Tuesday, 19 December 2017

fashion actress rai Laxi

লক্ষ্মীছাড়া রাই লক্ষ্মী

মারুফ খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১১-২৪ ৮:২৯:০৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-২৪ ২:১৫:২৯ পিএম

বিনোদন ডেস্ক : ভারতীয় অভিনেত্রী রাই লক্ষ্মী। আজ শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে এ অভিনেত্রীর জুলি-টু সিনেমাটি। দেশটির দক্ষিণী সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাকে দেখা গেলেও বলিউডে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে তার।

জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এক দক্ষিণী সিনেমার নায়িকার জীবনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে জুলি-টু। তবে এ সিনেমায় একটু লক্ষ্মীছাড়া রাই লক্ষ্মী। পোস্টার, ট্রেইলারে খোলামেলাভাবে উপস্থিত হয়ে দর্শকের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছেন। তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। এর মধ্যে আবার ফাঁস হয়েছে সিনেমাটিতে রাই লক্ষ্মীর অন্তরঙ্গ ও রোমান্সের দৃশ্য। এ অভিনেত্রীকে নিয়ে এই ফটো ফিচার।


জুলি-টু সিনেমার জন্য ২০১৫ সালে রাই লক্ষ্মীকে চুক্তিবদ্ধ করেন নির্মাতা


শোনা যাচ্ছে, জুলি-টু সিনেমায় অভিনেত্রী নাগমার চরিত্রে দেখা যাবে রাই লক্ষ্মীকে


সিনেমাটির জন্য ১০ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন রাই লক্ষ্মী


ওজন ঝরাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল এ অভিনেত্রীকে


বিভিন্ন কারণে তিনবার পিছিয়েছে জুলি-টু’র মুক্তির তারিখ


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ নভেম্বর ২০১৭/মারুফ/শান্ত

miss universe

ছবিতে মিস ইউনিভার্স

আমিনুল ইসলাম শান্ত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১১-২৮ ৮:২১:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-২৮ ১২:৪২:২৯ পিএম

বিনোদন ডেস্ক : মিস ইউনিভার্স খেতাব জিতেছেন ডেমি লেই নেল-পিটার্স। লাস ভেগাসের প্ল্যানেট হলিউডের এক্সিস থিয়েটারে সোমবার বসেছিল মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসর। এতে ডেমিকে বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দেন গত বছরের ‘মিস ইউনিভার্স’ ইরিস।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৯২ জন প্রতিযোগী এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এতে প্রথম রানার আপ হয়েছেন মিস কলম্বিয়া লউরা গঞ্জালেস এবং দ্বিতীয় রানার আপ মিস জ্যামাইকা ড্যাভিনা বেনেট।

৩৯ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো মিস ইউনিভার্সের বিজয়ীর মুকুট উঠল দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো প্রতিযোগীর মাথায়। মিস ইউনিভার্স ডেমি লেই নেল-পিটার্সকে নিয়ে সাজানো হয়েছে ফটো ফিচার।


১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সেজফিল্ডে জন্মগ্রহণ করেন ডেমি লেই নেল-পিটার্স। দক্ষিণ আফ্রিকার পশ্চিম কেপ রাজ্যে বেড়ে ওঠেন তিনি


সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি লাভ করেন নেল-পিটার্স


ডেমি ‘মিস দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১৭’ নির্বাচিত হন
ডেমি নারীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। মিস দক্ষিণ আফ্রিকা নির্বাচিত হওয়ার এক মাস পরই একবার অপহৃত হয়েছিলেন তিনি


প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার স্বপেক্ষ কাজ করতে আগ্রহী তিনি


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ নভেম্বর ২০১৭/শান্ত/মারুফ

A House of actor king khan

কিং খানের প্রাসাদে

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৪ ৯:৪৬:৫১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-০৪ ৩:৪৮:৩৫ পিএম
শাহরুখ খান
আহমেদ শরীফ : পছন্দের তারকার ঘর-বাড়ি, অর্থাৎ তারা কোন বাড়িতে থাকেন, বাড়ির অন্দরমহল কীভাবে সাজানো- ইত্যাদি বিষয়ে জানতে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। ইন্টারনেট ঘেটে ভক্তদের সেই কৌতূহল মেটানোর চেষ্টা করছি আমরা। বলিউডের আলোচিত তারকাদের বাড়ির অন্দরমহল নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক ফটো ফিচারের আজকের পর্বে থাকছে বলিউডের কিং হিসেবে খ্যাত শাহরুখ খানের বাড়ি।

