Friday, 9 December 2016

USA presidents' great speech

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিখ্যাত বাণী (দ্বিতীয় পর্ব)

সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:10 Dec 2016   08:33:07 AM   Saturday   ||   Updated:10 Dec 2016   10:18:57 AM   Saturday
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিখ্যাত বাণী (দ্বিতীয় পর্ব)
সাইফুল আহমেদ : যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র। সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক সব দিক থেকেই তারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই যে ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেন অর্থাৎ দেশটির প্রেসিডেন্টও একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

গত ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সেখানে ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বেশির ভাগ সময়ই খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন হন। তাদেরকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে দলীয় টিকিট পেতে যেমন কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়, তেমনি প্রার্থিতা পাওয়ার পরও নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের প্রার্থীর সঙ্গে বেশ কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয় এবং নিজের যোগ্যতা ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে হয়।

বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাদের দায়িত্ব পালনকালে বিখ্যাত নানা কথা বলেছেন। কালের যাত্রায় সেসবের অনেকগুলোই অমরত্ব লাভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে বর্তমান ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত প্রেসিডেন্টদের সেসব বিখ্যাত কিছু উক্তি রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। ধারাবাহিক দুই পর্বের আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।

২১. চেষ্টার অ্যালান আরথার (১৮৮১-৮৫) : ‘আপনারা যদি সাংবাদিক না হতেন, আমি আপনাদের সত্য কথা বলতাম।’
‘মানুষ মারা যাবে, তবে আমাদের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বস্ত্র সব সময়ই অক্ষত থাকবে।’

২২. স্টেফেন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড (১৮৮৫-৮৯) : ‘একজন মানুষকে চেনা যায় তার সঙ্গী দেখে এবং যেসব সঙ্গীদের সে ছেড়ে এসেছে তাদের দেখে।’
‘সবকিছুর ওপরে, সত্য বলুন।’
‘জনগণের দায়িত্ব তাদের সরকারকে সমর্থন করা। সরকারের দায়িত্ব না তার জনগণকে সমর্থন করা।’

২৩. বেঞ্জামিন হ্যারিসন (১৮৮৯-৯৩) : ‘সময়ের ওপর আব্রাহাম লিংকের বিশ্বাস ছিল এবং সময় লিংকনের বিশ্বাসের মূল্য দিয়েছে।’
‘আমেরিকা সারা বিশ্বে পুলিশের দায়িত্ব পালনে সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আজ্ঞাপ্রাপ্ত নয়।’

২৪. স্টেফেন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড (১৮৯৩-৯৭) : তিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি দুটি ভিন্ন সময়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

২৫. উইলিয়াম ম্যাককিনলি (১৮৯৭-১৯০১) : ‘সব মানুষই চায় তার জীবদ্দশায় একটি উদাহরণ স্থাপন করতে এবং মারা যাওয়ার পর ইতিহাসের অনুপ্রেরণা হতে।’
‘পরাজয়ের অন্ধকারতম সময়ে জয় খুবই সন্নিকটে হতে পারে।’
‘যারা সরকারকে পছন্দ করে না তারা অবজ্ঞার সঙ্গে বলে যে, আমরা কেবল মাথা গণনা করি। হ্যাঁ, আমরা মাথা গণনা করি, তবে সঙ্গে মেধাও।’

২৬. থিওডর রুজভেল্ট (১৯০১-০৯) : ‘নিচু স্বরে কথা বলুন এবং সঙ্গে একটি বড় লাঠি নিয়ে চলুন।’
‘একমাত্র সেই ব্যক্তিই কোনো ভুল করে না, যে কোনো কাজ করে না।’
‘প্রেসিডেন্টের কোনো সমালোচনা হবে না অথবা আমরা সব সময় প্রেসিডেন্টের পাশে থাকব, এই ঘোষণা দেওয়া, সঠিক কিংবা ভুল, শুধু দেশপ্রেমবর্জিত ও নতজানুই নয়, আমেরিকার জনগণের কাছে নৈতিকভাবেও ষড়যন্ত্রমূলক।’

২৭. উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট (১৯০৯-১৩) : ‘রাজনীতি, যখন আমি এর অংশ, আমাকে অসুস্থ করে।’
‘মুক্তির পাশাপাশি সম্পদের অধিকারও আমাদের সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

thomas

২৮. টমাস উড্রো উইলসন (১৯১৩-২১) : ‘কিছু লোক আমাকে আদর্শবাদী বলে। ভাল, এই কারণেই আমি জানি আমি একজন আমেরিকান। কারণ আমেরিকা বিশ্বের একমাত্র আদর্শবাদী রাষ্ট্র।’
‘স্বপ্নের মাধ্যমেই আমরা মহৎ হই। সব বড় মানুষই স্বপ্নবিলাসী।’
‘আপনি যদি শত্রু বানাতে চান, কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করুন।’

২৯. ওয়ারেন গামালিয়েল হারডিং (১৯২১-২৩) : ‘আমাদের সবচেয়ে ভয়ানক প্রবণতা হলো সরকারের কাছ থেকে অনেক কিছু চাওয়া এবং একই সময়ে এর জন্য খুবই কম কিছু করা।’
‘হে সৃষ্টিকর্তা, নরকীয় চাকরি! শত্রুদের কাছ থেকে আমার কোনো ভয় নেই...কিন্তু আমার কাছের বন্ধুরাই সারারাত আমাকে ফ্লোরে হেঁটে বেড়াতে বাধ্য করে।’
‘উচ্চাশা প্রশংনীয়, যা ছাড়া কোনো লোকই সফল হতে পারে না। তবে অবিবেচক উচ্চাশা বিপদ ডেকে আনে।’

৩০. জন ক্যালভিন কুলিজ (১৯২৩-২৯) : ‘আমেরিকার ব্যবসা হলো ব্যবসা।’
‘আমি বলিনি এমন কোনো কিছু দ্বারা আমি কখনো আঘাতপ্রাপ্ত হইনি।’
‘চরিত্রই হলো রাষ্ট্রের একমাত্র নিরাপদ ভিত্তি।’

৩১. হারবার্ট ক্লার্ক হোভার (১৯২৯-৩৩) : ‘আলোচনার টেবিল কিংবা চুক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, মানুষের হৃদয়ে এর উৎপত্তি।’
‘জনগণের বিষয়ে আলোচনায় গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা আমেরিকার মুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর।’

৩২. ফ্রাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট (১৯৩৩-৪৫) : ‘ভয়ই হলো একমাত্র জিনিস যেটিকে আমাদের ভয় পেতে হবে।’
‘একজন ভাল নেতা তার অনুসারীদের থেকে খুব বেশি এগিয়ে থাকেন না।’
‘অর্জনের আনন্দ ও সৃষ্টিশীল প্রচেষ্টার রোমাঞ্চেই সুখ নিহিত।’

