Wednesday, 25 January 2017

kolkata info

কলকাতায় গরুর মগজ দিয়ে গরম ভাত

ফেরদৌস জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৫ ৭:৫২:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৫ ৭:৫২:৪৪ পিএম

ফেরদৌস জামান : কর্নাটক থেকে তামিলনাড়ু, অন্ধ্র প্রদেশ, উড়িশ্যা, সব শেষে বিহার হয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা; কিছু কম-বেশি চল্লিশ ঘণ্টা ট্রেন জার্নির পর পা রাখলাম মাটিতে। এতটা সুদীর্ঘ পথে দেখলাম অঞ্চল ভেদে আবহাওয়ার ব্যাপক বৈচিত্র। কত দিন পর দেখলাম এক সঙ্গে অনেকগুলো বাংলা ভাষাভাষী মানুষ, মন চাইছিল কারও সাথে প্রাণ ভরে গল্প করি! কিন্তু কার সাথে? চেনা-জানা তো কেউ নেই, তবে এক জন মিলতে পারে, তাও আজ নয় কাল বা পরশু।

হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে একটা ট্যাক্সি নিয়ে ছুটলাম হোটেলের দিকে। বিশাল হাওড়া ব্রিজ, পারাপার করছে শত শত যান। কত বছর আগে তৈরি, অথচ ঠিকভাবে লক্ষ করলে দেখা যায় ব্রিটিশ কারিগরী দক্ষতা কতটা সুনিপুণ ছিল! একই প্রমাণ মেলে আমাদের দেশে পদ্মা নদীর উপর নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখলে। এত বড় হাওড়া ব্রিজ, অথচ দুই সংযোগ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো খুঁটি বা পিলার নেই। প্রতিটি নাট-বল্টু বা সংযোগগুলো স্পষ্ট। টিভিতে এই জিনিস দেখে কে না বিস্মিত হতো! বিস্ময়ের সেই ব্রিজ আমাকে এপাড় থেকে ওপাড় নিয়ে যাচ্ছে। ছিটেফোঁটা বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পেতে আবেগের লাগাম টেনে জানালা থেকে মাথা সরিয়ে কাঁচটা উঠিয়ে দিতে হলো। সময় মতো উপস্থিত হলাম জাকারিয়া স্ট্রীটের হোটেল প্যারামাউন্টে।

একটা ঝরঝরে গোসল দিয়ে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম, তারপর বেরিয়ে পরলাম মহানগর কলকাতা দেখতে। ধর্মতলা হয়ে নিউমার্কেট এলাকায় পায়ে হাঁটা ভ্রমণের পর ইচ্ছা জাগল ট্রামে আরোহণের স্বাদ নিতে। সড়কের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বহু পুরনো ট্রাম। সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা বইয়ে ‘আবার অসিব ফিরে’ নামক একটি কবিতা ছিল। বাংলার শিক্ষক কবিতার আগে শুরু করলেন কবির জীবনী দিয়ে। জীবনী পড়ানোর সময় শিক্ষকের মুখে জেনেছিলাম, কলকাতায়  ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় কবি জীবনানন্দ দাশের। তখন থেকেই মনের মধ্যে সংকল্প ছিল, কলকাতা গেলে যে জিনিসগুলো দেখব বা উপভোগ করব তার মধ্যে অন্যতম হবে এই বাহণে চেপে শহরটা ঘুরে দেখা।



কলকাতায় আমার সংক্ষিপ্ত ট্রানজিট দুই কি তিন দিনের। সুতরাং চাইলেও ব্রিটিশ ভারতের এক সময়ের রাজধানী এই মহানগরী ঘুরে দেখে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। দু-এক জনের সাথে কথা বলে জেনে নিলাম বিরলা তারামন্ডলের দিকে যাওয়ার পথ কোন দিকে। জায়গা মতো দাঁড়িয়ে থাকতেই চলে এলো রংচটা শরীরের একটি ট্রাম। আসনে বসে খেয়াল করি মাথার উপর খাঁচায় বন্ধ প্রকাণ্ড এক ফ্যান বন বন করে ঘুরছে আর তাতে যে সুললিত সুরের উৎপাদন হচ্ছে তার কারণে আপাতত দুই কান অচল। এরই মধ্যে সন্ধ্যা নেমে গেছে। কিছু লোক ফ্যানের কারণে কানের কাছে মুখ লাগিয়ে কথা বলছে, কিছু লোক ঝিমুচ্ছে আর অনেক আসন ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। কোনো আসনের নরম তুলা উঠে গেছে অনেক আগেই, যেন বড় বড় পিড়ি পেতে রাখা। এবার নিচ থেকে ভেসে আসছে ক্যাচর-ম্যাচর, ঘটর-মটর শব্দ। কয়েক মুহূর্তে এসব অবলোকনের পর ভাবলাম, জিনিসটি লর্ড ক্লাইভের আমলের না হলেও ডালহৌসির আমলের যে হবে তাতে সন্দেহ নেই।

বাগানের পাশ দিয়ে, পার্কের পাশ দিয়ে আবার কখনও সড়কের মাঝ দিয়ে এগিয়ে চললো। প্রায় এক ঘণ্টা পর জানতে পারি ভুল পথে এসেছি, অথবা ভুল ট্রামে উঠেছি অথবা কাঙ্ক্ষিত স্টপেজ ছেড়ে চলে এসেছি-এমন কিছু একটা। সামনেই নেমে কিছু দূর হেঁটে পূনরায় ট্রাম ধরে ফিরে এলাম আগের জায়গায় এবং তারামন্ডল পরের দিন দেখব বলে ঠিক করে রাখলাম। তারামন্ডল কি জিনিস ভেতরে প্রবেশের আগে জানতামই না। শুধু সকলেই বলে এই জিনিস দেখ তাই দেখার আগ্রহ। হিন্দী-বাংলা-ইংরেজি এভাবে একের পর এক তিন ভাষার আলাদা শো পরিবেশিত হয়। আমরা বাংলার জন্য অপেক্ষা করলেও টিকিট না পেয়ে ইংরেজিই বেছে নিতে হলো। আমাদের ঢাকাস্থ নভো থিয়েটারে যা দেখানো হয়, মনে আছে আজ থেকে ১৩-১৪ বছর আগে বিরলা তারামন্ডলে তার চেয়ে উন্নত পরিবেশনা উপোভোগ করে এসেছি। বিশাল কলকাতা ময়দান যার দক্ষিণ কোণে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম স্থাপনা নিদর্শন এই মেমোরিয়াল হাউস। ১৯০১ সালে রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন রানীর স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মারক প্রাসাদ ও উদ্যান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ১৯০৬ সাল থকে শুরু করে ১৫ বছরে নির্মাণ করা হয় এই ভবন। সাদা মার্বেলে মোড়ানো দৈর্ঘ ও প্রস্থে ৩৩৮ ফুট এবং ২২৮ ফুট। উচ্চতা ১৮৪ ফুট এবং ৬৪ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বাগান।