শাহরুখের জীবন কাহিনি অনেক রঙিন। কিং খানের জীবনযাপনও রাজকীয় হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সাগর পাড়ে আছে শাহরুখের প্রাসাদের মতো এক বাড়ি। ২০০১ সালে বাই খোরশেদ বানু সানজানা ট্রাস্ট থেকে বাড়িটি কিনে নেন তিনি। নাম দেন ‘মান্নাত’।

ছয়তলা বিশিষ্ট এই প্রাসাদোপম বাড়িটির নাম আগে ছিল ‘ভিলা ভিয়েন্না’। এটি ২৬ হাজার ৩২৮ বর্গফুটেরও বেশি দীর্ঘ এক বাড়ি। কী নেই এতে? লিভিং রুম, গেস্ট রুম, অফিস, লাইব্রেরি, জিম, এন্টারটেইনমেন্ট রুম, সুইমিং পুল, বেসমেন্ট কার পার্কিং সবই আছে। আর বাড়ির গ্লাসগুলো বুলেটপ্রুফ, যা জার্মানি থেকে আনা হয়েছে। শাহরুখের এই প্রাসাদের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি রুপি। চলুন ছবিতে দেখে নেওয়া যাক, শাহরুখের বাড়ি মান্নাতের অন্দরমহল।


কিং খানের লিভিং রুম দেখে রাজকীয় একটা অনুভূতি জাগে। প্রতিটি লিভিং রুমে ভিন্ন আবহ।


শাহরুখের বেডরুমের প্রশংসা করতেই হয়। মখমলের চাদরে ঢাকা তার বিছানা ও পুরো রুমটা কী শান্তিময়।


শাহরুখের ড্রয়িং রুমেও আছে রাজকীয়তা। দেখুন কী দারুণ কারুকাজ করা ফার্নিচার। মান্নাতের অনেক রুমেই শোভা পাচ্ছে ক্রিস্টালের সব ঝাড়বাতি।


ডাইনিং স্পেসটিও দারুণ আভিজাত্যে ভরা।


মান্নাতে বাথরুমগুলো যেমন সুন্দর, তেমনি সুইমিং পুলের পরিবেশটাও খুব মনোহর।


শাহরুখের বাড়িতে লাইব্রেরি, অফিস রুমও আছে।


শাহরুখের স্ত্রী গৌরি খান মান্নাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছেন। প্রাসাদে রানির মতোই তার জীবনযাপন।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

Fashionable actress prianka India

ফ্যাশনেবল প্রিয়াঙ্কা

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৯ ৮:৩৫:০৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-১৯ ১২:০৬:১২ পিএম

আহমেদ শরীফ : বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এখন শুধু বলিউডেই নয়, হলিউডেও রীতিমতো ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতেও তার ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা।

চলতি মাসে লন্ডনের ইস্টার্ন আই পত্রিকা তাকে এশিয়ার সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফ্যাশন শোসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফ্যাশনেবল পোশাকে দেখা যায় তাকে। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ছবি নিয়ে সাজানো হয়েছে এই ফটো ফিচার।


চলতি বছর নিউইয়র্কে ডিজাইন হাউস ফেন্ডির কালো থাই হাই স্লিট গাউনে  প্রিয়াংকা চোপড়া। নিউইয়র্কে গিল্ড হল সামার গালাতে সাদা গাউনে হাজির হন তিনি
 

নিউইয়র্কের রাস্তায় পিঙ্ক ড্রেসে আকর্ষণীয় প্রিয়াংকা। চলতি বছর মার্চে সিনেমাকনের অনুষ্ঠানে কালো বেলমেইনের ড্রেসে এই অভিনেত্রী
 

দ্য টু নাইট শো অনুষ্ঠানে নীল ড্রেসে একটু বেশিই খোলামেলা ছিলেন প্রিয়াংকা। অস্কার পার্টিতে কালো গাউনে হাজির হয়েছিলেন তিনি
 

অস্কারের মূল অনুষ্ঠানে সাদা গাউনে হাজির হন এই অভিনেত্রী। পিপলস চয়েজ অনুষ্ঠানে রুপের ঝলক দেখান তিনি
 

এবারের অস্কারে ডিনারে ক্যাজুয়াল লুকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। গোল্ডেন গ্লোবস পার্টিতে গোল্ডেন রঙের পোশাকে দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে  

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ ডিসেম্বর ২০১৮/শান্ত

digital beggar info

ডিজিটাল ভিক্ষুক!

