লেখায়।

নামের উৎপত্তি:
গাঁজা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Canabis sativa Linn. গোত্র Urticaceae. এই গোত্রের অন্য কোনো গাছের কোনো মাদক গুণ নেই। ল্যাটিন ‘ক্যানাবিস’ শব্দটি এসেছে আদি গ্রিক শব্দ ‘কন্নাবিস’ হতে।

গাঁজা গাছের স্ত্রী-পুরুষ আছে এবং দুই গাছেই ফুল বা মঞ্জরি হয়। কিন্তু শুধু স্ত্রী গাছ থেকেই গাঁজা, ভাং বা চরস পাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, পুরুষ গাছের কোনো মাদক ক্ষমতা নেই।

বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে এই মাদকদ্রব্যটি পরিচিত। গাঁজা সেবনে ইন্দ্রিয় উত্তেজিত হয় বলে এর আরেক নাম ‘হরষিনী’। গাঁজার আরো ডাকনাম হচ্ছে চার্জ, ড্যাগো (দক্ষিণ আফ্রিকা); গ্রাস, হাস, হেম্প, কিয়েফ (উত্তর আফ্রিকা); পট, টি, উইড (উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা); গাজে, গাঞ্জো (ক্যারিবীয় অঞ্চল)।

গাঁজার বিভিন্ন প্রকারকে একত্রে মারিজুয়ানা বলা হয়। ধারণা করা হয় যে, মারিয়া ও জুয়ানার নামানুসারে প্রথম এই নামটি দেয় মেক্সিকানরা।

স্ত্রী গাছের শুকনো পাতাকে বলা হয় ভাং। বাংলাদেশের পুরান ঢাকায় ভাংয়ের শরবত খুব বিখ্যাত। হিন্দুদের কালীপূজায় ভাংয়ের শরবত তৈরি করা হয়। এ ছাড়া গাঁজাকে সিদ্ধি নামেও ডাকা হয়।

ওষুধ হিসেবে গাঁজার ব্যবহার :
চিকিৎসাশাস্ত্রে গাঁজা পরিচিত উত্তেজক, বেদনানাশক ও নিদ্রাকারক হিসেবে।

১) গাঁজাপাতার গুঁড়া ডায়রিয়া বা উদরাময় নিরাময় করে এবং এর রস ১৫-২০ ফোঁটা দিনে তিনবার খেলে রক্ত আমাশয় নিরাময় হয়।
২) ভাং শিশুদের ক্ষেত্রে ধনুষ্টংকার রোগেও বিশেষ ফল দেয়।
৩) প্রাচীনকালে গনোরিয়াতে গাঁজার ব্যবহার হতো। দুধের সঙ্গে বেটে ক্ষতস্থানে লাগানো হতো।
৪) বর্তমানে ইউরোপে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ব্যথা কমানোর জন্য গাঁজার ধোঁয়া পান করতে দেওয়া হয়।
৫) হাঁপানিতে গাঁজা দারুণ কার্যকর।
৬) হৃদযন্ত্রের সমস্যায়ও এর ব্যবহার আছে।

ভেষজ গুণ:
গাঁজা শরীরে বিষব্যথা সারায়। এই বক্তব্যের বর্ণনা রয়েছে ভারতবর্ষের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে। তবে এ কথাও সুবিদিত যে, গাঁজা, ভাং ও মারিজুয়ানা গ্রহণ মানুষের স্মরণশক্তি হ্রাস করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে মনোবৈকল্য ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা গাঁজা, ভাং ও মারিজুয়ানার ওপর গবেষণা করে জেনেছেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ব্যথানাশক ওষুধ এগুলো থেকে প্রস্তুত করা সম্ভব, যা মানুষের কোনো ক্ষতি করবে না। এই গবেষণা করেছে ফ্রান্সের বায়োমেডিক্যাল ইনস্টিটিউট। এর নেতৃত্ব দিয়েছে আইএনএসইআরএম। ফ্রান্সের গবেষকরা জানান, ইঁদুরের মস্তিষ্কের যে অংশের কোষের নিউরনে গাঁজা বা মারিজুয়ানার মাদক ক্রিয়া করে, তা প্রথমে তারা ওষুধ প্রয়োগ করে নিষ্ক্রিয় করেন। এরপর ওই ইঁদুরের শরীরে এই মাদক প্রবেশ করিয়ে দেখা গেছে, তাতে ইঁদুরটি বেহুঁশ হয় না বরং তার প্রাণচাঞ্চল্য ঠিকই থাকে। এ অভিজ্ঞতা থেকে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্যথানাশক হিসেবে গাঁজার ভালো গুণ আছে। মানুষের বিভিন্ন রোগের ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের জন্য চেতনানাশক তৈরিতে এর বহুল ব্যবহার করা যাবে। শিগগিরই গাঁজা ও মারিজুয়ানার নির্যাস থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এ ওষুধ প্রস্তুত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, ভাং ও গাঁজা সেবনে ফুসফুসের ক্ষতি তামাক পাতায় প্রস্তুত সিগারেট পানের চেয়ে কম।



হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেভিন হিলের মতে, গাঁজা অন্যান্য নেশাদ্রব্যের চেয়ে ভালো। তিনি বলেন, মারিজুয়ানা সেবন ভালো নয়- এটা ঠিক। কিন্তু কোনো কিশোর বা তরুণ মারিজুয়ানা সেবন করলে সেটা অপরাধ বললে ভুল হবে। মারিজুয়ানা এক অর্থে গাঁজাই।

অধ্যাপক কেভিন হিল অনেক পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, যারা মারিজুয়ানা সেবন করেন তাঁরা পরবর্তীকালে মারিজুয়ানাই খোঁজেন। এদের সাধারণত অ্যালকোহল কিংবা অন্য মাদকে আসক্ত হতে দেখা যায় না। হিল তথ্যও দিয়েছেন সঙ্গে। তার দাবি, ৮০ শতাংশ গাঁজাখোর শুধু গাঁজাসেবনেই সন্তুষ্ট থাকেন।

তিনি বলেন, অন্যান্য নেশার থেকে ঢের ভালো গাঁজা। তাই আপনার কোনো পরিচিতকে গাঁজা খেতে দেখলেই ভয় পেয়ে যাবেন না। আর যাই হোক তিনি গাঁজাতেই সন্তুষ্ট থাকবেন, অন্য মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়বেন না।

গাঁজা সেবনে নেশার অনুভূতি :
গাঁজার নেশার অনুভূতি কেমন হবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে, সেবনকারী কোন পদ্ধতিতে এবং কী পরিমাণ সেবন করবে। সাধারণত গাঁজা একা একা সেবন করা হয় না। কয়েকজন মিলে একত্রে দলবেঁধে এটা সেবন করা হয়।

সাধারণত গাঁজা সেবনের পর মনে একধরনের আনন্দ দেখা দেয়। গাঁজা সেবনের আগে যদি কারো মনে আনন্দ বা বিষণ্নতা থাকে তাহলে গ্রহণের পরে তা অনেকটাই প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে । গাঁজা সেবনের পর অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায় অর্থাৎ খুলে যায় এক কল্পনার রাজ্য। কল্পিত বস্তু, কল্পনার রং আরো প্রখর হয়ে দেখা দেয়। গাঁজা সেবনের ফলে মতিভ্রমও দেখা দেয়। গাঁজা টানার পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থান, কাল, পাত্রের খেয়াল থাকে না। কথা বলার প্রবণতা বেড়ে যায়। চোখ লাল হয়ে যায়। এ ছাড়া শরীরে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। ঘন ঘন শুকনা কাশি হতে থাকে। এই অবস্থায় দুই থেকে চার ঘণ্টা চলার পর আস্তে আস্তে শিথিলতা আসে, ঘুম আসে।

গাঁজা সেবনে ক্ষতি :
১) রক্তকোষে পরিবর্তন ও প্রতিরোধী ক্ষমতা হ্রাস পায়।
২) জিনের গঠন পরিবর্তন হয়ে যায়।
৩) ক্যান্সারের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
৪ ) যৌন অক্ষমতা তৈরি হয়।
৫) এনজাইনা পেক্টোরিস (যাদের এনজাইনার ব্যথা আছে তাদের জন্য গাঁজা সেবন মারাত্মক হতে পারে)।
৬ ) ফুসফুস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
৭ ) স্নায়ুতন্ত্রে পরিবর্তন আসে।
৮ ) ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন বা অর্গানিক ব্রেন-সিনড্রোম দেখা দেয়।

বিখ্যাত কয়েকজন গাঁজাখোর :
গ্রিক দার্শনিক ও পণ্ডিত পিথাগোরাস, বিখ্যাত ফরাসি সাহিত্যিক ভিক্টর হুগো, ফরাসি কবি স্তিফেন মালারমেঁ, ফরাসি কবি চার্লস বোদলঁ, ৩৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি মারিজুয়ানা ভালোবাসতেন।