৩৩. হ্যারি এস ট্রুম্যান (১৯৪৫-৫৩) : ‘আপনি একটি আইন পাশ করে একটি মতবাদের বিস্তৃতিকে বন্ধ করতে পারবেন না।’
‘মতবাদের প্রকাশ দেখে আমাদের ভয় পেলে চলবে না-তাদের দমনকে ভয় পেতে হবে।’
‘একজন নৈরাশ্যবাদী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তার সুযোগগুলোকে বিপত্তিতে পরিণত করেন এবং একজন আশাবাদী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তার বিপত্তিগুলোকে সুযোগে পরিণত করেন।’

৩৪. ডেভিড আইজেনহাওয়ার (১৯৫৩-৬১) : ‘এক কথায় আমেরিকাকে সবচেয়ে ভাল ব্যাখ্যা করা যায়- ব্যক্তিস্বাধীনতা।’
‘আমি কখনো দেখিনি, একজন নৈরাশ্যবাদী জেনারেল যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন।’

kenedy

৩৫. জন এফ কেনেডি (১৯৬১-৬৩) : ‘আমেরিকানরা প্রকৃতিগতভাবে আশাবাদী। তারা গবেষণামূলক, আবিষ্কারক এবং একজন স্থপতি, যাকে ভালো কিছু গড়তে বললে মহৎ কিছু গড়ে।’
‘আমার প্রিয় আমেরিকানরা, আপনাদের দেশ আপনাদের জন্য কী করতে পারে সেটি জানতে চাইবেন না, বরং জানতে চান, আপনি আপনার দেশের জন্য কী করতে পারেন।’

৩৬. লিন্ডন বেইন্স জনসন (১৯৬৩-৬৯) : ‘এখানে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ সমস্যা নেই। এখানে কোনো দক্ষিণাঞ্চলের সমস্যা নেই। এখানে কোনো উত্তরাঞ্চলের সমস্যা নেই। এখানে শুধু একটি আমেরিকান সমস্যা আছে।... এবং আমরা একটিকে পরাজিত করব।’
‘একজন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে কঠিন কাজ- কী সঠিক সেটা করা নয়, বরং কী সঠিক সেটা জানা।’
‘আপনি যখন বেশি কথা বলছেন, আপনি আসলে কিছুই শিখছেন না।’

৩৭. রিচার্ড নিক্সন (১৯৬৯-১৯৭৪) : ‘সবসময়ই আপনার সর্বোচ্চটা দেন, কখনোই হতাশ হবেন না, নিজেকে ছোট ভাববেন না। সবসময় মনে রাখবেন, অন্যরা আপনাকে ঘৃণা করতে পারে। যারা আপনাকে ঘৃণা করে তারা কখনোই জিতবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদেরকে ঘৃণা করেন। এবং তখন আপনি নিজেই নিজেকে ধ্বংস করবেন।’
‘একজন লোক যে কখনোই নিজেকে নিজের চেয়ে বড় কোনো কাজে ব্যাপৃত করেননি, তিনি তার জীবনের পর্বতসম অভিজ্ঞতা হারিয়েছেন। তিনি কেবল নিজের মধ্যেই হারিয়ে গেছেন।’

৩৮. গেরাল্ড রুডল্ফ ফোর্ড (১৯৭৪-৭৭) : ‘আমরা...২০০ বছর আগে আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলাম। এখন সেটি আমরা পেপার শাফলার ও কম্পিউটারের কাছে হারাতে চাই না।’
‘সত্য হলো সেই আঠা যা সরকারকে একত্র রাখে। আর সমঝোতা হলো সেই তেল যা সরকারতে ভাসিয়ে দেয়।’

৩৯. জেমস আর্ল কার্টার জুনিয়র (১৯৭৭-৮১) : ‘আমরা অবশ্যই পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মেলাব এবং তথাপি নীতি-নৈতিকতার কোনো পরিবর্তন করব না।’
‘অন্যান্য দেশে ব্যক্তিস্বাধীনতা বৃদ্ধির সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হলো আমাদের গণতান্ত্রিক পক্রিয়া যে অনুসরণীয় তা এখানে প্রদর্শন করা।’

৪০. রোনাল্ড উইলসন রিগ্যান (১৯৮১-৮৯) : ‘সরকার আমাদের সমস্যার কোনো সমাধান নয়। সরকারই সমস্যা।’
‘ইংরেজি ভাষার নয়টি ভীতিকর শব্দ হলো - আমি সরকারের লোক এবং আমি এখানে আছি সাহায্য করার জন্য।’
‘তুমি যদি তাদেরকে আলো দেখাতে না পারো, তাদেরকে উষ্ণতা অনুভব করার সুযোগ করে দাও।’
‘সমাজতন্ত্র কেবল দুই জায়গাতেই কাজ করে : স্বর্গ যেখানে তাদের এটার কোনো দরকারই নেই। আর দোযখ যেখানে তাদের এটি ইতিমধ্যে আছে।’

৪১. জর্জ হারবার্ট ওয়াকার বুশ (১৯৮৯-৯৩) : ‘কেউ যদি বলে যে, আমেরিকার শ্রেষ্ঠ দিনগুলো তাদের পেছনে রয়েছে, তাহলে তাদের দেখার ভুল আছে।’
‘পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে ভাল, সুন্দর ও ভদ্র জাতি।’
‘অন্যের মতবাদকে জরিমানার আওতায় ফেলার চেষ্টা করো না।’

Clinton

৪২. উইলিয়াম জেফারসন ক্লিনটন (১৯৯৩-২০০১) : ‘আমেরিকায় এমন কোনো ত্রুটি নেই যা আমেরিকায় যা সঠিক তা দ্বারা প্রতিস্থাপন করা যেতে যারে।’
‘অনেক দিন বাঁচলে আপনি ভুল করবেন। তবে যদি ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেন, আপনি ভাল মানুষ হতে পারবেন। আপনি প্রতিকূলতা কীভাবে সামাল দেন সেটাই দেখার বিষয়, প্রতিকূলতা আপনাকে কীভাবে আঘাত করে সেটা নয়। মূল বিষয় হলো আপনি কখনো হতাশ হবেন না, হতাশ হবেন না, হতাশ হবেন না।’

৪৩. জর্জ ডব্লিউ বুশ (২০০১-০৯) : ‘আমরা কী করেছি কিংবা কী করিনি, সেটা দ্বারা সীমাবদ্ধ নেই। আমরা কী করতে চাই, কেবল সেটি দ্বারাই সীমাবদ্ধ।’
‘আপনি যদি কোনো কিছু গভীরভাবে অনুভব না করেন, আপনি সেটি অর্জন করতে পারবেন না।’
‘আমরা সন্ত্রাসীদের বিচারের সম্মুখীন করব; কিংবা বিচারকে সন্ত্রাসীদের কাছে নিয়ে আসব। যেভাবেই হোক না কেন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