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৯ ৯:৫৯:১৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-১৯ ১:১৭:১৫ পিএম

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : অ্যাপল পে কিংবা গুগল পে এর মতো বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিজিটালি অর্থ প্রদান ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এক্ষেত্রে দেশ হিসেবে বেশ এগিয়ে আছে চীন। সেখানে অনেকেই নগদ টাকা সঙ্গে রাখেন না। এমনকি এই ক্যাশলেস ইকোনমি বা নগদহীন অর্থনীতির ট্রেন্ডে শামিল হচ্ছেন ভিক্ষুকরাও।

ভিক্ষুকরা কিউআর কোডগুলোর (কালো এবং সাদা স্ক্যান্যাবল বারকোড) মাধ্যমে ডিজিটালি ভিক্ষা গ্রহণ করছেন, এই কোড ব্যবহার করে পথচারীরা ডিজিটালি ভিক্ষা দিতে পারছেন।

চীনে কমদামী স্মার্টফোনগুলোতেও ‘উইচ্যাট’ এবং ‘আলিপে’ অ্যাপসের ব্যবহার ব্যাপক। উভয় অ্যাপে সরাসরি মোবাইল পেমেন্ট সুবিধা বিদ্যমান। ফলে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে অ্যাপ দুইটির ব্যবহার ব্যাপক।

আইবি টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনে জনপ্রিয় ভ্রমণ স্পটগুলোতে ভিক্ষুকরা পর্যটকদের কাছ থেকে মোবাইল পেমেন্টের মাধ্যমে ভিক্ষা গ্রহণ করছেন। যেহেতু পথচারীরা নগদ রাখেন না, তাই ভিক্ষুকদের অর্থ উপার্জন করতে এটি সহজ উপায়।

কিন্তু কিউআর কোডের মাধ্যমে এই ডিজিটাল ভিক্ষাবৃত্তির নেপথ্যে কৌশলী এক চক্র কাজ করছে বলে জানিয়েছে অনলাইন গবেষণা সংস্থা চায়না চ্যানেল। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, অসাধু কিছু প্রতিষ্ঠান মূলত দরিদ্র নাগরিকদের অর্থ প্রদান করে থাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিক্ষা করার জন্য। কারণ যেহেতু পেমেন্টেগুলো ডিজিটালি হচ্ছে, তাই প্রতিটি ট্রানজেকশন থেকে তার ছোট্ট একটি ভাগ নেয়।

এছাড়াও এই প্রক্রিয়ায় অর্থদাতা উইচ্যাট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে। কেননা অর্থ স্থানান্তরে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত উইচ্যাট অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে হয়। ফলে উইচ্যাটে থাকা ইমেইল এবং ফোন নম্বরগুলো অন্যের পক্ষে জেনে নেওয়াটা সম্ভব।

তথ্যসূত্র : মিরর



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

Monday, 18 December 2017

sandakfur , Dargeeling info

সান্দাকফুর শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য

মুফতানিয়া বেগম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৮ ২:৫৬:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-১৮ ৫:৪০:০৫ পিএম

মুফতানিয়া বেগম: দার্জিলিংয়ের তীব্র ঠান্ডায় নরমাল ফ্রিজের ফাংশন বোঝা হয়ে গেল সবার। এবার মনে হলো ডিপ ফ্রিজটা তাহলে বাকি থাকে কেন? বরফ পড়াটাও দেখে যাই। বরফ পড়ছে কোথায়? বরফ পড়ছে গ্যাংটকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল গ্যাংটকে এখন বাংলাদেশীদের অনুমতি দিচ্ছে না।

দার্জিলিং-এ বেড়ানোর সময় ছোট্ট একটা ভ্রমণ-পাগল গ্রুপের সঙ্গে ঘুরে-ফিরে দেখা হচ্ছিল। তাদেরও একই উদ্বেগ গ্যাংটক বন্ধ- তাহলে যাওয়া যায় কোথায়? ফাইনাল করা হলো সান্দাকফু- ১২ হাজার ফুট উঁচুতে ওয়েস্ট বেঙ্গলের সর্বোচ্চ স্থান এটি। জায়গাটায় এখন রাতে হালকা তুষারপাত হচ্ছে। সেখান থেকে দেখা যাবে এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ বিশ্বের আরো ২টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লোতছে, মাকালুর সবচেয়ে কাছের দৃশ্য।  ট্রেকিং করে যেতে ৩-৪ দিনের মতো লাগে। গাড়িতে একদিনেও যাওয়া যাবে, কিন্তু যেতে খবর আছে! দেখা যাক... কি খবর!

