Monday, 5 December 2016

House of Tipu sultan

আভিজাত্যে নন্দিত টিপু সুলতানের প্রাসাদ

ফেরদৌস জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Dec 2016   01:40:17 PM   Tuesday   
প্রাসাদজুড়ে রাতের আলোকসজ্জা

প্রাসাদজুড়ে রাতের আলোকসজ্জা

ফেরদৌস জামান : আমরা জানি, ইন্ডিয়ার উন্নত জায়গাগুলোর মধ্যে ব্যাঙ্গালুরু একটি। মহানগর হিসেবে সেখানকার সংস্কৃতি ইন্ডিয়ার অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় বেশ এগিয়ে। ভালোভাবে নিত্য জীবন যাপনের পাশাপাশি সেখানে চিত্ত বিনোদনেও রয়েছে বেশি রুচির প্রকাশ। যদি ভ্রমণের কথাই বলি, আমি যে সময় সেখানে ছিলাম, দেখেছি ভ্রমণ তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। একে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে আলাদা একটি বিশেষ শিল্প।

শহরের প্রধান প্রধান জায়গায় গেলে চোখে পড়ে টুর অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সির অনেক অফিস। সেখানে পর্যটক আকর্ষণে ডিসপ্লে করা থাকে চমকপ্রদ অনেক কিছু্। স্থানীয় নানান ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন আকর্ষণের যত জায়গা আছে সে সবের ছবি তো থাকেই। এজেন্সির লোকেরা কখনও বা ফুটপাতে এসে চলাচলকারী মানুষের হতে তুলে দেয় বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজের লিফলেট। সুযোগ পেলে তারা সেগুলো থেকে দু’চার কথা বর্ণনা করারও চেষ্টা করে। এমনিভাবে আর একটু অগ্রসর হতে পারলেই তারা গ্রাহকদের অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে চা-কফিতে আলাপ জমিয়ে তোলে। তারপর গ্রহকের চাহিদা ও রুচি অনুযায়ী প্রদর্শন করে তাদের বিভিন্ন প্যাকেজ। প্যাকেজও রয়েছে অনেক। ব্যাঙ্গালুরু শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখার জন্য আধা বেলা, এক বেলার প্যাকেজ যেমন রয়েছে, শহরের আশপাশে স্বল্প দূরত্বের প্যাকেজও রয়েছে। অর্থাৎ আপনি যেভাবে চাইবেন তারা চেষ্টা করবে সেভাবে।

দূরবর্তী জায়গার জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা তো আছেই। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর পাশে টুর অপারেটরদের এমন আয়োজন ব্যক্তিগতভাবে আমার নিকট ছিল সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়। মফস্বল শহরের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই মনের ভেতর একটি ভাবনা কাজ কারত- এমন করে ঘোরাঘুরির কী দরকার? ঘুরতে যাব তার জন্য আবার নিজেকে অন্যের নিকট সপে দিতে হবে কেন? অনেক সময় এমনও দেখেছি, ভ্রমণ শেষে বাস থেকে পর্যটকরা নামছে, তাদের চোখে-মুখে তৃপ্তি আর স্বার্থকতার ঝলমলে বহিঃপ্রকাশ। সম্পূর্ণ ব্যাপারটি আমাকে এক ধরণের ভাবনায় ফেলে দিত। কারণ আজ থেকে ১৫-১৬ বছর আগে আমরা এমন আয়োজনের মাধ্যমে ভ্রমণের কথা ভাবতে পারতাম না। তার মানে টুর অপারেট করার মত কোন প্রতিষ্ঠান যে বাংলাদেশে তখন ছিল না তা নয়। একেবারেই হাতে গোন দু’চারটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও বর্তমানের মত মধ্যবিত্তের এতটা নাগালের মধ্যে ছিল না তাদের সেবা। আর মফস্বল শহরে তো এসব ছিল ভাবনার অতীত।
 Jaman

দিনের আলোয় মহীশূর প্রাসাদ 

যাইহোক, এভাবে প্রতিদিন ফুটপাথ দিয়ে হাটি আর দেখতে থাকি ব্যাঙ্গালুরুর ভ্রমণ আয়োজন। সব থেকে বেশি চোখে পড়ে মহীশূর প্যালেসের ছবি সংবলিত অফার। এত চমৎকার একটি প্যালেস, প্রথম দেখাতেই যে কারও মনে আগ্রহ চেপে বসার মতো। এর মধ্যে নিজ উদ্যোগে ভ্রমণ যে একেবারে থেমে আছে তা নয়। আশপাশের দু’একটি জায়গায় ঘেরাঘুরি এক রকম চলমান। ক্রমবর্ধমান এই ভ্রমণের ঝোঁক একদিন আমাকে টেনে নিয়ে যায় মহানগরের ট্রাভেল এজেন্সি পাড়ায়। একটি দুইটি করে অফিস ঘুরছি আর ধারণা নিচ্ছি তাদের অফার সম্পর্কে। বিশেষ করে মহীশূর প্যালেস ভ্রমণের প্যাকেজ। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেই দুই দিন পরে ইতিহাসখ্যাত মহীশূর প্যালেস দেখতে রওনা করছি। দুই দিন কাটল অনেক ভাবনা এবং আয়োজনের মধ্য দিয়ে। কার সাথে যাচ্ছি, কারা হবে সহযাত্রী, তাছাড়া মানুষ হিসেবে তারা কেমন হবে ইত্যাদি।