এ ছাড়া শিক্ষাবিদ প্যারীচরণ সরকার (১৮২৩-১৮৭৫) এতই গাঁজার ভক্ত ছিলেন যে দৈনিক গাঁজা ছাড়া তাঁর চলতই না। বিশিষ্ট নাট্যকার ও নাট্য পরিচালক গিরিশ চন্দ্র ঘোষ গাঁজায় আসক্ত ছিলেন। তিনি গাঁজার মহিমায় মুগ্ধ হয়ে রচনা করেছেন, ‘সুখদা ধ্যানদা গাঁজা গাঁজৈব পরমা গতি...।’

ছোটবেলায় গাঁজা টানতাম:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ছোটবেলায় গাঁজা সেবন করতেন বলে স্বীকার করেছেন। ওবামার ওপর নিউইয়র্কার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক দীর্ঘ নিবন্ধে এই স্বীকারোক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে। এতে ওবামা বলেছেন, ‘ছোটবেলায় আমি গাঁজা সেবন করতাম। আমার মতে, এটা একটা বদভ্যাস। সিগারেটের থেকে এটা খুব একটা ভিন্ন নয়, তরুণ ও পরিণত বয়সের একটা বড় সময়জুড়ে যা আমি পান করেছি।’

অ্যালকোহল নেওয়ার চেয়ে গাঁজা টানা খুব একটা ভয়ংকর নয় বলে মত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই সঙ্গে তিনি তাঁর মেয়েদের বলেছেন, গাঁজা টানা একটি খারাপ অভ্যাস। এটা স্বাস্থ্যকর নয় এবং এতে সময় অপচয় হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মার্চ ২০১৬/শাহনেওয়াজ/এএন

1st Artificial life

প্রথম কৃত্রিম প্রাণ!

জুয়েল রানা : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:31 Mar 2016   09:04:04 AM   Thursday   ||   Updated:31 Mar 2016   01:14:04 PM   Thursday
প্রথম কৃত্রিম প্রাণ!
জুয়েল রানা : যদিও খবরটি খুব তরতাজা নয়। কিন্তু দারুণ উদ্দীপক এবং আমাদের জন্য খুবই প্রেরণাদায়ক খবর এটি।

অবশেষে বিজ্ঞানী ক্রেগ ভেন্টরের প্রায় পনেরো বছরের ক্লান্তিহীন গবেষণা সফলতার মুখ দেখেছে। তিনি তৈরি করেছেন প্রথম ‘কৃত্রিম প্রাণ’।

কম্পিউটারে কৃত্রিমভাবে তৈরি ক্রোমোজোমের মাধ্যমে একটি পোষক ব্যাকটেরিয়ার কোষে ‘প্রাণ’ সঞ্চারে সফল হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে নতুন সিন্থেটিক জীবন যুগের সূচনা হলো – যখন প্রাণ ‘সৃষ্টি’র ব্যাখ্যার জন্য কোনো অলৌকিক কিংবা অপার্থিব অনুকল্পের দরকার পড়ছে না, বিজ্ঞানীরা হাতে কলমেই তৈরি করে তা দেখিয়ে দিচ্ছেন।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি ছাপা হয়েছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ এই অগ্রগতিকে অভিহিত করেছে বিজ্ঞানের ইতিহাসের এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে।

সায়েন্টিফিকেআমেরিকান, ডিস্কভারসহ বিজ্ঞানের সব পত্রিকাই প্রথম পৃষ্ঠায় ফিচার নিউজ হিসেবে খবরটি দিয়েছে। যারা স্বল্প সময়ে ভেন্টরের এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার সম্পর্কে অবহিত হতে চান তারা দেখে নিতে পারেন লেখার শেষে সংযুক্ত ভিডিও দুটি।

বলা বাহুল্য, ক্রেগ ভেন্টর জেনেটিক্সের জগতে এক অতি পরিচিত নাম। তিনি জীববিজ্ঞান জগতে যোগ করেছেন এক নতুন মাত্রা। যখন বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বিভিন্ন জীবের জিনের পঠনের শুরু করেছিলেন, তখন ভেন্টর নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছিলেন ইন্সটিটিউট ফর জেনেটিক রিসার্চ (TIGR)।

এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ব্যাকটেরিয়ার জিনোম ডিকোড করতে সমর্থ হন ১৯৯২ সালে। বেসরকারি উদ্যোগে তিনিই প্রথম মানুষের জিনোম শৃঙ্খলা লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং সবাইকে চ্যালেঞ্জ করে ঘোষণা দিয়েছিলেন,  তিনিই বিশ্বে প্রথম মানুষের জিনোম সংশ্লেষণ করতে সমর্থ হবেন। সেই চ্যালেঞ্জকে পূর্ণতা দিয়ে ২০০১ সালে তিনি ফল প্রকাশ করেন – যা ছিলো মুল সময়সূচির অন্তত এক বছর অগ্রগামী।

ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম উপায়ে জীবন তৈরির উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে ভেন্টর সিন্থেটিক জিনোমিক্স বলে একটি কোম্পানিও প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি জে. ক্রেগ ভেন্টর ইন্সটিটিউট (JCVI)-এর প্রতিষ্ঠাতা, যা জেনেটিক্সের গবেষণায় অগ্রণী এক সংস্থা আজ। এই সংস্থার মাধ্যমেই ভেন্টর তৈরি করলেন আজকের বহুল আলোচিত কৃত্রিম সিন্থেটিক প্রাণ।

কৃত্রিম জীবন তৈরির একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিলেন তিনি বেশ কয়েক বছর ধরেই। বলা হচ্ছিল, যে কোনো সমইয়েই তিনি তৈরি করে ফেলতে পারেন প্রথম কৃত্রিম জীবন। বিগত কয়েক বছরে অনেক সাক্ষাৎকারেই তিনি বলেছেন সেটি। কেউ হয়তো ভ্রুকুটি করত। কেউ মুখে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে পোষণ করতেন – ‘হ আপ্নের পোলা চাকরি পাইছে, কিন্তু দেইখেন বেতন পাইব না’ গোছের মনোভাব।

অথচ রসায়নাগারে কৃত্রিমভাবে ভাইরাস তৈরি করার প্রচেষ্টা তার হাত দিয়ে সফল হয়েছে অনেক দিন হলো, ২০০৩ সালে প্রথম সিন্থেটিক ভাইরাস তৈরি করা হয়েছিল ক্রেগ ভেন্টরের হাতেই এবং তা শতভাগ নিখুঁত।

পোলিও ভাইরাসসহ ১০ হাজার প্রজাতির ভাইরাস তৈরি করা গেছে ভাইরাসের জিনোম পর্যবেক্ষণ করে এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্যে। এক ব্যাক্টেরিয়া থেকে অন্য ব্যাক্টেরিয়াতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াও সফল হয়েছে। আজ তিনি ব্যাকটেরিয়াসদৃশ সরল কোষ তৈরি করে দেখালেন। ভেন্টর এখন বলছেন, তার পরবর্তী প্রোজেক্ট হচ্ছে এর চেয়ে আরেকটু জটিল ইউক্যারিওট বানানো।

তিনি মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে খুব জটিল প্রাণীও তৈরি করা যাবে, যদি সিন্থেটিক জীবনের গবেষণা এগিয়ে যেতে থাকে এরকম অবিশ্বাস্য গতিতে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মার্চ ২০১৬/রাসেল পারভেজ/নওশের

Wednesday, 30 March 2016

Intelligent bed

দ্ধিমান বিছানা (ভিডিও)

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:30 Mar 2016   03:40:42 PM   Wednesday   ||   Updated:30 Mar 2016   03:41:39 PM   Wednesday
বুদ্ধিমান বিছানা (ভিডিও)
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : প্রাণীরা বুদ্ধিমান হয়। কিন্তু বস্তু কী বুদ্ধিমান হয়? আগে না হলেও, এখন প্রযুক্তির যুগে বস্তুও বুদ্ধিমান হয়, তবে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বা সম্পন্ন। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বার বস্তু হিসেবে রোবট থেকে শুরু করে নানা ধরনের বস্তুর কথা আমরা ইতিমধ্যে জানি।

এবার ‍বুদ্ধিমানের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বিছানা। আধুনিক প্রযুক্তির এই বিছানাটি তৈরি করেছে যুক্তরাজ্যের বালুগা লিমিটেড। ‘বালুগা স্মার্ট ইন্টারঅ্যাকটিভ বেড’ নামক এই বিছানাটি আপনাকে অভাবনীয় সব সুবিধা দেবে।

