Sunday, 4 December 2016

Galaxy create and loading

সৌরজগতের সৃষ্টি যেভাবে

অহ নওরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:04 Dec 2016   01:03:47 PM   Sunday   ||   Updated:04 Dec 2016   01:09:27 PM   Sunday
সৌরজগতের সৃষ্টি যেভাবে
অহ নওরোজ: সেই সুপ্রাচীন কাল থেকে সূর্যকে নিয়ে অনেক ধারণা প্রচলিত ছিল। কেউ বলত সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে আবার কেউ বলত পৃথিবী ঘুরছে সূর্যের চারিদিকে। কে কাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে এর মূল রহস্য বের হতে বেশ সময় লেগেছে।

এখন সমগ্র পৃথিবীর মানুষ জানে যে, আমরা অর্থাৎ আমাদের বাসস্থান পৃথিবী বা আর্থ সূর্যের চারদিকে ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে নিজের চারদিকেও ঘুরছে। সূর্যের চারদিকে ঘুরতে এর সময় লাগে ৩৬৫ দিন আর নিজের অক্ষের চারিদিকে ঘুরতে সময় লাগে মাত্র ২৪ ঘণ্টা।

মোটামুটি কে কাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে এটা আবিষ্কার করার আগ পর্যন্ত মানুষের কাছে সৌরজগতের সৃষ্টি সম্পর্কিত ধারণা ছিল প্রাথমিকের থেকেও একদম নবিশি পর্যায়ে। অনেকেই বলত সকল তারকা পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘরে। কিন্তু যখন থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান ‘পৃথিবী ঘুরছে সূর্যের চারদিকে’ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল, তখন থেকে সৌরজগৎ নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন ধরনের আলোড়ন ধীরে ধীরে পুঞ্জিভুত হতে শুরু করে।

আর এসময় থেকেই সৌরজগৎ সৃষ্টি কিভাবে হল এটা নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দাড় করান। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এই রহস্য নিয়ে এক মতে উপনীত হলেও সৌরজগতের সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে গেলে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বেশ কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতবাদও জানার প্রয়োজন রয়েছে। এতে করে এই সম্পর্কে খুব সহজেই পরিস্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।

সৌরজগতের জন্ম-রহস্য সম্পর্কে ফরাসি গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী পিয়েরে লাপ্লাস সর্বপ্রথম ১৭৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মাথা ঘামান। সে সময়ে এই সৃষ্টি সম্পর্কিত তার মতবাদটি বেশ প্রচারিত হতে দেখা যায়। যদিও এর আগে ১৭৫৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী কান্ট ও অনেকটা একই ধরনের মতবাদ প্রচার করেন। তবে লাপ্লাসের মতবাদটি প্রচারিত হওয়ার পর দুই মতবাদের মিশ্রণরূপ বিশদভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সমর্থন পায়। যে কারণে সৌরজগতের সৃষ্টি সম্পর্কিত এই তত্ত্বটিকে কান্ট-লাপ্লাস নীহারিকাবাদও বলা হয়।

গত পর্বে আমরা জেনেছিলাম নক্ষত্রের সৃষ্টি  সম্পর্কে। এই তত্ত্বে বিজ্ঞানীদ্বয়ের ধারণা নক্ষত্রের সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় মধ্যে সৌরজগৎ সৃষ্টি। তাদের তত্ত্ব অনুসারে অনুসারে সূর্যের আদি বস্তুপুঞ্জের উত্তপ্ত নীহারিকা থেকেই সৌরজগতের সৃষ্টি।

এই তত্ত্ব অনুসারে- বিশাল হালকা গ্যাসীয় বস্তুপুঞ্জ ঘূর্ণিতে ঘুরতে ঘুরতে একসময় মাঝখানের ঘন বস্তুপিণ্ডটি আদি সূর্যের আকারে রূপ নেয়। এরপর গ্যাসীয় বস্তুপুঞ্জ ক্রমে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে এবং সঙ্কুচিত বস্তুপুঞ্জের আকারে ছোট হয়ে আসে। ফলে কৌণিক ভরবেগের নিত্যটা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ঘোরার বেগ বাড়তে থাকে এবং প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকায় নীহারিকাপুঞ্জ মসুরদানার মতো কিছুটা চ্যাপ্টা আকারের হয়ে দাড়ায়, আর ঘোরার বেগ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তার বিষুব অঞ্চলের কেন্দ্রাতিগ শক্তি বৃদ্ধি পায়।