নির্দিষ্ট দিন নির্ধারিত স্থান থেকে বাস ছেড়ে দিল মহীশূরের উদ্দেশ্যে। ব্যাঙ্গালুরুর অবস্থান সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় নয়শ মিটার উঁচুতে। শহর ছেড়ে বাস ক্রমেই প্রবেশ করল পাহাড়ি পথে। জানালা দিয়ে শুধু বাহির দেখছি আর দেখছি! এরই মধ্যে খাতির জমে উঠল পাশের আসনে বসা স্কুল পড়ুয়া ভিবেক কানাড়ির সাথে। নবম শ্রেণির ছাত্র হলেও ভিবেক বেশ সচেতন। বাবা-মা’র সাথে সেই ছোটবেলা থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করে ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা। এদিকে ভিবেকের তুলনায় আমার অভিজ্ঞতা একেবারেই তুচ্ছ। দু’জনের বয়সের ব্যাবধান চার বছর হলেও বন্ধুত্ব জমে উঠতে তা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। জানালার ফাঁক দিয়ে প্রকৃতির বৈচিত্র দর্শন আর ভিবেকের অভিজ্ঞতা থেকে দু চারটি কথা, কীভাবে যে কেটে গেল অতটা সময় বুঝতে পারিনি। অথচ, গত দুই দিন কী ভাবনাতেই না ছিলাম!  ঘুঁচে গেল আমার সমস্ত ভাবনা, পৌঁছে গেলাম প্রাসাদের নগরী মহীশূর।

Jaman
দিনের আলোয় মহীশূর প্রাসাদ

আশপাশের বেশ কয়েকটি স্থাপনা নিদর্শন পরিদর্শন করতে করতে কেটে গেল অনেকটা সময়। এরপর সর্বশেষ লক্ষ্য মহীশূর প্রাসাদ। প্রাসাদটি একটি দূর্গ মাঝে অবস্থিত। একজন অভিজ্ঞ গাইড বর্ণনা করছেন মহীশূরের বিস্তারিত। কেউ শুনছে তো কেউ নিজ খেয়ালে চলমান। ভারতবর্ষ সম্পূর্ণরূপে আয়ত্বে এনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেদিন ঘোষণা করতে পেরেছিল, সেই দিনটি ছিল ১৭৯৯ সালের ৪ মে। এই দিন মহীশূরের বাঘ (শের-ই-মহীশূর) বলে খ্যাত টিপু সুলতানকে তারা হত্যা করতে সক্ষম হয়। এরপর ওয়াদিয়ার বংশ মহীশূরের রাজ সিংহাসনে পূনঃঅধিষ্টিত হয়। বর্তমান প্রাসাদটির স্থলে ছিল একটি কাঠ নির্মিত প্রাসাদ, যা ১৮৯৭ সালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ভস্ম হয়ে যায়। তৎকালীন রাজা ছিলেন রাজর্ষী কৃষ্ণরাজা ওয়াদিয়ার। মহারাজা একই জায়গায় নতুন একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। প্রাসাদের নকশা প্রনয়ণ ও নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইংরেজ স্থপতি লর্ড হেনরি আরউইনকে। রাজ পরিবার ছিল দেবতা চামুন্ডির ভক্ত। সুতরাং দেবতার প্রতি ভক্তি ও আনুগত্যের স্বাক্ষরস্বরূপ প্রাসাদ নির্মিত হয়েছে চামুন্ডি পাহাড়মুখী করে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে চলে নির্মাণ কাজ। অবশেষে ১৯১২ সালে তা শেষ হয় এবং ব্যায় হয় তৎকালীন ৪৫ লক্ষ মূদ্রা। নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। ফলে ভারতবর্ষে আগ্রার তাজমহলের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এই প্রাসাদ। প্রতি বছর প্রায় ৬৫ লাখ দেশী-বিদেশী পর্যটক মহীশূরের প্রাসাদ পরিদর্শন করে।

দিনটি ছিল রবিবার। সুতরাং দর্শনার্থীর ভিড় ছিল লক্ষ করার মতো। গুম্বুজগুলি অনেক দূর থেকেই দেখা দিল। বিশেষ করে দেড়শ ফুট উঁচু গুম্বুজটি প্রাসাদের নিশানা হিসেবে সবার আগে দেখা দেয়। যতই এগিয়ে যাচ্ছি সুবিশাল স্থাপনাটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চারিপাশে সাজানো বাগান পেরিয়ে কংক্রীটের চমৎকার পাথওয়ে। প্রাসাদে রয়েছে তিনটি প্রবেশ দ্বার। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য দক্ষিণের দ্বার উন্মুক্ত। চত্বরে প্রবেশের পর পাথওয়ে দিয়ে অগ্রসর হতে লাগলাম। তিন তলা বিশিষ্ট প্রাসাদের সমস্ত খুঁটি দামি ও বিরল মার্বেল পাথরে মোড়ানো। কোনো গুম্বুজের শীর্ষদেশ সোনালী পাত, আবার কোনোটি অন্যান্য ধাতব পাতে ঢেকে দেওয়া। চোখ ধাধানো  এমন অপরূপ নির্মাণশৈলী দেখে মনে হলো- না জানি কি পরিমাণ আভিজাত্যে ভরা থাকত এখানকার বাসিন্দাদের জীবন!

