Monday, 2 January 2017

Chokbazar dhaka to china

পাঁচ ছাগলের শহর

শান্তা মারিয়া : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2017   03:43:35 PM   Monday   ||   Updated:02 Jan 2017   04:05:59 PM   Monday
সুপ্রাচীন মসজিদ হুইশিয়াং

সুপ্রাচীন মসজিদ হুইশিয়াং

(চকবাজার টু চায়না : পর্ব-২৭)
শান্তা মারিয়া : পাঁচজন অমর মানুষ এক জনপদে নেমে এলেন পাঁচটি ছাগলের (মতান্তরে ভেড়া) পিঠে চড়ে। সেই জনপদে তখন চলছিল খাদ্যের অভাব। অমর মানুষরা জনপদবাসীকে দিলেন খাদ্য ও শিক্ষা। তারাই শেখালেন কীভাবে ধান চাষ করতে হয়। এরপর থেকে আর খাদ্যের অভাব হয়নি জনগণের। আর সেই ছাগলগুলো পরিণত হলো পাথরের মূর্তিতে। সেই থেকে এই ছাগল বা ভেড়াগুলোকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। এমন লোককাহিনির ভিত্তিতে কুয়াংচোও শহরকে বলা হয় ‘পাঁচ ছাগলের শহর’।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যবসা উপলক্ষে চীনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কুয়াংচোওতে ছিলাম প্রায় মাসখানেক। পার্ল নদীর মোহনায় অবস্থিত প্রাচীন এই বন্দর নগরীতে দেখার মতো জায়গার অভাব নেই। কুয়াংচোও বা ক্যান্টন বন্দরই একসময় ছিল চীনে ইউরোপীয় বণিকদের একমাত্র প্রবেশদ্বার। বাংলাদেশের অনেক মানুষ কুয়াংচোওকে গোয়াংজো উচ্চারণ করেন।

সেখানে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে শত শত বছর ধরে। খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ শতকে গড়ে ওঠা এ জনপদে চীনের প্রায় প্রতিটি রাজবংশের আমলে কোনো না কোনো উল্লেখযোগ্য স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

কুয়াংচোওতে আমি গিয়েছিলাম ব্যবসায়িক কাজে। তবে, ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকলেও এমন একটি প্রাচীন শহরের কোনো স্থাপনা না দেখে ফিরে আসা অপরাধ। তাই এক বিকেলে গেলাম হুইশাং মসজিদ দেখতে। এটা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি মসজিদ। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এ মসজিদটি হযরত মুহম্মদ (সা.) এর এক আত্মীয় গড়ে তোলেন। ইসলাম-পূর্ব সময় থেকেই এই বন্দর নগরীতে আরব বণিকদের এক সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। তাদের মধ্যে ইসলাম প্রচারের জন্যই এই মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছিল। মসজিদটির মূল ভবন ও মিনার এখনও ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন মাটির দেয়ালের নমুনাও সংরক্ষিত আছে। এখানে সেই সময়কার একটি কুয়া থেকে এখনও ওযুর পানি সরবরাহ করা হয়। শরতের বিকেলে সেই প্রাচীন মসজিদে নামাজ পড়তে দারুণ এক অনুভূতি হয়েছিল। এই মসজিদকে ঘিরে এই এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিমের বসবাস রয়েছে। চীন সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর বর্ধিতকরণের খরচ দেওয়া হয়।

আরেকদিন গেলাম সান ইয়াত সেন মেমোরিয়াল হল দেখতে। নয়া চীনের অন্যতম মহান নেতা ছিলেন ডা. সান ইয়াত সেন। আমি যে হোটেলে ছিলাম সেখান থেকে সাবওয়েতে মাত্র দুটো স্টেশন পরেই এই মেমোরিয়াল হল।

সান ইয়াত সেন এবং গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রাম ও অবদান  সম্পর্কে ছোটবেলায় বাবার কাছে শুনেছিলাম। মেমোরিয়াল হলে গিয়ে এত বছর পর আবার এই মহান ব্যক্তির সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। মেমোরিয়াল হলটিও অসাধারণ সুন্দর! নীল রঙের এই প্রাসাদটি অষ্টভূজ। এর স্থাপত্য ঊনবিংশ শতকের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার চমৎকার সমন্বয়। হল প্রাঙ্গণে গাছের সারি কুয়াংচোওর গরমে শীতলতার স্পর্শ নিয়ে আসে। দশ ইউয়ান দিয়ে টিকেট কেটে ঢুকতে হলেও যা পাওয়া যায় তা অর্থের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

Travel
ইয়েশিউ পার্ক

কুয়াংচোওতে পার্ক, মন্দির বা অন্যান্য দর্শনীয় জায়গার অভাব নেই সেকথা আগেই বলেছি। তবে এই ট্রিপে ব্যবসায়িক ব্যস্ততার জন্য শিংফা মার্কেট, কারখানা আর সিএনএফ এজেন্টের অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতেই ব্যস্ত ছিলাম। তবু একদিন সময় করে গেলাম ইউয়েশিউ পার্কে। এই পার্কেই এক টিলার চূড়ায় রয়েছে সেই বিখ্যাত পাঁচ ছাগলের ভাস্কর্য।

আমার হোটেল থেকে মাত্র তিন স্টেশন পরেই এই পার্ক। গিয়ে ভীষণ আফসোস হলো। এত কাছে এত চমৎকার একটি জায়গা ছিল অথচ এলাম এত পরে, যখন এই শহর ছেড়ে চলে যাবার দিন এসে গেছে। পাবলিক পার্ক। তাই কোনো টিকেটের বালাই নেই।