বাগানের পর প্রধান ফটক পেরিয়ে আলগা পাথর বিছানো চওড়া পথের পর মূল ভবন। তার আগে টিকিট কেটে নিতে হলো। এক্ষেত্রে রয়েছে স্থানীয় এবং বিদেশী দর্শনার্থী ভেদে আলাদা মূল্য। বিষয়টি আমার জানাই ছিল না, লাইনে দাঁড়ানো বাকিদের সাথে পাঁচ কি দশ রুপির টিকিট কেটে ঢুকে পরেছি। বের হওয়ার পর জানতে পাই, বাংলাদেশ থেকে এসেছি জানতে পারলে গুনে গুনে দেড়শ কি দুইশ রুপি মূল্য পরিশোধ করতে হতো। যা হোক, ভবনের মাঝে একাধিক গ্যালারী। প্রতিটি গ্যালারীতে প্রদর্শিত হয়েছে নানান নিদর্শন। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয় নেতাদের ছবি, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী বিপ্লবীদের ছবি নিয়ে গ্যালারী। রানী ভিক্টোরিয়া ও প্রিন্স এ্যালবার্টের জীবনের বিভিন্ন ঘটনার উপর আঁকা অনেক ছবি এবং পাথর ও ব্রোঞ্জ নির্মিত রানীর একাধিক মূর্তি প্রদর্শিত রয়েছে। আরও বহু মূল্যবান জিনিসের মধ্যে প্রদর্শিত রয়েছে ১৯৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের নকশা সংবলিত টেবিল। কাঁচের বাক্সে বন্ধ করা নকশাটি আজও অটুট রয়েছে। বঙ্কিম বা ঈশ্বরচন্দ্রের পড়ার টেবিলও প্রদর্শিত রয়েছে।

সন্ধ্যার পর ছুটতে হলো মেগনাম ওভারসিজের খোঁজে। এখানে গেলে বাবার বাংলাদেশী বংশদ্ভুত বন্ধু আসিফ আলী চাচাকে পাওয়া যাবে। কোন রোড ছিল, ঠিক মনে নেই। হোটেল থেকে বেশি দূর নয়। এই সুযোগে বাবার মুখে শোনা কলকাতার রিক্সায় চড়ার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলাম, যা তিনি স্বয়ং আজও পর্যন্ত অর্জন করে উঠতে পারেননি। নিজের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটাতে পারিনি, প্রথম বারেই ব্যর্থ হতে হয়েছে। কুচকুচে কালো বৃদ্ধ, গায়ে কাপড় নেই, পায়ে স্যান্ডেল নেই। পরনে মালকোচা দেয়া ধুতি। যখন রিক্সা নিয়ে সামনে দাঁড়াল তাকে আর বলতে পারিনি যে অমুক জায়গায় যাবেন কি না। তারপরই বুঝতে পারি, বাবার কেন এই বিষয়ে আজও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেনি। এমনিতেই রিক্সা চালানো পেশাটা পৃথিবীর অমানবিক পেশাগুলির মধ্যে একটি। তার উপর দিয়ে কলকাতার দৌড়ে টানা রিক্সা আরও বেশি অমানবিক মনে হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় এর-ওর কাছে জেনে নিয়ে হেঁটেই বাবার বন্ধুকে খোঁজা শুরু করলাম। খুঁজে হয়রান হয়ে গেলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার খোঁজ পেলাম না!



নিকটেই মসজিদের পাশে খোলা বাজারে মানি চেঞ্জের ব্যবস্থা। মাথায় টুপি দেয়া লোকটি রাস্তার ধারে টুল নিয়ে বসে থাকে, রেটও ভালো। অনেক দিনের বেশ কিছু বাংলাদেশি মুদ্রা ছিল। এদিকে রুপির সংকট দেখা দিয়েছে। সুতরাং, প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা এখান থেকেই রুপিতে পরিবর্তন করে নিতে হলো। চাচাকে খোঁজাখুঁজি বাদ, রণে ভঙ্গ দিয়ে এবার রাতের খাবারের অনুসন্ধান করতে গিয়ে যে জায়গার খোঁজ পেয়ে গেলাম তা আজও ভুলতে পারিনি। আশপাশেই নাকি গরুর মগজ দিয়ে ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। অনেক দিন এই জিনিস খাওয়া হয়নি, দেখা যাক না কলকাতার গরুর মগজের স্বাদ কেমন হয়! বাবার বন্ধুকে খুঁজে না পেলেও গরুর মগজের সন্ধান ঠিকই পেলাম। একেবারেই চিপা গলি, এক ফুটের মতো চওড়া হবে। দুই পাশে পুরনো দালানের উঁচু দেয়াল। যেন কবরের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। একটু পর বিপরীত দিক  থেকে ধোঁয়া আসতে শুরু করলো। এই গলিতে নাকি এমন ধোঁয়া ৩৬৫ দিনের ব্যাপার। অতঃপর ছোট্ট দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে ঘরজুড়ে কেবল ধোঁয়া  আর ধোঁয়া, তার উপর মে-জুন মাসের তীব্র গরম। স্কুলের মতো বেঞ্চ পাতা, তাতেই খাওয়ার কাজ সারতে হয়। বিশ রুপিতে এক পিরিচ মগজ ভাজি। মুখে এক গ্রাস দেয়ার পর বুঝতে পারলাম, তীব্র গরমের মাঝেও মানুষ এই ধোঁয়ার মধ্যে কেন হুমড়ি খেতে আসে। পরের দিন কলকাতার শেষ দিন। এই দিন পরিবারের ছোট্ট সদস্যদের জন্য সামান্য কিছু কেনাকাটা করে সন্ধ্যার বাসে দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জানুয়ারি ২০১৭/তারা

