Tuesday, 3 January 2017

Hollywood name and fun

হলিউড যখন হলিউইড

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:03 Jan 2017   11:17:20 AM   Tuesday   ||   Updated:03 Jan 2017   01:32:43 PM   Tuesday
হলিউড যখন হলিউইড
আহমেদ শরীফ : নতুন বছরের শুরুতে হলিউডের জন্য নতুন চমক। ১ জানুয়ারি বাসিন্দারা ঘুম থেকে উঠে দেখে, হলিউড লেখা বিশ্ববিখ্যাত সাইনবোর্ডটি হয়ে আছে হলিউইড। দুটি ‘ও’ অক্ষরের অংশবিশেষ পাল্টে ‘ই’ অক্ষরে বদলে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলচ্চিত্রের স্বর্গরাজ্য খ্যাত হলিউড-এর বিলবোর্ডে পরিবর্তন সবার দৃষ্টি কেড়েছে। কিন্তু কীভাবে হলো এই পরিবর্তন, তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের ধারণা, নতুন বছরের মজা করতে গিয়ে কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে। আরো একটি কারণ হতে পারে- ক্যালিফোর্নিয়ায় গাঁজা বৈধ হওয়া নিয়ে মজা করতে গিয়ে কেউ হলিউড সাইন বদলে দিতে পারে। ত্রিপল দিয়ে ‘ও’ অক্ষর দুটির অংশবিশেষ ঢেকে দিয়ে ‘ই’ বানানো হয়েছে। তবে দুই দিন পার হয়ে গেলেও বিলবোর্ডের অক্ষর বদলে দেওয়া লোকটির সন্ধান পায়নি পুলিশ।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ছোট্ট পাহাড় মাউন্ট লিতে হলিউড সাইনটি অবস্থিত। এর প্রতিটি অক্ষরের উচ্চতা ৪৫ ফুট। দৈত্যাকার এই সাইনবোর্ড হলিউডের পরিচয় ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একজন লোক অক্ষরগুলো বেয়ে উঠছে। কিন্তু আর কিছু দেখা যায়নি। লোকটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। সেই সঙ্গে চলছে অক্ষরগুলো ঠিক করার কাজ।

হলিউড থেকে হলিউইড-ই কেন করা হলো? এর পেছনে একটি যুক্তি অবশ্য এসে যায়। হলিউইডের ‘উইড’ শব্দের অর্থ গাঁজা। ক্যালিফোর্নিয়ায় গাঁজা বৈধ হওয়ায় পক্ষে-বিপক্ষের কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে।

৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে একই সঙ্গে গাঁজা বৈধতার বিষয়ে ভোট হয়। রাজ্যবাসী গাঁজা বৈধতার পক্ষে ভোট দেন।

Hollyweed

এর আগে ১৯৭৬ সালে এই রাজ্যে একবার গাঁজা সেবনের আইন শিথিল করা হলে প্রায় একই কায়দায় বছরের প্রথম দিনে হলিউড সাইন বদলে দিয়েছিলেন এক শিক্ষার্থী। বলা হয়েছিল, কেউ চাইলে এক আউন্সের মতো গাঁজা সঙ্গে রাখতে পারবে। এ আইনের বিরোধিতা করে সেবার সাইন বদলে দেওয়া হয়েছিল।

তবে এখানেই শেষ নয়, আরো কয়েকবার এ ধরনের কাণ্ড ঘটেছে। ১৯২৩ সালে বিখ্যাত এই সাইনটি তৈরি করার পর বেশ কয়েকবার মজা করে তরুণরা সাইনটি পাল্টে দিয়েছে। ১৯৭৭ ও ১৯৮৭ সালে নামের একটি ‘এল’ ফেলে দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে সাইনটির প্রায় সব অক্ষর পাল্টে ‘গো নেভি’ করে দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালে ডাবলিউ ফেলে দেওয়ায় হয় ‘ওলিউড’। ১৯৯০-এ সাইনটি হয়ে যায় ‘অয়েল ওয়ার’। ১৯৯৩-এ হয় ‘গো ইউ সি এল এ’।

হলিউড সাইনটি প্রথমে হাউজিং ডেভেলপমেন্টের বিজ্ঞাপন হিসেবে ‘হলিউড ল্যান্ড’ রূপে স্থাপন করা হয়। ১৯৪৯ সালে ‘ল্যান্ড’ অংশটা বাদ দেওয়া হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জানুয়ারি ২০১৭/রাসেল পারভেজ/ এএন

Monday, 2 January 2017

Literature Leaders in Bangladesh


শওকত ওসমান জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি

আব্বাস ও ওসমানের কথোপকথন

ড. তানভীর আহমেদ সিডনী : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2017   01:19:30 PM   Monday   ||   Updated:02 Jan 2017   01:22:57 PM   Monday
অলংকরণ : অপূর্ব খন্দকার

অলংকরণ : অপূর্ব খন্দকার

ড. তানভীর আহমেদ সিডনী : কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের জন্মশতবর্ষে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর লেখা ভিন্ন এক ভুবন সৃজন করেছে। হয়তো তাঁর লেখা সকল সময়ে আমাদের মহত্তর বোধে উন্নীত করার সুযোগ এনে দেয় না। সমকালীন জীবন ও রাজনীতি তাঁর লেখনিতে চিত্রায়িত হয়েছে। সমকালকে তিনি এক অসামান্য সৌন্দর্যে রূপায়ণ করেন। ক্লেদাক্ত জীবনকে তিনি তুলে আনেন বাস্তববাদী ধারায়। শওকত ওসমান সমাজ ও পরিবেশ চিত্রায়নের সময় ভুলে যান না তিনি ‘শ্রমজীবী লেখক’। তাই এ দেশের নিম্নবিত্তের যন্ত্রণা আর বেদনা তিনি শিল্পের আলোয় নিয়ে আসেন। তাঁর সৃষ্টি প্রসঙ্গে কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস লিখেছিলেন:

‘তিনি ঘোরতরভাবে সমকাল সচেতন। সমসাময়িক কালের মানুষ, রাজনীতি নানা ঘটনা ও দুর্ঘটনা, আন্দোলন, সংগ্রাম, সংঘাত, যুদ্ধ, আপোস প্রভৃতি নিয়ে তাঁর ক্রমবর্ধমান সচেতনতা তাঁকে ক্রমে স্পর্শকাতর করে তুলেছে। তার প্রতিক্রিয়া দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে।’

সমাজ সচেতন এই লেখক মার্ক্সবাদী রাজনীতির অনুসারী ছিলেন। তাই পুঁজিবাদের পথে লেলিনের সোভিয়েত ইউনিয়নকে হাঁটতে দেখে বেদনার্ত হন। তবে কি তিনি বামপন্থি রাজনীতির ভাষ্যকার ছিলেন? এ নিয়ে আরো সমালোচনা ও বিশ্লেষণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ লেখায় গল্পকারের সাথে তাঁর নির্মিত চরিত্রের সম্পর্ক সন্ধানের প্রচেষ্টা নেওয়া হবে। শওকত ওসমানের গল্প আব্বাস-এ প্রবেশের আগে আরেক কথাসাহিত্যিকের বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করা যায়। হ্যাঁ, আবদুল গাফফার চৌধুরীর বিশ্লেষণ এমন যে :