এই কেন্দ্রাতিগ শক্তি কেন্দ্রাভিগ মহাকর্ষের সমান হয়ে দাঁড়ানোর পর বাইরের একটি খোলস সংকোচনশীল বস্তুপুঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে তারপর আরো সঙ্কচনের ফলে অনুরুপভাবে পর পর বস্তুপুঞ্জের আরো কিছু খোলস পৃথক হয়ে যায়। এই খোলসগুলো পরে ঠাণ্ডা হয়ে জমাট বাঁধতে শুরু করে আর তাদের আগেকার ঘূর্ণনের ফলেই এরা গোলাকৃতি লাভ করে। এসব গোলাকৃতি সঙ্কুচিত বস্তুপিণ্ড অবশেষে সূর্যের চারদিকে গ্রহ উপগ্রহের রূপ লাভ করে।

INNER_solar

উনিশ শতকের শেষদিক পর্যন্ত লাপ্লাসের এই মতবাদই ছিল সৌরজগতের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রধান মতবাদ। কিন্তু ক্রমেই এই মতবাদের দুর্বল দিকগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে ধরা পড়তে শুরু করে। যেমন লাপ্লাসের হিসেবে সূর্যের চারিদিকে ঘুরন্ত গ্যাসপুঞ্জের মধ্যে যেকোনো ব্যাসার্ধরেখায় বস্তুকণার আপেক্ষিক স্থানচ্যুতি ধরা হয়নি। গাণিতিক দিক থেকে ভৌত বাস্তবতার বিবেচনায়, এ ত্রুটির কারণেই লাপ্লাস বাইরের দিকের গ্যাসকণা আর ভেতরের দিকের গ্যাসকণার তুলনামূলক গতির বিষয়টি সম্পর্কে ভুল ধারণা করেছিলেন। লাপ্লাসের ধারণা সত্যি হলে সবগুলো গ্রহ উপগ্রহই তাদে কক্ষপথে ঘোরার সময় নিজের অক্ষের ওপর সামনের দিকে ঘুরবে আর উপগ্রহরা তাদের চলার বেগ পাবে প্রধাণত গ্রহের ঘোরার বেগ থেকে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মঙ্গলগ্রহ নিজের অক্ষের চারিপাশে যে বেগে ঘরে তার উপগ্রহ ফোবস মঙ্গলের চারপাশে ঘরে তার তিনগুণ বেগে। ইউরেনাসের উপগ্রহরা তার চারপাশে ঘরে সামনের বা পেছনের দিকে নয়, কক্ষের সাথে সমকোণে। আবার নেপচুন বৃহস্পতি ও শনির কোনো কোনো উপগ্রহ ঘরে উল্টো দিকে, অর্থাৎ গ্রহ ঘোরার বিপরীত দিকে। তাছাড়া কেন্দ্রাতিগ শক্তির টানে সূর্য থেকে বস্তুপুঞ্জ বের হয়ে যাওয়ার জন্য সূর্যের চারপাশে তাদের ঘোরার বেগ আজকের তুলনায় বহুগুণ বেশি হওয়ার কথা কিন্তু এই গতি তাদের কখনোই ছিল না।

এইসব বিভিন্ন দুর্বল দিক ধরা পড়ায় লাপ্লাস-কান্ট মতবাদটি তার জনপ্রিয়তা হারায়। ব্রিটিশ গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী জেমস জিনস ১৮১৬ সালে লাপ্লাসের তত্ত্বটি খন্ডন করে সৌরজগতের উৎপত্তি সম্পর্কে একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তার মতে, দূর অতীতে সূর্যের তুলনায় অনেক বড় একটি নক্ষত্র সূর্যের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার আকর্ষণের সূর্যের বস্তুপুঞ্জের সামান্য একটি অংশ (সমগ্র সৌরজগতে সর্বমোট যে পরিমান বস্তু আছে তার ৯৯.৮৭ শতাংশ রয়েছে সূর্যে, আর মাত্র ০০.৩ শতাংশ রয়েছে সৌরজগতের বাকি সব সৃষ্টিতে, সুতরাং একে সামান্য বলা চলে) খণ্ড খণ্ড আকারে বিচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এই বিচ্ছন্ন বাষ্পীয় অংশটি পড়ে ধীরে ধীরে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে গ্রহ উপগ্রহে পরিণত হয়।

কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তত্ত্বটি তার প্রাণ হারায় কারণ সূর্যের দেহ থেকে যদি বস্তুপুঞ্জ ছিটকে গিয়েই থাকে তাহলে তাদের তো সূর্যের কাছেই থাকার কথা, বাস্তবে সূর্যের যা ব্যস তার তুলনায় বৃহস্পতি গ্রহের দূরত্ব প্রায় ৫০০ গুণ আর নেপচুনের ৩০০০ গুণ আর আমাদের ছায়াপথ গালাক্সিতে ১০০ কোটি নক্ষত্রের একটি করে গ্রহমণ্ডল রয়েছে আমাদের সৌরজগতের মতোই সুতরাং এই বিরল ঘটনা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে গ্রহ উপগ্রহ সৃষ্টি করা সম্ভব না। যে কারণে জিনসের তত্ত্বটি আর টেকেনি।

এরপর ১৯৪৩-৪৪ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ফোন ভাইতস্কার ও সোভিয়েত গণিতবিদ অটোশিট প্রায় একই সময়ে পৃথক পৃথকভাবে একই ধরনের মতবাদ প্রচার করেন। বহু পরীক্ষানিরীক্ষার পর সৌরজগতের সৃষ্টি সম্পর্কে তাদের মতবাদটি বর্তমানে প্রমাণিত এবং সু-প্রতিষ্ঠিত। তাদের দুজনেরই মতে- সম্ভবত শীতল গ্যাসপুঞ্জ ও ধূলিকণা সমন্বিত এক নীহারিকা থেকেই আদিকালে সৌরজগতের উৎপত্তি হয়েছিল। এদিক থেকে তত্ত্বটি লাপ্লাসের তত্ত্বের সংশোধিত রূপ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এই তত্ত্বটি সৌরজগতকে সম্পূর্ণ যুক্তিতর্ক দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নানা দেশের আরো অনেক বিজ্ঞানী এই মতের সমর্থন করেন এবং নানাভাবে এই মতটির বিকাশ সাধন করেন।

তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন, মার্কিন জ্যোতির্বিদ জিরাড কয়পার, রসায়নবিদ হ্যারল্ড উরে, ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ ফ্রেড হয়েল, প্রখ্যাত সুইডিশ পদার্থবিদ হান্স আলফভিন। বলা চলে খুতিনাটি বিষয়ে কমবেশি মতপার্থক্য থাকলেও বিজ্ঞানীরা এই মতবাদকে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকার করেছেন।

এই মত অনুসারে সৌরজগতের সৃষ্টি হয়েছে শীতল আদি বস্তুকনিকাপুঞ্জ থেকে। নিরন্তর গতিশীল বস্তুকণা এই বিশাল গ্যাসীয় সমাবেশ সৃষ্টি করেছিল ছোট বড় নানা আকারের অসংখ্য ঘূর্ণি বা আবর্ত। সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিটিতে বস্তুকনিকা সংহত ও একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয় আদি সূর্যের কেদ্রস্থল। এবং এক কেন্দ্রের চারপাশে বস্তুকণা জড় হয়ে গড়ে তোলা নানা আকারের শীতল আদি গ্রহপিণ্ড। শীতল সূর্যে সংকোচন ও তেজময় বিকিরণ অর্থাৎ হাইড্রোজেন ভেঙ্গে হিলিয়াম তৈরি সময় আলো তৈরি হয়েছে। এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণনের সময় তৈরি হয়েছে প্রচুর তাপ। যার ফলে সূর্যের অন্য গ্রহগুলো উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। এবং যে ঘূর্ণিগুলো থেকে গ্রহ সৃষ্টি হয়ে সেগুলোর মূল ঘূর্ণির বাইরেও ক্ষুদ্র ঘূর্ণি থাকায় সেগুলো থেকে উপগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

আর সূর্যের কাছে থাকার ফলে তাপ বেশি পাওয়া এবং সূর্য যখন তাপ বিকিরণ করতে শুরু করে তখন সূর্যের ছাড়া পাওয়া শক্তি ও পদার্থকণা এক বিপুল শক্তিশালী সৌরবায়ুর সৃষ্টি করেছিল যার প্রভাবে গ্রহগুলোর উপরিভাগ থেকে হাইড্রোজেন সহ বিভিন্ন হালকা গ্যাস আরো ঘন হয়ে যায়। এর তাপ ও সৌরবায়ুর ফলেই সূর্যের কাছের গ্রহ বুধ, শুক্র,পৃথিবী ও মঙ্গলের ঘনত্ব বেশী এবং তারা পাথুরে। অন্যদিকে বৃহস্পতি,শনি, ইউরেনাস, নেপচুনের ঘনত্ব কম এবং তারা গ্যাসীয়।