বিরাট গেট দিয়ে পার্কে ঢুকে একটু থমকে গেলাম। বিশাল জায়গা নিয়ে এই পার্ক। ৮ লাখ ৬০ হাজার বর্গ মিটার জায়গাজুড়ে রয়েছে পার্কটি। আয়তনের হিসাব শুনলেই বোঝা যায় একদিনে কখনও এটা পুরো ঘুরে দেখা যাবে না। এখানে রয়েছে মিং রাজবংশের আমলে তৈরি পাঁচতলা চেনহাই টাওয়ার। চেনহাই টাওয়ার হলো বুদ্ধিস্ট প্যাগোডা। এখন এখানেই কুয়াংচোও মিউজিয়াম।

পার্কে ঢুকে একটু এগোতেই চোখে পড়ে নয়নসুখ লেক। সেই লেকের পানিতে দারুণ সুন্দর রঙিন মাছ। লেকটি নিঃসন্দেহে সুন্দর। কিন্তু এমন সুন্দর লেক মোটামুটিভাবে চীনের অনেক পার্কেই দেখা যায়। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই। সত্যিকারভাবে অবাক হলাম রঙিন মাছগুলো দেখে। মাছগুলো আকারে যেমন বড় তেমনি বিচিত্র সব রঙে রাঙানো। গোলাপী, হলুদ, সবুজ, নীল, বেগুনি, লাল এমন সব রঙে ঝলমলে তারা। মনে প্রশ্ন জাগছিল এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই এমন রঙিন নাকি তাদের কৃত্রিমভাবে রাঙানো হয়েছে?

মাছের খেলা মুগ্ধ হয়ে দেখার পর এগোলাম পাহাড় বা টিলার দিকে। পাহাড়টির নাম ইউয়েশিউ শান। এর চূড়াতেই রয়েছে সেই বিখ্যাত পাঁচ ছাগল যাদের কথা লেখার শুরুতে বলা হয়েছে।

টিলার ওপর ধীরে ধীরে উঠছিলাম। হঠাৎ কানে ভেসে এলো চমৎকার গানের সুর। এমনিতেই চীনা গান আমার খুব প্রিয়। ভাষা বুঝি না কিন্তু সুরের মধ্যে এমন একটা মায়া আছে যে মন কেড়ে নেয়। বিশেষ করে চীনা লোকজ গানের সুর তুলনাহীন। তেমনি এক সুর ভেসে এলো যেন পাহাড়ের সবুজ গাছপালার ভেতর থেকে। সুর লক্ষ্য করে এগিয়ে গেলাম। দেখি এক জায়গায় বেশ বড় একটি ছাউনির নিচে জড়ো হয়েছে কয়েকজন নারী-পুরুষ। দেখে মনে হয় সাধারণ নাগরিক। শহুরে নয়, গ্রাম থেকে আসা মানুষের মতো সবুজ-সতেজ চেহারা। তারাই গান গাইছে। আমাদের দেখে তাদের গান গাইবার উৎসাহ আরও বাড়লো। কয়েকজন আমাদের আমন্ত্রণ জানালো তাদের সঙ্গে গান গাইতে। শিহাবের কণ্ঠ ভালো। কিন্তু সে এভাবে চটজলদি বন্ধুত্ব পাতাতে অপারগ। আমার কণ্ঠে সুরের বালাই নেই। তাতে কি। আমি কোরাসে কোনোদিন পিছিয়ে থাকি না। ওদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গলা মেলালাম।

Travel
মহান নেতা সানইয়াতসেনের প্রতিকৃতি

বেশ কিছুক্ষণ সংগীত চর্চার পর নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে তাকালাম প্রকৃতির দিকে। তার রূপও কম আকর্ষণীয় নয়। চারিদিকে সবুজ গাছপালা, লতা আর ফুলের ঝাড়। চূড়া থেকে দেখা যায় লেকের মোহন রূপ। মনে হয় এমনি কোনো সবুজ পাহাড়ের বুকে ছোট্ট পাতার কুটিরে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেই। কিন্তু হায়, সে উপায় নেই। আমাকে যে ফিরতে হবে। ইউয়েশিউ শানকে বিদায় জানিয়ে ফিরে চললাম সাবওয়ে স্টেশনের দিকে।

কুয়াংচোওর দিনগুলোর কথা ভাবলে আমার সান ইউয়ান লি এলাকাটির কথা খুব মনে পড়ে। ওখানে চীনা চায়ের একটি মার্কেট রয়েছে। সেখানে হরেক রকম চা এবং চা পরিবেশনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। মনে পড়ে ছোট্ট দুটি রেস্টুরেন্টের কথা যেখানে আমরা প্রায়ই খাবার খেতাম। বিশেষ এক ধরণের টক-ঝাল নুডুলস এর কথা তো ভুলতেই পারি না। উফু হোটেল (যেখানে আমি ছিলাম) এর রিসেপশনে বসা মিষ্টি চেহারার দুই তরুণ ও তরুণীর কথাও মনে পড়ে।

কুয়াংচোওর সাথেই রয়েছে ফোশান শহর। ফোশান আসলে স্যাটেলাইট সিটি। এখানে বড় বড় শিল্পকারখানা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অপূর্ব সুন্দর পাহাড় ও প্রকৃতি। আর চাঁদের আলোয় রাতের বেলা সান ইউয়ানলির রাজপথ ধরে হাঁটার স্মৃতিও খুব মনে পড়ে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৭/তারা

Sunday, 1 January 2017

After 20 years talk a Japany couple !!!!!!