‘শওকত ভাই সব্যসাচী লেখক ছিলেন। যে তিনজন লেখক আমাদের কথাসাহিত্যের দৈন্য ঘুচিয়েছেন; উপন্যাস, গল্প, নাটকের জন্য পথ কেটে প্রশস্ত সড়ক তৈরি করেছেন তিনি তাঁদের একজন। এই তিন কথাশিল্পীর দুজন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এবং শামসুদ্দীন আবুল কালাম আগেই চলে গেছেন।’

আব্বাস এক শ্রমজীবী কিশোরের গল্প। এমনি এক শ্রমজীবী লেখক শওকত ওসমান। আব্বাস তার গ্রাম থেকে ফিরছে শহরে, পথের সময়টুকু ঘিরেই পুরো গল্প আবর্তিত হয়। আব্বাসের জবানিতে আমরা পাই এক মায়ের মুখ, গ্রামবাংলার জনজীবন ও প্রকৃতি এবং একইসঙ্গে শ্রমজীবী কিশোরের স্বপ্ন আর স্বপ্নভাঙার কথন। আব্বাসের বাবার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী মরিয়ম, তার মানে আব্বাসের সৎ মা। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকবে। থাকবে বিশ্বাসের ঘাটতি। গল্পকার মরিয়মের সাথে আব্বাসের সম্পর্ক ভিন্ন এক সূত্র তৈরি করে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, গল্পকার সমাজ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সচেতন। সে কারণে পুরো বিষয়টি অবলোকন করেছেন একজন সমাজতাত্ত্বিকের চোখে, প্রচলিত হিসেবে সেখানে তার লক্ষ্য ছিল না। সম্পর্ককে তিনি বিশ্লেষণ করেছেন সামাজিক হিসেবে। প্রথমেই মা ছেলের কথা লেখা হয় এভাবে:

‘মরিয়ম দাঁড়িয়ে থাকে পাথরের মূর্তির মতো। আব্বাস তার নিজের ছেলে নয়, হঠাৎ তার মনে পড়ে গেলো। এই স্মৃতির আঘাত তার চোখের পাতাদুটো শুকনো রাখলো না। সত্যই আব্বাস তার নিজের ছেলে নয়, মরিয়ম দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। স্বামী-গৃহে পা দেওয়া মাত্র সে জেনেছিল এই মাতৃহীন শিশুর খবরদারী তাকেই করতে হবে। তারপর কত ঝড় তার জীবনের উপর দিয়ে এলো আর গেলো। স্বামী মারা গেছে, তবু ঐ শিশুর মায়ায় সে গাঁ ছেড়ে বাপের বাড়ী চলে যায়নি, বুকের নিঙড়ানো সমস্ত স্নেহ দিয়ে সে আব্বাসকে বাঁচিয়েছে। পুরাতন দিনের কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মরিয়ম নিঃশব্দে কাঁদতে লাগলো।’

পরিচয় পেয়েই পাঠক ঠিক করে নেন এখানে তাদের আন্তসম্পর্ক ভিন্ন পথে ধাবমান। আব্বাসের একখানি অস্পষ্ট ছবি তার চোখের সামনে ভাসে। কিন্তু এই ছবি মুছে ফেলার আগেই মায়ের কান্না আর শ্রম বিক্রির প্রসঙ্গ চলে আসে। মরিয়মের কান্না থেকে পাঠক বিষয়ান্তরে চলে যায়, তখন সে পুঁজিবাদী শোষণের রূপ নিয়ে ভাবার সুযোগ পায়। লেখকের অভিপ্রায় সেরকম। তাই লেখেন : ‘বড়লোকদের মেজাজ তো সব সময় ঠিক থাকে না। আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে মরিয়ম পাড়ার দিকে মুখ ফেরাল।’ অভাবের কষাঘাত যে কতটা প্রবল তার একটা চেহারা দেখে নেওয়া যেতে পারে।

পাঠক এবার শওকত ওসমানের জীবনের দিকে তাকাই। কোন অবস্থা তাকে তাড়িত করেছে এমনি জীবনভাবনার পথে হাঁটতে। তাঁর আত্মজীবনী থেকে জানা যায় যে, অভাবের সাথে তাঁর অল্প বয়সেই পরিচয়। কখনো কখনো অভাব পেছনে ফেলে সচ্ছলতা এলেও তা ক্ষণিকের দোলা দিয়ে আবার পেছনে থেকেছে। এই অভাবের সাথে অভিমানও করেছেন কখনো কখনো। তাঁর বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়:
‘রোজ রোজ যদি আলুভর্তা বা আলুর চাটনি আর ডাল ছাড়া কিছু না থাকে তখন মেজাজ বিগড়ে যায়। আমার মেজাজ বিগড়ে যেত। মা বোঝানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু কে শোনে অতসব যুক্তির কথা এই বয়সে? রাগে ভাতই খেলুম না।’

ছেলেবেলায় আব্বাসের ছায়া পেয়েছিলেন ওসমান। তাঁর লেখায় তাই শ্রমজীবী আর অভাবী মানুষ সব সময় মূর্ত হয়েছে। এই মার্ক্সবাদী সাহিত্যিক সমাজকে দেখেছেন গভীর এক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিজাত হয়ে। আব্বাস তাই আর কিশোর শ্রমিক হয়ে থাকেনি। একটি আধা সামন্ততান্ত্রিক সমাজের চেহারা চিত্রায়ন করেন- যে ছেলেটির বিদ্যায়তনে যাওয়ার কথা অর্থের কারণে তাঁকে কাজে যেতে হচ্ছে। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অভাবের সাথে যে লড়াই করেছেন তা যেন তার গল্প রচনার পটভূমি হিসেবে ছিল।

রাজনীতিকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনা করলেও তা রাজনৈতিক প্রচারপত্র হয়ে যায়নি বরং তা মানুষের জন্য শিল্পজাত ভাবনাপ্রসূত সৃষ্টিকর্মের অভিজ্ঞান হয়। এখানে পাঠকের চিন্তন ও ক্রিয়ায় যে সামাজিক সংকট তৈরি করতে চেয়েছেন তা যেন শিল্পের নয়া অবস্থান। আব্বাস গল্পে চিত্রকল্প তৈরির ক্ষেত্রেও সচেতন ছিলেন শওকত ওসমান। সকালটা দুপুরের পথগামী, এ সময়ে ক্লান্ত আব্বাস রেল স্টেশনের পথে চলছে। পরিবেশ বর্ণনা প্রসঙ্গে লেখা হয় : ‘একটা বুনো পাখী আকাশের স্তব্ধতাকে দ্বিখণ্ডিত করে উড়ে গেল আব্বাসের মাথার উপর দিয়ে।’

এই চিত্রকল্পের পরেই তিনি রাজনৈতিক এক চিত্রকল্প তৈরি করেন। যেখানে লেখা হয় : ‘এক সারি জামের বনে ওপারের গাঁটাকে চোখ হতে মুছে দিয়েছে। তুমি যদি তাকাও, শুধু দেখবে জামের নীল পাতার জনতা আর উপরে স্তব্ধ দুপুরের আকাশ।’