Jaman
প্রাসাদের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত রাজা ওয়াদিয়ারের সিংহাসন

ভিবেক বাবা-মাকে ছেড়ে বলতে গেলে আমার সাথেই আছে। ওদিকে তার বাবা-মা’রও যেন কোনো চিন্তা নেই। রাজার প্রধান দরবার হল এখনও পূর্বের রূপে অক্ষত। রয়েছে একটি বিশাল সংগ্রহশালা, যেখানে প্রদর্শিত রয়েছে ঊনবিংশ শতকের স্থানীয় বিভিন্ন মূর্তি। আরও রয়েছে ইয়োরোপ থেকে আমদানী করা বহু মূল্যবান ধাতব ও প্রস্তর নির্মিত ভাস্কর্যের সমাহার। প্রাসাদের এই অংশের সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় বস্তুটি হলো একটি কাঠের হাতি, যা ৮৪ কেজি সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো। বর্তমানে মহীশূর প্রাসাদের সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় আয়োজনটি হলো- রাতের প্রাসাদে আলোকসজ্জা। গাইড জানাল, দর্শনার্থীদের অধিক বিনোদন দেওয়ার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ প্রাসাদ ভবনে সংযুক্ত করা হয়েছে গুনে গুনে ৯৬ হাজার বৈদ্যুতিক বাতি। সন্ধ্যা সাতটার পর বাতির আলোয় জ্বলে ওঠে সমস্ত প্রাসাদ। নিখুঁতভাবে স্থাপন করা একেকটি বাতি থেকে বিচ্ছুরিত আলোয় এক মনোরম আলো-আঁধারীর খেলা জমে ওঠে। শত শত দর্শনার্থী অথচ কারও মুখে কোনো কথা নেই। সৌন্দর্যের বিস্ময়কর ছোঁয়ায় সকলেই যেন হতবাক! কেবল দু’একজনকে মৃদু স্বরে বলতে শোনা গেল, জীবন স্বার্থক হলো!

মহীশূরের মতো জায়গায় গেলে ধারণা পাওয়া যায় যে, ইতিহাসের অতীত নিদর্শনে আধুনিকতার শৈল্পীক ছোঁয়া দিতে পারলে তা কতটা অধিক চিত্তাকর্ষক ও শিক্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। মূলত এই দৃশ্য উপভোগ করাই দর্শনার্থীদের প্রধান লক্ষ্য। আমার ক্ষেত্রে ঠিক একই ব্যাপার ঘটেছিল। রাস্তার পাশে টুর অপারেটরদের প্রদর্শিত ছবিতে প্রাসাদের এই রূপটি ছিল আকৃষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে সমস্ত ভারতে যেমন রয়েছে বহু বৈচিত্রতা, তেমনি এখানকার বিভিন্ন সময়ের বাস্তবতার নীরব সাক্ষী হিসেবে রয়েছে হাজারও স্থাপনা নিদর্শন। যেদিক থেকে ছোট্ট আয়তনের আমাদের বাংলাদেশও কম যায় না। সুতরাং দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকে সময় সুযোগ করে ঘর থেকে একটু বের হলেই রয়েছে জানার ও শেখার অনেক কিছু।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৬/তারা

Chicken with Tomato dish


টমেটো দিয়ে মুরগির ঝোল (পেঁয়াজ ছাড়া)

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:05 Dec 2016   09:37:20 PM   Monday   
টমেটো দিয়ে মুরগির ঝোল (পেঁয়াজ ছাড়া)
লাইফস্টাইল ডেস্ক : মুখের একটু স্বাদ পরিবর্তন খাবারের রুচি বাড়িয়ে দেয়। আর তাই আজ জেনে নিন মুখরোচক খাবার টমেটো দিয়ে মুরগির ঝোল। তবে পেঁয়াজ ছাড়া!

রান্নায় পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি বেশির ভাগ ঝোল বা তরকারির অন্যতম অংশ, যেটা ছাড়া বলতে পারেন চলেই না। তারপরও সুস্বাদু মুরগি রান্না করতে পারেন পেঁয়াজ ছাড়াই। রান্নার পদ্ধতিটা খুব সোজা এবং দারুণ খেতে পেঁয়াজ ছাড়া টমেটো দিয়ে মুরগির ঝোল।

উপাদান:
মুরগি ১ কেজি (মাঝারি মাপে কাটা), দই ১ কাপ, টমেটো ৫টা (পিউরি করা), আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৩টি, পোস্ত দানা ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা-চামচ, গরম মশলা ১ চা-চামচ, চিনি ১/২ চা-চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপ, ধনে পাতা ২ টেবিল চামচ (কুচি করে, সাজানোর জন্য)

প্রণালী :
মুরগির টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে লেবুর রস, দই, লবণ ও এক চা-চামচ আদা রসুন বাটা দিয়ে মাখিয়ে রাখুন অন্তত এক ঘণ্টার জন্য। পোস্ত দানা ও কাঁচা মরিচ তিন চামচ পানিতে মিশিয়ে ভালো করে বেটে নিন। পাশে রেখে দিন।

এক ঘণ্টা পরে কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে এক চামচ আদা-রসুন বাটা দিন। হালকা আঁচে ভেজে নিন। এরপর এতে মুরগির টুকরোগুলো দিন এবং হালকার আঁচে ৬-৭ মিনিট কষিয়ে নিন। টমেটো বাটা, লবণ, হলুদ দিয়ে ৫ মিনিট রাঁধুন।