২০ বছর নীরবতার পর

সাইফ বরকতুল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2017   11:48:43 AM   Monday   ||   Updated:02 Jan 2017   12:01:17 PM   Monday
জাপানি কাতায়ামু-ইয়ুমি দম্পতি

জাপানি কাতায়ামু-ইয়ুমি দম্পতি

সাইফ বরকতুল্লাহ : কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা, আমাকে ঘিরে.../কেউ না জানুক কার কারণে/কেউ না জানুক কার স্মরণে, মন পিছু টানে.../তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে.../তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে...। এই গানের মতোই জীবন ইয়ুমির। সম্পর্ক কত যে কঠিন হতে পারে ইয়ুমির চেয়ে পৃথিবীতে মনে হয় আর কেউ উপলব্ধি করেনি।

জাপানি কাতায়ামু-ইয়ুমি দম্পতি। ২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংসার করছেন। তিন সন্তানের বাবা কাতায়ামু ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। অথচ দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে স্ত্রী ইয়ুমির সঙ্গে কথা বলেননি তিনি।

সময় বয়ে যায়, দেখা হয় প্রতিদিনই, থাকা হয় একসঙ্গে। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, সন্তানদের পালন-  সবই হয়েছে নিয়মমতো। শুধু অভিমানে স্বামী কথা বলেননি। অনেক চেষ্টা করেছেন স্ত্রী, প্রিয়তম স্বামীকে বুঝিয়েছেন, কিন্তু স্বামী সবই শুনেছেন, হাত নেড়েছেন, অথচ কথা বলেননি।

Top_Photo
নারা পার্কে কথা বলছেন কাতায়ামু-ইয়ুমি

কাতায়ামু কথা না বললেও ইয়ুমি সব সময় ভালোবেসে গেছেন তাকে। শত কষ্ট সহ্য করেছেন। সব সময় ভাবতেন একসময় কথা বলবেন কাতায়ামু। ভুল ভেঙে যাবে তার। ফিরে আসবেন অভিমান থেকে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।

এভাবে চলতে চলতে একপর্যায়ে এই দম্পতির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। উপায় না পেয়ে বাবা-মায়ের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ১৮ বছরের ছেলে ইয়োশিকি সাহায্য চেয়ে দেশটির একটি টিভি শোতে চিঠি লেখেন। তিনি বলেন, তাদের বাবা ২০ বছর ধরে তাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলছেন না। ইয়োশিকির ২১ ও ২৫ বছরের দুটি বড় বোন রয়েছে। তারাও একই কথা বলেন।

টিভি কর্তৃপক্ষ (হোক্কাইডো টিভি) ঘটনা জানার পর এই দম্পতির মধ্যে কথা বলার জন্য উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে স্বামী কাতায়ামু রাজি হয়ে যান। পরে আয়োজন করা হয় কথোপকথনের। জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে নারা পার্কে বসে এই দম্পতি অবশেষে কথা বলেন। নীরবতা ভাঙেন দুই দশকের।

Top_Photo
হোক্কাইডো টিভিতে বাবা-মায়ের কথোপকথন দেখে আবেগাপ্লুত সন্তানরা

কাতায়ামু তার স্ত্রীকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি। সন্তানদের নিয়ে তুমি খুব উদ্বিগ্ন ছিলে। ইয়ুমি, এখন পর্যন্ত তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছে। আমি তোমাকে জানাতে চাই, সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞ আমি। তবে এখন থেকে আমরা একত্রে কাজ করব। আর পিছু ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।’

কাতায়ামু বলেন, ছেলে-মেয়েদের প্রতি স্ত্রীর বেশি মনোযোগের কারণে তিনি অভিমান করে এত দিন ইয়ুমির সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি বলেন, সন্তান জন্মের পর তাদের লালন-পালনে স্ত্রী অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়ত। যা দেখে তার খুব খারাপ লাগত। এ জন্য তিনি মুখ গোমড়া করে থাকতেন।

হোক্কাইডো টেলিভিশনে যখন বাবা-মায়ের কথা বলার দৃশ্য দেখাচ্ছিল, তখন সন্তানরা তা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।


ভিডিও লিংক :




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৭/সাইফ/এনএ

18 unseen tourism location


যে ১৮ স্থান কখনোই দেখা হবে না!

নাবিহা আক্তার রাদিতা : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 Jan 2017   08:12:38 AM   Monday   ||   Updated:02 Jan 2017   11:44:56 AM   Monday
ইতালির পোভেগলিয়া দ্বীপ

ইতালির পোভেগলিয়া দ্বীপ

নাবিহা আক্তার রাদিতা : পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান রয়েছে যা দেখার মতো, অনেক স্মৃতি তৈরি করার মতো এবং আমাদের জীবনকাল এমন অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অপেক্ষা করছে।

পাহাড়, পর্বত, উপত্যকা, বনজঙ্গল, তৃণভূমি, মরুভূমি- পৃথিবীর এ ধরনের নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুদ্ধ করার মতো।

কিন্তু আপনার কেমন লাগবে যখন আপনি কিছু আশ্চর্যজনক এবং চমৎকার স্থান দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন? অথচ দুঃখজনক হলেও এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে। কারণ পৃথিবীর এমন অনেক অত্যাশ্চর্য স্থান রয়েছে, যেখানে সর্ব সাধারণের যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই।