জামপাতাকে জনতার সাথে প্রতিতুলনায় লেখক ভুলতে দেন না যে, জনশ্রেণি স্তব্ধ আকাশের তলে দাঁড়িয়ে নিজের ভাগ্য সন্ধানী হয়। কিন্তু তিনি সচেতন যেন তার লেখা শিল্পের ভুল পথে গমন না করে। এ প্রসঙ্গে প্লেখানভের (১৭৫৬-১৯১৮) উক্তি ঋণ করে লেখা যায় : ‘একজন শিল্পী চিত্রকল্পের পরিবর্তে যৌক্তিক সিদ্ধান্তের আশ্রয় নেন অথবা নির্দিষ্ট থিমকে প্রদর্শনের জন্যে চিত্রকল্পের আবিষ্কার করেন, তাহলে প্রবন্ধ ও রচনা না-লিখে নভেল, নাটক বা গল্প রচনা করলেও তিনি শিল্পী নন, একজন প্রচারক।’

আব্বাস গল্পে পাঠ করা যায় :
‘ভারী খারাপ লাগে আব্বাসের। মেজাজটা তার ঠিক থাকছে না! রোদে আর ঘামে তার শরীরটা জ্বলতে শুরু করেছে। না, আর কলকাতা যাবো না, এখানে জামবনের ছায়ায় শুয়েই থাকি। আবার মার কথা আব্বাসের মনে পড়ে। মার কষ্ট হবে কত। ধান ভানা কি কম কষ্ট, ঢেঁকির উপর সারাদিন থাকা। তার উপর যাদের ধান ভানে তারা কি জুলুমই না করে। কত গালিগালাজ। শহরের রোজগার ভাল করে শিখলে মার এ কষ্টটুকু সে মুছে দিতে পারবে।’

শওকত ওসমানকে সব সময় তাড়া করেছে অভাব। তিনি যেহেতু লেখাকে সাথী করেছেন আর তার মাঝে ছিল ঋজুতা তাই কখনো স্বচ্ছল জীবন যাপন করতে পারেননি। ছাত্রজীবনে বই ছিল বালিশ আর পরিণত সময়ে পাণ্ডুলিপি বিক্রি করে জীবনযাপন করেছেন। এখানে একটি কথা বলা দরকার যে, অভাবের এই পর্বে তিনি কারো কাছে হাত পাতেননি। এমনি ঋজু ছিলেন এই কথাসাহিত্যিক।
এমন ঋজু দেখি আব্বাসকেও, পথ চলতে চলতে সে যখন তার স্মৃতি স্মরণ করে তখন একবারও কারো কাছে করুণা ভিক্ষা করে না। বরং মাথা উঁচু করে পথ চলতে থাকে। সে স্মৃতির কিয়দংশ উদ্ধৃত করা হলো:
‘মালিকের একটা ছেলে আছে আব্বাসের বয়সী। কত রকম তার কাপড়চোপড়, গাড়ী, খেলনা- সেদিন আব্বাস দেখে এসেছিল। ময়লা গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে সেদিন সে যেন মাটিতে মিশে যাচ্ছিল। কারখানায় সে খুব কেঁদেছিল। খোদা কেন আমাদের এই দূরবস্থা। আমাদের কি কোন পথ নেই?’

আব্বাসকে তিনি কোনো রাজনৈতিক ভাবনার প্রতীক করে তুলতে চাননি। বরং সমকালীন সমাজের মুখ হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। আব্বাসের সাথে সাথে হেঁটেছে চিত্রকল্প। কিন্তু তা বাস্তবতা থেকে দূরবর্তী হয়নি। তিনি বাস্তবকে রূপায়িত করেছেন সমাজ বিশ্লেষকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। সমাজের কল্পিত রূপ অথবা রাজনৈতিক ভাবনার আবরণে সমাজের চেহারা-তার কোনোটি করেননি। আব্বাস কোনো ক্রমেই উদ্দেশ্যমূলক সাহিত্য হিসেবে আসেনি। এখানে বলা চলে তিনি পাঠককে নিয়ে গেছেন তাঁর জগতে যেখানে মানুষের জীবনে অভাব আছে, সংগ্রাম আছে আর আছে চারপাশের পরিবেশ নিয়ে বেঁচে থাকার শক্তি। গল্পকার তার রচনার ক্ষেত্রে যত্নবান ছিলেন। সে কারণেই রাজনীতি অথবা রাজনীতিহীনতা তার লেখাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে প্লেখানভের একটি উদ্ধৃতি পাঠকের সুবিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা যেতে পারে: ‘শিল্পী যদি তার রচনা কালের প্রধান সামাজিক প্রবণতার প্রতি অন্ধ হয়ে যান, তখন তার রচনার ভাব আধেয়র অন্তর্নিহিত মূল্য গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনিবার্যভাবে রচনার পরিণতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

শওকত ওসমান ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাসিত জীবনযাপনের জন্য দেশ ছাড়লেন। লেখক তো প্রতিবাদের জন্য হাতে অস্ত্র নেবে না। তাঁর প্রতিবাদের ক্ষেত্র হবে সাহিত্য, কিন্তু তিনি এতোটাই ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন যে, পাঁচ বছরের জন্য দেশ ছেড়েছিলেন। তিনি তো জানতেন একটি জাতীয়তাবাদী শক্তির রাজনৈতিক উত্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গুরুত্ব বিশেষ তাৎপর্যবাহী। একটি প্রগতিশীল চিন্তন সব সময় বহন করতেন। তাইতো ১৯৪১ সালে কলকাতায় ইকবালের মৃত্যু দিবসের আলোচনা সভায় উর্দুর বিপক্ষে বলার জন্য মুসলিম লীগের কর্মীদের হাতে মার খেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, একাত্তরে যুদ্ধ শুরু হলে লড়াই করার জন্য দেশ ছাড়েন। স্বৈরাচার ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে বলার জন্য কখনোই চুপ থাকেননি। এখানেই দ্রোহী শওকত ওসমানের সাথে পরিচয় হয়।

অন্যপক্ষে আব্বাস তার লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও সচেতন। তার হাতে যখন লাল নিশান তুলে দেয় সরদার কুলি, তখন সে ভাবে এই লাল নিশানই তাদের জুলুম থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু সে এই নিশানকে সারাজীবন সঙ্গী করার কথা ভাবতে পারে না। কারণও খুব সহজ, তার সামনে থাকে মা আর তার কষ্ট। মায়ের কথা ভেবেই পিছিয়ে আসে। আব্বাসের এই দ্বৈত অবস্থান যেন আমাদের সমাজ থেকে জাত। তিনি ইউরোপিয় ভাবনায় জারিত হয়ে সাহিত্য সৃজনে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাহলে হয়তো লাল নিশান হাতে নিয়ে আব্বাস বিপ্লবের পথ তৈরি করতো। তিনি আগেই জানতেন, কোনো প্রচারপত্র তৈরি করবেন না। কিন্তু অবচেতনমনে নিজের ছায়া তৈরি করে নেন শওকত ওসমান। সম্ভবত এ জন্যই তার তৈরি চরিত্র আব্বাস ভাবে- অভিশপ্ত জীবনযাপনের সমাপ্তি হওয়া দরকার।