এরপর এতে দিন জিরার গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, গোলমরিচের গুঁড়া, চিনি ও পোস্ত বাটা দিয়ে ভালো করে মেশান। ৪-৫ মিনিট রান্না করুন। এরপর পানি মেশান। ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ২০ মিনিট রাখুন। মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে নাড়াচাড়া করুন।

এবার গরম মশলা দিয়ে নাড়িয়ে দিন। চুলার আগুন বন্ধ করে হালকা করে ধনে পাতা দিন। টমেটো দিয়ে মুরগি তৈরি। সাদা ভাতের সঙ্গে খেয়ে নিন।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

becarefull this tree


যে গাছের স্পর্শ আত্মহত্যায় বাধ্য করবে

এসএস জামিল : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Dec 2016   11:20:17 AM   Tuesday   ||   Updated:06 Dec 2016   11:32:55 AM   Tuesday
ড্রেনড্রকনাইট মরডেইস গাছ। এটি সুইসাইড ট্রি নামে পরিচিত

ড্রেনড্রকনাইট মরডেইস গাছ। এটি সুইসাইড ট্রি নামে পরিচিত

এসএস জামিল : মানুষ আত্মহত্যা কেন করে? কতটা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গেলে করে, তা নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। চিকিৎসকেরা বলেন, এটি একটি মানসিক রোগ।

কিন্তু অবাক হলেও সত্য, ড্রেনড্রকনাইট মরডেইস নামে গুল্ম প্রজাতির গাছটির পাতা কিংবা কাণ্ডের স্পর্শ আপনাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করবে।

প্রশ্ন হতেই পারে, গাছের সঙ্গে এই মানসিক রোগের কী সম্পর্ক?
উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা বলেছেন, ড্রেনড্রকনাইট মরডেইস নামে গুল্ম প্রজাতির গাছটির পাতা বা কাণ্ডের স্পর্শ শরীরে ভয়ংকর যন্ত্রণা সৃষ্টি করে। গাছের হুল শরীরে বিঁধলে যে ব্যথা শুরু হয়, তা দুই বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ব্যথায় কোনো কাজ তো দূরের কথা ঘুমানোও অসহনীয় হয়ে ওঠে। যা মানুষ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। তাই এ গাছটি ‘আত্মহত্যার গাছ’ বলে পরিচিত। ইংরেজিতে যা সুইসাইড ট্রি।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গাছটি অস্ট্রেলিয়ায় বেশি হয়। এটি গেম্পি গেম্পি এবং মুনলাইটার নামেও পরিচিত। গাছটির পাতা ও কাণ্ড একধরনের কাঁটায় আচ্ছাদিত। ওই কাঁটা শরীরে উচ্চ নিউরোটক্সিন নির্গত করে, যা এক দুঃসহ যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে তা মানসিক চাপ হয়ে আত্মহত্যায় রূপ নেয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৬/এসএন/এএন

HE Ronald Rigan Success info

যে কীর্তি দেখাতে পারেনি অন্য কেউ

সাইফুল আহমেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Dec 2016   09:18:45 AM   Tuesday   ||   Updated:06 Dec 2016   10:08:58 AM   Tuesday
যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান

সাইফুল আহমেদ : গত ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দেশটিতে কাউকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে কমপক্ষে ২৭০টি ভোট পেতে হয়।

এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩০৬টি ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রয়োজনের চেয়েও ৩৬টি ইলেকটোরাল ভোট বেশি পেয়েছেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ট্রাম্প। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী পরাজিত হিলারি ক্লিনটন পেয়েছেন ২৩২টি ইলেকটোরাল ভোট।

২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামা পেয়েছিলেন ৩৩২ ইলেকটোরাল ভোট। এর আগে ২০০৪ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ ২৮৬ ইলেকটোরাল ভোট।

বারাক ওবামা ২০০৮ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেবার তিনি ৩৬৫ ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসের চাবি হাতে পান। তবে তিনিই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ইলেকটোরাল ভোট পাওয়া প্রেসিডেন্ট নন।
 US
                   ১৯৮৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণাকালে রোনাল্ড রিগ্যান 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন রোনাল্ড রিগ্যান। যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম এ প্রেসিডেন্ট ৫৩৮ ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে একাই পেয়েছিলেন ৫২৫টি।

১৯৮৪ সালের ৬ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা এটি। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রিগ্যান। সেবার মাত্র ১৩টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে ভরাডুবি হয় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ওয়াল্টার মানডেলের।

সেবারের নির্বাচনে রিগ্যান মোট ইলেকটোরাল ভোটের ৯৭.৫৮ শতাংশ পান। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ রাজ্যের মধ্যে ৪৯টিতেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। তার পক্ষে পপুলার ভোট পড়েছিল ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

রিগ্যান এ কীর্তি গড়েছিলেন যখন তার বয়স ছিল ৭৩ বছর। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করা ও সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিও তিনি।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিগ্যানের স্লোগান ছিল ‘মর্নিং ইন আমেরিকা’। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ‘শয়তানের সাম্রাজ্য’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে তার নেতৃত্বেই স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। রিগ্যান দ্বিতীয় মেয়াদে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ‘লিবিয়ায় মার্কিন বাহিনীর বোমাবর্ষণ’ ও ‘ইরান-কন্ট্রা বিষয়াবলি’।

US
                           চলচ্চিত্রে অভিনয়ের একটি দৃশ্যে রোনাল্ড রিগ্যান

রিগ্যান ১৯৮০ সালের ৪ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে সেবার তিনি পেয়েছিলেন ৪৮৯ ইলেকটোরাল ভোট। ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব নেন তিনি।