Michale modusudans' dedication bangla language

মধুসূদনের কলমে বাংলা পেয়েছিল পরিস্রুত ভাষারূপ

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৫ ২:২০:৩৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৫ ২:২০:৩৭ পিএম

হাসান মাহামুদ: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ ‘মাইকেল মধুসূদন: প্রথম বিশ্বভিখারি ও ত্রাতা’ শীর্ষক বইতে লিখেছেন: ‘মধুসূদন দত্তের সার্থকতা আকস্মিক বিস্ফোরণে, চারপাশে হঠাৎ তীব্র আলোকে ভরে দেয়ায়। তাঁর সংস্কারমুক্তি, বিশ্বপরিব্রাজকতা, অতৃপ্তি তাঁকে ঠেলে দিয়েছিল হঠাৎ সফল হয়ে বিনাশের অভিমুখে ধাবিত হবার।...তাঁর সংস্কারমুক্তি ঈর্ষা জাগায় আমাদের।’

সত্যি বলতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত শুধু বাংলা কাব্যসাহিত্য সমৃদ্ধই করেননি, বাংলা ভাষার সংস্কারও করেছেন। মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। এর বাইরেও মধূসূদনের একটি বিষয় খুব কমই আলোচনায় এসেছে, তা হলো- তিনি বাংলা ভাষার উৎকর্ষে অভাবনীয় অবদান রেখেছিলেন। এই নিবন্ধের বিষয়বস্তু, বাংলা ভাষার বিকাশে মধূসূদনের অবদান সর্ম্পকে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা।

বাংলার নিজস্ব ভাণ্ডারের দীর্ঘ দিনের অব্যবহৃত রত্ন ভাণ্ডার আবিষ্কার করেছিলন মধুসূদন। চুপিসারে যেসব রত্ন পড়ে ছিল অনাদর এবং অবহেলায়। যেন লুকিয়ে ছিল ঘরের কোণে। যেসব শব্দ আর উপমা গায়ে মেখে ছিল অযত্নের কাদামাটি। পরম যত্নে তিনি সেগুলোকে তুলে নিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা শব্দ, বাক্য, অব্যয় আর উপমায়। ভাষাকে পরিস্রুত করেছেন আপন প্রতিভায়। ভাষা ব্যবহারের সময় শুদ্ধাশুদ্ধি নির্ণয় করতে পারা মধুসূদনই বলতে গেলে আমাদের দেখিয়ে গেছেন।

বিশেষ করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত যখন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মহাকাব্য মেঘনাদবধকাব্য লেখেন তখন বাংলা ছিল একটি অবিকশিত ও অনেকটাই দুর্বল ভাষা। বাংলা সাহিত্যের অনেক মনীষী স্বীকার করেছেন, তখন বাংলা ছিল ক্ষুদ্র একটি জনগোষ্ঠীর আঞ্চলিক ভাষা। মহত্তম ভাবপ্রকাশের জন্য অপর্যাপ্ত এবং অপরিস্রুত এবং অনাদরণীয়। আর ব্রিটিশ এবং ইংরেজি ভাষা চর্চাকারীদের কাছে তখন বাংলা ছিল ‘সমাজের চাষাভূষা মানুষের অবহেলিত ভাষা’। উঁচুমহলে তখন এর  ঠাঁই ছিল না।

এরকম একটি অবিকশিত এবং হতদরিদ্র ভাষায় মেঘনাদবধকাব্য লেখা ছিল দুঃসাধ্যেরই নামান্তর। মাইকেল মধুসূদন সেই অসাধ্য সাধন করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যে সত্যিকারের মহাকাব্য রচনার অসম্ভব কল্পনা হাতের মুঠোয় নিয়ে বাস্তবতায় পরিণত করেছিলেন অপরিমেয় প্রতিভার প্রখর ঝলকানিতে। মজার বিষয় হচ্ছে, মধুসূদন যৌবনে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে ‘মাইকেল মধুসূদন’ নাম গ্রহণ করেন এবং পাশ্চাত্য সাহিত্যের দুর্নিবার আকর্ষণবশত ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন। বাংলা কবিতা তখন পড়ে ছিল মধ্যযুগে। তখন রাজত্ব চলছিল কল্পনারহিত পদ্যকারদের।  জীবনের দ্বিতীয় পর্বে মধুসূদন আকৃষ্ট হন মাতৃভাষার প্রতি। এই সময়েই তিনি বাংলায় নাটক, প্রহসন ও কাব্যরচনা করতে শুরু করেন। তিনিই একক প্রচেষ্টায় প্রবল ধাক্কায় বাংলা কবিতাকে মধ্যযুগীয় পদ্যের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে এনে ফেলে দেন আধুনিকতার আঙ্গিনায়।

এই বিপুল পরাক্রম দেখানোর জন্য অবশ্য বাইরে থেকে তাকে ঋণ করতে হয়েছে প্রচুর। বিশ্বের রত্ন ভাণ্ডার খুলে খুলে দেখেছেন তিনি, আর বাংলাকে করেছেন সমৃদ্ধ। অনেকেই তাই তার লেখায় ইংরেজ কবি মিলটন কিংবা লর্ড বায়রনের ছায়া দেখতে পেয়েছেন, বাল্মীকির থেকে ইংবেঙ্গলের প্রভাব দেখেছেন।  কিন্তু মধুসূদন কখনো ‘ছায়ালেখা’র অপবাদে দুষ্ট হননি।

এসবের জন্য অবশ্য তাঁকে সৃষ্টি করতে হয়েছিল নিজস্ব ভাষা ও ছন্দ। সাগরতলে লুকায়িত বাংলার রত্ন ভাণ্ডার থেকে রত্ন আহরণের জন্য দক্ষ ডুবুরির মতো ডুব দিয়েছেন তিনি। ছেঁকে ছেঁকে তুলে এনেছেন সব মণি-মাণিক্য। হানা দিয়েছেন সমৃদ্ধশালী প্রতিবেশী সংস্কৃতের রত্ন ভাণ্ডারে। সেসব লুণ্ঠিত রত্নরাজি মিশিয়েছেন চলতির সাথে সুদক্ষ কারিগরের সুনিপুণ কৌশলে। আবার নিজেও তৈরি করে নিয়েছেন নতুন নতুন সব প্রয়োজনীয় শব্দ। যেন হতচ্ছিন্ন মলিন গ্রাম্য পোশাক পালটিয়ে এর গায়ে জড়িয়েছেন আধুনিকতার উজ্জ্বল উত্তরীয়।