দার্জিলিং থেকে পুরোটাই মেঘের রাজ্য, আর দুপাশে পাইনের বনের মধ্যে দিয়ে পৌঁছলাম আরেকটা উঁচু শহর মানেভাঞ্জনে। এখান থেকেই আসল যাত্রা শুরু। আরো অনেক উপরে উঠতে হবে। সেখানে যাওয়ার সাহস ও শক্তি যে একটিমাত্র গাড়ির আছে ব্রিটিশ নির্মিত সেই ল্যান্ড রোভার ঠিক করা হলো। ধন্যবাদ ব্রিটিশ ভাইয়েরা এই যন্ত্রদানব এবং চা-এর অভ্যেস রেখে যাবার জন্যে। দুটোই বেশ কাজে দিয়েছে।



রোড পিলারে লেখা আছে- সান্দাকফু ৩১ কিমি। কিন্তু সময় লাগবে নাকি সাড়ে ৪ ঘণ্টা।  ঘটনা কী? ফাজলামি নাকি! ১৫ মিনিট পর থেকে শুরু হলো ঘটনা। রাস্তাজুড়ে পাথর পরিবারের রাজত্ব। দাদা পাথর, বাবা পাথর, মা পাথর, বাচ্চা পাথর। কিছু কিছু আছে পুরাই ভিলেন পাথর, যারা গাড়ি উল্টিয়ে মৃত্যুস্বাদ দেখানোর জন্যে ওঁত পেতে আছে। ১০ মিনিট পরপর একেকটা বিশাল আকৃতির সরু, খাড়া বাঁক। ভয়ংকর! বাঁকগুলো উঠতে গিয়ে সবার কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। এদিকে প্রতি ১০ মিনিটে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। যেন চলমান মাল্টিকালার স্ক্রীন। হাজার রকম আর হরেক রঙের বুনো ফুল-ফল, গাছ-লতাপাতা; ওক, ম্যাগ্নোলিয়া, রডোড্রেনডন, অর্কিডের মহা সমারোহ। ফাঁকে ফাঁকে ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতো কাঞ্চনজঙ্ঘার উঁকি, বাঁকে বাঁকে ছোট্ট ঝিল, ঝিরি, ধেয়ে আসা মেঘ মিলে অপূর্ব প্যানোরোমা। আমরা বুঝে পেলাম না- ভয়ে চিৎকার করতে থাকবো নাকি আনন্দে। একেই বুঝি বলে ভয়ংকর সুন্দর! ভয়ংকর সুন্দর!!

রাস্তাটার বেশির ভাগই চলে গেছে ইন্ডিয়া, নেপালের বর্ডারের মাঝ দিয়ে। পথে তিনটা চেকপোস্টে থামতে হলো। ক্যাম্পগুলোও ঢেকে আছে ঘন মেঘে। দূর থেকে বোঝা যায় না। ওখানটায় পৌঁছাতেই মেঘের ভিতর থেকে ভূতের মতো বেরিয়ে আসে ডিউটিরত সৈনিকরা। অতি ঠান্ডায় থেকে থেকে এদের মেজাজ আর গলার উত্তাপও বুঝি শীতল হয়ে গেছে। সবারই ব্যবহার অতি মিষ্টি। মায়া লাগল। নানান সুদূর প্রদেশ থেকে এসে এরা স্বজন-যোগাযোগ-বিদ্যুৎ বঞ্চিত অবস্থায় মেঘাবৃত হয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে বছরের পর বছর! উঠোন পেরিয়ে যাওয়া পর্যটকরাই তাই এদের কাছে স্বজন। ফর্মালিটিজের দুদণ্ড সময়েই হয়ে যায় অনেক গল্প যেন কতদিনের চেনা! ছবি তোলার অনুমতি পাওয়া গেল কিন্তু ঠান্ডায় পকেট বা গ্লাভস থেকে কেউই হাত বের করতে রাজি না। স্মৃতি রক্ষার চেয়ে তখন নিজেকে রক্ষা করাটা বেশি জরুরি।