এই মতে বলা হয়- প্রাথমিকভাবে নীহারিকার ঘূর্ণি থেকে সূর্য, গ্রহ-উপগ্রহ তৈরি হওয়ার পর সূর্যের আকর্ষণে এরা ক্রমানুসারে সূর্যের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে এবং যে যত কাছে আসে তত উত্তপ্ত হতে থাকে। এই উত্তাপের ফলে গ্রহগুলো আয়নিত হয়ে যায় এবং বৈদ্যুতিক বিকর্ষণের ফলে সূর্য থেকে প্রতিহত হয়ে ভর ও ব্যাসার্ধ অনুসারে প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্টই সীমানায় গিয়ে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। এবং নিজের দিকে ঘূর্ণি থেকে নিজের দিকে ঘোরার শক্তির পাশাপাশি সূর্যের দিকে ঘোরা শুরু করায় একটি স্থিতিশীল ঘূর্ণনঅবস্থা প্রাপ্ত হয়। উপগ্রহের ক্ষেত্রে ঠিক এই ঘটনা ঘটে। তারা সূর্য থেকে গ্রহের গ্রহণ করা তাপের কারণে বিকশিত হয়ে নির্দিষ্ট সীমানায় ঘুরতে থাকে। এর ফলে নিয়মিত একটি স্থানকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণয়মান একটি জগতের সৃষ্টি হয়। যাকে সৌরজগৎ বলা হয়। কোন ছায়াপথের প্রায় এক লক্ষ তারকার মধ্যে অন্তত এমন একটি তারকা পাওয়া যায় যার এমন একটি করে জগত রয়েছে। আমাদের সূর্যের নাম অনুসারে সূর্যের এই জগতের নাম দেওয়া হয়েছে সৌরজগৎ।

তথ্য সহায়তা:
* রিলেটিভিটি : দ্য স্পেশাল অ্যান্ড দ্য জেনারেল থিওরি-আলবার্ট আইনস্টাইন
* মহাকাশের ঠিকানা- অমল দাশগুপ্ত
* সৌরজগৎ-সুব্রত বড়ুয়া
* তারার দেশের হাতছানি- আবদুল্লাহ আল-মুতী
* সূর্যের বন্দী- ড. শঙ্কর সেনগুপ্ত

মহাকাশ নিয়ে রাইজিংবিডির বিশেষ আয়োজনে আগামী পর্বে থাকছে : ‘ধূমকেতুর আবর্তন এবং সৃষ্টিকাহিনি’।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Global 10 location to know !!!!!!!!!!!!

পৃথিবীর রহস্যময় ১০ স্থান

স্বপ্নীল মাহফুজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:04 Dec 2016   01:58:56 PM   Sunday   ||   Updated:04 Dec 2016   02:07:17 PM   Sunday
পৃথিবীর রহস্যময় ১০ স্থান
স্বপ্নীল মাহফুজ : সমগ্র পৃথিবীতে রহস্যের শেষ নেই। পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা আছে যার উৎপত্তি কিংবা গঠন নিয়ে আজও রহস্য রয়ে গেছে।

ফলে সেসব স্থান অতি-প্রাকৃতিক কিংবা রহস্যময় স্থান হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। চলুন জেনে নিই এমন ১০টি স্থান সম্পর্কে।

কানো ক্রিসটেলস, কলোম্বিয়া
কানো ক্রিসটেলস কলোম্বিয়ার একটি নদী। তবে এটি সাধারণ কোনো নদী নয়। এটাকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নদী বলা হয়। বছরের অধিকংশ সময় এটা সাধারণ নদীর মতোই থাকে, তবে খুব অল্প সময়ের জন্য এর রুপ সম্পূর্ণ বদলে যায়। মূলত সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় এমনটি হয়। এ সময় নদীর পানিতে রঙের বাহার দেখা যায়। লাল, গোলাপি, নীল, সবুজ এবং হলুদ রঙের এর অপূর্ব সমন্বয় এখানে দেখা যায়