রিগ্যান ১৯১১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের ট্যাম্পিকোতে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুর দিকে তিনি খেলোধুলায় ঘোষক ও বিভিন্ন রেডিও স্টেশনে কাজ করেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে রিগ্যান হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা ছিলেন। তার আলোচিত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো ‘লাভ ইজ অন দি এয়ার’, ‘ডার্ক ভিক্টোরি’, ‘সান্তা ফে ট্রেইল’, ‘নুটে রকনে, অল আমেরিকান’। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৬৭-৭৫ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার গর্ভনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সালের ৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার বেল এয়ারে ৯৩ বছর বয়সে মারা যান রিগ্যান। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল প্রেসিডেন্ট হিসেবে গণ্য করা হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৬/সাইফুল

Great leader in Tamilnaru, india


জয়া থেকে আম্মা

রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Dec 2016   10:04:14 AM   Tuesday   ||   Updated:06 Dec 2016   11:13:59 AM   Tuesday
জয়রাম জয়ললিতা

জয়রাম জয়ললিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলে গেলেন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম জয়ললিতা।

স্থানীয় সময় সোমবার দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তামিলনাড়ু রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার জীবন নাটকীয়তায় পূর্ণ। রুপালি পর্দার তারকা থেকে হয়েছেন জনপ্রিয় রাজনীতিক, মুখ্যমন্ত্রী। তামিলদের মধ্যে তিনি আম্মা নামে পরিচিত। মৃত্যুর পর দলীয় বিবৃতিতে তাকে ‘লৌহমানবী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।

২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮
এই দিনে কর্ণাটকের মেলকোটে (তৎকালীন মহীশূরে) জন্মগ্রহণ করেন জয়ললিতা। বাবা-মা যথাক্রমে জয়রাম ও বেদাবাল্লি। বংশের রেওয়াজ অনুযায়ী দাদির নামে তার নাম রাখা হয় কমলাবাল্লি। তার বয়স যখন এক বছর, তখন তার নাম দেওয়া হয় জয়ললিতা। তার দাদা-দাদির পৃথক বাসস্থানের নামও রাখা হয় তার নামে। জয়া ভিলা ও ললিতা ভিলা। ছোটবেলায় দুজনের কাছেই তিনি থেকেছেন।

১৯৫০ সাল
এই সালে জয়ললিতার বাবা জয়রাম মারা যান। মেয়ে জয়ললিতা ও ছেলে জয়কুমারকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে বাপের বাড়ি চলে যান তার মা বেদাবাল্লি।

১৯৫২ সাল
জয়ললিতা ও তার ভাইকে বেঙ্গালুরুতে তাদের খালার কাছে রেখে মা বেদাবাল্লি কাজের খোঁজে মাদ্রাজ (বর্তমানে চেন্নাই) চলে আসেন। সেখানে এলিট বিশপ কটন গার্লস স্কুলে ভর্তি হন জয়ললিতা। বেদাবাল্লি ‘সন্ধ্যা’ নামে নাটক ও সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। এ নামেই তিনি এখনো পরিচিত।

১৯৫৮ সাল
খালার বিয়ের পর মায়ের সঙ্গে থাকার জন্য মাদ্রাজ যান জয়ললিতা। সেখানে চার্চ পার্কে ভর্তি হন এবং মেধাবী হিসেবে প্রমাণ রাখতে শুরু করেন। এ সময় কারনেটিক সংগীত, ভরতনাট্যম ও কত্থক শেখেন তিনি।

১৯৬৪ সাল
‘চিন্নাদা গোম্বে’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। দেনায় জর্জরিত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে চলচ্চিত্রে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

১৯৬৫ সাল
এ বছর তার অভিনীত ‘বানিরাদাই’ সিনেমা সুপার হিট হয়। এরপর তার ভাগ্য আরো প্রসন্ন হয়। তৎকালীন তামিল সুপারস্টার এমজি রামচন্দ্রনের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘আয়রাথিল অরুবান’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এই সিনেমার মাধ্যমে ধরা দেয় অধরা সব স্বপ্ন। তবে এ সময়ই হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে জটিল সময়- তিনি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৬৫-১৯৮০ সাল
এ সময় জয়ললিতার জীবনের স্বর্ণালি সময়। ১৪০টি সিনেমা করেছেন, যার মধ্যে ১২০টিই সুপার হিট। তার সময়ে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ সম্মানী নেওয়া অভিনেত্রী।

১৯৭০ সাল
অন্য অভিনেতার সঙ্গে অভিনয়ে রাজি হওয়ায় এমজিআরের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায় জয়ললিতার।

১৯৭১ সাল
জয়ললিতার মা সন্ধ্যা মারা যান।

১৯৭৩ সাল
এ বছর এমজিআরের সঙ্গে শেষবার জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন। এর এক বছর আগে ডিএমকের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এআইএডিএমকে প্রতিষ্ঠা করেন এমজিআর।

১৯৮০ সাল
এ বছর একটি তামিল ও একটি তেলেগু সিনেমায় অভিনয় করে চলচ্চিত্রের জীবনের ইতি টানেন।

১৯৮১ সাল
এমজিআরের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগে।

jaya

১৯৮২ সাল
এমজিআরের রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকে-তে যোগ দেন জয়ললিতা। অল্প সময়ের মধ্যে দলীয় সম্মেলনে প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য দেন তিনি।