এ ধরনের ১৮টি অত্যাশ্চর্য স্থান নিয়ে দুই পর্বের পর্বের আজ পর্বে থাকছে ৮টি স্থান, যেগুলো জেনে আপনি যথেষ্ট অবাক হবেন এবং যতই আগ্রহী হোন না কেন, এসব জায়গায় প্রবেশের সুযোগ মিলবে না।

Nabiha
নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড, আন্দামান
এই দ্বীপটিতে বাইরের যারা প্রবেশ করে তাদেরকে এখানকার অধিবাসীরা নির্মমভাবে মেরে ফেলে। যেহেতু এখানকার উপজাতিরা ঘনজঙ্গলে বসবাস করে তাই তারা বাইরের জগত সম্পর্কে অসচেতন। দ্বীপটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া পরেনি। এই দ্বীপটির বাসিন্দারা আধুনিক যুগের মানুষের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে চায় না। উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপটি তাই ভারত তথা বর্হিবিশ্বের কাছে আজও রহস্যই হয়ে আছে। আধুনিক সভ্যতার লোকজন এখনো দ্বীপটির মানুষের ভাষা, ধর্মানুষ্ঠান এবং তাদের বসত বাড়ির রহস্য খুব কমই জানতে পেরেছেন। আধুনিককালে অত্যাধুনিক সব ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ওই দ্বীপের মানুষের স্পষ্ট কোনো ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। কিছু কিছু ছবি তোলা হলেও তা স্পষ্ট নয়। যেসব পর্যটক এই দ্বীপটি পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেছেন কিংবা কাছে গিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই দ্বীপটির রহস্যময় উপজাতিদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্পের পর বিমান অনুসন্ধানকারীরা ক্ষতির পরিমান বিশ্লেষণ করতে দ্বীপটিতে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের ওপর হামলা করে। এমনকি ২০০৬ সালে দুই জেলে রাস্তা হারিয়ে এই দ্বীপে প্রবেশ করার করায় তারা তাদের মেরে ফেলে।

Nabiha
হেয়ার্ড আইল্যান্ড ভলক্যানো, অস্ট্রেলিয়া
এই দ্বীপটিতে ২০০০ সাল থেকে ২৭৪৫ ফুট উচু জটিল আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়েছে। মাদাগাস্কার এবং অ্যান্টার্কটিকার মধ্যে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে ২ কিলোমিটার লম্বা লাভা প্রবাহিত হয়ে আসছে ২০০০ সাল থেকে। ৩৬৮ বর্গ মাইলের এই দ্বীপটি পাহাড়ে ভরপুর। এছাড়াও রয়েছে ৪১টি হিমবাহ। পেঙ্গুইন, সিল এবং সামুদ্রিক পাখির আবাসস্থল এই প্রাকৃতিক বিস্ময়কর দ্বীপ।

Nabiha
স্নেক আইল্যান্ড, ব্রাজিল
ব্রাজিলের ইলহা দ্য কুয়েইমাদা গ্রানডি নামক দ্বীপটি সম্পর্কে জানলে শুধু আপনি কেন, বিশ্বের কোনো পর্যটকই সেখানে যেতে সাহস করবে না। তাছাড়া দ্বীপটিতে সর্বসাধারণের প্রবেশে সরকারি নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, এটি স্নেক আইল্যান্ড অর্থাৎ সাপের দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ। পুরো দ্বীপ জুড়ে কেবল সাপের বিচরণ। এখানে শুধু যে প্রায় হাজার চারেকের বিষধর সাপের বাস তাই নয়, পৃথিবীর অন্যতম বিষধর সাপ গোল্ডেন ল্যান্সহেডের বাস একমাত্র এই দ্বীপটিতেই। গোল্ডেন ল্যান্সহেডের বিষ এতটাই শক্তিশালী যে, এই বিষ মানুষের শরীরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তা শরীরের মাংস পর্যন্ত গলিয়ে দিতে পারে।

Nabiha
লাসকাউক্স কেভস, ফ্রান্স
বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই গুহাটির শিল্পকর্মের যেন ক্ষতি না হয় তাই ফ্রান্স সরকার জনসাধারণের এখানে প্রবেশাধিকার বন্ধ রেখেছে। কয়েকজন বিজ্ঞানী মাসের কেবলমাত্র কয়েকদিন এই গুহায় প্রবেশের অনুমতি পায়। নর্থওয়েস্টান ফ্রান্সে অবস্থিত এই গুহাটি ১৭ হাজার বছর আগেকার বলে ধারণা করা হয় এবং গুহার দেয়ালে আঁকা রয়েছে ৬০০ চিত্রকর্ম, যা ১৭ হাজার বছর আগেকার আদিম মানুষদের আঁকা। যার মধ্যে তখনকার সময়ের বড় প্রাণীদের ছবি অঙ্কিত রয়েছে দেয়ালে, যেগুলো জীবাশ্ম গবেষণার অন্তর্ভুক্ত। ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান’ এর তকমা পেয়েছে এই গুহা।