আব্বাস আর শওকত ওসমানের এক ছায়া কথোপকথন পাওয়া যায় গল্পে। যার ফলে বাংলা সাহিত্যে সমাজ বিশ্লেষণধর্মী গল্প পাওয়া যায়। আবার একই সাথে একটি শ্রেণিবিভক্ত সমাজে মা আর সন্তানের সংকটময় জীবনের সাথে পরিচয় ঘটে। যেখানে তারা দুজনেই সচেতন শ্রেণি বিভাজন তাদের জন্য নানা বিপদের চিহ্ন নিয়ে চলছে। মা তার কিশোর ছেলেকে পাঠিয়ে দেন শহরে অর্থ আয়ের জন্য, ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আব্বাস শহরের পথে যায় মায়ের অভাব দূর করতে। স্রষ্টা আর সৃষ্টির কথোপকথনের মধ্য দিয়ে শওকত ওসমান যে গল্প তৈরি করেন তা আমাদের ভাবনার গতি বদলাতে অনিবার্য হয়ে যায়।


লেখক : নাট্যকার ও গবেষক




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৭/তারা

Chokbazar dhaka to china

পাঁচ ছাগলের শহর

শান্তা মারিয়া : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2017   03:43:35 PM   Monday   ||   Updated:02 Jan 2017   04:05:59 PM   Monday
সুপ্রাচীন মসজিদ হুইশিয়াং

সুপ্রাচীন মসজিদ হুইশিয়াং

(চকবাজার টু চায়না : পর্ব-২৭)
শান্তা মারিয়া : পাঁচজন অমর মানুষ এক জনপদে নেমে এলেন পাঁচটি ছাগলের (মতান্তরে ভেড়া) পিঠে চড়ে। সেই জনপদে তখন চলছিল খাদ্যের অভাব। অমর মানুষরা জনপদবাসীকে দিলেন খাদ্য ও শিক্ষা। তারাই শেখালেন কীভাবে ধান চাষ করতে হয়। এরপর থেকে আর খাদ্যের অভাব হয়নি জনগণের। আর সেই ছাগলগুলো পরিণত হলো পাথরের মূর্তিতে। সেই থেকে এই ছাগল বা ভেড়াগুলোকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। এমন লোককাহিনির ভিত্তিতে কুয়াংচোও শহরকে বলা হয় ‘পাঁচ ছাগলের শহর’।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যবসা উপলক্ষে চীনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কুয়াংচোওতে ছিলাম প্রায় মাসখানেক। পার্ল নদীর মোহনায় অবস্থিত প্রাচীন এই বন্দর নগরীতে দেখার মতো জায়গার অভাব নেই। কুয়াংচোও বা ক্যান্টন বন্দরই একসময় ছিল চীনে ইউরোপীয় বণিকদের একমাত্র প্রবেশদ্বার। বাংলাদেশের অনেক মানুষ কুয়াংচোওকে গোয়াংজো উচ্চারণ করেন।

সেখানে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে শত শত বছর ধরে। খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ শতকে গড়ে ওঠা এ জনপদে চীনের প্রায় প্রতিটি রাজবংশের আমলে কোনো না কোনো উল্লেখযোগ্য স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

কুয়াংচোওতে আমি গিয়েছিলাম ব্যবসায়িক কাজে। তবে, ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকলেও এমন একটি প্রাচীন শহরের কোনো স্থাপনা না দেখে ফিরে আসা অপরাধ। তাই এক বিকেলে গেলাম হুইশাং মসজিদ দেখতে। এটা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি মসজিদ। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এ মসজিদটি হযরত মুহম্মদ (সা.) এর এক আত্মীয় গড়ে তোলেন। ইসলাম-পূর্ব সময় থেকেই এই বন্দর নগরীতে আরব বণিকদের এক সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। তাদের মধ্যে ইসলাম প্রচারের জন্যই এই মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছিল। মসজিদটির মূল ভবন ও মিনার এখনও ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন মাটির দেয়ালের নমুনাও সংরক্ষিত আছে। এখানে সেই সময়কার একটি কুয়া থেকে এখনও ওযুর পানি সরবরাহ করা হয়। শরতের বিকেলে সেই প্রাচীন মসজিদে নামাজ পড়তে দারুণ এক অনুভূতি হয়েছিল। এই মসজিদকে ঘিরে এই এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিমের বসবাস রয়েছে। চীন সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর বর্ধিতকরণের খরচ দেওয়া হয়।

আরেকদিন গেলাম সান ইয়াত সেন মেমোরিয়াল হল দেখতে। নয়া চীনের অন্যতম মহান নেতা ছিলেন ডা. সান ইয়াত সেন। আমি যে হোটেলে ছিলাম সেখান থেকে সাবওয়েতে মাত্র দুটো স্টেশন পরেই এই মেমোরিয়াল হল।

সান ইয়াত সেন এবং গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রাম ও অবদান  সম্পর্কে ছোটবেলায় বাবার কাছে শুনেছিলাম। মেমোরিয়াল হলে গিয়ে এত বছর পর আবার এই মহান ব্যক্তির সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। মেমোরিয়াল হলটিও অসাধারণ সুন্দর! নীল রঙের এই প্রাসাদটি অষ্টভূজ। এর স্থাপত্য ঊনবিংশ শতকের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার চমৎকার সমন্বয়। হল প্রাঙ্গণে গাছের সারি কুয়াংচোওর গরমে শীতলতার স্পর্শ নিয়ে আসে। দশ ইউয়ান দিয়ে টিকেট কেটে ঢুকতে হলেও যা পাওয়া যায় তা অর্থের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

Travel
ইয়েশিউ পার্ক

কুয়াংচোওতে পার্ক, মন্দির বা অন্যান্য দর্শনীয় জায়গার অভাব নেই সেকথা আগেই বলেছি। তবে এই ট্রিপে ব্যবসায়িক ব্যস্ততার জন্য শিংফা মার্কেট, কারখানা আর সিএনএফ এজেন্টের অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতেই ব্যস্ত ছিলাম। তবু একদিন সময় করে গেলাম ইউয়েশিউ পার্কে। এই পার্কেই এক টিলার চূড়ায় রয়েছে সেই বিখ্যাত পাঁচ ছাগলের ভাস্কর্য।

আমার হোটেল থেকে মাত্র তিন স্টেশন পরেই এই পার্ক। গিয়ে ভীষণ আফসোস হলো। এত কাছে এত চমৎকার একটি জায়গা ছিল অথচ এলাম এত পরে, যখন এই শহর ছেড়ে চলে যাবার দিন এসে গেছে। পাবলিক পার্ক। তাই কোনো টিকেটের বালাই নেই।

বিরাট গেট দিয়ে পার্কে ঢুকে একটু থমকে গেলাম। বিশাল জায়গা নিয়ে এই পার্ক। ৮ লাখ ৬০ হাজার বর্গ মিটার জায়গাজুড়ে রয়েছে পার্কটি। আয়তনের হিসাব শুনলেই বোঝা যায় একদিনে কখনও এটা পুরো ঘুরে দেখা যাবে না। এখানে রয়েছে মিং রাজবংশের আমলে তৈরি পাঁচতলা চেনহাই টাওয়ার। চেনহাই টাওয়ার হলো বুদ্ধিস্ট প্যাগোডা। এখন এখানেই কুয়াংচোও মিউজিয়াম।

পার্কে ঢুকে একটু এগোতেই চোখে পড়ে নয়নসুখ লেক। সেই লেকের পানিতে দারুণ সুন্দর রঙিন মাছ। লেকটি নিঃসন্দেহে সুন্দর। কিন্তু এমন সুন্দর লেক মোটামুটিভাবে চীনের অনেক পার্কেই দেখা যায়। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই। সত্যিকারভাবে অবাক হলাম রঙিন মাছগুলো দেখে। মাছগুলো আকারে যেমন বড় তেমনি বিচিত্র সব রঙে রাঙানো। গোলাপী, হলুদ, সবুজ, নীল, বেগুনি, লাল এমন সব রঙে ঝলমলে তারা। মনে প্রশ্ন জাগছিল এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই এমন রঙিন নাকি তাদের কৃত্রিমভাবে রাঙানো হয়েছে?