অনেকটা দূরে দূরে স্বস্তিদায়ক নেপালি হোটেল। গাড়ি থামিয়ে, মগ ভর্তি চুলার চা পান করে চার্জ নিয়ে নিলাম। ইন্ডিয়ান পাহাড়ের গোড়ায় দাঁড়িয়ে নেপালি হোটেল থেকে বাংলাদেশীদের চা পানের দৃশ্যটা নিজেদের কাছেই মজা লাগছিল। মেঘ কেটে কেটে গাড়ি এগোচ্ছে। ঠান্ডা বাড়তে লাগল হুহু করে। উপরে উঠছি তো উঠছিই। রাস্তা আর ফুরায় না। রাত নেমে এলো, সঙ্গে গা শিউরানো ঠান্ডা নির্জনতা। ড্রাইভারের মধ্যে রাত বাড়ার আগেই পৌঁছানোর ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছিল। আর মাত্র কিছু পথ বাকী। হঠাৎ আমাদের ল্যান্ড রোভারটা বেঁকে বসল। সামনে ভিলেন পাথরদের পাথরবন্ধন। ড্রাইভারের একেকটা চেষ্টায় চাকার নিচ থেকে নিরীহ পাথরগুলো নিচে গড়িয়ে যেতে লাগলো। কতদূর সেটা আর দেখা গেল না! গড়ানো পাথরের জায়গায় নিজেদের পরিণতি কল্পনা করে সবাই লাফিয়ে নামলাম। কিছু ভিলেনকে রাস্তা থেকে হাত দিয়ে সরানোর পর ড্রাইভার তার সমস্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটু একটু করে বেশখানি উপরে উঠে গেল। গাড়ি পেছনে আসতে পারবে না। সুতরাং এটুকু আমাদের হেঁটেই উঠতে হবে।

কয়েক পা উঠতেই হঠাৎ টের পেলাম নিশ্বাস নিতে পারছি না! কী হলো? আমার তো এ ধরনের কোনো সমস্যা নাই! বড় বড় করে শ্বাস নিতে গিয়ে মাইনাস ৩ ডিগ্রি ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসে ঢুকে গেল। একে শ্বাসকষ্ট, তার উপর পুরো শরীর জমে কুঁকড়ে যেতে লাগলো। রাস্তায় পাথরের উপরই শুয়ে পড়লাম। আর এক পাও এগোনো অসম্ভব! খুব কষ্ট হচ্ছে। আসলে এতক্ষণ গাড়িতে বসে থাকায় টের পাইনি। সর্বোচ্চ উচ্চতা এসে গেছে। সবারই কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু আমার এত কেন?



বোনেরা কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। আমি অসহায়ের মতো চারদিকে তাকালাম। রহস্যময় রাত, দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া তখনো রূপায় মোড়ানো নিচে ফেলে আসা গহীন শূন্যতা, উপরেই অপেক্ষমাণ না দেখা এক মায়াপুরী। এই অসহ্য সুন্দরের মাঝেই কি আজ চলে যেতে হবে? পরম করুণাময়কে ডাকলাম, ‘আল্লাহ, অন্তত এখানে, এভাবে নিও না। এখনো তোমার সৃষ্টির কত মহিমা দেখা বাকি! চারপাশে এত বাতাস, আমি কেন পাচ্ছি না, আমাকে একটু অক্সিজেন দাও।’ তিনি শুনলেন। কেউ একজন বুদ্ধি দিলো, মুখ থেকে মুখে শ্বাস দেওয়ায় কাজ হলো। বাকি পথটা এক বোনের থেকে শ্বাস ধার নিয়ে নিয়ে একটু করে এগোলাম।

চূড়ায় মূলত কোনো লোকালয় নেই, আছে শুধু হাতে গোনা কয়েকটা লজ। আমি আর ভয়ে গাড়ি থেকে নামি না। সবাই দৌড়াদৌড়ি করে লজ ঠিক করে এলো। একটা ডরমিটরি ডাইনিং-এ অনেকে আপাতত আশ্রয় নিয়েছে। খাবার প্লাস উষ্ণতার জন্য। প্রাণোচ্ছল এক ট্রেকিং গ্রুপের সঙ্গে দেখা এবং কথা হলো। তারা নাকি ৩-৪ দিন ধরে ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছেছে! তাদের দেখার পরিধিটা তাহলে আমাদের থেকেও বেশি !