৪৪. বারাক ওবামা (২০০৯-১৭) : ‘আমরা যদি অন্য কারো জন্য কিংবা অন্য কোনো সময়ের জন্য অপেক্ষা করি তাহলে পরিবর্তন আসবে না। আমরাই তারা যার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। আমরাই সেই পরিবর্তন যা আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি।’
‘আমরা ভবিষ্যৎকে ভয় পাওয়ার জন্য এখানে আসিনি। বরং ভবিষ্যৎকে গড়ার জন্য এসেছি।’
‘যারা দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহন করেছেন, জেনে রাখুন, আপনারা ইতিহাসের ভুল পথে আছেন।’

** মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিখ্যাত বাণী (প্রথম পর্ব)


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ ডিসেম্বর ২০১৬/সাইফুল

Wednesday, 7 December 2016

1900 political party in India info


ভারতে রাজনৈতিক দল ১৯০০

রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:08 Dec 2016   10:06:59 AM   Thursday   ||   Updated:08 Dec 2016   10:49:43 AM   Thursday
ভারতে রাজনৈতিক দল ১৯০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে বর্তমানে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ১ হাজার ৯০০টি। বিশ্বে আর কোনো দেশে এত বেশি রাজনৈতিক দল নেই।

এর মধ্যে ৪০০টি দল কখনো কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। নামসর্বস্ব এসব দল রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে কোনোমতে টিকে আছে।

কালো রুপি সাদা করার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে ভারতের নিষ্ক্রিয় এসব রাজনৈতিক দল। অভিযোগ ওঠার পর ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসিম জাইদি দলগুলোর তালিকা তৈরি করে তা প্রকাশ করেছেন।

বড় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও নিষ্ক্রিয় দলগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চাঁদা ও অনুদান হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থ জমা পড়ে। ভারতে রাজনৈতিক দলগুলো করমুক্ত আর্থিক সুবিধা পায়। দলের ব্যাংক হিসাব রাজস্ব বিভাগে জমা থাকে। কালো রুপির মালিকরা জোগসাজশ করে এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রুপি সাদা করে নেয়।

নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ৪০০টি রাজনৈতিক দলের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাইদি। দলগুলোর নিবন্ধন কেন বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে জাইদি বলেন, তাদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নিবন্ধন বাতিল না করেও অবৈধ লেনদেন ঠেকানো সম্ভব।

প্রতিটি রাজ্যের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রাজ্যভিত্তিক সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা দিতে নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাইদি। নির্বাচনে অংশ না নিলেও এসব রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে অনুদানের অর্থ জমা পড়ে। কোথা থেকে, কারা এ অর্থ দেয়, তা খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন।

জাইদি আরো বলেন, এখন থেকে প্রতিবছর নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের ব্যাংক হিসাব যাচাই করে দেখা হবে।

ভারতে ১ হাজার ৯০০টি রাজনৈতিক দল থাকলেও হাতে গোনা কয়েকটি দল ছাড়া অধিকাংশের নাম অনেকে জানে না। কংগ্রেস, বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, বহুজন সমাজ পার্টি, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া- এ দলগুলোর নাম শোনা যায়। এ ছাড়া রাজ্যভিত্তিক আরো ৪৮টি রাজনৈতিক দল আছে, যেগুলো বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ ডিসেম্বর ২০১৬/রাসেল পারভেজ/এএন

USA President's Speech

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিখ্যাত বাণী (প্রথম পর্ব)

সাইফুল আহমেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:08 Dec 2016   08:23:18 AM   Thursday   ||   Updated:08 Dec 2016   09:45:38 AM   Thursday
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিখ্যাত বাণী (প্রথম পর্ব)
সাইফুল আহমেদ : যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র। সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক সব দিক থেকেই তারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই যে ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেন অর্থাৎ দেশটির প্রেসিডেন্টও একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

গত ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সেখানে ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বেশির ভাগ সময়ই খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন হন। তাদেরকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে দলীয় টিকিট পেতে যেমন কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়, তেমনি প্রার্থিতা পাওয়ার পরও নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের প্রার্থীর সঙ্গে বেশ কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয় এবং নিজের যোগ্যতা ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে হয়।

বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাদের দায়িত্ব পালনকালে বিখ্যাত নানা কথা বলেছেন। কালের যাত্রায় সেসবের অনেকগুলোই অমরত্ব লাভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে বর্তমান ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত প্রেসিডেন্টদের সেসব বিখ্যাত কিছু উক্তি রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। ধারাবাহিক দুই পর্বের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

১. জর্জ ওয়াশিংটন (১৭৮৯-৯৭) : ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় অন্যতম কার্যকর পদক্ষেপ হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া।’
‘মুক্তি এমন এক বৃক্ষ, যখন এর শেকড় গজাতে শুরু করে, খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে।’

২. জন এডামস : (১৭৯৭-১৮০১) : ‘সমাজের সুখেই সরকারের সর্বনাশ।’
‘একজন মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এবং তার আকাঙ্ক্ষাকে কলঙ্কিত করার জন্য কলম নিশ্চিতভাবেই খুবই চমৎকার একটি যন্ত্র।’

Japerson
৩. টমাস জেফারসন (১৮০১-০৯) : ‘একজন সাহসী লোকই সংখ্যাগরিষ্ঠ।’
‘সেই সরকারই সর্বশ্রেষ্ঠ যেটি সবচেয়ে কম সময় শাসন করে, কারণ এর লোকজন সেসময়ে সুশৃঙ্খল থাকে।’

৪. জেমস ম্যাডিসন (১৮০৯-১৭) : ‘সত্য হলো এই যে, ক্ষমতাসীন সব লোকই অবিশ্বাসের শিকার হতে বাধ্য।’
‘যে সমস্যার সমাধান করতে হবে তা হলো- কোন ধরনের সরকার নির্ভুল সেটি নয়, বরং কোন ধরনের সরকার কম ত্রুটিপূর্ণ সেটি।’

৫. জেমস মনরো (১৮১৭-২৫) : ‘ছোটখাট তোষামদও কোনো লোকের জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্দশা ডেকে আনতে পারে।’
‘আমেরিকা মহাদেশ... এখন থেকে আর অন্য কোনো ইউরোপীয় শক্তির ভবিষ্যৎ উপনিবেশ হিসেবে বিবেচিত হবে না।’

৬. জন কুইন্সি অ্যাডামস (১৮২৫-২৯) : ‘আমাদের দেশ সবসময় সফল হোক, তবে সফল কিংবা অন্য যা কিছুই হোক না কেন, সবসময় যেন ন্যায়পরায়ণ হয়।’
‘সবসময় নীতির পক্ষে ভোট দিন, হয়তো আপনি একা ভোট দেবেন, তবে আপনি এই সুখকর প্রতিফলন অনুভব করবেন যে, আপনার ভোটটি কখনোই নষ্ট হয়নি।’