১৯৮৩ সাল
এআইএডিএমকের প্রচার-প্রচারণা সম্পাদক নিযুক্ত হন।

১৯৮৪ সাল
রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিক ভাষায় পারদর্শী ও বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী জয়ললিতাকে এমজিআর রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত করাতে প্রাণান্ত চেষ্টা করেন। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

১৯৮৪ সালে বিধানসভা নির্বাচনে এআইএডিএমকে বিজয় পায়। তখন নির্বাচনী প্রচারের সময় এমজিআর হাসপাতালে ছিলেন। তারপরও জয় ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় জয়ললিতার ওপর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আস্থা বেড়ে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলে এ নিয়ে এমজিআরের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়।

১৯৮৬ সাল
জয়ললিতাকে এআইএডিএমকের দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করেন এমজিআর। তবে তিনি রাজ্যসভার সদস্য থেকে যান।

১৯৮৭ সাল
এমজিআরের মৃত্যু হয়। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সেই অর্থে কেউ ছিলেন না। দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এমজিআরের স্ত্রী জানকির সঙ্গে জয়ললিতার দ্বন্দ্ব হয়। তখন দুই নারীকে কেন্দ্র করে এআইএডিএমকে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়।

১৯৮৯ সাল
বিধানসভা নির্বাচনে ২৭টি আসন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী হন জয়ললিতা। এমজিআরের স্ত্রীর অনুসারীরা মাত্র দুটি আসন পায়। পরে তিনি এআইএডিএমকের নেতৃত্ব জয়ললিতার হাতে ছেড়ে দেন। তবে এ বছর তাকে রাজনৈতিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। তখন তিনি শপথ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বিধানসভায় ফিরবেন।

১৯৯১ সাল
কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন জয়ললিতা।

১৯৯১-১৯৯৬ সাল
দলীয় দুর্নীতির অভিযোগে জয়ললিতার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। ঘনিষ্ঠ মানুষদের বিয়েতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করায় তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আসতে থাকে। দুর্নীতির অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হন।

১৯৯৮-২০০৪ সাল
রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে টিকে থাকেন জয়ললিতা। এরপর ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন। এ বছরেই সুপ্রিম কোর্টের আদেশে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয় তাকে। ২০০২ সালে আবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন তিনি। অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হন। এদিকে ২০০৩ সালে তার অর্থ আত্মসাতের মামলা কর্ণাটক হাইকোর্টে স্থানান্তর করা হয়। ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়।

২০০৬-২০১৪ সাল
এ বছর বিধানসভা নির্বাচনে তার দলের চরম পরাজয় হয়। তবে কয়েক বছরের মধ্যে আবার ঘুরে দাঁড়ান। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হন। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে ৩৯টির মধ্যে ৩৭টি আসন পেয়ে লোকসভায় তৃতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়।

সেপ্টেম্বর ২০১৪
অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালত তাকে চার বছরের জেল ও ১০০ কোটি রুপি জরিমানা করেন। মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারান তিনি এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতা পানেরসেলবাম। এক মাস কারাভোগের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তিনি জামিন পান। ২০১৫ সালে কর্ণাটক হাইকোর্ট তাকে সব দায় থেকে মুক্তি দেন। ২৩ মে, ২০১৫ সালে তিনি আবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন।

২০১৬ সাল
৩২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে জয়ললিতা ভারতে এক বিস্ময় মানবী। সোমবার মধ্যরাতে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি মারা যান। তবে এর আগে কয়েকটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে। ৩ নভেম্বর হাসপাতাল জানায়, তিনি পুরোপুরি সুস্থ। ১৯ নভেম্বর তাকে আইসিইউ থেকে বের করা হয়।

৪ ডিসেম্বর চিকিৎসকরা জানান, জয়ললিতা শিগগিরই সুস্থসবল হয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এদিন রাতেই তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। ক্রমেই অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত জয়ললিতা বাড়ি ফিরেছেন, তবে জীবিত নন। তার মৃত্যুতে ভারতজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৬/রাসেল পারভেজ/ এএন

Sonadia Island in Bangladesh

অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জেগে আছে সোনাদিয়া

রফিকুল ইসলাম মন্টু : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Dec 2016   12:04:14 PM   Tuesday   ||   Updated:06 Dec 2016   12:12:17 PM   Tuesday
অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জেগে আছে সোনাদিয়া
রফিকুল ইসলাম মন্টু, কক্সবাজারের মহেশখালী ঘুরে : যে দ্বীপ এক সময় ছিল পাখির রাজ্য। যেখানে সবুজ বনানী আর নীল জলের মিলনমেলায় প্রকৃতি ফিরে পেত ভিন্ন রূপ। অযত্নঅবহেলায় সে দ্বীপ আজ সেকালের সব ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সেখানে এখন পাখির দেখা খুব একটা মেলে না। ডিম ছাড়তে সমুদ্র থেকে আসা কচ্ছপের সংখ্যাও আগের চেয়ে অনেক কমেছে। লাল কাঁকড়ার তো দেখাই মেলে না। সোনা ফলানো দ্বীপের শত শত একর জমি পতিত পড়ে থাকছে। বন কেটে করা হয়েছে চিংড়ি ঘের।