 Nabiha
পোভেগলিয়া, ইতালি
ইতালির ভেনিস ও লিডো শহরের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত এই ছোট্ট এই দ্বীপটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূতুরে স্থান হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের আত্মা, প্লেগ রোগে মৃতদের আত্মা এবং খুনী ডাক্তারের আত্মা এই দ্বীপটিতে রয়েছে বলে মনে করা হয়। রোমান যুগে এই দ্বীপটি ব্যবহার করা হতো প্লেগে আক্রান্ত রোগীদের রাখতে ও তাদের পুড়িয়ে মেরে ফেলতে। ১৯২২ সালে এখানে একটি মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় কিন্তু হাসপাতালটি ১৯৬৮ সালে বন্ধ করে দিতে হয়। কেননা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। রোগীরা প্রায়ই মৃতদের দেখতে পেত বলে দাবি করতো। এখানে একজন কুখ্যাত চিকিৎসকের কথা জানা যায় যিনি মানসিক রোগীদের ওপর ভয়াবহ সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন। সেই ডাক্তার নিজেও পরে বিকারগ্রস্ত হয়ে হাসপাতালের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। অশুভ আত্মার স্থান হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপ। তাই দ্বীপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতালির সরকার এই দ্বীপটিকে ২০১৪ সালে ৯৯ বছরের জন্য লিজে দেয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু কেউ এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য আগ্রহ দেখায়নি।

Nabiha
ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভ, ভ্যাটিকান সিটি, ইটালি
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যক্তিগত পাঠাগার হিসেবে অভিহিত করা হয় ভ্যাটিকানের সিক্রেট আর্কাইভকে। অষ্টম শতাব্দী থেকে এ পর্যন্ত পোপদের ব্যক্তিগত নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে এই পাঠাগারে। অনেক গোপন ডকুমেন্টও এখানে সংরক্ষিত আছে। সাধারণ মানুষের এই গ্রন্থাগারে প্রবেশের অধিকার নেই। খুব কম সংখ্যক স্কলার বা পণ্ডিতেরই এখানে ঢোকার সৌভাগ্য হয় বা হয়েছে। তাও পোপের অনুমতি ছাড়া সেটি একেবারেই অসম্ভব। আর অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়াও অত্যন্ত জটিল। পাঠাগারের ভেতরে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার বইয়ের দীর্ঘ তাক রয়েছে। সেখানে রাখা আছে ৩৫ হাজার ভলিউম নথি। এটিকে পোপের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Nabiha
আইস গ্র্যান্ড শ্রাইন, জাপান
জাপানের রাজবংশের দেশের উচ্চপদস্থ যাজক-যাজিকা ছাড়া অন্য সকলের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এই শ্রাইনে (মঠে)। এই মঠটি ৩য় শতকে সর্বপ্রথম তৈরি করা হয়। প্রতি ২০ বছর পর পর এটি ভেঙে আবার পুনঃনির্মাণ করা হয়। এই মঠে রয়েছে দুইটি প্রধান মঠ আর তার চারপাশে রয়েছে আরো ছোট বড় ১২৫ মঠ। কঠোর গোপনীয়তায় এখানে যা রয়েছে, যা বিশ্বের সামনে কখনোই আসেনি।

Nabiha
এরিয়া ৫১, নেভাডা, যুক্তরাষ্ট্র
এটি মানুষের সৃষ্টি পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান। যা নিয়ে বিশ্বের কৌতুহলেরও শেষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের দাবী, এরিয়া ৫১ একটি সামরিক ঘাটি। যার আয়তন ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম রেকেল গ্রামের কাছে অবস্থিত। খুবই গোপনীয় এই সামরিক ঘাঁটি গ্রুম হ্রদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। এরিয়া ৫১ এতটাই গোপনীয় যে, ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর অস্তিত্ব কখনোই স্বীকার করেনি। দুর্ভেদ্য বেষ্টনীতে ঘেরা এ ঘাটির প্রবেশ পথে লেখা আছে অনধিকার প্রবেশকারীকে গুলি করা হতে পারে। আজ পর্যন্ত বেসামরিক কেউ দাবী করেনি তিনি এরিয়া ৫১ এ ঢুকেছেন। যদি কেউ ঢুকেও থাকেন তাহলে তিনি জীবিত আর বের হতে পারেননি তা নিশ্চিত। নিশ্চিতভাবে কেউই জানে না আসলে কী হয় এই এরিয়া ৫১ অঞ্চলে। গুজব রয়েছে, এখানে ভীন গ্রহের বাসিন্দাদের মৃতদেহ সংরক্ষিত রাখা হয়।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৬/ফিরোজ 

Ruet discover....

মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম রুয়েটের ‘অগ্রদূত’

মেহেদী হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:01 Jan 2017   07:49:01 PM   Sunday   ||   Updated:02 Jan 2017   08:13:00 AM   Monday
মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম রুয়েটের ‘অগ্রদূত’
রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একদল শিক্ষার্থী মঙ্গলগ্রহে সফলভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম রোবট উদ্ভাবনের দাবি করেছেন।

উদ্ভাবকদের দাবি, এই রোবট মঙ্গলগ্রহের তাপমাত্রা পরিমাপ, পানির উপস্থিতি বা এর প্রবাহ কিংবা সেখানে কোনো বিষাক্ত গ্যাস আছে কি না তা নির্ণয় করতে সক্ষম হবে।

রোববার দুপুরে ‘অগ্রদূত’নামের নব উদ্ভাবিত এই রোবটের প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রুয়েট উপাচর্য  অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বেগ। এই রোবটের প্রদর্শনী দেখতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ভিড় জমায় বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী।

রোবট প্রদর্শনী উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম বেগ বলেন, মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম এই রোবট উদ্ভাবন করে রুয়েট শিক্ষার্থীরা আবারও তাদের সৃজনশীলতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন যন্ত্রকৌশল অনুষদের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও রোবটিক সোসাইটি অব রুয়েটের (আরএসআর) সভাপতি ড. মো. রোকনুজ্জামান।