৭. অ্যান্ড্রু জ্যাকসন (১৮২৯-৩৭) : ‘যে ব্যক্তি সরকারের ডাকে তার কর্তব্যে সাড়া না দেয়, সে ক্রীতদাসের সমতুল্য এবং তাকে দেশের শত্রু ও দেশের শত্রুর বন্ধু হিসেবে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’
‘আমি জানি আমি কীসের যোগ্য। আমি একদল লোককে কর্কশভাবে আদেশ করতে পারি, কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নই।’

৮. মার্টিন ভ্যান বুরেন (১৮৩৭-৪১) : ‘একটি কাজ কেন করা হয়নি সেটি ব্যাখ্যা করার চেয়ে কাজটি করাই সহজ।’
‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দুটি দিন ছিল যেদিন আমি হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করলাম সেদিন এবং যেদিন আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম সেদিন।’

৯. উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসন (১৮৪১) : ‘সরকারের কাজগুলোর মধ্যে শোভনীয় ও মর্যাদাপূর্ণ একটি হলো কেবল সহ্য করা নয়, বরং উৎসাহিতও করা।’
‘আমার মতে, সব সরকারের মধ্যে সেটিই সবচেয়ে শক্তিশালী যেটি সবচেয়ে বেশি স্বাধীন।’

১০. জন টেইলর (১৮৪১-৪৫) : ‘সম্পদ কেবল অব্যাহত পরিশ্রম ও মিতব্যয়িতার মাধ্যমে বাড়ানো সম্ভব।’
‘আমার ভাল ঘোড়াটির মরদেহ এখানে আছে। ২০ বছর ধরে সে আমাকে পিঠে বহন করে বেরিয়েছে এবং এই সময়ে সে কখনোই গুরুতর ভুল করেনি। তার মালিকও যদি তার মতো হতে পারত!’

১১. জেমস নক্স পক (১৮৪৫-৪৯) : ‘আমার জন্য এটি খুবই সত্য যে, প্রেসিডেন্টের পদ কোনো ফুলশয্যা নয়।’
‘আমি খুবই আনন্দিত যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হওয়ার খুব কাছে। খুব শিগগিরই আমি ভৃত্যের কাজ করা বাদ দেব এবং একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করব।’

১২. জাকারি টেইলর (১৮৪৯-৫০) : ‘বশ্য শত্রুর সঙ্গে মহানুভবতার সঙ্গে আচরণ করাই বিচক্ষণতা।’
‘আমি প্রেসিডেন্ট হবো এই ধারণা গুরুতর কোনো উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কাছে খুবই অবাস্তব। এ বিষয়ে আমি কখনো মাথা ঘামায়নি।’

১৩. মিলার্ড ফিলমোর (১৮৫০-৫৩) : ‘একটি মর্যাদাহীন জয়ের চেয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ পরাজয় শ্রেয়।’
‘যে লোক তার দেশের ক্রান্তিকালে নিজেকে সেই সংকটে সঁপে দিতে চায় না, সে মানুষের বিশ্বাসের যোগ্য নয়।’

১৪. ফ্রাঙ্ক পায়ার্স (১৮৫৩-৫৭) : ‘আগ্রাসনকে আমন্ত্রণ জানানোর মতো কোনো কিছু আমাদের ইতিহাসে নেই। সব দেশের সঙ্গে শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক লালনপালনকারী হিসেবে গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সবকিছুই আমাদের রয়েছে।’

১৫. জেমস বুকানন (১৮৫৭-৬১) : ‘স্বাধীন লোকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব মেটানোর ক্ষেত্রে ব্যালট বাক্স হলো সবচেয়ে নিশ্চিত মধ্যস্থতাকারী।’
‘স্বর্গ ও সংবিধান ছাড়া স্থাবর কিছু নেই।’

Lincon
১৬. আব্রাহাম লিংকন (১৮৬১-৬৫) : ‘আপনি সব লোককে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারবেন, কিছু লোককে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারবেন। তবে আপনি সব লোককে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারবেন না।’
‘দাসত্ব যদি অন্যায় হয়ে না থাকে, কোনো কিছুই অন্যায় না।’
‘আমি কি বন্ধু বানানোর মাধ্যমে আমার শত্রুদের ধ্বংস করে দিচ্ছি না?’

১৭. অ্যান্ড্রু জনসন (১৮৬৫-৬৯) : ‘যদি একদিকে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ও অন্যদিকে অভিজাতশ্রেণিকে বাদ দেওয়া যায়, তাহলেই দেশের জন্য মঙ্গলজনক।’
‘সৎ প্রত্যয় আমার সাহস; সংবিধান আমার পথপদর্শক।’

১৮. ইউলিসিস সিম্পসন গ্রান্ট (১৮৬৯-৭৭) : ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমি কখনোই যুদ্ধকে সমর্থন করিনি।’
‘আমার ব্যর্থতা ছিল বিচারের ভুল, ইচ্ছার ভুল নয়।’

১৯. রাদারফোর্ড বারচার্ড হায়েস (১৮৭৭-৮১) : ‘যে তার দেশের সেবা সবচেয়ে ভালো করে, সেই তার দলকে সবচেয়ে ভাল সেবা দেয়।’

২০. জেমস আবরাম গারফিল্ড (১৮৮১) : ‘জীবনে আমি অনেক সংকট মোকাবিলা করেছি, তবে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটটি এখনো আসেনি।’


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ ডিসেম্বর ২০১৬/সাইফুল

A Greatman Shawkat Osman info

কাপুরুষের মতো মরব না: কথা রেখেছিলেন শওকাত

রফিকুল ইসলাম কামাল : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:08 Dec 2016   07:59:38 AM   Thursday   ||   Updated:08 Dec 2016   09:46:04 AM   Thursday
শওকাত নাওয়াজসহ অন্যদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার

শওকাত নাওয়াজসহ অন্যদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার

রফিকুল ইসলাম কামাল, সিলেট : ‘যদি আমরা বেঁচে থাকি তবে দেখা হবে। আর দেশের জন্য যদি প্রাণ হারাই, তার জন্য দুঃখ নাই। তবে ভীরু কাপুরুষের মতো মরব না। আমরা এখান থেকে যতদূর সাধ্য দেশের কাজ করে যাব।’

মার্চ, ১৯৭১। উত্তাল সময়। লাল-সবুজের বাংলার বুকে পাক হায়েনাদের ছোবল চলছে। অকাতরে প্রাণ দিচ্ছেন মানুষ। বাতাসে লাশের গন্ধ। মুক্তির নেশায় পাগলপ্রায় বাঙালি।

ঠিক ওই সময় নিজের বোনের কাছে চিঠি লিখলেন শওকাত নাওয়াজ। সিলেটের মালনিছড়া (মালনিচেরা নামেও পরিচিত) চা বাগানের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার শওকাত নাওয়াজ আবেগঘন ভাষায় চিঠিতে ওই ‘যদি আমরা বেঁচে থাকি.....কাজ করে যাব’ কথাগুলো লেখেন।

শওকাত নাওয়াজ নিজের কথা রেখেছিলেন। ভীরু কাপুরুষের মতো নয়, গ্রহণ করেছিলেন বীরের মৃত্যু।