বুদ্ধিমান এই বিছানাটি রিয়েল টাইমে আপনার ঘুম পর্যবেক্ষণ করে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিছানায় সেই পরিবেশ তৈরি করবে। এমনকি আপনার যদি নাক ডাকার অভ্যাস থাকে, তাহলে বিছানাটি নিজ থেকেই কিছুটা উচু নিচু হয়ে নড়ে, নাক ডাকা বন্ধ করে দেবে।

আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় কিছুটা শীতল তাপমাত্রা চান, তাহলে বিছানাটি শরীরের তাপমাত্রা বুঝে সে অনুযায়ী পরিবেশ বিছানায় বজায় রাখবে।

তার চেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, বিছানাটি এর দুই পাশেই আলাদা আলাদা তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ অনেক সময় দেখা যায় দম্পত্তির মধ্যে গরম বা ঠাণ্ডা লাগা নিয়ে, মনোমালিন্য হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে এই বিছানাটি ঘুমের মধ্যে দুজন মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বুঝে বিছানার দুপাশে দুজনের জন্যই আলাদা আলাদা আরামদায়ক তাপমাত্রা তৈরি করবে।

এছাড়া বিছানাটিতে বিল্ট-ইন ম্যাসেজিং সিস্টেম রয়েছে। ফলে যখন আপনি ক্লান্ত থাকেন, তখন বিছানায় গা এলিয়ে দিলে, বিছানাটি ভাইব্রেশনের মাধ্যমে শরীরের মাংসপেশীতে আরামদায়ক ম্যাসেজও দেবে।

বিছানাটিতে এ ধরনের নানা সুবিধা উপভোগ করতে স্মার্টফোনে বালুগা অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। এই অ্যাপটির আপনার ঘুমের ধরন নিরীক্ষণ করে, সে অনুযায়ী বিছানাটিকে সেট করবে। বিছানায় থাকা সেন্সর শরীরের তাপমাত্রা, হার্ট রেট, রুমের তাপমাত্রা নানা তথ্য পর্যবেক্ষণ করে সে অনুযায়ী আরামদায়ক ঘুমের সুবিধা দেবে।

রাতে অন্ধকারে ঘুমের মধ্যে যদি আপনি জেগে উঠে, বাথরুমে বা অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে বিছানাটির নীচ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এলইডি আলো বের হবে, যাতে চলাচলে সুবিধা হবে।

আধুনিক প্রযুক্তির এই বিছানাটি বাজারে আনার জন্য কিকস্টার্টার প্রজেক্টের মাধ্যমে বর্তমানে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি তহবিল সংগ্রহ করছে।

স্মার্ট ফিচার সমৃদ্ধ স্মার্ট বেড বালুগার সুবিধাগুলো ভিডিওতে দেখুন:
 
 http://www.risingbd.com/%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%93/154059


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ মার্চ ২০১৬/ফিরোজ

veg konw when people eat

Botany উদ্ভিদ বুঝতে পারে তাদের খাওয়া হচ্ছে!

জুয়েল রানা : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:24 Mar 2016   10:26:22 PM   Thursday   ||   Updated:25 Mar 2016   09:03:37 AM   Friday
উদ্ভিদ বুঝতে পারে তাদের খাওয়া হচ্ছে!
জুয়েল রানা : খাবার টেবিলে যখন সালাদ পরিবেশন করা হয়, তখন আর কয়জনইবা ভাবনা-চিন্তা করি সালাদ নিয়ে, টপাটপ মুখে পুরে ফেলি! কিন্ত আপনি যদি ঘুর্ণাক্ষরেও জানতে পারতেন গাজর বা লেটুসের মনের কথা, সেও বুঝতে পারছে তাকে খাওয়া হবে এখন! তবে কি মুখে দিতে পারতেন সবজি?

আমাদের এক বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু বহুদিন আগেই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, উদ্ভিদের প্রাণ আছে। কিন্ত গাছ বা উদ্ভিদ যে সেই প্রাণ ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারে সেটা গবেষণা করে বের করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উদ্ভিদ বিজ্ঞানী হেইডি অ্যাপেল ও রেক্স কোক্রফট।