মধুসূদন দত্ত নাট্যকার হিসেবেই প্রথম বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে পদার্পণ করেন। রামনারায়ণ তর্করত্ন বিরচিত ‘রত্নাবলী’ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব বোধ করেন। এই অভাব পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নাটক লেখায় আগ্রহী হয়েছিলেন। ১৮৫৯ সালে তিনি রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক। ১৮৬০ সালে তিনি রচনা করেন দুটি প্রহসন, ‘একেই কি বলে সভ্য’ এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এবং পূর্ণাঙ্গ ‘পদ্মাবতী’ নাটক। এই নাটকে তিনিই প্রথম অমৃতাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন।

আহমদ শরীফ, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, হুমায়ুন আজাদ এমনকি খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও স্বীকার করে গেছেন মাইকেল মধুসূদনের কাব্য প্রতিভা আর শব্দশৈলীর ব্যবহারের গুণ। তার মতো বাংলা ভাষায় এতো শব্দ যোগ আর কেউ করেছিলেন বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে তুলনায় আনা যেতে পারে শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।

মধুসুদনের কাব্যে ব্যবহৃত শব্দসমূহ অনেক জটিল এবং অবোধ্য মনে হতে পারে নবীন লেখকদের কাছে। এমনকি বর্তমান সময়ে এসে চিন্তা করলে মনে হতে পারে- ওসব অভিধানের পাতায় পাতায় শুয়ে থাকা বিপুল ওজনাকৃতির অব্যবহৃত শব্দ ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু এগুলোর সুদক্ষ এবং সুনিপুণ ব্যবহার করেই একদিন তিনি বাংলার মতো অবহেলিত অনুজ্জ্বল ভাষাকে দীপ্তিময় করেছিলেন। যেসব শব্দ পরবর্তীতে অনুসরণ করে গেছেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীন চন্দ্র সেনদের মতো মধ্যযুগীয় কবিরা।

একজন মধুসুদন শুধু মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সেতুবন্ধনই করেননি, তিনি নিজেও ছিলেন আপাদমস্তক আধুনিক। বরং বলা চলে এখনকার অনেক আধুনিক কবির চেয়েও তিনি ছিলেন অনেক বেশি আধুনিক, অনেক বেশি প্রতিভাবান। অনেক বেশি ঝড়ো হাওয়া। বাংলা কাব্যে আধুনিকতার সূচনা করেছেন তিনি। আরো বিস্ময়কর হচ্ছে, দেড়শ বছর পাড়ি দিয়েও তিনিই রয়ে গেছেন আধুনিক কবি।

তিনি মহাকাব্য লিখেছেন, সনেট লিখেছেন, বিয়োগান্ত নাটক লিখেছেন, লিখেছেন প্রহসন। এসবের কোনোটা তাঁর আগে আর কোনো বাঙালি লেখেন নি। তিনি সাহিত্য সাধনা করেছেন মাত্র ছয় বছর। অথচ এই স্বল্পকাল বিশালত্ব এবং বৈচিত্র্যমুখিতায় ভরিয়ে দিয়েছেন। মধুসূদনের আগে বাংলা কবিতা পড়ে ছিল ছন্দমিলের ছন্দে। কিন্তু বাংলায় যে এরকম অভূতপূর্ব ছন্দ হতে পারে এবং সেই ছন্দে যে চিরস্থায়ী কাব্য রচনা করা যায় তা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন তাঁর অমিত প্রতিভা দিয়ে।

আজ এই মহাকবির ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮২৪ সালের আজকের দিনে (২৫ জানুয়ারি) তিনি ব্রিটিশ ভারতের যশোর জেলার এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ বংশে জন্ম নিয়েছিলেন। এই মহাকবির ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয় এবং বেদনাঘন। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 
 
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জানুয়ারি ২০১৭/হাসান মাহামুদ/তারা

hand writting way to do

হাতের লেখা ভালো করার ৭ কৌশল

সার্জিন শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৬ ৭:৪৫:৩৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৬ ৯:২৯:২০ এএম
প্রতীকী ছবি
সার্জিন শরীফ : প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই সময়ে এসে আমরা কম্পিউটার আর ট্যাবলেট জাতীয় স্মার্ট ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা হল- এখন ‘সুন্দর হাতের লেখা’ নিয়ে কিছুটা হলেও কম চিন্তা করতে হয় আমাদের।

কিন্তু ‘সুন্দর হাতের লেখা’ বা ‘হাতের সুন্দর লেখা’ যাই বলি না কেন এখনও একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোটবেলায় আদর্শ লিপিতে আমরা পড়েছিলাম- ‘হস্তাক্ষর সুন্দর হইলে পরীক্ষায় অধিক নম্বর পাওয়া যা’। শুধু তা-ই নয়, সুন্দর হাতের লেখা আপনার ব্যক্তিত্বকে এক ভিন্ন মাত্রা দান করে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নামী-দামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাতের লেখার ক্লাস নেন হাতের লেখা বিশেষজ্ঞ লরা হুপার। বিজনেস ইনসাইডারসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য ৭টি পরামর্শ দিয়েছেন।