মাউন্ট সাঙ্কিংসান, চীন
এটি চীনের তাওবাদী ধর্মানুসারীদের তীর্থস্থান। এটাকে স্রষ্টার বাগান বলেও অভিহিত করা হয়। এই এলাকায় অদ্ভুত সব আকারের গ্রানাইট পাথরের পিলার দেখা যায়। এখানে বছরের প্রায় দুইশ দিনই কুয়াশায় মোড়া থাকে, যা এটাকে একটি স্বর্গীয় অনুভূতির যোগান দেয়।




ফ্লাই গেইসার, যুক্তরাষ্ট্র
ফ্লাই গেইসার যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা মরুভূমিতে অবস্থিত। এটি মূলত তিনটি ছোট পাহাড়ের একটি মিলনস্থান যা প্রতিনিয়ত পাঁচ ফিট পানি ওপরের দিকে ছিটিয়ে যাচ্ছে। এটার গায়ে যে মহনীয় রঙ আছে, তা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, এখানে আপনি চাইলেই ভ্রমণ করতে পারবেন না। এটা বক্তিগত সম্পত্তির ওপর হওয়ায় এটা এখনো পৃথিবীর কাছে গোপন একটি জায়গা। কোনো পর্যটকের এখানে যাবার অনুমতি নেই।


অওকিগাহারা, জাপান
অওকিগাহারা, জাপানের ফুজি পর্বতমালার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ৩৫ বর্গ কিলোমিটারের একটি জঙ্গল। এটি সি অব ট্রিজ অথবা গাছের সমুদ্র নামেও পরিচিত। কিছু অদ্ভুত পাথর এবং কোনো প্রাণের অস্তিত্ব না থাকাতে সব সময় সুনসান নীরব এ বনটি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। জাপানি পুরাণ মতে, এ বনে প্রেতাত্মারা ঘুরে বেরায় এবং এটি আত্মহত্যা করার জায়গা হিসেবে বিবেচিত। এই বন থেকে প্রতি বছর ১০০’র বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।



বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল, আটলান্টিক মহাসাগর
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কথা কমবেশি সবাই জানি। যা নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। যেখান বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়। অনেকে মনে করেন ওই সকল অন্তর্ধানের কারণ নিছক দূর্ঘটনা, যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দূর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। আবার চলতি উপকথা অনুসারে এসবের পেছনে দায়ী হল অতিপ্রাকৃতিক কোনো শক্তি বা ভিনগ্রহের কোনো প্রাণীর উপস্থিতি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিজ্ঞানীগণ এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবুও এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সবকিছু নিছক অনুমান।



মগুইচেং, চীন
মগুইচেং চীনের জিনঝিয়াং মরুভূমিতে অবস্থিত। এটার আক্ষরিক অর্থ দাড়ায় শয়তানের শহর। এখানের লোকজন অদ্ভুত সব ঘটনা দেখেছেন বলে দাবি করেন। পর্যটকরা এখানে বাতাসে দূর থেকে বিভিন্ন আজব আজব সুর ভেসে আসতে শুনেছেন। কখনো বাচ্চার কান্না আবার কখনো বাঘের গর্জন শুনেছেন কেউ কেউ। তবে এই শব্দের উৎস কেউই এখনো খুঁজে পাননি।



রিচাট স্ট্রাকচার, মৌরিতানিয়া
রিচাট স্ট্রাকচার আবার সাহারার চোখ নামেও পরিচিত। এটি সাহারা মরুভূমিতে প্রায় ত্রিশ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, এটা হয়তো অগ্নুৎপাত এর ফলে তৈরি হয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে এখনো রহস্য রয়েই যায় যে, এটা কেন পুরোপুরি বৃত্তাকার আর এর বলয়গুলো কেনইবা সমান দূরত্বের। যদি প্রাকৃতিক হতো তবে পুরোপুরি বৃত্তাকার হওয়ার কথা নয়।



পামুক্কালের ট্রাভেরটাইন পুল, তুরস্ক
পামুক্কালের ট্রাভেরটাইন পুল তুরস্কের একটি বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। হাজার বছর আগে এ এলাকায় একের পর এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প হয়ে মাটিতে অনেক ফাটল সৃষ্টি করেছিল। এবং সেখান দিয়ে মাটির নিচের ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভর্তি গরম পানি বেরিয়ে এসে ওপরে জমা হতে হতে সাদা সোপানের সৃষ্টি হয়।



ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালি, অ্যান্টার্কটিকা
ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালিকে পৃথিবীর সব থেকে গোপনীয় জায়গা হিসেবে ধরা হয়। এটার সম্পর্কে মানুষ খুব কমই জানে। এটা সম্ভবত পৃথিবীর সব থেকে শুষ্ক জায়গা। অ্যান্টার্কটিকা বরফ ও তুষারের মধ্যস্থলে অবস্থিত হলেও প্রতিবছর এখানে মাত্র ৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। কিছু শৈবাল ও মস জাতীয় উদ্ভিদ ছাড়া আর কোনো উদ্ভিদ জন্মায় না। বিজ্ঞানীরা এটার আবহাওয়াকে মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন।



মাউন্ট রোরাইমা, ব্রাজিল
মাউন্ট রোরাইমা অস্বাভাবিক আকারের একটি পর্বত। সাধারণ পর্বতের একটি সূচালো শীর্ষ থাকে কিন্তু মাউন্ট রোরাইমা এমন নয়। এটি একটি সমতল শীর্ষ বিশিষ্ট পর্বত। এটার স্থানীয় নাম টিপুই। বছরের অধিকংশ সময় এটি মেঘে ঢাকা থাকে। ভেনিজুয়েলা, ব্রাজিল আর গায়ানা এই তিনটি দেশের সীমান্ত জুড়ে এর অবস্থান। তবে আপনি শুধু ভেনিজুয়েলা সীমান্ত দিয়েই এটাতে যেতে পারবেন। কিন্তু কারো ধারণা নেই এই পর্বতটি কেনইবা এমন অদ্ভূতুরে গড়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে।

 http://www.risingbd.com/%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AE%E0%A7%9F-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8/216099

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Face Book download copy

ফেসবুক থেকে ভিডিও ডাউনলোডের সহজ উপায়

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:04 Dec 2016   04:34:23 PM   Sunday   ||   Updated:04 Dec 2016   04:42:15 PM   Sunday

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করার পদ্ধতি আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিন্তু ফেসবুক থেকে ভিডিও ডাউনলোড? অনেকেই হয়তো জানি না।

ফেসবুক থেকে ভিডিও ডাউনলোডের নানা উপায় রয়েছে। সফটওয়্যার ব্যবহার করেও যেমন ডাউনলোড করা যায়, তেমনি সফটওয়্যার ছাড়াও ডাউনলোড করা যায়। সফটওয়্যার ব্যবহার ছাড়া সহজ উপায়ে ডাউনলোডের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি জেনে নিন।

ফেসবুক থেকে যে ভিডিওটি ডাউনলোড করবেন, সে ভিডিওটিতে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে প্রথমে ভিডিও লিংকটি কপি করুন। এবার http://downvids.net সাইটটিতে লিংকটি পেস্ট করুন। এবং ভিডিও কোয়ালিটি পছন্দমতো নির্বাচন করে দিন। এবার ডাউনলোড দিজ ভিডিও নামে যে অপশন আসবে সেখানে মাউসের রাইট বাইন ক্লিক করে সেভ এজ দিলেই ডাউনলোড শুরু হবে।

এছাড়া এই সাইটটিতে কিউআর কোড রয়েছে, যা স্ক্যান করে মোবাইলে ভিডিওটি দেখা যাবে। মোবাইলে ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে downvids অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

http://downvids.net সাইটটি ছাড়াও www.downfacebook.com, http://facebookvideoz.com সাইটগুলোর সাহায্যেও ফেসবুকের ভিডিও লিংক পেস্ট করে সহজে ডাউনলোড করা যাবে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Saturday, 3 December 2016

History and responsibility

প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি : দায়িত্ববোধে আমরাই পিছিয়ে

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:03 Dec 2016   09:07:01 PM   Saturday   ||   Updated:03 Dec 2016   10:36:20 PM   Saturday

হাসান মাহামুদ : জেরুজালেম ইসরায়েলের মানবিক ইতিহাসে সবচেয়ে অন্যতম সংগ্রামী ও প্রাচীন শহর। দুমাস আগে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনেস্কো’ জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে ‘মুসলমানদের পবিত্র স্থান’ বলে ঘোষণা করেছে।

এ ঘোষণার কারণে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রসহ নানা ক্ষেত্রে মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির জন্য সহায়তার পথ প্রশস্ত হবে বলে অনেকেই আশা করছেন। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না ইসরায়েল। এমনকি এই স্বীকৃতির কারণে ইউনেস্কোর সাথে সম্পর্ক ছিন্নও করেছে তারা।