মাছের খেলা মুগ্ধ হয়ে দেখার পর এগোলাম পাহাড় বা টিলার দিকে। পাহাড়টির নাম ইউয়েশিউ শান। এর চূড়াতেই রয়েছে সেই বিখ্যাত পাঁচ ছাগল যাদের কথা লেখার শুরুতে বলা হয়েছে।

টিলার ওপর ধীরে ধীরে উঠছিলাম। হঠাৎ কানে ভেসে এলো চমৎকার গানের সুর। এমনিতেই চীনা গান আমার খুব প্রিয়। ভাষা বুঝি না কিন্তু সুরের মধ্যে এমন একটা মায়া আছে যে মন কেড়ে নেয়। বিশেষ করে চীনা লোকজ গানের সুর তুলনাহীন। তেমনি এক সুর ভেসে এলো যেন পাহাড়ের সবুজ গাছপালার ভেতর থেকে। সুর লক্ষ্য করে এগিয়ে গেলাম। দেখি এক জায়গায় বেশ বড় একটি ছাউনির নিচে জড়ো হয়েছে কয়েকজন নারী-পুরুষ। দেখে মনে হয় সাধারণ নাগরিক। শহুরে নয়, গ্রাম থেকে আসা মানুষের মতো সবুজ-সতেজ চেহারা। তারাই গান গাইছে। আমাদের দেখে তাদের গান গাইবার উৎসাহ আরও বাড়লো। কয়েকজন আমাদের আমন্ত্রণ জানালো তাদের সঙ্গে গান গাইতে। শিহাবের কণ্ঠ ভালো। কিন্তু সে এভাবে চটজলদি বন্ধুত্ব পাতাতে অপারগ। আমার কণ্ঠে সুরের বালাই নেই। তাতে কি। আমি কোরাসে কোনোদিন পিছিয়ে থাকি না। ওদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গলা মেলালাম।

Travel
মহান নেতা সানইয়াতসেনের প্রতিকৃতি

বেশ কিছুক্ষণ সংগীত চর্চার পর নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে তাকালাম প্রকৃতির দিকে। তার রূপও কম আকর্ষণীয় নয়। চারিদিকে সবুজ গাছপালা, লতা আর ফুলের ঝাড়। চূড়া থেকে দেখা যায় লেকের মোহন রূপ। মনে হয় এমনি কোনো সবুজ পাহাড়ের বুকে ছোট্ট পাতার কুটিরে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেই। কিন্তু হায়, সে উপায় নেই। আমাকে যে ফিরতে হবে। ইউয়েশিউ শানকে বিদায় জানিয়ে ফিরে চললাম সাবওয়ে স্টেশনের দিকে।

কুয়াংচোওর দিনগুলোর কথা ভাবলে আমার সান ইউয়ান লি এলাকাটির কথা খুব মনে পড়ে। ওখানে চীনা চায়ের একটি মার্কেট রয়েছে। সেখানে হরেক রকম চা এবং চা পরিবেশনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। মনে পড়ে ছোট্ট দুটি রেস্টুরেন্টের কথা যেখানে আমরা প্রায়ই খাবার খেতাম। বিশেষ এক ধরণের টক-ঝাল নুডুলস এর কথা তো ভুলতেই পারি না। উফু হোটেল (যেখানে আমি ছিলাম) এর রিসেপশনে বসা মিষ্টি চেহারার দুই তরুণ ও তরুণীর কথাও মনে পড়ে।

কুয়াংচোওর সাথেই রয়েছে ফোশান শহর। ফোশান আসলে স্যাটেলাইট সিটি। এখানে বড় বড় শিল্পকারখানা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অপূর্ব সুন্দর পাহাড় ও প্রকৃতি। আর চাঁদের আলোয় রাতের বেলা সান ইউয়ানলির রাজপথ ধরে হাঁটার স্মৃতিও খুব মনে পড়ে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৭/তারা

Sunday, 1 January 2017

After 20 years talk a Japany couple !!!!!!

২০ বছর নীরবতার পর

সাইফ বরকতুল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2017   11:48:43 AM   Monday   ||   Updated:02 Jan 2017   12:01:17 PM   Monday
জাপানি কাতায়ামু-ইয়ুমি দম্পতি

জাপানি কাতায়ামু-ইয়ুমি দম্পতি

সাইফ বরকতুল্লাহ : কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা, আমাকে ঘিরে.../কেউ না জানুক কার কারণে/কেউ না জানুক কার স্মরণে, মন পিছু টানে.../তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে.../তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে...। এই গানের মতোই জীবন ইয়ুমির। সম্পর্ক কত যে কঠিন হতে পারে ইয়ুমির চেয়ে পৃথিবীতে মনে হয় আর কেউ উপলব্ধি করেনি।

জাপানি কাতায়ামু-ইয়ুমি দম্পতি। ২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংসার করছেন। তিন সন্তানের বাবা কাতায়ামু ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। অথচ দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে স্ত্রী ইয়ুমির সঙ্গে কথা বলেননি তিনি।

সময় বয়ে যায়, দেখা হয় প্রতিদিনই, থাকা হয় একসঙ্গে। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, সন্তানদের পালন-  সবই হয়েছে নিয়মমতো। শুধু অভিমানে স্বামী কথা বলেননি। অনেক চেষ্টা করেছেন স্ত্রী, প্রিয়তম স্বামীকে বুঝিয়েছেন, কিন্তু স্বামী সবই শুনেছেন, হাত নেড়েছেন, অথচ কথা বলেননি।

Top_Photo
নারা পার্কে কথা বলছেন কাতায়ামু-ইয়ুমি

কাতায়ামু কথা না বললেও ইয়ুমি সব সময় ভালোবেসে গেছেন তাকে। শত কষ্ট সহ্য করেছেন। সব সময় ভাবতেন একসময় কথা বলবেন কাতায়ামু। ভুল ভেঙে যাবে তার। ফিরে আসবেন অভিমান থেকে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।

এভাবে চলতে চলতে একপর্যায়ে এই দম্পতির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। উপায় না পেয়ে বাবা-মায়ের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ১৮ বছরের ছেলে ইয়োশিকি সাহায্য চেয়ে দেশটির একটি টিভি শোতে চিঠি লেখেন। তিনি বলেন, তাদের বাবা ২০ বছর ধরে তাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলছেন না। ইয়োশিকির ২১ ও ২৫ বছরের দুটি বড় বোন রয়েছে। তারাও একই কথা বলেন।

টিভি কর্তৃপক্ষ (হোক্কাইডো টিভি) ঘটনা জানার পর এই দম্পতির মধ্যে কথা বলার জন্য উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে স্বামী কাতায়ামু রাজি হয়ে যান। পরে আয়োজন করা হয় কথোপকথনের। জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে নারা পার্কে বসে এই দম্পতি অবশেষে কথা বলেন। নীরবতা ভাঙেন দুই দশকের।