‘যখন আপনি একটি লেটুসে কামড় বসাচ্ছেন তখন সে শুধু সেটা টেরই পাচ্ছে না বরং নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও চালু করে দিচ্ছে’ বলেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী হেইডি অ্যাপেল। তিনি ও তার সহকর্মীরা এর আগে অনুসন্ধান করেছিলেন পারিপার্শ্বিক শব্দে উদ্ভিদ কি প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তারা দেখেন- আক্রান্ত হলে উদ্ভিদ কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মিজৌরি ইউনিভার্সিটির কলেজ অব অ্যাগ্রিকালচারের প্লান্ট সায়েন্স ডিভিসনের এই সিনিয়র রিসার্চার জানান, আমরা লক্ষ্য করেছি, যখন কোনো শুঁয়োপোকা বাঁধাকপির পাতার ওপর হাঁটতে থাকে, তখন উদ্ভিদটি শুঁয়োপোকার শব্দ শুনে এক ধরনের ফিডিং ভাইব্রেশন তার কোষে পাঠায় এবং তার মেটাবলিসম সিস্টেম আত্ন্ররক্ষার জন্য এক ধরনের রাসায়নিক নির্গত করে যাতে শুঁয়োপোকাটি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কিন্ত বাতাসের তৈরি শব্দে বা অন্য পোকার সৃষ্ট শব্দে উদ্ভিদটি ওই রাসায়নিকটি আর নির্গত করে না।

এই পরীক্ষায় তার সহযোগী ছিলেন বায়োলজিক্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর রেক্স কোক্রফট, যিনি একটি লেজার রশ্মির মাধ্যমে পাতার নিচে লুকিয়ে রাখা রাসায়নিক রিফ্লেক্টরের মাধ্যমে শুঁয়োপোকার শরীরে কম্পন মাপার কাজটি করেন।

রেক্স জানান, এই পরীক্ষাটি উদ্ভিদের বিভিন্ন কম্পন সৃষ্টির ক্ষমতার ওপর করা হয়েছিল। উদ্ভিদ কী পরিস্থিতিতে কী ধরনের কম্পন সৃষ্টি করে এবং যান্ত্রিকভাবে সৃষ্ট কম্পন উদ্ভিদের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা জানাই ছিল এই গবেষণার উদ্দেশ্য। তিনি আরো বলেন, এই আবিষ্কার কম্পন ব্যবহার করে কীট দমনের ক্ষেত্রে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে করে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারব।

হেইডি জানান, এই গবেষণা থেকে জানা গেছে উদ্ভিদও প্রাণীদের মতো বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকমের প্রতিক্রিয়া দেখায় ভিন্ন মাত্রার কম্পন সৃষ্টির মাধ্যমে। তিনি আরো দাবি করেন, উদ্ভিদরাজি প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তাও চালিয়ে নিতে পারে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ মার্চ ২০১৬/রাসেল পারভেজ

Finger cut after husband death

স্বামী মারা গেলে কেটে দেওয়া হয় স্ত্রীর আঙুল

শাহেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:25 Mar 2016   05:22:19 PM   Friday   ||   Updated:26 Mar 2016   11:00:16 AM   Saturday
স্বামী মারা গেলে কেটে দেওয়া হয় স্ত্রীর আঙুল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতবর্ষে একসময় হিন্দু নারীদের স্বামী মারা গেলে তার মৃতদেহের সঙ্গে চিতায় সহমরণ দেওয়ার নিয়ম ছিল। প্রায় ২০০ বছর আগে রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগে আর ব্রিটিশদের চেষ্টায় সেই অমানবিক প্রথাটি বন্ধ হয়েছিল। তবে এশিয়ার আরেক দেশ ইন্দোনেশিয়ায় স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর আঙুল কেটে দেওয়ার বিধান এখনো টিকে রয়েছে। দেশটির পাপুয়ার দানি সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে এ প্রথা প্রচলিত রয়েছে।

প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, যখনই পরিবারের কর্তা মারা যান, শোক পালনের জন্য স্ত্রীর দুই হাতের বেশ কয়েকটি আঙুল কেটে দেওয়া হয়। ধারণা করা হয়, এতে মৃতের আত্মা শান্তি পায়! আঙুল কাটার আগে বিধবা স্ত্রীর হাত শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়, যাতে হাতে রক্তের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কুড়াল দিয়ে আঙুল কেটে দেওয়া হয়। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে এই প্রথা সহ্য করতে হয় সেখানকার সদ্য বিধবা নারীদের। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠুর এই প্রথা চলে আসছে দানি সম্প্রদায়ের মধ্যে। ওই দ্বীপে গেলেই আঙুলহীন নারীদের দেখা মিলবে। ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার সরকার এই প্রথার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ মার্চ ২০১৬/শাহেদ/ এএন