বহু বছর ধরেই মুসলমানদের পবিত্র আল আকসা মসজিদ ও বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের মালিকানা নিয়ে নানা বিতর্ক চলছিল। জাতিসংঘ ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলে-থাকা এ অঞ্চলটিকে অধিকৃত অঞ্চল বলে মনে করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ অঞ্চল থেকে ইসরাইলকে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তে ফিরে যেতে বলেছে বহু বছর আগেই। অথচ বর্ণবাদী ইসরাইল চায় বায়তুল মুকাদ্দাস শহরটিকে কথিত ইহুদি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। অন্যদিকে আল-আকসা মসজিদ তথা মুসলমানদের প্রথম কিবলার শহর বায়তুল মুকাদ্দাসের পূর্বাঞ্চলকে ফিরে পেতে চায় ফিলিস্তিনিরা এবং তারা এ অঞ্চলকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চায়।

যদিও ইসরাইল জাতিসংঘের নতুন মহাসচিবের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সাম্প্রতিক এই ইশতেহারকে অকার্যকর করতে চাইছে। কিন্তু ন্যায়কামী বিশ্ব-জনমত আশা করছে ইউনেস্কো তার স্বীকৃতি বা ইশতেহারটি বাস্তবায়ন করে ফিলিস্তিনে সংস্থাটির অতীতের নানা ভুলের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেবে। বাকিটা আমরা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম আশাবাদীর চোখে।

২০০৫ সালের ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাউল গানকে মানবতার ধারক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। সারা বিশ্বের ৪৩টি বাক ও বিমূর্ত ঐতিহ্য চিহ্নিত করতে গিয়ে ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাউল গানকে বিশ্ব মানবতার ঐতিহ্যের ধারক বলে ঘোষণা দিয়েছিল ‘অসাধারণ সৃষ্টি’ বলে আখ্যা দিয়ে। এরপর বাউল গান নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়।

বাউল গান এ দেশের ঐতিহ্যবাহী লোকায়ত সংগীতের একটি বিশিষ্ট ধারা, বাউল সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাধনগীত। বাঙালি জীবনাদর্শন এবং সংস্কৃতির যে বিকাশ কালে কালে হয়েছে, তারই দেখা মেলে বাউল গানে ও বাউল জীবনাদর্শনে। বাংলার উন্মুক্ত আকাশ, চিরসবুজ প্রান্তর, পাখির কাকলি, নদ-নদীর প্রবাহ, সোনা ফলানো মাটি আর মানুষের জীবন-জিজ্ঞাসা বাউল গানে একাত্ম হয়ে ফুটে ওঠে। আর ফুটে ওঠে সাম্যের কথা, মানবতার কথা। আমরা গর্ব করে বলতে পারি, এখন সারা বিশ্বে মানবতা নিয়ে যে উন্মাদনা, তার ভিত্তি ছিল এ বাংলাদেশে হাজার বছর আগে। বর্তমানে যে কল্যাণকর, অর্থনীতির জয়ঢাক সারা বিশ্বে বাজানো হচ্ছে, তারও ভিত্তি ভূমি ছিল এ বাংলাদেশের পুন্ড্রনগরে- প্রায় দুহাজার বছর আগে।

বাউল গানকে বিশ্বমানবতার ধারক হিসেবে যে স্বীকৃতি ইউনেস্কো দিয়েছে, তা বাউল গানের যোগ্য প্রাপ্তি। এর মাধ্যমে উপরের বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবেই যেন বিশ্ববাসীর কাছে উঠে আসে। এ স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য বিরাট গর্বের। তবে এ স্বীকৃতির সঙ্গে বিরাট দায়িত্বও বর্তায়। এ স্বীকৃতি প্রাপ্তির ১১ বছরের অধিককাল পেরিয়ে গেলেও তেমন কাজ হয়নি।

দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাউল গান সংগ্রহ করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ সব গান অডিও, ভিডিও ও সিডিতে সংরক্ষণ করা আমাদের উচিত ছিল। কিন্তু আমরা তা করিনি। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের বাউল গান যে বিশ্বমানবতার ধারক হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছিল, অনেকে তা জানেনই না। না জানার দুটি যৌক্তিক কারণ হতে পারে- সরকারের প্রচারণার অভাব এবং তথাকথিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে বিজাতীয় সুর ও সংগীতের অনাহুত অনুপ্রবেশের ধাক্কা।