Top_Photo
হোক্কাইডো টিভিতে বাবা-মায়ের কথোপকথন দেখে আবেগাপ্লুত সন্তানরা

কাতায়ামু তার স্ত্রীকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি। সন্তানদের নিয়ে তুমি খুব উদ্বিগ্ন ছিলে। ইয়ুমি, এখন পর্যন্ত তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছে। আমি তোমাকে জানাতে চাই, সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞ আমি। তবে এখন থেকে আমরা একত্রে কাজ করব। আর পিছু ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।’

কাতায়ামু বলেন, ছেলে-মেয়েদের প্রতি স্ত্রীর বেশি মনোযোগের কারণে তিনি অভিমান করে এত দিন ইয়ুমির সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি বলেন, সন্তান জন্মের পর তাদের লালন-পালনে স্ত্রী অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়ত। যা দেখে তার খুব খারাপ লাগত। এ জন্য তিনি মুখ গোমড়া করে থাকতেন।

হোক্কাইডো টেলিভিশনে যখন বাবা-মায়ের কথা বলার দৃশ্য দেখাচ্ছিল, তখন সন্তানরা তা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।


ভিডিও লিংক :




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৭/সাইফ/এনএ

18 unseen tourism location


যে ১৮ স্থান কখনোই দেখা হবে না!

নাবিহা আক্তার রাদিতা : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2017   08:12:38 AM   Monday   ||   Updated:02 Jan 2017   11:44:56 AM   Monday
ইতালির পোভেগলিয়া দ্বীপ

ইতালির পোভেগলিয়া দ্বীপ

নাবিহা আক্তার রাদিতা : পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান রয়েছে যা দেখার মতো, অনেক স্মৃতি তৈরি করার মতো এবং আমাদের জীবনকাল এমন অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অপেক্ষা করছে।

পাহাড়, পর্বত, উপত্যকা, বনজঙ্গল, তৃণভূমি, মরুভূমি- পৃথিবীর এ ধরনের নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুদ্ধ করার মতো।

কিন্তু আপনার কেমন লাগবে যখন আপনি কিছু আশ্চর্যজনক এবং চমৎকার স্থান দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন? অথচ দুঃখজনক হলেও এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে। কারণ পৃথিবীর এমন অনেক অত্যাশ্চর্য স্থান রয়েছে, যেখানে সর্ব সাধারণের যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই।

এ ধরনের ১৮টি অত্যাশ্চর্য স্থান নিয়ে দুই পর্বের পর্বের আজ পর্বে থাকছে ৮টি স্থান, যেগুলো জেনে আপনি যথেষ্ট অবাক হবেন এবং যতই আগ্রহী হোন না কেন, এসব জায়গায় প্রবেশের সুযোগ মিলবে না।

Nabiha
নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড, আন্দামান
এই দ্বীপটিতে বাইরের যারা প্রবেশ করে তাদেরকে এখানকার অধিবাসীরা নির্মমভাবে মেরে ফেলে। যেহেতু এখানকার উপজাতিরা ঘনজঙ্গলে বসবাস করে তাই তারা বাইরের জগত সম্পর্কে অসচেতন। দ্বীপটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া পরেনি। এই দ্বীপটির বাসিন্দারা আধুনিক যুগের মানুষের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে চায় না। উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপটি তাই ভারত তথা বর্হিবিশ্বের কাছে আজও রহস্যই হয়ে আছে। আধুনিক সভ্যতার লোকজন এখনো দ্বীপটির মানুষের ভাষা, ধর্মানুষ্ঠান এবং তাদের বসত বাড়ির রহস্য খুব কমই জানতে পেরেছেন। আধুনিককালে অত্যাধুনিক সব ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ওই দ্বীপের মানুষের স্পষ্ট কোনো ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। কিছু কিছু ছবি তোলা হলেও তা স্পষ্ট নয়। যেসব পর্যটক এই দ্বীপটি পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেছেন কিংবা কাছে গিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই দ্বীপটির রহস্যময় উপজাতিদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্পের পর বিমান অনুসন্ধানকারীরা ক্ষতির পরিমান বিশ্লেষণ করতে দ্বীপটিতে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের ওপর হামলা করে। এমনকি ২০০৬ সালে দুই জেলে রাস্তা হারিয়ে এই দ্বীপে প্রবেশ করার করায় তারা তাদের মেরে ফেলে।

Nabiha
হেয়ার্ড আইল্যান্ড ভলক্যানো, অস্ট্রেলিয়া
এই দ্বীপটিতে ২০০০ সাল থেকে ২৭৪৫ ফুট উচু জটিল আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়েছে। মাদাগাস্কার এবং অ্যান্টার্কটিকার মধ্যে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে ২ কিলোমিটার লম্বা লাভা প্রবাহিত হয়ে আসছে ২০০০ সাল থেকে। ৩৬৮ বর্গ মাইলের এই দ্বীপটি পাহাড়ে ভরপুর। এছাড়াও রয়েছে ৪১টি হিমবাহ। পেঙ্গুইন, সিল এবং সামুদ্রিক পাখির আবাসস্থল এই প্রাকৃতিক বিস্ময়কর দ্বীপ।

Nabiha
স্নেক আইল্যান্ড, ব্রাজিল
ব্রাজিলের ইলহা দ্য কুয়েইমাদা গ্রানডি নামক দ্বীপটি সম্পর্কে জানলে শুধু আপনি কেন, বিশ্বের কোনো পর্যটকই সেখানে যেতে সাহস করবে না। তাছাড়া দ্বীপটিতে সর্বসাধারণের প্রবেশে সরকারি নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, এটি স্নেক আইল্যান্ড অর্থাৎ সাপের দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ। পুরো দ্বীপ জুড়ে কেবল সাপের বিচরণ। এখানে শুধু যে প্রায় হাজার চারেকের বিষধর সাপের বাস তাই নয়, পৃথিবীর অন্যতম বিষধর সাপ গোল্ডেন ল্যান্সহেডের বাস একমাত্র এই দ্বীপটিতেই। গোল্ডেন ল্যান্সহেডের বিষ এতটাই শক্তিশালী যে, এই বিষ মানুষের শরীরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তা শরীরের মাংস পর্যন্ত গলিয়ে দিতে পারে।

Nabiha
লাসকাউক্স কেভস, ফ্রান্স
বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই গুহাটির শিল্পকর্মের যেন ক্ষতি না হয় তাই ফ্রান্স সরকার জনসাধারণের এখানে প্রবেশাধিকার বন্ধ রেখেছে। কয়েকজন বিজ্ঞানী মাসের কেবলমাত্র কয়েকদিন এই গুহায় প্রবেশের অনুমতি পায়। নর্থওয়েস্টান ফ্রান্সে অবস্থিত এই গুহাটি ১৭ হাজার বছর আগেকার বলে ধারণা করা হয় এবং গুহার দেয়ালে আঁকা রয়েছে ৬০০ চিত্রকর্ম, যা ১৭ হাজার বছর আগেকার আদিম মানুষদের আঁকা। যার মধ্যে তখনকার সময়ের বড় প্রাণীদের ছবি অঙ্কিত রয়েছে দেয়ালে, যেগুলো জীবাশ্ম গবেষণার অন্তর্ভুক্ত। ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান’ এর তকমা পেয়েছে এই গুহা।