মালনিছড়া চা বাগান ১৮৫৪ সালে স্থাপিত। বাংলাদেশের প্রথম চা বাগান হিসেবে এটি স্বীকৃত। সিলেট শহর থেকে বেরিয়ে ওসমানী বিমানবন্দর যাওয়ার সুনির্মল পথের পাশেই বিশাল এই চা বাগান। ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল এ বাগানে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী। সেই গণহত্যায় শহীদদের সঙ্গে ছিলেন শওকাত নাওয়াজ।
Sylhet-Malnichora
গণহত্যা বিষয়ে কথা বলছেন দশরত দাস

কদিন আগে পড়ন্ত বিকেলে এ প্রতিবেদক মালনিছড়া চা বাগানে যান। বাগানের সর্দার লক্ষিন্দর বাবু ঘুরিয়ে দেখান গণহত্যার স্থান। সঙ্গে ছিলেন বাগানের আরো দুই ব্যক্তি। যাদের একজন দশরত দাস, অন্যজন গৌরাঙ্গ দাস।

লক্ষিন্দর বাবু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ৮-১০ বছরের মতো। যুদ্ধ শুরুর পরপরই মালনিছড়া চা বাগানে হানা দেয় পাকিস্তানি সেনারা। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে থাকে ঘরবাড়ি। ভয় আর আতঙ্কে প্রাণ নিয়ে পালাতে থাকেন বাগানে বসবাসকারী সবাই। একপর্যায়ে সবাই একত্রিত হন বাগানের বড় বাবুর বাংলোয়।’

কে এই ‘বড় বাবু’ এমন প্রশ্নে লক্ষিন্দর বলেন, ‘আমরা আমাদের বাগানের ম্যানেজারকে বড় বাবু বলে ডাকি। তখন ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন শওকাত নাওয়াজ বাবু।’

বলে চলেন লক্ষিন্দর বাবু, ‘সবাইকে বড় বাবু বাগান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলেন। বাগানের শ্রমিকরা তাকেও (শওকাত) বাগান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার তাগাদা দেন। কিন্তু তিনি পালাতে চাননি। চেয়েছিলেন কোনভাবে দেশের জন্য কিছু করতে। কিন্তু তার আগেই পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হন।’

মুক্তিযুদ্ধের পর বাবা, চাচাদের কাছ থেকে এসব শুনেছেন লক্ষিন্দর বাবু। একই রকম তথ্য জানালেন দশরত দাস আর গৌরাঙ্গ। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের বয়স ১২ বছর ছিল বলে জানান দশরত। আর গৌরাঙ্গের বয়স ছিল ১০-১১ বছর।
Sylhet-Malnichora
এ বাংলোতেই অবস্থান করছিলেন শওকাত

একাত্তরের ৬ এপ্রিল মালনিছড়ায় ঘনিয়ে আসে পাকিস্তানিদের বর্বরতার অন্ধকার। মালনিছড়া চা বাগানের বাংলোয় অবস্থান করছিলেন ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার শওকাত নাওয়াজ, তার অনুজ শাহ নাওয়াজ, তার দুই বন্ধু মেজবাহ উদ্দিন ও আবদুল কাদের। এদের বাইরে বাগানের আরো ছয় কর্মচারী ছিলেন সেখানে।

সেদিন বিকেল। আচমকা বাংলো ঘিরে ফেলে পাক হানাদার বাহিনী। বাংলোর সিঁড়িতেই গুলি করে হত্যা করা শওকাত নাওয়াজকে। বাকিদের ধরে এনে বাংলোর অদূরে একটি চালতা গাছের নিচে এক সারিতে দাঁড় করানো হয়। এরপর বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়ে বর্বরতম গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী।

মালনিছড়া চা বাগানের সর্দার লক্ষিন্দর, বাগানের শ্রমিক দশরত দাসও বলেন, ‘যুদ্ধের সময়টাতে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছি বাবা-চাচাদের সঙ্গে। যুদ্ধের কিছুদিন পরে আমরা বাগানে ফিরে আসি। তখন চালতা গাছের নিচে শহীদদের কঙ্কাল মাটিচাপা দেওয়া হয়। আর বাংলোর সিঁড়ি থেকে শওকাত নাওয়াজের লাশের কঙ্কাল তার বাবা তুলে এনে চা বাগানের এক টিলার পাদদেশে সৎকার করেন।’

ওই টিলার পাদদেশে মালনিছড়ায় শহীদদের স্মরণে বাগান কর্তৃপক্ষ একটি ছোট আকারের শহীদ মিনার তৈরি করেছেন। সাদা রংয়ের সে মিনারে প্রতিবছর বিজয় দিবসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাগানের বাসিন্দারা। তবে যে চাতাল গাছের নিচে শাহ নাওয়াজ, মেজবাহ উদ্দিন ও আবদুল কাদেরসহ নয়জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, সে স্থান পড়ে আছে অবহেলায়। সংরক্ষণে এখনও নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ।

চা বাগানের বাসিন্দারা জানালেন, এ গণকবর মালনিছড়া ও লাক্কাতুড়া চা বাগানের মধ্যবর্তী স্থানে পড়েছে। তাই উভয় বাগান কর্তৃপক্ষের কেউই জায়গাটি সংরক্ষণে এগিয়ে আসছেন না। আর বাগানের ব্যক্তিগত মালিকানা থাকায় প্রশাসনও কিছু করছে না।

এ বিষয়ে কথা হয় সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ভবতোষ বর্মণ রায় রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মালনিছড়াসহ সিলেটের সব গণকবর সংরক্ষণ করা অবশ্যই কর্তব্য। এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা না থাকলে আমরা নিজেরাই এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতাম।’

এ ব্যাপারে আবারও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন ভবতোষ বর্মণ।


রাইজিংবিডি/সিলেট/৮ ডিসেম্বর ২০১৬/কামাল/রিশিত

Tuesday, 6 December 2016

Plastic to gas and energy

প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে জ্বালানি তেল

আশরাফুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Dec 2016   09:42:52 PM   Tuesday   ||   Updated:07 Dec 2016   08:11:44 AM   Wednesday
প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে জ্বালানি তেল
আশরাফুল ইসলাম : পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগ থেকে ডিজেল ও পেট্রোল তেল উৎপাদন কৌশল আবিস্কার করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহম্মাদ মাহমুদুর রহমান।

তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ গ্রাম প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে ১৫ মি.লি. জ্বালানি তেল উৎপাদন করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় ১ কেজি প্লাস্টিক থেকে আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। এই তেল সম্পূর্ণ সালফার মুক্ত। এ প্রক্রিয়ায় ১৭% গ্যাস, ৪৩% পেট্রোল, ২৩% কেরোসিন, ১৪% ডিজেল এবং ৩% কার্বন রেসিডিউ তৈরি হয়। এ গবেষণা প্রতিবেদন মঙ্গলবার ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের কাছে পেশ করেন তিনি। ভিসি এই উৎপাদন কৌশলকে একটি যুগান্তকারী সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন।