১. সঠিক উপাদান নির্ধারণ করা : লেখা শুরু করার আগে সেই জিনিসগুলো নির্বাচন করুন যেগুলো ব্যবহার করে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। অনেকেই মনে করে থাকেন সুন্দর হাতের লেখার জন্য ‘ফাউন্টেন পেন’ অত্যাবশকীয়। আসলে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমন একটি কলম বা পেন্সিল বেছে নিন যা আপনার আঙুলের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যাবে এবং লেখার সময় কাগজের ওপর যাকে জোরে চাপ দিতে হবে না। আর কাগজ হিসেবে ‘নোটবুক’ জাতীয় লাইন টানা কাগজ ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. হাত এবং কবজি নমনীয় করা : ‘লেখা শুরুর আগে আমি আমার হাত হালকা করে নিই এবং কবজি দুটোকে হালকা মুচড়ে নিই যাতে এগুলো লেখার জন্য নমনীয় হয়’- হুপার বলেন। ‘বিশেষ করে যদি আপনি একটানা বেশ কয়েকদিন ধরে না লিখেন তাহলে অন্যান্য মাংসপেশীর মতো কবজি বা হাতেও একধরনের জড়তা অনুভব করবেন।’

৩. অঙ্গবিন্যাস ঠিক করা : সোজা হয়ে বসুন এবং আপনার অনভ্যস্ত হাতটিকে (যেমন ডানহাতিদের ক্ষেত্রে বাঁ হাত) কাগজ বা খাতাটিকে ধরে রাখার জন্য ব্যবহার করুন। হুপার বলেন, ‘লেখার সময় আমি আমার অনভ্যস্ত হাতটিকে সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ব্যবহার করি। এটা আমাকে স্থির থাকতে এবং ডান হাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করে।’ তবে এজন্য অবশ্যই চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করা উত্তম।

৪. কলম ধরা : কলম বা পেন্সিল নিব এর কাছাকাছি ধরে লিখুন, তবে শক্তভাবে ধরে নয়। যদি নিবের কাছাকাছি ধরে লিখতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ কলম বা পেন্সিল ধরার আসলে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। এটা সম্পূর্ণই আপনার হাতের গড়নের ওপর নির্ভর করে।

৫. বাহু এবং কবজির অবস্থান : বেশিরভাগ মানুষই লেখার সময় শুধু আঙুল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু হস্তাক্ষরবিদরা আঙুল দিয়ে কলম-পেন্সিল আঁকড়ে ধরেন মাত্র এবং লেখার সময় নিজেদের বাহু এবং কবজিকে সমান অবস্থানে রেখে লিখে থাকেন। হুপার বলেন, ‘এটি রপ্ত করার জন্য আপনি একটি কলম ধরে কল্পনায় (বাতাসের ওপরে) বড় বড় অক্ষর লিখতে পারেন।’

৬. তুলনামূলক ধীরগতি অবলম্বন করা : বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে যত দ্রুত পারা যায় লেখা শেষ করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। হুপার বলেন, ‘লেখা কোনো দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। কত দ্রুত তা শেষ করবেন এটাকে গুরুত্ব না দিয়ে, প্রতিটি অক্ষর কিভাবে সুন্দর করবেন সেটাকে গুরুত্ব দিন। একটু ধীরে লিখুন এবং অক্ষরকে তার শ্রেষ্ঠ চেহারায় রূপ দিন।’

অক্ষরকে সুন্দরভাবে রূপ দিতে প্রথমে বড় বড় করে লেখার অভ্যাস করুন। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক লেখার স্টাইল ছোট আকারে হ্রাস করুন।

৭. অনুশীলন, অনুশীলন এবং অনুশীলন : হাতের লেখা ভালো করার জন্য অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে আপনি যত বেশি অনুশীলন করবেন ততই দক্ষতা বাড়বে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ

Tuesday, 24 January 2017

healthy carrot for life

শারীরিক সমস্যা সমাধানে গাজর

ফজলে আজিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৫ ১০:৩০:২৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৫ ১০:৩০:২৪ এএম

ফজলে আজিম : শীতকালীন শাকসবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম গাজর। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় ছেলে বুড়ো সবারই পছন্দের তালিকায় থাকে এ সবজিটি। কাঁচা চিবিয়ে খাওয়া কিংবা রান্না করা যেকোনো ভা্বেই এটি খাওয়া যায়। শীতকালীন সবজি হলেও সারা বছরই এটি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে তা সারাবছর বাজারে সরবরাহ করা হয়।

পুষ্টিগুণে ভরা গাজরের রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

* বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কিছু কোষ প্রাণবন্ততা হারায়। আর তখন ত্বকে ভাঁজ পড়ে। এ সমস্যা মুক্তির উপাদান রয়েছে গাজরে। এতে থাকা বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলসের সমন্বয় ত্বকের সুরক্ষায় দারুণ কাজ করে। নিয়মিত গাজর খেলে বয়স বৃদ্ধিজনিত কারণে ত্বক কুঁচকে যাওয়া বিলম্বিত হয়।

* গাজরে বিদ্যমান থাকা বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন ত্বক ও চোখের যত্নে খুবই উপকারী।

* নিয়মিত গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ। আর তাই ছোট বড় সবারই দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে গাজর।

* গাজরে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি১২, আয়রণ, কপার, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজসহ আরো অনেক উপাদান। যা শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

* ১০০ গ্রাম গাজরে ৪১ গ্রাম ক্যালোরি থাকে। ফ্যাট নেই বললেই চলে। আর তাই কোলেস্টেরল নিয়ে বাড়তি চিন্তা নেই।

* টক্সিন মুক্তকারি খাবার হিসেবে পরিচিত গাজর। লিভার সুস্থ রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। গাজর লিভারকে পরিস্কার করে। লিভারজনিত রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।

* গাজর খেলে দাঁত পরিস্কার হয়। দাঁতে জমে থাকা প্লাক দূর হয়। গাজরের ফ্ল্যাভনয়েড দাঁতকে ক্যাভিটির হাত থেকে রক্ষা করে।

* গাজরের রস কোলন সেলে ঢুকে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

* হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, যারা সপ্তাহে অন্তত ৬টি গাজর খান তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। আর তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে যোগ করুন রঙিন সবজি গাজর। এবং লাভ করুন সুস্থ জীবন।

লেখক: রেইকি প্র্যাকটিশনার, সেকেন্ডডিগ্রি চ্যানেল।
 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জানুয়ারি/২০১৭/ফিরোজ