 Nabiha
পোভেগলিয়া, ইতালি
ইতালির ভেনিস ও লিডো শহরের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত এই ছোট্ট এই দ্বীপটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূতুরে স্থান হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের আত্মা, প্লেগ রোগে মৃতদের আত্মা এবং খুনী ডাক্তারের আত্মা এই দ্বীপটিতে রয়েছে বলে মনে করা হয়। রোমান যুগে এই দ্বীপটি ব্যবহার করা হতো প্লেগে আক্রান্ত রোগীদের রাখতে ও তাদের পুড়িয়ে মেরে ফেলতে। ১৯২২ সালে এখানে একটি মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় কিন্তু হাসপাতালটি ১৯৬৮ সালে বন্ধ করে দিতে হয়। কেননা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। রোগীরা প্রায়ই মৃতদের দেখতে পেত বলে দাবি করতো। এখানে একজন কুখ্যাত চিকিৎসকের কথা জানা যায় যিনি মানসিক রোগীদের ওপর ভয়াবহ সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন। সেই ডাক্তার নিজেও পরে বিকারগ্রস্ত হয়ে হাসপাতালের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। অশুভ আত্মার স্থান হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপ। তাই দ্বীপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতালির সরকার এই দ্বীপটিকে ২০১৪ সালে ৯৯ বছরের জন্য লিজে দেয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু কেউ এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য আগ্রহ দেখায়নি।

Nabiha
ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভ, ভ্যাটিকান সিটি, ইটালি
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যক্তিগত পাঠাগার হিসেবে অভিহিত করা হয় ভ্যাটিকানের সিক্রেট আর্কাইভকে। অষ্টম শতাব্দী থেকে এ পর্যন্ত পোপদের ব্যক্তিগত নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে এই পাঠাগারে। অনেক গোপন ডকুমেন্টও এখানে সংরক্ষিত আছে। সাধারণ মানুষের এই গ্রন্থাগারে প্রবেশের অধিকার নেই। খুব কম সংখ্যক স্কলার বা পণ্ডিতেরই এখানে ঢোকার সৌভাগ্য হয় বা হয়েছে। তাও পোপের অনুমতি ছাড়া সেটি একেবারেই অসম্ভব। আর অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়াও অত্যন্ত জটিল। পাঠাগারের ভেতরে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার বইয়ের দীর্ঘ তাক রয়েছে। সেখানে রাখা আছে ৩৫ হাজার ভলিউম নথি। এটিকে পোপের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Nabiha
আইস গ্র্যান্ড শ্রাইন, জাপান
জাপানের রাজবংশের দেশের উচ্চপদস্থ যাজক-যাজিকা ছাড়া অন্য সকলের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এই শ্রাইনে (মঠে)। এই মঠটি ৩য় শতকে সর্বপ্রথম তৈরি করা হয়। প্রতি ২০ বছর পর পর এটি ভেঙে আবার পুনঃনির্মাণ করা হয়। এই মঠে রয়েছে দুইটি প্রধান মঠ আর তার চারপাশে রয়েছে আরো ছোট বড় ১২৫ মঠ। কঠোর গোপনীয়তায় এখানে যা রয়েছে, যা বিশ্বের সামনে কখনোই আসেনি।

Nabiha
এরিয়া ৫১, নেভাডা, যুক্তরাষ্ট্র
এটি মানুষের সৃষ্টি পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান। যা নিয়ে বিশ্বের কৌতুহলেরও শেষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের দাবী, এরিয়া ৫১ একটি সামরিক ঘাটি। যার আয়তন ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম রেকেল গ্রামের কাছে অবস্থিত। খুবই গোপনীয় এই সামরিক ঘাঁটি গ্রুম হ্রদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। এরিয়া ৫১ এতটাই গোপনীয় যে, ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর অস্তিত্ব কখনোই স্বীকার করেনি। দুর্ভেদ্য বেষ্টনীতে ঘেরা এ ঘাটির প্রবেশ পথে লেখা আছে অনধিকার প্রবেশকারীকে গুলি করা হতে পারে। আজ পর্যন্ত বেসামরিক কেউ দাবী করেনি তিনি এরিয়া ৫১ এ ঢুকেছেন। যদি কেউ ঢুকেও থাকেন তাহলে তিনি জীবিত আর বের হতে পারেননি তা নিশ্চিত। নিশ্চিতভাবে কেউই জানে না আসলে কী হয় এই এরিয়া ৫১ অঞ্চলে। গুজব রয়েছে, এখানে ভীন গ্রহের বাসিন্দাদের মৃতদেহ সংরক্ষিত রাখা হয়।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৬/ফিরোজ 

Ruet discover....

মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম রুয়েটের ‘অগ্রদূত’

মেহেদী হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:01 Jan 2017   07:49:01 PM   Sunday   ||   Updated:02 Jan 2017   08:13:00 AM   Monday
মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম রুয়েটের ‘অগ্রদূত’
রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একদল শিক্ষার্থী মঙ্গলগ্রহে সফলভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম রোবট উদ্ভাবনের দাবি করেছেন।

উদ্ভাবকদের দাবি, এই রোবট মঙ্গলগ্রহের তাপমাত্রা পরিমাপ, পানির উপস্থিতি বা এর প্রবাহ কিংবা সেখানে কোনো বিষাক্ত গ্যাস আছে কি না তা নির্ণয় করতে সক্ষম হবে।

রোববার দুপুরে ‘অগ্রদূত’নামের নব উদ্ভাবিত এই রোবটের প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রুয়েট উপাচর্য  অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বেগ। এই রোবটের প্রদর্শনী দেখতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ভিড় জমায় বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী।

রোবট প্রদর্শনী উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম বেগ বলেন, মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম এই রোবট উদ্ভাবন করে রুয়েট শিক্ষার্থীরা আবারও তাদের সৃজনশীলতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন যন্ত্রকৌশল অনুষদের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও রোবটিক সোসাইটি অব রুয়েটের (আরএসআর) সভাপতি ড. মো. রোকনুজ্জামান।

রুয়েটের মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুকিদুর রহমান ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম মিসকাতের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে ‘অগ্রদূত’নামের এই রোবটটি উদ্ভাবন করেন।

উদ্ভাবন দলের নেতা মুকিদুর রহমান বলেন, এই রোবট যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম হবে। এই রোবট উদ্ভাবনে এমন কিছু সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই রোবট মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালিয়ে সেখানকার আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি, বিষাক্ত যে কোনো গ্যাসের উপস্থিতি নিরূপণ, ভূ-প্রকৃতির গঠন ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্যাদি অনুসন্ধান এবং ছবি উত্তোলন করে পৃথিবীতে পাঠাতে সক্ষম হবে।

robot

উদ্ভাবন দলের অপর নেতা সায়েম মিসকাত জানান, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব রোভার চ্যালেঞ্জার্স (ইউআরসি) প্রতিবছর মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম যে কোনো নতুন ও সৃজনশীল উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে। তাদের উদ্ভাবিত রোবট ‘অগ্রদূত’ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে নিবন্ধিত হয়েছে এবং তা প্রর্দশনের আমন্ত্রন পেয়েছে। প্রয়োজনীয় স্পন্সর পাওয়া গেলে রুয়েট শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাদের উদ্ভাবিত রোবট ‘অগ্রদূত’ এর প্রদর্শন করবে সক্ষম হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয় জানতে চাইলে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও এই রোবট আবিষ্কার দলের উপদেষ্টা ড. সজল কুমার দাশ বলেন, এটার একটা প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে। এর মূল ভার্সন তৈরি করতে আরো অর্থ প্রয়োজন । আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমরা এটির মূল ভার্সনটি তৈরি করতে পারব।


রাইজিংবিডি/রাবি/১ জানুয়ারি ২০১৭/মেহেদী হাসান/রিশিত

surprise Animal in under water !!!!!!!!