তবুও দীর্ঘ সৈকতের অপার সৌন্দর্য্য আর প্রাণস্পন্দন নিয়ে সমুদ্র তীরে জেগে থাকে দ্বীপ। সূর্য্য ডুবছে প্রকৃতির নিয়মে। ভোরের আলো ফুটে পুব আকাশে উদিত হচ্ছে নতুন সূর্য্য। অবারিত সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয় নতুন এক একটি দিনের।

সমুদ্র তীরের জেলা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপের অবস্থা এমনই। এখানে আছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, আছে অপার সম্ভাবনা। এত সম্ভাবনা থাকার পরেও এখানকার মানুষের সংকটের শেষ নেই। সরকারের উর্ধ্বতন মহলের নজরদারির অভাবে সব সম্ভাবনা হারাতে বসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই এলাকার উন্নয়নে ও সম্ভাবনা বিকাশে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।   

দেশ-বিদেশে নাম ছড়ানো দ্বীপ সোনাদিয়া কীভাবে বদলে যাচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের নানান অভিযোগ। আগের সোনাদিয়ার সঙ্গে এখনকার সোনাদিয়ার তুলনা করতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা বললেন, এই সংরক্ষিত বনে বিপুল পরিমাণ বন ছিল। বনে বসতো হাজারো পাখি। শীতে অতিথি পাখির দেখা মিলত প্রচুর পরিমাণে। সেই বন উজাড় হয়ে এখন চিংড়ি ঘেরে পরিণত হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে কিছুটা লাভবান হওয়া সম্ভব হলেও পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।

সোনাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শচিরাম দাস বলেন, এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় পর্যটকদের আসা-যাওয়ায় সমস্যার অন্ত নেই। মহেশখালী উপজেলা সদর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ কোনভাবে আসা সম্ভব হলেও এর পরের অংশে চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সোনাদিয়া পর্যন্ত পৌঁছানোটা সবার পক্ষেই দু:সাধ্য। এইটুকু পথে তিনটি নদী। দু’টিতে বড় পাকা ব্রিজ থাকলেও রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। একটি নদীতে আছে নড়বড়ে সাঁকো। 

দ্বীপের বর্গাচাষি মোবারক হোসেন বলেন, এখানে সম্ভাবনার শেষ নেই। এখানকার জমি সব ধরণের ফসলের জন্য উপযোগী। অথচ উদ্যোগের অভাবে দ্বীপে বহু জমি পতিত পড়ে থাকছে। এই উর্বর জমিতে কৃষি প্রকল্প নিয়ে সরকার লাভবান হতে পারে; সেইসঙ্গে লাভবান হবে চাষি।
Sonadia_Somvabona

দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এক সময় এখানকার সমুদ্র সৈকতে ঝিনুক, লাল কাঁকড়া, কচ্ছপ ছিল প্রচুর পরিমাণে। এখন সেগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে। দ্বীপের বাসিন্দারা সেসব এখন আর তেমনটা দেখতে পান না। কচ্ছপের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে সমুদ্রে অবমুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে দ্বীপের সৈকতে কয়েকটি হ্যাচারি স্থাপিত হলেও সৈকতে কচ্ছপ পাওয়া যাচ্ছে খুবই কম। ডিসেম্বরে দু’টি কচ্ছপ থেকে মাত্র ২৪৬টি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানালেন দ্বীপের পূর্বপাড়ায়  হ্যাচারির দায়িত্বে থাকা আলী আহমেদ।   

সমুদ্র আর নদী ঘেরা জনপদ মহেশখালী উপজেলা সদর থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে কুতুবজোম ইউনিয়নের আওতাভূক্ত দ্বীপ সোনাদিয়া। গোটা দ্বীপটি ইউনিয়নর ২ নম্বর ওয়ার্ডের অওতায়। সোনাদিয়ার মোট জমির পরিমাণ ২৯৬৫ দশমিক ৩৫ একর। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পরিমাণ  ৩ দশমিক ১৫ একর। শুঁটকি মহাল ২টি, চিংড়ি চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৯৮ একর। বন বিভাগের জমির পরিমাণ ২১০০ একর। বাকি সব প্রাকৃতিক বনায়ণ ও বালুময় চরাঞ্চল।

দ্বীপের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি বলে দাবি চরের অনেকেরই। আগে এখানকার সমস্যার সমাধান করতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলেই সম্ভাবনাগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। অনেক চেষ্টা করেও দ্বীপের উন্নয়ন সেভাবে এগিয়ে নিতে পারছেন না বলে বলে জানালেন সোনাদিয়ার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। তাদের দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে দ্বীপবাসীর জীবনধারায় পরিবর্তন আসবে। শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বাড়বে। তখন দ্বীপের মানুষেরা নিজেরাই দ্বীপ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে। 

সূত্র বলছে, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সমৃদ্ধ সোনাদিয়ায় রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত বিশেষ ধরণের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত প্যারাবন, দূষণ ও কোলাহল মুক্ত সৈকত। এখানে লাল কাঁকড়া, কচ্ছপের শেষ চিহ্ন এখনও দেখার সুযোগ আছে। দ্বীপের পূর্বদিকে নতুন জেগে উঠা চরে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। দ্বীপবাসীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও সাদাসিধে জীবন যাপন, হযরত মারহা আউলিয়ার মাজার ও তার আদি ইতিহাস, জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আঁকা-বাঁকা নদীপথে নৌকা  ভ্রমণ পর্যটকদের ভ্রমণের পিপাসা মিটাবে নি:সন্দেহে।