ডিপ ফ্রিজের নমুনা পাওয়া গেল। বাইরে মৃদু তুষারপাত। নিম্ন-তাপমাত্রায় জমে গেছে আমাদের সব কসমেটিক্স, বদলে গেছে নাক-মুখের নকশাও। বিদ্যুৎ বন্ধ, নেই হিটারের ব্যবস্থা, হট ওয়াটার প্যাড ভাড়া পাওয়া যায়। দুটো নিয়ে নিলাম হাতে-পায়ে চেপে ঘুমানোর জন্য। তার আগে অনেকক্ষণ কয়লার আগুনে নিজেকে রুটি-সেঁকা সেঁকে কিছুটা স্বাভাবিক হলাম। কিন্তু আমার অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের স্ট্যাটাসটা রয়ে গেল দুর্বল নেটওয়ার্কের মতো। নড়লেই চলে যায়, কি মুশকিল!

অভিজ্ঞতাপূর্ণ দিনটির বিনিময়ে পরদিন ভোরে সান্দাকফু যে অমূল্য দৃশ্য উপহার দেয় সেটা বর্ণনাতীত, সারাজীবনের জন্য স্মৃতির একটা অংশ স্থায়ীভাবে দখল করে নেয়ার মতো। পরদিন আমার শ্বাসকষ্ট হবার রহস্য উদ্ধার হলো- চারপাশজুড়ে সৌন্দর্যের যে যাদু ছড়ানো, তা শ্বাসরুদ্ধকরই বটে! সবাই ক্ষেপাতে লাগল, ‘মরতে বসছিলি। আবার যাবি?’

কলার ঝাঁকিয়ে বললাম- ‘অবশ্যই! এবার ট্রেকিং করে যাব। শুধু একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার সঙ্গে নিয়ে নিলেই তো হচ্ছে।’

লেখিকা: বিদেশী এয়ারওয়েজে কর্মরত



রাইজিংবিডি/ঢাকা/ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭/হাসনাত/তারা

60 sec for long life test

৬০ সেকেন্ডে নিজেই করুন দীর্ঘায়ু পরীক্ষা

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১২ ১০:৪১:২২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-১৮ ৪:৫৩:০১ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : আপনি কি আপনার স্বাস্থ্যের প্রতি ভালো মনোযোগ দিচ্ছেন? আপনি চাইলে এটি এখনই আপনার ঘরে শুরু করতে পারেন।

এবিসি নিউজ মেডিক্যাল কান্ট্রিবিউটর ড. নাটালি অ্যাজার টুডে ডটকমকে কিছু এটি-নিজে-করুন স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলেছেন, যার প্রত্যেকটি করতে কেবল ৬০ সেকেন্ড সময় লাগে।

এর মধ্যে রয়েছে পা বাঁকা করে বসা ও ওঠার মাধ্যমে দীর্ঘায়ু বোঝার পরীক্ষা, জানালার ফ্রেমে তাকানোর মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি বোঝার পরীক্ষা, ঘড়ি আঁকার মাধ্যমে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশতা পরীক্ষা, কাগজের সাহায্যে থাইরয়েডের এবং বালিশের সাহায্যে ধমনীর সমস্যা বোঝার পরীক্ষা। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজকের প্রথম পর্বে দীর্ঘায়ুর পরীক্ষাটি জেনে নিন।

তৎপরতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য ক্রস-লেগড স্কোয়াট টেস্ট
আপনার পা-কে ক্রস বানান এবং স্কোয়াট ডাউন হয়ে মেঝেতে বসুন। তারপর এভাবেই উঠে দাড়ান। যদি আপনার এ পজিশনে সরাসরি বসতে এবং উঠতে পারেন অর্থাৎ টলে না পড়েন তাহলে ১০-এ ১০ পয়েন্ট পাবেন। কিন্তু যদি আপনি বসার সময় হাতের ভরের সাহায্য নেন, তাহলে ১ পয়েন্ট হারাবেন। উঠে দাড়ানোর সময় হাতের ভরের সাহায্য নিলে ১ পয়েন্ট হারাবেন।

মাংসপেশীর শক্তি, ভারসাম্য, নমনীয়তা ও তৎপরতার এই পরীক্ষায় স্কোর ৮ বা তার বেশি পেতে চেষ্টা করুন।

এই পরীক্ষা কিভাবে দীর্ঘায়ুর ভবিষ্যদ্বাণী করে? ডা. অ্যাজার বলেন, ‘এটি সঠিক সতর্কবার্তা প্রদান করে দীর্ঘায়ুর ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকে। আপনার স্কোর যত কমবে, তত বেশি সম্ভাবনা থাকে যে আপনি আগামী ছয় বছরের মধ্যে মারা যাচ্ছেন।’



তথ্যসূত্র : টুডে http://www.risingbd.com/prescription-news/248746



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