পানির তলায় এসব কী?

সার্জিন শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:30 Dec 2016   08:36:02 AM   Friday   ||   Updated:31 Dec 2016   12:27:26 PM   Saturday
পানির তলায় এসব কী?
সার্জিন শরীফ : বিচিত্র পৃথিবীর রহস্যময় পরিবেশে বিচরণ করছে হাজার-হাজার বিচিত্র প্রাণী। প্রাণীজগতের বৈচিত্র্য সবসময়ই মানুষের বিস্ময়ের উদ্রেক করেছে।

আফ্রিকা কিংবা আমাজনের গহীন অরণ্য থেকে গভীর সমুদ্রের অতল গহ্বর, সবখানেই ছড়িয়ে আছে বৈচিত্র্যময় চেনা-অচেনা প্রাণী।

অজ্ঞাতনামা কিম্ভূতদর্শন সব প্রাণীদের বিশেষজ্ঞরা আলাদা করতে না পেরে সাধারণভাবে ‘অ্যালিয়েন নামেই অভিহিত করে থাকেন। ভুলে গেলে চলবে না যে এই ‘অ্যালিয়েন’-রা শুধু ভিন গ্রহেই না, আমাদের এই ধরণীর বুকেও দিব্যি বিচরণ করে বেড়াচ্ছে।

আর জলের অতলে? না, পরিমাপ করা যায় এর গভীরতা, না আছে জলের রহস্যের শেষ। সমুদ্র তাই মাঝে মাঝেই দেখা মেলে জলের তলের অ্যালিয়েনদের।

রাশিয়ান মৎস্য শিকারী রোমান ফেডোরটসভ্-এর সংগ্রহে আছে এমনই কিছু সামুদ্রিক অ্যালিয়েন, যেগুলোর ছবি নিজের টুইটারে আপলোড করার পরে তিনি হয়ে গেছেন ‘বিখ্যাত অ্যালিয়েন সংগ্রাহক’!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি এই যে, রোমান ফেডোরটসভ্‌-এর সংগ্রহে থাকা জলের তলের এসব প্রাণীগুলোর ছবি দেখার পরে আপনি অবকাশ যাপনের জন্য সমুদ্রে যেতে অন্ততঃ দুইবার ভাববেন।

তার বিচিত্র সংগ্রহশালায় রয়েছে আটপেয়ে আর্থ্রোপোডা থেকে শুরু করে ছুরির মত ধারলো দাঁতের মাছ। ফেডোরটসভ্‌ মূলতঃ উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার একটি মৎস্যবন্দরের মাছ ধরা ট্রলারে কাজ করেন।

মস্কো টাইমস-এর রিপোর্ট অনুসারে তিনি চলতি বছরের শুরুর দিকে তার এই বিচিত্র সংগ্রহগুলোর ছবি জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি তিনি এসব ছবি ফ্লিকারেও আপলোড করেন।

fish

সবগুলো বিচিত্র প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রাণী হল চুনট হাঙর বা ফ্রিলড শার্ক। এটি একটি অত্যন্ত দুর্লভ এবং ধূর্ত প্রকৃতির ভয়ংকর দর্শন হাঙর। এর গায়ের গড়ন কিছুটা সামুদ্রিক ঈল মাছের মতো। যার রয়েছে তীক্ষ্ম-ধারালো দাঁতের সারি। বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে আদিম প্রকৃতির কিছু হাঙরের সঙ্গে মিল থাকার কারণে একে ‘জীবন্ত ধ্বংসাবশেষ’ বলে অভিহিত করেন অনেকেই।

fish

উদ্ভট দর্শন এই প্রাণীটির ছবি টুইটারে প্রকাশিত হওয়ার পরে শুরু হয় বিতর্ক। অনেকেই এটিকে গভীর সমুদ্রের ড্রাগন ম্যালাকোস্‌টাস প্রজাতির বলে অভিহিত করেন। কিন্তু ফেডোরটসভ্ বলেন, ‘আসলে আমরাও এখন পর্যন্ত সন্দিহান যে এটি আসলে কি?

fish

ফেডোরটসভ্‌-এর সংগ্রহে রয়েছে উদ্ভট প্রজাতির ‘ঘোস্ট শার্ক’। ঘোস্ট শার্ক এর চোয়ালের আকৃতি বেশ বড় এবং এতে রয়েছে বেশ ধারালো দাঁতের সারি। বিমানের ডানার মত সুপ্রশস্ত পাখনার জন্য প্রাণীটি বিখ্যাত। এর সবুজ রঙয়ের চোখ দুটো কেবল আলোর সংস্পর্শে এলেই জ্বলজ্বল করতে থাকে। পানির নিচে এর চোখ দেখা যায় না।

fish

অন্য একটি উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ হচ্ছে, কালো রঙের স্ক্যাবার্ডফিশ। এর দাঁতগুলো কাঁচের মতো স্বচ্ছ এবং অত্যন্ত ধারালো। শক্তিশালী চোয়ালের নিচের অংশ ওপরের অংশের তুলনায় সামনের দিকে এগোন।

fish

আরেকটি উদ্ভট প্রকৃতির মাছ হল র‌্যাটেলস। যা সমুদ্রপৃষ্ঠের একেবারে নিচের দিকে বাস করে। এর চোখের রঙ লাল এবং ঠোঁটগুলো ক্ষয়ে যাওয়া ধরনের। এরা সাধারণত আর্কটিক এবং অ্যান্টার্কটিক সাগরে বাস করে।

fish

ফেডোরটসভ্ এর সংগ্রহের সব অ্যালিয়েনরাই যে ‘মাছ’, ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়। তার সংগ্রহে রয়েছে কমলা রঙের ‘সামুদ্রিক মাকড়সা’। যার রয়েছে ভাঁজ করা যায় এমন আটটি পা এবং যার আয়তন পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের হাতের মতো। এটি ম্যালাকোসটাস প্রজাতির গভীর সমুদ্রে বাস করা একটি প্রাণী। কোনো এক অজানা কারণেই এরা সাধারণ মাকড়সার থেকে আকৃতিতে বেশ বড়সড় হয়ে থাকে।

fish

গভীর সমুদ্রে এসব সামুদ্রিক মাছের আকৃতি এবং চেহারায় কখনো কখনো এমন উদ্ভট দর্শনের লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এর কারণ সমুদ্রের নিচের বায়ুচাপ এবং পানির ওপরের বায়ুচাপের তারতম্য। পারিপার্শ্বিকের এমন প্রভাবের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল ‘ব্লবফিশ’, যাকে অভিহিত করা হয়েছিল ‘পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিৎ প্রাণী’ হিসেবে।

fish

fish

এছাড়া ফেডোরটসভ্‌ এর সংগ্রহে রয়েছে বেশ কিছু নাম না জানা সামুদ্রিক প্রাণী। প্রাণী বিশেষজ্ঞরাও যেগুলোর কোনো গণ-প্রজাতি নির্ণয় করতে পারেননি।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