Poet michale modusudhan birthday

মধুকবির জন্মদিন আজ

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৫ ১১:০৩:০৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৫ ১১:০৩:০৫ এএম
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
বি এম ফারুক, যশোর : বাংলায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবক্তা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৪তম জন্মদিন আজ। ১৮২৪ সালের  ২৫ জানুয়ারি তিনি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন, তার (মধুসূদনের) হাতে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে নবরূপ, হয়েছে সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যমন্ডিত। তিনি একাধারে বাংলা সাহিত্যে প্রথম মহাকাব্যের রচয়িতা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, সনেট রচয়িতা ও আধুনিক শিল্পকলাসম্মত নাট্যকার। নাটক, প্রহসন, মহাকাব্য, পত্রকাব্য, সনেট, ট্রাজেডিসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অমর সৃষ্টি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উন্নত মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে ।

বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কবির জন্মভিটা সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা-২০১৭-এর আয়োজনসহ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের এ মেলাকে ঘিরে কবির জন্মস্থানে মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন যশোরের বাসিন্দারা। মেলাকে ঘিরে  উৎসব আমেজের সৃষ্টি হয়েছে কেশবপুরসহ আশপাশের এলাকায়। মেলায় বিনোদনের নানা আয়োজন ছাড়াও প্রতিদিন মঞ্চে থাকছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১৯৭৩ সাল থেকেই এই মধুমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে । এবার সপ্তাহব্যাপি এই মেলা শুরু হয়েছে গত ২১ জানুয়ারি থেকে । জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এ দিন এ মেলার উদ্বোধন করেন । আগামী ২৭ জানুয়ারি মেলা শেষ হবে ।

এর আগে মহাকবির জন্মবার্ষিকী এবং মধুমেলা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, জন্মভূমির প্রতি মাইকেল মধুসূদন দত্তের গভীর অনুরাগ আগামী প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের চিরন্তন নিদর্শন হিসেবে চির-জাগরুক থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অনন্য সাহিত্যকীর্তি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতার নাম রাজনারায়ণ দত্ত, মা জাহৃবী দেবী। ১৮৩৩ সালে মধুসূদন সাগরদাঁড়ি ছেড়ে কলকাতা  যান। ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন কবি। একইসাথে পিতৃগৃহ থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নেন। ১৮৪৮ সালে ফের সাগরদাঁড়িতে আসেন। তারপর ভাগ্যান্বেষণে মাদ্রাজ চলে যান।

১৮৪৯ সালের এপ্রিলে তাঁর ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য কাপটিভ লেডি’ প্রকাশ হয়। ১৮৫৮ সালে ‘শর্মিষ্ঠা নাটক’ লিখে বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ১৮৬০ সালে ‘পদ্মাবতী নাটক’ প্রকাশ হয়। ১৮৬১ সালে জানুয়ারিতে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়।

১৮৬৩ সালে অর্থকষ্টে পড়েন। এ অবস্থায় পরিবারসহ প্যারিসের ভার্সাই নগরীতে চলে যান। ১৮৬৪ সালে ২ জুন অর্থসাহায্য চেয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে চিঠি লেখেন। আগস্টে বিদ্যাসাগরের পাঠানো টাকা পেয়ে সাময়িকভাবে অভাব মোচন হলে তিনি সনেট রচনায় মনোনিবেশ করেন ।

১৮৬৬ সালের আগস্টে ‘চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলী’ পুস্তক আকারে কলকাতা থেকে বের হয়। নভেম্বরে ব্যারিস্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৬৭ সালে পুত্র-কন্যাকে ফ্রান্সে রেখে কলকাতা চলে আসেন। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বেলা ২টায় মৃত্যুবরণ করেন মহাকবি মধুসূদন দত্ত।


রাইজিংবিডি/যশোর/২৫ জানুয়ারি ২০১৭/বি এম ফারুক/টিপু

Monday, 23 January 2017

Great Actor Razzak

এক্সট্রা থেকে নায়ক রাজ

মুম রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৩ ৩:৪১:২৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৩ ৪:০০:০৬ পিএম

|| মুম রহমান ||
আব্দুর রাজ্জাককে কেউ চিনতো না। অথচ তার জন্মই হয়েছে টালিউডে। টালিউড মানে কলকাতা, তথা ভারতের চলচ্চিত্রের আঁতুর ঘর। এখানেই বেড়ে উঠেছেন উত্তম কুমার থেকে সৌমিত্র, প্রসেনজিৎ থেকে শুরু করে হালের দেব কিংবা পরমব্রতরা। টালিউডে জন্ম নেয়া আব্দুর রাজ্জাক অভিনেতা হতে চাইলেন। কিন্তু অভিনয় তো দূরের কথা, তাকে টালিউড ছাড়তে হলো ভাগ্যদোষে।

১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে আব্দুর রাজ্জাক চলে এলেন ঢাকা। এলেন শরণার্থী হয়ে, কিন্তু বুকে তার স্বপ্ন- অভিনয় করবেন। পকেটে সম্বল মাত্র একটি চিঠি। যে চিঠি কলকাতার এক স্বজনের লেখা; আব্দুল জব্বার খানের প্রতি। আব্দুল জব্বার খানকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্মদাতা বলা যায়। তার প্রযোজনা ও পরিচালনাতেই এই ঢাকা শহরে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। আব্দুর রাজ্জাক কমলাপুর এসে ঠাঁই নিলেন। এখানেই থাকেন আব্দুল জব্বার খান। অবশেষে আব্দুর রাজ্জাক দেখা করার সুযোগ পেলেন তার সঙ্গে। এই সাক্ষাত থেকেই শুরু হলো বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন একটি অধ্যায়।