রুয়েটের মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুকিদুর রহমান ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম মিসকাতের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে ‘অগ্রদূত’নামের এই রোবটটি উদ্ভাবন করেন।

উদ্ভাবন দলের নেতা মুকিদুর রহমান বলেন, এই রোবট যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম হবে। এই রোবট উদ্ভাবনে এমন কিছু সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই রোবট মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালিয়ে সেখানকার আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি, বিষাক্ত যে কোনো গ্যাসের উপস্থিতি নিরূপণ, ভূ-প্রকৃতির গঠন ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্যাদি অনুসন্ধান এবং ছবি উত্তোলন করে পৃথিবীতে পাঠাতে সক্ষম হবে।

robot

উদ্ভাবন দলের অপর নেতা সায়েম মিসকাত জানান, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব রোভার চ্যালেঞ্জার্স (ইউআরসি) প্রতিবছর মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে সক্ষম যে কোনো নতুন ও সৃজনশীল উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে। তাদের উদ্ভাবিত রোবট ‘অগ্রদূত’ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে নিবন্ধিত হয়েছে এবং তা প্রর্দশনের আমন্ত্রন পেয়েছে। প্রয়োজনীয় স্পন্সর পাওয়া গেলে রুয়েট শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাদের উদ্ভাবিত রোবট ‘অগ্রদূত’ এর প্রদর্শন করবে সক্ষম হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয় জানতে চাইলে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও এই রোবট আবিষ্কার দলের উপদেষ্টা ড. সজল কুমার দাশ বলেন, এটার একটা প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে। এর মূল ভার্সন তৈরি করতে আরো অর্থ প্রয়োজন । আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমরা এটির মূল ভার্সনটি তৈরি করতে পারব।


রাইজিংবিডি/রাবি/১ জানুয়ারি ২০১৭/মেহেদী হাসান/রিশিত

surprise Animal in under water !!!!!!!!


পানির তলায় এসব কী?

সার্জিন শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:30 Dec 2016   08:36:02 AM   Friday   ||   Updated:31 Dec 2016   12:27:26 PM   Saturday
পানির তলায় এসব কী?
সার্জিন শরীফ : বিচিত্র পৃথিবীর রহস্যময় পরিবেশে বিচরণ করছে হাজার-হাজার বিচিত্র প্রাণী। প্রাণীজগতের বৈচিত্র্য সবসময়ই মানুষের বিস্ময়ের উদ্রেক করেছে।

আফ্রিকা কিংবা আমাজনের গহীন অরণ্য থেকে গভীর সমুদ্রের অতল গহ্বর, সবখানেই ছড়িয়ে আছে বৈচিত্র্যময় চেনা-অচেনা প্রাণী।

অজ্ঞাতনামা কিম্ভূতদর্শন সব প্রাণীদের বিশেষজ্ঞরা আলাদা করতে না পেরে সাধারণভাবে ‘অ্যালিয়েন নামেই অভিহিত করে থাকেন। ভুলে গেলে চলবে না যে এই ‘অ্যালিয়েন’-রা শুধু ভিন গ্রহেই না, আমাদের এই ধরণীর বুকেও দিব্যি বিচরণ করে বেড়াচ্ছে।

আর জলের অতলে? না, পরিমাপ করা যায় এর গভীরতা, না আছে জলের রহস্যের শেষ। সমুদ্র তাই মাঝে মাঝেই দেখা মেলে জলের তলের অ্যালিয়েনদের।

রাশিয়ান মৎস্য শিকারী রোমান ফেডোরটসভ্-এর সংগ্রহে আছে এমনই কিছু সামুদ্রিক অ্যালিয়েন, যেগুলোর ছবি নিজের টুইটারে আপলোড করার পরে তিনি হয়ে গেছেন ‘বিখ্যাত অ্যালিয়েন সংগ্রাহক’!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি এই যে, রোমান ফেডোরটসভ্‌-এর সংগ্রহে থাকা জলের তলের এসব প্রাণীগুলোর ছবি দেখার পরে আপনি অবকাশ যাপনের জন্য সমুদ্রে যেতে অন্ততঃ দুইবার ভাববেন।

তার বিচিত্র সংগ্রহশালায় রয়েছে আটপেয়ে আর্থ্রোপোডা থেকে শুরু করে ছুরির মত ধারলো দাঁতের মাছ। ফেডোরটসভ্‌ মূলতঃ উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার একটি মৎস্যবন্দরের মাছ ধরা ট্রলারে কাজ করেন।

মস্কো টাইমস-এর রিপোর্ট অনুসারে তিনি চলতি বছরের শুরুর দিকে তার এই বিচিত্র সংগ্রহগুলোর ছবি জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি তিনি এসব ছবি ফ্লিকারেও আপলোড করেন।

fish

সবগুলো বিচিত্র প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রাণী হল চুনট হাঙর বা ফ্রিলড শার্ক। এটি একটি অত্যন্ত দুর্লভ এবং ধূর্ত প্রকৃতির ভয়ংকর দর্শন হাঙর। এর গায়ের গড়ন কিছুটা সামুদ্রিক ঈল মাছের মতো। যার রয়েছে তীক্ষ্ম-ধারালো দাঁতের সারি। বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে আদিম প্রকৃতির কিছু হাঙরের সঙ্গে মিল থাকার কারণে একে ‘জীবন্ত ধ্বংসাবশেষ’ বলে অভিহিত করেন অনেকেই।

fish

উদ্ভট দর্শন এই প্রাণীটির ছবি টুইটারে প্রকাশিত হওয়ার পরে শুরু হয় বিতর্ক। অনেকেই এটিকে গভীর সমুদ্রের ড্রাগন ম্যালাকোস্‌টাস প্রজাতির বলে অভিহিত করেন। কিন্তু ফেডোরটসভ্ বলেন, ‘আসলে আমরাও এখন পর্যন্ত সন্দিহান যে এটি আসলে কি?