ড. মোহম্মাদ মাহমুদুর রহমান জানান, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত লাভজনক হবে কারণ, প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ক্যাটালিস্টটি তৈরির কাঁচামাল সস্তা ও সহজলভ্য। উৎপাদিত মিশ্রিত তেলকে Fractional Distillation-এর মাধ্যমে আলাদা করে প্রতি লিটার ৩০ টাকা হারে বাজারজাত করা সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প পরিসরে একটি মেশিন থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩০০ লিটার তেল উৎপাদন করা যাবে। বড় পরিসরে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ লিটার তেল উৎপাদন করা যাবে। এর ফলে পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক ব্যাগ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মাধ্যমে প্লাষ্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশ দূষণ থেকে সমগ্র দেশ রক্ষা পাবে। এই তেল সকল প্রকার যানবাহন, সেচ পাম্প ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস থেকে বিদ্যুৎও উৎপাদন করা যাবে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী বিপ্লব সূচিত হবে বলে বিশেষজ্ঞগণের অভিমত।

এই গবেষণাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষাখাতে উচ্চশিক্ষা গবেষণা সহায়তার লক্ষ্যে Selective Catalytic Degradation of Waste Plastics to Gasoline & Diesel Fuel প্রকল্পের অর্থায়নে সম্পাদন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে বুয়েট ও ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (গাজীপুর)-এর এম.ফিল গবেষকগণ সহায়তা করেছেন।

উল্লেখ্য, ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে পি.এইচ.ডি এবং নেদারল্যান্ডস-এর Eindhoven University of Technology থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এম.এস.সি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিভাগে এম.এস.সি এবং বি.এস.সি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা পেলে বড় পরিসরে প্লাস্টিক হতে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৬/আশরাফুল/শাহনেওয়াজ

Mobile message to computer

মোবাইলে আসা মেসেজ কম্পিউটারে দেখার উপায়

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Dec 2016   05:10:47 PM   Tuesday   ||   Updated:06 Dec 2016   05:12:55 PM   Tuesday
মোবাইলে আসা মেসেজ কম্পিউটারে দেখার উপায়
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : আপনি যদি বেশিরভাগ সময় কম্পিউটারে খুব ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন, তাহলে এর পাশাপাশি আরেকটি ডিভাইস ব্যবহার যেমন মোবাইলের মেসেজে নজর রাখাটা কিছুটা হলেও ঝামেলার মনে হতে পারে।

কিংবা আপনি কম্পিউটারে খুব ব্যস্ত এবং আপনার মোবাইল কিছুটা দূরে চার্জে রয়েছে। এমন পরিস্থিতি মেসেজে আসলে কম্পিউটার থেকে উঠে দিয়ে মোবাইলের মেসেজ দেখতে হবে।

সুতরাং এমন হলে কেমন হয় যে, আপনার মোবাইলে আসা এসএমএস আপনি আপনার কম্পিউটারেই দেখতে পাবেন এবং কম্পিউটার থেকেই অন্যের মোবাইলে মেসেজ পাঠাতে পারবেন! দারুন এই সুবিধাটি পাওয়া যাবে মাইটি টেক্সট অ্যাপ ব্যবহার করে।

মাইটি টেক্সট ব্যবহার করলে আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে আসা এসএমএস বা এমএমএস কম্পিউটার বা ট্যাবলেট পিসি থেকেই দেখে নিতে পারবেন। পাশাপাশি আপনার কম্পিউটার অথবা ট্যাবলেট পিসি থেকে যেকোনো মোবাইলে এসএমএস ও এমএমএস পাঠাতে পারবেন। অর্থাৎ কম্পিউটারে কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন সময়ে মোবাইলে আসা এসএমএস দেখা এবং পাঠানোর জন্য মোবাইল হাতে নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

এছাড়া আপনার মোবাইলে কল আসলে সেই নোটিফিকেশন আসবে কম্পিউটারে। মোবাইলের ব্যাটারি অ্যালার্ট নোটিকেশন সহ মোবাইলে আসা সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশনও জানা যাবে কম্পিউটারেই।

কম্পিউটারে মোবাইলের মেসেজ দেখা ও পাঠানোর দারুন এই সেবা পেতে স্মার্টফোন মাইটি টেক্সট অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এবং কম্পিউটারে ওয়েব অ্যাপস ব্যবহার করতে হবে। মাইটি টেক্সট ডাউনলোডের জন্য ভিজিট করুন https://mightytext.net সাইটটিতে।

মাইটি টেক্সট ছাড়াও এয়ারড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমেও এ ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। ভিজিট: www.airdroid.com


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Need Human support !!!!!!!!!!!

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববাসীর কি কিছুই করার নেই?

মাছুম বিল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Dec 2016   02:35:10 PM   Tuesday   ||   Updated:06 Dec 2016   02:59:15 PM   Tuesday
‘আয়লান রোহিঙ্গা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা শিশু তোহাইতোর নিথর দেহ পড়ে আছে নাফ নদীর তীরে

‘আয়লান রোহিঙ্গা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা শিশু তোহাইতোর নিথর দেহ পড়ে আছে নাফ নদীর তীরে

মাছুম বিল্লাহ : ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একাংশ। তারা সেখানে সংখ্যালঘু, তারা মুসলমান- এই তাদের অপরাধ। রোহিঙ্গা নারীরা জানান তাদের নির্যাতনের কথা বলতে এখন আর  লজ্জা হয় না। গণধর্ষণ সেখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। মহিলারা সেখানে সম্ভ্রম বাঁচানোর লড়াই নয়, জীবন বাঁচানোর পথ খুঁজছে। স্বজনের লাশ কবর দেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না কেউ। আগে তারা হত্যা করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিত। এখন লাশ তারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে গাড়িতে। তারপর মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও  ভুক্তভোগীরা জানান, রাখাইন রাজ্যের মুসলিম গ্রামগুলোতে যেন সাক্ষাত আজরাইল নেমে এসেছে। গ্রামের পর  গ্রাম এখন ধ্বংসস্তূপ। যারা পারছে জীবন বাঁচাতে গভীর জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে রাতের আঁধারে। তারপর দালালদের হাত-পা ধরে নাফ নদী পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু অধিকাংশ সময় ভাগ্য তাদের সহায় হচ্ছে না। কেননা পালানোর সময় নদীতেই বিজিপির গুলি তাদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। অভুক্ত, ক্ষুধার্ত ও সহায় সম্বল, স্বজন হারানো মানুষ ভাসছে নদীর ওপর অজানা ভবিষ্যতকে সঙ্গী করে। তারা জানে না কোন গন্তব্যে গেলে সমস্যার সমাধান মিলবে; বাঁচবে জীবন।