এই অধ্যায়ের নাম নায়ক রাজ রাজ্জাক। আব্দুর রাজ্জাককে অবশ্য নায়ক রাজ হতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে। ঢাকার কমলাপুরে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে আধবেলা খেয়ে-না-খেয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। আব্দুল জব্বার খান অবশ্য তাকে হতাশ করেননি। তিনি রাজ্জাককে ইকবাল ফিল্মস লিমিটেডে কাজ করার সুযোগ দেন। কামাল আহমেদের উর্দু চলচ্চিত্র ‘উজালা’তে সহকারী পরিচালক হিসেবে শুরু হয় রাজ্জাকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কাজ করার সূচনা। কথাটি এখানে যতটা সহজভাবে আপনি পড়লেন, ততটা সহজ ছিল না। সহকারী পরিচালক থাকা অবস্থাতেই রাজ্জাক অভিনয়ের চেষ্টা করতে থাকেন। কলকাতায় খানপুর হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে তিনি সরস্বতী পূজা উপলক্ষ্যে নির্মিত নাটক ‘ব্রিদোহী’তে অভিনয় করেন। সেই থেকে তার অভিনয়ের স্বপ্ন। টালিউডেও চেষ্টা করেছেন দুয়েকটা ছবিতে অভিনয় করার। অভিনয়ের নেশাটা আসলে তার রক্তে ছিলো। ‘কার বউ’ ‘ডাকবাবু’ ‘১৩নং ফেকু ওস্তাগার লেন’ ‘আখেরী স্টেশন’ (উর্দু) ইত্যাদি ছবিতে তিনি ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেন। বলে রাখা ভালো চলচ্চিত্রজীবনের শুরুতে তিনি এক্সট্রা শিল্পী হিসেবেও সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সে সময় পাকিস্তান টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটকেও তাকে আমরা অভিনয় করতে দেখেছি।



প্রতিষ্ঠা পেতে জীবন যুদ্ধ যখন চলমান ঠিক সে সময়, তিনি জহির রায়হানের সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়ে যান। জহির রায়হান তখন বাংলার বিখ্যাত লোকগল্প ‘বেহুলা’ বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।  নায়িকানির্ভর এই ছবিতে নায়ক লক্ষীন্দরকে অধিকাংশ সময় শবদেহ হয়ে শুয়ে থাকতে হবে। তখনকার নামকরা কোনো নায়কই এ চরিত্রে অভিনয় করতে রাজী হলেন না। জহির রায়হানের জহুরি চোখের নজর পড়ল রাজ্জাকের উপর। রাজ্জাক প্রথম নায়ক হওয়ার সুযোগ পেলেন বেহুলা ছবিতে। আর প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। বেহুলা সকলের হৃদয় কেড়ে নিলো আর রাজ্জাক নায়ক হিসাবে ঠাঁই পেয়ে গেলেন এ দেশের মানুষের অন্তরে। এরপর কেবল নিজের সীমানাকে অতিক্রম করে পথ চলা। একের পর এক বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন নতুন মাইল ফলক তৈরি করে হয়ে উঠলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক। ৫০ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে দুই বাংলা মিলিয়ে প্রায় পাঁচশটি উর্দু-বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলা চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাক এক বৈচিত্রময় নাম। তিনি নায়কের চিরচেনা রূপ ভেঙেছেন বহুবার। স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’-এ তিনি অভিনয় করেছেন ভিন্ন ধরণের চরিত্রে। ‘আলোর মিছিল’ চলচ্চিত্রে রানা মামা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সহ-চরিত্রকে দেন ভিন্ন মাত্রা। উল্লেখ্য এ ছবিতে ববিতার মামা হন তিনি। ববিতার প্রেমিক হিসেবে এ ছবিতে অভিনয় করেন ফারুক। রাজ্জাক চাইলেই নায়ক চরিত্রে অভিনয় করতে পারতেন, কিন্তু ভিন্নতার জন্যেই তিনি মামার চরিত্রটি বেছে নেন। ১৯৭৪ সালে চিত্রনায়ক সোহেল রানা বাংলাদেশের বিখ্যাত থ্রিলার উপন্যাস ‘মাসুদ রানা’ অবলম্বনে একই শিরোনামে চলচ্চিত্র বানান। কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সোহেল রানার যাত্রা শুরু হয়। আর এ ছবিতে ক্লাবের গায়ক হিসেবে একটি দৃশ্যে অভিনয় করেন রাজ্জাক। নতুন একজন পরিচালক-নায়কের ছবিতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা নায়কের এমন ভিন্ন একটি চরিত্র অসাধারণ দৃষ্টান্ত।

১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ ছবিতে মাস্তানের চরিত্রে অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে এ্যাকশন ঘরানার শুরু করেন নায়ক রাজ রাজ্জাকই। ১৯৭৮ সালে আজিজুর রহমানের ‘অশিক্ষিত’ এবং ১৯৮০ সালে ‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। প্রথম ছবিটিতে গ্রাম্য পাহারাদার আর ছুটির ঘণ্টায় স্কুলের দপ্তরির চরিত্রে অভিনয় সে সময়ের বিবেচনায় একজন সাহসী অভিনেতার কাজ ছিলো। শিশুতোষ এই দুটি ছবিতেই তিনি নায়কের প্রচলিত ভাবনা ভেঙে দিয়েছেন। অভিনয়ের জন্য তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। কি যে করি (১৯৭৬), অশিক্ষিত (১৯৭৮), বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪) এবং যোগাযোগ (১৯৮৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন। এর বাইরেও পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূতও হয়েছেন তিনি।



এক সময়ের আব্দুর রাজ্জাক একদিন টালিউডে ফিরে গেলেন। যে টালিউডে তিনি থাকতে পারেননি, সেই টালিউড তাকে বরণ করে নিলো রাজার মতোই। এখন তো তিনি বেড়ে উঠতে যাননি, বরং টালিউডের সীমানাটাই আরেকটু বড় করে দিয়ে এসেছেন। টালিউডেও নায়ক রাজ্জাক সৃষ্টি করলেন একাধিক মাইলফলক।

প্রযোজক রাজ্জাক : বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প আরো বেগবান হয়েছে নায়ক রাজ রাজ্জাকের রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনের কল্যাণে। নিজের এবং স্ত্রীর নাম মিলিয়ে তিনি তৈরি করেন এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। অনন্ত প্রেম, পাগলা রাজা, চাঁপাডাঙার বউ, মৌচোর, বাবা কেন চাকর-এর মতো সফল চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে তার প্রযোজনা সংস্থা থেকে। শুধু সিনেমা তৈরিই নয়, প্রযোজক হিসেবে তিনি অরুণা বিশ্বাস, পুত্র বাপ্পারাজকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। খল অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে তিনি চাঁপাডাঙার বউ চলচ্চিত্রে শাবানার বিপরীতে অভিনয় করিয়ে নতুন ইমেজ তৈরি করেন। ছোট ছেলে সম্রাটও তার হাত ধরে চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। রাজলক্ষ্মী প্রোডকশন থেকে ২০টি চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। এই প্রোডাকশন থেকে তৈরি হওয়া চলচ্চিত্র ‘বাবা কেন চাকর’ এতটাই সফল হয়েছির যে, পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গে এই চলচ্চিত্র আবার নির্মিত হয়। উল্লেখ্য, বাবা কেন চাকর প্রযোজনার সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প অশ্লীলতার অন্ধকারে ছিলো। সেই অন্ধকার সরাতে চলচ্চিত্রটি বিরাট ভূমিকা রাখে। এরপর তিনি ‘আরএস এন্টারটেইনমেন্ট’ নামে আরেকটি প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলেন। এই প্রযোজনা সংস্থা থেকেও আমি বাঁচতে চাই, কোটি টাকার ফকির ও মন দিয়েছি তোমাকে-এর মতো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