fish

ফেডোরটসভ্‌-এর সংগ্রহে রয়েছে উদ্ভট প্রজাতির ‘ঘোস্ট শার্ক’। ঘোস্ট শার্ক এর চোয়ালের আকৃতি বেশ বড় এবং এতে রয়েছে বেশ ধারালো দাঁতের সারি। বিমানের ডানার মত সুপ্রশস্ত পাখনার জন্য প্রাণীটি বিখ্যাত। এর সবুজ রঙয়ের চোখ দুটো কেবল আলোর সংস্পর্শে এলেই জ্বলজ্বল করতে থাকে। পানির নিচে এর চোখ দেখা যায় না।

fish

অন্য একটি উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ হচ্ছে, কালো রঙের স্ক্যাবার্ডফিশ। এর দাঁতগুলো কাঁচের মতো স্বচ্ছ এবং অত্যন্ত ধারালো। শক্তিশালী চোয়ালের নিচের অংশ ওপরের অংশের তুলনায় সামনের দিকে এগোন।

fish

আরেকটি উদ্ভট প্রকৃতির মাছ হল র‌্যাটেলস। যা সমুদ্রপৃষ্ঠের একেবারে নিচের দিকে বাস করে। এর চোখের রঙ লাল এবং ঠোঁটগুলো ক্ষয়ে যাওয়া ধরনের। এরা সাধারণত আর্কটিক এবং অ্যান্টার্কটিক সাগরে বাস করে।

fish

ফেডোরটসভ্ এর সংগ্রহের সব অ্যালিয়েনরাই যে ‘মাছ’, ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়। তার সংগ্রহে রয়েছে কমলা রঙের ‘সামুদ্রিক মাকড়সা’। যার রয়েছে ভাঁজ করা যায় এমন আটটি পা এবং যার আয়তন পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের হাতের মতো। এটি ম্যালাকোসটাস প্রজাতির গভীর সমুদ্রে বাস করা একটি প্রাণী। কোনো এক অজানা কারণেই এরা সাধারণ মাকড়সার থেকে আকৃতিতে বেশ বড়সড় হয়ে থাকে।

fish

গভীর সমুদ্রে এসব সামুদ্রিক মাছের আকৃতি এবং চেহারায় কখনো কখনো এমন উদ্ভট দর্শনের লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এর কারণ সমুদ্রের নিচের বায়ুচাপ এবং পানির ওপরের বায়ুচাপের তারতম্য। পারিপার্শ্বিকের এমন প্রভাবের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল ‘ব্লবফিশ’, যাকে অভিহিত করা হয়েছিল ‘পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিৎ প্রাণী’ হিসেবে।

fish

fish

এছাড়া ফেডোরটসভ্‌ এর সংগ্রহে রয়েছে বেশ কিছু নাম না জানা সামুদ্রিক প্রাণী। প্রাণী বিশেষজ্ঞরাও যেগুলোর কোনো গণ-প্রজাতি নির্ণয় করতে পারেননি।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Saturday, 31 December 2016

To memory Bangladesh 2017

বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় হবে ২০১৭

ফজলে আজিম : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:01 Jan 2017   08:09:57 AM   Sunday   ||   Updated:01 Jan 2017   11:14:33 AM   Sunday
বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় হবে ২০১৭
প্রাচ্য জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এ বছর বৃহস্পতি গ্রহ কন্যা ও তুলা রাশিতে অবস্থান করবে। শনি অবস্থান করবে বৃশ্চিক ও ধনু রাশিতে। রাহু সিংহ রাশি থেকে কর্কট রাশিতে প্রবেশ করবে। বছরজুড়ে মঙ্গল গ্রহ মীন থেকে তুলা রাশিতে পরিভ্রমণ করবে।

এ বছর মঙ্গলগ্রহ বক্রি হচ্ছে না। অন্যান্য সার্বিক গ্রহাবস্থান থেকে ধারণা করা হচ্ছে ২০১৭ সাল বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক কেমন যেতে পারে ২০১৭ সাল
দেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ণ বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক ধরনের নীরব বিপ্লব দেখা যাবে। প্রশাসনিক কাজকর্মের গতি আগের চেয়ে বাড়বে। তবে কর্মক্ষেত্রে সনাতন ধারণার পেশাজীবীদের সঙ্গে সাধারণের মতৈক্য দেখা যেতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা বাড়তে পারে।

রাজনীতি : সরকারের বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিরোধীদলের সমর্থন থাকবে। বিরোধীদলের উর্ধ্বতন নেতাকর্মীর সঙ্গে দলীয় বৈঠক ফলপ্রসু হতে পারে। রাজনৈতিক আলোচনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব ও উসকানিমূলক কথাবার্তার ফলে জনসাধারণের মাঝে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ তৈরি হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারকে নিজ অবস্থানে কঠোর ও যোগাযোগে দক্ষতার প্রমাণ দিতে হতে পারে।