সোনাদিয়া দ্বীপের অধিকাংশ মানুষের পেশা সমুদ্রে মাছধরা। কিছু পরিবার চিংড়ি ও লবণ উৎপাদনে জড়িত। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অত্যন্ত পরিশ্রমী। পুরুষেরা সমুদ্রে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরে আর নারীরা সে মাছ বাজারজাতকরণের কাজে সক্রিয় অংশ নেন। মাছ শুকানো ও গুদামজাত প্রক্রিয়া তো বলতে গেলে নারী ও শিশুরাই করে থাকে। এমনিতেই দেশব্যাপী সোনাদিয়ার সামুদ্রিক মাছের কদর খুব বেশি। বিশেষ করে শীত মৌসুমে তৈরি হয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শুঁটকি। কক্সবাজারে পর্যটনে আসা বহু পর্যটক সোনাদিয়ার শুঁটকির লোভ সামলাতে পারেন না।

সোনাদিয়ার দ্বীপের নামকরণের সঠিক ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে জনশ্রুতি আছে, এককালে চট্টগ্রামের বাশঁখালী হতে কিছু জেলে অস্থায়ীভাবে সোনাদিয়ার মাছ শিকারে আসতেন। একজন জেলে সমুদ্রে জাল ফেলার পর জালে শিলাখন্ড দেখতে পান। এটি তার কাছে খুবই আর্কষনীয় এবং মূল্যবান মনে হয়। শিলাখন্ডটি নিয়ে ঘরের দরজা সম্মুখে পা ধোয়ায় সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহার শুরু করেন। কিছুদিন পর জেলেটি পাথরের শিলখন্ডটি দায়ের শান দিতে গেলে বুঝতে পারেন আসলে সেটি একটি স্বর্ণখন্ড। এ ঘটনার কারণে দ্বীপের নাম ‘সোনাদিয়া’ হয়েছে বলেও শতবর্ষী ব্যক্তিদের মুখে শোনা যায়।
Sonadia_Somvabona

যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ দ্বীপে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেই। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বব্যাপী পর্যটনকেন্দ্র রাজধানী হিসাবে পরিচিত কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে সোনাদিয়া। কারণ, কক্সবাজার সৈকত থেকে অতি সহজেই যাওয়ার সুযোগ রয়েছে সোনাদিয়া দ্বীপে। এই উদ্যোগ কক্সবাজারের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি দ্বীপবাসীর জন্য বিকল্প আয়ের ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।

সোনাদিয়া দ্বীপ বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা। দ্বীপে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে ইকোট্যুারিজমের উন্নয়ন ঘটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। দ্বীপবাসীর সম্পৃক্ততায় কমিউনিটি ভিত্তিক ইকোট্যুারিজমের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। যা দ্বীপবাসীর বিকল্প আয়ের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

সোনাদিয়ার উন্নয়ন, সম্ভাবনার বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষা প্রসঙ্গে কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকন বলেন, এখানকার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই সোনাদিয়া ফিরবে অন্যরূপে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ নভেম্বর ২০১৬/রফিকুল ইসলাম মন্টু/শাহ মতিন টিপু

Stone in stomach

পিত্তথলিতে ১২ হাজার পাথর!

শাহেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:05 Dec 2016   05:54:20 PM   Monday   ||   Updated:05 Dec 2016   05:58:29 PM   Monday
পিত্তথলিতে ১২ হাজার পাথর!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরার বাসিন্দা ৪৬ বছরের বিনোদ শর্মার পিত্তথলির অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে চোখ কপালে উঠেছিল চিকিৎসকদের। সিটি স্ক্যানে দেখা গেল, পিত্তথলি জুড়ে এমন ভারী কিছু জমিয়ে বসেছিল যে পিত্তথলি আকারে দ্বিগুণ হয়ে ঝুলে পড়েছিল। তবে ভারী ওই বস্তুটি আর কিছুই নয়, প্রায় ১২ হাজার ছোট ছোট পাথর। এগুলির কোনোটির আকৃতি ডিম্বাকার তো কোনোটি গোলাকৃতি। টানা তিন দিন ধরে গোনার পর জানা গেল, পাথরের সংখ্যা ১১ হাজার ৮১৬!

বছর দুয়েক ধরেই অসম্ভব পেটের ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন বিনোদ শর্মা। অনেক চিকিৎসক দেখিয়েও পেটের ব্যথার কোনও সুরাহা হয়নি। শেষে মথুরার সাওয়াই মান সিংহ হাসপাতালের চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন তিনি। কী কারণে পেটের ব্যথা তা জানতে প্রায় সমস্ত রকম পরীক্ষাই করানো হয়। সিটি স্ক্যানে পিত্তথলির অস্বাভাকিতা ধরা পড়ে। আকারে দ্বিগুণ হয়ে ঝুলে পড়েছিল সেটি। অস্ত্রোপচার করার পর দেখা যায় পিত্তথলির অস্বাভাবিকতার কারণ আসলে ২ থেকে ২.৫ মিলিমিটারের ১১ হাজারেরও অধিক গলস্টোন। একটি ১০ সেন্টিমিটারের পিত্তথলির মধ্যে এক সঙ্গে এতগুলো পাথরের উপস্থিতি এর আগে দেখা যায়নি। কীভাবে এ রকম হল তা জানতে ল্যাবরেটরিতে ওই পাথরের নমুনা পাঠানো হয়েছে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ ডিসেম্বর ২০১৬/শাহেদ