পরিচালক রাজ্জাক : ভুলে গেলে চলবে না, চলচ্চিত্রে নায়ক রাজের যাত্রাটা শুরু হয়েছিলো পরিচালকের সহকারী হিসেবে। কাজেই পরবর্তীতে চলচ্চিত্র পরিচালনা করাটা তার জন্য খুবই স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত রাজ্জাক ১৮টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন যার অধিকাংশই তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মিত। অনন্ত প্রেম, বদনাম, চাঁপাডাঙার বউ, মৌচোর, সৎ ভাই, বাবা কেন চাকর, জ্বিনের বাদশা, কোটি টাকার ফকির, মন দিয়েছি ইত্যাদি তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। পরিচালক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র ‘অনন্ত প্রেম’ দিয়েই তিনি তার নিজস্বতা প্রমাণ করেন। গল্প নির্বাচন, দৃশ্যায়ণ, চরিত্রায়ণ সব মিলিয়ে ‘অনন্ত প্রেম’ কালজয়ী আসনে ঠাঁই পেয়ে যায়। এই চলচ্চিত্রে নায়ক-নায়িকার মৃত্যু দেখানো হয়েছে। সে সময়ের বিবেচনায় এটি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত ছিলো। বাংলাদেশের ছবির দর্শক মিলনই দেখে এসেছে এতোকাল। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চাপা ডাঙার বউ’কে সিনেমার পর্দায় তিনি তুলে আনেন। এছাড়াও নীহাররঞ্জন গুপ্তের কালজয়ী উপন্যাস ‘উত্তর ফাল্গুনী’কে তিনি চলচ্চিত্রে রূপ দেন।  



রাজ্জাকনামা

পুরো নাম : আব্দুর রাজ্জাক,
ডাকনাম : রাজু/রাজা/আলতা,
জন্ম : ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২, টালিগঞ্জ, কলকাতা
পিতা: আকবর হোসেন
মাতা : নিসারুন নেসা
স্ত্রীর নাম : খায়রুন নেসা (লক্ষ্মী)
সন্তান : তিন পুত্র বাপ্পারাজ, বাপ্পি ও সম্রাট এবং দুই কন্যা শম্পা ও ময়না।
বিয়ে : ১৯৬২
ঢাকায় আগমন : ১৯৬৪
প্রথম অবস্থান : ঢাকার কমলাপুর
প্রথম ক্যামেরার সামনে : কলকাতার ‘শিলালিপি’ চলচ্চিত্রে
স্কুল জীবন : খানপুর স্কুল
কলেজ জীবন : চারুচন্দ্র কলেজ
মঞ্চে অভিনয় : রঙ্গসভা নাট্যদল। উল্লেখ্য এ দলের সভাপতি ছিলেন ছবি বিশ্বাস, পরিচালক ছিলেন পীযুষ বোস।
নায়ক হিসেবে প্রথম ছবি : বেহুলা
অভিনীত ছবির সংখ্যা : প্রায় ৫০০
প্রথম প্রযোজিত ছবি : আকাঙ্ক্ষা
প্রথম পরিচালিত ছবি : অনন্ত প্রেম



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ জানুয়ারি ২০১৭/তারা

Yougart healthy food

শরীর, স্বাস্থ্য, রূপচর্চায় দুধের বিকল্প দই

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৩ ১:৩১:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৩ ১:৩১:৫৪ পিএম

আহমেদ শরীফ : দইয়ের পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী উপকারিতা রয়েছে। প্রতিদিন খাবারের তালিকায় দই রাখতে পারেন। কেননা এতে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি, উপকারী ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান। যারা সহজে দুধ হজম করতে পারেন না, তাদের জন্য দই বেশ উপকারী। কারণ এটি সহজেই হজম হয় এবং দুধের মতো এতে পুষ্টিমান বজায় থাকে। দই মানব দেহের জন্য কতটা উপকারী চলুন জেনে নেই-

দইয়ে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস বেশি থাকায়, এটি হাড় ও দাঁত মজবুত করে।

দাঁতের ক্ষয় রোগ, আথ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস রোগ দমনে প্রতিদিন দই খেতে পারেন।

দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হৃদযন্ত্রের জন্য দই খুব উপকারী। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে কোলেস্টেরল কমায়।

হজমের জন্য দই খাওয়া যেতে পারে। স্পাইসি খাবার খেয়ে অন্তত এক কাপ দই খাওয়া উচিত।

পেপটিক আলসার রোধ করতেও দইয়ের ভূমিকা রয়েছে।

দইয়ে জিংক, ভিটামিন-ই ও ফসফরাস থাকায় ঘরে এটি রূপচর্চার উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

দইয়ে ল্যাকটিক এসিড থাকায় চুলের খুসকি সহজে দূর করে। মাথার তালুতে মেখে এক ঘণ্টা পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে সহজেই দূর হবে খুসকি।

দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

দই  মানসিক চাপ ও মস্তিষ্কের উত্তেজনা কমায়।

সুতরাং প্রতিদিন ২৫০-৫০০ গ্রাম দই খাওয়া ভালো। এর চেয় বেশি দই খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। অবশ্য দই কেনার আগে তা কতোটা খাঁটি, সেটাও জেনে নেওয়া উচিত।

তথ্যসূত্র:  হেলথসাইট ডট কম, বোল্ডস্কাই


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ জানুয়ারি ২০১৭/তারা