সরকারের বিপক্ষে বিরোধী দলের নীরব আন্দোলন ও জনসংযোগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের পেশাগত পদোন্নতি ও সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির ফলে আন্দোলন খুব বেশি জমে উঠবে না। সরকারি চাকুরির নিয়োগে কিছু অসৎ লোকের দুর্নীতি সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

পররাষ্ট্র : বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক ভালো যাবে। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শিল্প ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর অনেক দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে। এক বা একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন আর্থিক ও উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারিভাবে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রেমিটেন্স ও রাজস্ব আদায়ে বছরটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে জটিলতা আগের চেয়ে কমতে পারে। বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়তে পারে।

Astrology

যোগাযোগ : দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে চলমান অনেক কাজ এ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ কার্যকর না হলে বাংলাদেশ বিমানের লোকসানের পাল্লা ভারী হতে থাকবে। এভিয়েশন খাতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট দেখা যেতে পারে।

শিক্ষা : শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ কোনো নীতিমালা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে। উচ্চশিক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে।

সীমান্ত পথে অপরাধ প্রবণতা : বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় ও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নিয়ে সরকারকে আরো সতর্ক অবস্থানে থাকার প্রয়োজনিয়তা দেখা দেবে। সীমান্তপথে গোপনে অবৈধ পণ্যের বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষীদের আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার প্রয়োজন হবে।

জীবনমান : বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবীদের জন্য বছরটি হবে প্রত্যাশা পূরণের বছর। সবশ্রেণীর মানুষেরই কমবেশি উপার্জন বাড়বে। উচ্চশিক্ষার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি বেকারত্বের হার কমবে। জীবনমান আগের চেয়ে উন্নত হবে। ভোজনরসিক মানুষদের চাহিদা মেটাতে রেস্টুরেন্ট ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবসা জমজমাট হবে।

ক্রীড়া : ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা মোটামুটি ভালো অবস্থানে থাকবে। অতীত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন দলে লক্ষ্যণীয় সংযোজন ও বিয়োজন হতে পারে।

অপশক্তির সক্রিয়তা : অগ্নি রাশি মেষে ইউরেনাস প্রবেশের ফলে অপশক্তি উত্থানের চেষ্টা করতে পারে। বায়ু রাশি কুম্ভে নেপচুন ও কেতুর অবস্থান ও শনির দৃষ্টি বিনিময় সম্পর্ক তথ্যপ্রবাহে নিত্যনতুন কৌশলের সূচনা করতে পারে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বছরের শুরু থেকেই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার প্রয়োজন হবে।

আইনশৃঙ্খলা : দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের আশংকা রয়েছে। এতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শংকা দেখা দিতে পারে। গোপন শত্রুতার জের ধরে গুপ্ত হত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। প্রেম ও পরকীয়ার জের ধরে নানা ঘটনার ফলে প্রায়ই সংবাদমাধ্যম সরগরম থাকবে।

চিকিৎসা : চিকিৎসাখাতে সরকারকে আরো কঠোর নজরদারি আরোপ করার প্রয়োজনিয়তা দেখা দেবে। ভুল চিকিৎসা, দায়িত্বে অবহেলা, কমিশন বাণিজ্য এসব নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে পারে। চিকিৎসক সংকট ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে অঞ্চলভেদে চিকিৎসা বিভ্রাটের  আশংকা রয়েছে। সরকারের প্রজ্ঞাপূর্ণ নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অধিকাংশ সমস্যারই উত্তোরণ ঘটবে বলে আশা করা যায়।

সবমিলিয়ে ২০১৭ সাল বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন কারণে স্মরণীয় বছর হয়ে থাকবে।

লেখক : অ্যাস্ট্রলজার অ্যান্ড সাইকিক কনসালটেন্ট। কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রলজার্স সোসাইটি, ঢাকা।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ

New year New book

চারদিকে ঝকঝকে নতুন বইয়ের সুবাস

ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:01 Jan 2017   09:08:08 AM   Sunday   ||   Updated:01 Jan 2017   11:07:16 AM   Sunday
চারদিকে ঝকঝকে নতুন বইয়ের সুবাস
আবু বকর ইয়ামিন : নতুন বছর। প্রথম দিন। নতুন ক্লাসে ওঠা সারা দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যের নতুন বই। সারা দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে একযোগে শুরু হয় বিতরণ।

সারা দেশের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ কোমলমতি শিশু-কিশোরের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার নতুন বই। নতুন বইয়ের উৎসবকে কেন্দ্র করে সারা দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। চারদিকে বিরাজ করছে ম-ম গন্ধে ভরা ঝকঝকে নতুন বইয়ের সুবাস।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাধ্যমিকের বই উৎসবে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে রাজধানীর ৩১টি স্কুলের ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। দেশের মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ উৎসব পালিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর প্রথমবারের মতো নিজের ভাষার বই তুলে দেওয়া হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ২৪ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষার্থীর হাতে। প্রথমবারের মতো ব্রেইল বই পাচ্ছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গত বছরের মতো এ বছরও দিবসটিকে পৃথকভাবে পালন করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ২ কোটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৩ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৫২ পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে। এ বছরেই প্রথম প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে সারা দেশে পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদরী) শিক্ষার্থীদের মঝে আট ধরনের পঠন-পাঠন সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

এর আগে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় গণভবনে ২০১৭ সালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আট বছরে সর্বমোট বিতরণ করা পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১২৮টি।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ জানুয়ারি ২০১৭/ইয়ামিন/সাইফুল/এএন