মানুষ মানুষকে কেন হত্য করছে? কে দেবে এর জবাব? পৃথিবীর মানুষ আমরা কীভাবে দাবি করি যে, আমরা সভ্য। বনের সেই আদিম মানুষ তারাও তো এ রকম ঘটনা কখনও ঘটায়নি; অন্তত এ রকম কিছুর প্রমাণ আমরা কোথাও পাই না। এখন মানুষ সভ্যতার শীর্ষে অবস্থান করছে!  আর নিকৃষ্টতম উপায়ে একদল মানুষ আরেক দলকে চরম অসভ্যের মতো পিষে ফেলছে। এ প্রসঙ্গে ইউএনএইচসিআর অফিসের প্রধান কর্মকর্তা জন ম্যককিসিক বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা  পুরুষদের হত্যা করছে, শিশুদের জবাই করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করছে এবং লুটতরাজ করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের ব্যাপারে এতদিন ধরে যে অভিযোগ করে আসছিল এবার জাতিসংঘও সেই অভিযোগ করছে। শুধু অভিযোগ করে কী লাভ? জরুরি অ্যাকশন, জরুরি পদক্ষেপ দরকার। তা কোথায়?’

এবারের সমস্যা শুরু হয়, গত ৯ অক্টোবর থেকে। নয়জন সীমান্তরক্ষীর হত্যার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু  রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমষ্টিগতভাবে শাস্তি দিচ্ছে। ফলে তারা বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে অনাগ্রহী এবং আমাদের সীমান্তরক্ষীরা তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে। ২০১২ সালেও বাংলাদেশকে এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। বাংলাদেশ যেহেতু শরণার্শী-বিষয়ক ১৯৫১ সালের কনভেনশনে এবং ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে স্বাক্ষর করেনি এবং জাতীয়ভাবে শরণার্থী বিষয়ক কোনো আইন তৈরি করেনি সেহেতু শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারপরেও মানবিক কারণে সীমিত সম্পদ দিয়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। পৃথিবীতে যে ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে-কোথায় যাবে তারা? পৃথিবীতে এক কোটি মানুষের কোনো  দেশই নেই, তাদের সামনে কী পথ খোলা আছে? গত বছর সিরিয়া, লিবিয়া ও ইরাকে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে যখন লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে ইউরোপের পথে পা বাড়িয়েছিল, সমুদ্রে ডুবে মারা যাচ্ছিল, তখন আমরা অনেকের সমালোচনা করেছিলাম। এখন কে কার সমালোচনা করবে? গোটা পৃথিবীতেই কি এই অশুরের খেলা চলবে? তাহলে আমরা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করছি কেন? প্রভাবশালী দেশগুলোর কি কিছুই করার নেই?

মিয়ানমার সামরিক শাসনের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সেই ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই। সমারিক শাসকরা অন্তর্মুখী নীতি পালন করছে। যে কারণে দুনিয়ায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যে উত্তরণ ঘটেছে তার ছোঁয়া লাগেনি সেখানে। অতিসম্প্রতি তথাকথিত গণতন্ত্রের উত্তরণ হয়েছে মিয়ানমারের কৃষিতে। মিয়ানমারের জনগণের জীবন ধারনের মৌলিক প্রয়েজনের  জন্য বাইরের দুনিয়ায় মুখাপেক্ষী হতে হয়নি কিন্তু রাখাইন রাজ্যের এগারো লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম  জনগোষ্ঠী তখনও বলতে গেলে নিজদেশে বন্দী জীবনযাপনই করেছে। যদিও তারা কয়েকশ বছর ধরে উত্তর রাখাইনে বাস করছে। মূলত অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে আরব বণিকেরা  আকিয়াব বন্দর ও এর আশেপাশের এলাকায় বসতি স্থাপন করে। এ বণিক সম্প্রদায় এই এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ, উর্বর ভূমি ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আকৃষ্ট হয়। একইসঙ্গে তারা এলাকায় বিবাহ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। এর মধ্যে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অধিবাসীরা উর্বর অবারিত ভূমির  সুযোগে সহজলভ্য জীবিকার টানে তৎকালীন আরাকন, বর্তমানের রাখাইন রাজ্যে আসতে থাকে। উত্তর রাখাইনের প্রাচীন নাম ছিল ‘রোহাঙ্গ’। যে কারণে এর অধিবাসীরা রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। তাই বলে তারা কি মিয়ানমারের অধিবাসী নয়? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশাল জনগোষ্ঠী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে। এই হলো ইতিহাস। এই বাস্তবতা।

১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাদের চলাচলে কঠিন শর্ত ও নিয়মকানুন আরোপ করা হয়। এমনকি রোহিঙ্গাদের এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশেষ কারণে যেতে চাইলে স্থানীয় সামরিক ক্যাম্পের লিখিত অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হতো। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য, মাছ ও গবাদিপশু তারা হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারে না। স্থানীয় মধ্যস্বত্তভোগীর কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে নিদারুণ ক্ষতির সম্মুখীন । এই কারণে  তারা কৃষিকাজে আগ্রহ হারাতে থাকে। রোহিঙ্গাদের ছেলেমেয়েদের বিবাহ দিতে হলেও স্থানীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের  কাছে আবেদন করতে হয় এবং বছরের পর বছর অপেক্ষার পরেও অনুমতি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সামরিক সরকার মিয়ানমারের অন্যান্য প্রদেশ থেকে কুখ্যাত অপরাধীদের জোরপূর্বক উত্তর রাখাইনে দলে দলে পাঠিয়ে পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। তারা জোরপূর্বক রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাড়ি, ভিটা, জমি দখল করতে থাকে। এভাবে পুরো সময়টিই তারা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে রাখাইন রাজ্যে, কিন্তু দেশ ছাড়েনি। কিন্তু এখন?

জীবন বাঁচাতে তারা সবকিছু হারিয়ে আমাদের দেশে আসছে। কী করব আমরা? মিয়ানমার পৃথিবীর বাইরের কোনো দেশ নয় যে, তারা মানবতার বিরুদ্ধে যাবে। এই মানবিক বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত আসিয়ানভুক্ত মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চীন, ভারত, থাইল্যান্ডকে এগিয়ে আসতে হবে। মালয়েশিয়া ইতিমধ্যে কিছু হাকডাক দিতে শুরু করেছে, তাদের সাথে যোগ দিতে হবে বিশ্বসম্প্রদায়কে। ২০১৫ সালে অসলোতে ডেসমন্ড টুটু, শিরিন এবাদিসহ সাত নোবেল পুরষ্কার বিজয়ীর জরুরি আহবানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যদি গুরুত্বের সঙ্গে নিত, তাহলে আরাকানের দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি এড়ানো যেত। ওই নোবেলজয়ীরা জাতিগত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত মানবাধিকার লংঘনকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তা বন্ধে মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে তার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন।

আমরা গণতন্ত্রের কন্যা অং সান সু চির অঙ্গীকারের প্রতি আস্থাশীল থাকতে চাই। মিয়ানমারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও আমরা এখন বুঝি যে, সামরিক বাহিনী আগের কর্তৃত্ব নিয়েই হাজির আছে। সামরিক কর্তৃপক্ষের  সঙ্গে দর-কষাকষিতে তার সামর্থ্য এখনো যথেষ্ট নয়। ফলে মিয়ানমারের ওপর শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চাপ কার্যত সু চির হাতকেই শক্তিশালী করবে। তবে, সু চির কাছ থেকে আমরা আরও কিছু আশা করেছিলাম কিন্তু তার সীমাহীন নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে। মানবতা যখন ভুলুণ্ঠিত তখন তিনি এভাবে নীরব থাকতে পারেন না। তিনি যখন বন্দী ছিলেন আমরা তাকে নিয়ে বহুবার লিখেছি। তার মুক্তি কামনা করেছি। আজ তিনি সরকারে আছেন অবশ্যই তার কাছ থেকে আমরা আশাব্যাঞ্জক কিছু শুনতে চেয়েও ব্যর্থ হচ্ছি।

রাখাইনের বিতাড়িত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের দালালদের অর্থ দিয়ে রাতের আঁধারে এ দেশে ঢুকছে। টেকনাফ ও উখিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং আগে থেকে বাংলাদেশে আসা বৈধ-অবৈধ রোহিঙ্গারা নির্যাতিত মানুষগুলোকে বাঁচানো নিজেদের দায়িত্ব মনে করছে। আত্মীয়তার সূত্রগুলো এখন প্রবলভাবে কাজ করছে। নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য এখানকার আত্মীয়রা ওপারের রোহিঙ্গাদের আসতে সহায়তা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের তো সবাইকে জায়গা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। সরকার কোন দিকে যাবে?

পৃথিবীতে অনেক ধনী দেশ আছে। অনেক মুসলিম ধনী দেশ আছে, অনেক শক্তিশালী দেশ আছে কিন্তু বিশ্বের যে কোন প্রান্তেই হোক মানবিক বিপর্যয়ের কোন ঘটনা ঘটলে এসব দেশগুলোকে খুব অ্যাকটিভ ভূমিকায় দেখি না। কয়েকটি দেশ তো একেবারে ঘুমিয়েই থাকে। আবার কয়েকটি দেশ আছে যারা নিন্দা করা, অনুরোধ করা আর বিবৃতি দেওয়া ছাড়া তেমন কিছু করে না। মিয়ানমার কি বিশ্বসম্প্রদায় থেকে আলাদা? এসব ঘটনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মানবাধিকার কর্মীগণই কিছু একটা করার চেষ্টা করেন। যাদের মূলত বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করানো ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না। কিন্তু মিয়ানমার তাদেরকেও ঘটনাস্থলে ঢুকতে দিচ্ছে না।

হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে নভেম্বরের ১০-১৮ তারিখ পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের পাঁচটি গ্রামের ৮২০ কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। সেনা অভিযানে সব মিলিয়ে এক হাজার ২৫০টি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। সংস্থাটি রাখাইন রাজ্যে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানালেও বর্মি প্রশাসন সেখানে কোনো সাংবাদিক বা ত্রাণকর্মী প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। আলজেরিয়ায় ২০১৫ সালে আট মাসে তদন্ত করে মিয়ানমারে গণহত্যার শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছে। ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কুলের মূল্যায়ণে এ তথ্য উঠে এসেছে। মিয়ানমারের উগ্রবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং সেনাবাহিনী মিলেই এ গণহত্যা চালাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে রাখাইনের সরকারি কর্মকর্তা কর্ণেল তেইন লিন সরকারি পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা বসতির মধ্যে চীন-মিয়ানমার পাইপ লাইন তৈরি হচ্ছে বলে জানান। সেই পরিকল্পনার নাম দিয়ে ওই এলাকায় তাদের ভাষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এ তালিকায় আছে আড়াই হাজার ঘরবাড়ি, ৬০০ দোকান এবং বহু মসজিদ ও ৩০টি বিদ্যালয়।

এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও পৃথিবীর সব প্রান্তে মানুষ হাজার হাজার ডলার ব্যয় করে বড় বড় হোটেলে পার্টি দিচ্ছে, উদ্দাম নৃত্য করছে, নারী সম্ভোগ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের শেখরা লক্ষ লক্ষ দিরহাম ব্যয় করে বলিউডের নায়িকাদের পাওয়ার চেষ্টা করছে। কোথায় ধর্মের শিক্ষা? কোথায় মহামতি বুদ্ধের সেই অহিংস বাণী? কোথায় তার অনুসারীরা? কী করছে তারা?

এখন ধনী দেশগুলো, ধনী মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশ সরকারকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ সরবরাহ করতে পারে যাতে যেসব রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে এখানে প্রবেশ করেছে তাদের সুষ্ঠুভাবে দেখাশোনা করতে পারে বাংলাদেশ সরকার। যেসব দেশে জনসংখ্যা কম অথচ ধনী, এসব দেশে উদ্বাস্তুদের নিয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে এবং নাগরিকত্ব প্রদান করতে পারে। স্রষ্টা কিছু কিছু দেশকে অজস্র সম্পদ দিয়েছেন তার অর্থ এই নয় যে, তার পুরোটাই শুধুমাত্র ঐসব দেশের জন্য। প্রতিবেশী দেশকে, বিপদে পড়া মানুষকে সহায়তা করতে হবে সেই সম্পদ দিয়ে। কিন্তু আমরা কী দেখছি? মধ্যপ্রাচ্যের ধনী মুসলিম দেশগুলো কী করছে? স্রষ্টার দেওয়া এই সম্পদের জবাব একদিন তাদের দিতে হবে।

দ্বিতীয় আর একটি পদক্ষেপ যা প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী সকল দেশকে সঙ্গে নিতে হবে, যাতে মিয়ানমার সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করা যায়। তাদের সাথে সকল ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছেদ করতে হবে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মিয়ানমার সফরে গেছেন। আশা ছিল কিছু একটা হবে। কিন্তু কী হলো? তার সাথে রোহিঙ্গাদের কথাই বলতে দেওয়া হয়নি। রোহিঙ্গাদের আটকে রাখা হয়েছিল, গুলি করে তাদের ভয় দেখানো হয়েছে যাতে তারা মুখ না খোলে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘকে অতি দ্রুত সেনা পাঠাতে হবে উপদ্রুত এলাকায়। যাদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে, মানুষ মারা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে মিয়ানমার সরকারের কাছ থেকে। বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ঘটনাটি শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার মনে করলে হবে না। দুর্ঘটনা একটির সাথে আর একটি চলে আসে। তাই বিশ্বসম্প্রদায়কে ঘুমের ভান করে থাকলে হবে না। বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করে সেখানে স্থায়ীভাবে জাতিসংঘের ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে।

লেখক : ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৬/তারা