কিন্তু জাতীয় সম্পদ বিবেচনায় এবং স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে আমাদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন ছিল বাউল গান সংরক্ষণে। বাউল গানের বিকাশে বেশির ভাগ কৃতিত্ব লালন সাঁইয়ের। লালন সাঁইকেও তো ভুলে বসে আছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নাট্যকলা বিভাগ এবং বাংলা একাডেমির লোকসাহিত্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বাউল সংগীত সংরক্ষণে। বাউল সংগীত শিল্পী ও বাউল গবেষকদেরও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। বাউল গান বিভিন্ন ভাষায় ভাষান্তর করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

পৃথিবীর বুকে এমন কোনো ইতিহাস নেই, কোনো জাতি তার ভাষার জন্য লড়েছে, প্রাণ দিয়েছে, রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছে। মাতৃভাষায় স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকারের জন্য একমাত্র আমরাই জাতিগতভাবে সংগ্রাম করেছি। অর্ধশতাব্দী ধরে প্রাণের আবেগে উচ্ছ্বসিত হয়ে আমরা মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করছি। আজ এই উদযাপন দেশকালের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বসভায় প্রতিষ্ঠিত। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পৃথিবীতে একমাত্র আমাদের ভাষার দিবস সারাবিশ্বে পালিত হয়। ভাবুন, কত বড় গর্বের বিষয় এটি!

এই মাতৃভাষাকে নিয়ে কাজ করার জন্য দেশে স্থাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। মাতৃভাষা নিয়ে কাজ করার জন্য এমন মানের অন্য একটি ইনস্টিটিউট বিশ্বে আর নেই। গৌরবের বিষয় হচ্ছে, এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটও গত বছরের নভেম্বরে ইউনেস্কোর ক্যাটাগরি-২ ইনস্টিটিউটের স্বীকৃতি লাভ করেছে। এটি একটি অনন্য অর্জন, ভাষা এবং ভাষা নিয়ে কাজ করা সংস্থার আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি বিশ্বে একমাত্র বাংলাদেশের রয়েছে।

একটা বিষয় আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, যে কোনো ধরনের স্বীকৃতি সবসময় দায় এবং দায়িত্ববোধ দুটোই বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, রাজনৈতিক জটিলতা, অবকাঠামোগত সমস্যা, আইনগত দিক দিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের ধীরতা ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যার ফলে আমরা দেখেছি এই ইনস্টিটিউট পুরো দমে চালু করতে সরকারের দশ বছরের বেশি সময় লেগেছিল। এমনকি এখনো এই ইনস্টিটিউট কোনো আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা প্রকাশ করতে পারেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইদানিং নিজস্ব কিছু আলোচনা অনুষ্ঠান পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজন করে। এ ছাড়া সারা বছর এই প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যক্রম থাকে না। এমনকি অপূর্ব সুন্দর স্থাপত্যশৈলীর এই ভবন এবং এর সিঁড়িতেও জমে থাকে ময়লার আস্তর। অথচ ২২টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে এই মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। রয়েছে ভাষা জাদুঘরও।

২০১৩ সালে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। সংস্থাটির আওতাধীন ‘বিশ্বসভ্যতার স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় স্থান পায় আমাদের এই ঐতিহ্যমণ্ডিত পণ্যটি। কিন্তু সরকারিভাবে জামদানির বিকাশ এবং প্রচারণায় কোনো কাজই করিনি। এমনকি যে পণ্যটি তিন বছর আগেই ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছিল, তাকে গত মাসে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন সনদ দিয়েছি আমরা। তাও আবার প্রথম জিআই পণ্য হিসেবে। অর্থ্যাৎ, আমাদের আর কোনো ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য নেই।

আমরা অহঙ্কার করি ইলিশ মাছ নিয়ে। এই মাছও কিন্তু আমাদের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য নয়। সর্বশেষ গত সপ্তাহে বাংলা বর্ষবরণের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’-কে মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। অথচ এই মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের জাতীয় ঐহিত্যবাহী জিনিসের তালিকায় নেই। আসলে তালিকায় নেই বললে ভুল হবে। কারণ আমরা মনে করতে পারি, অবশ্যই এটি আমাদের ঐতিহ্যবাহী জিনিস, চিরাচরিত উৎসবের অংশ। তালিকায় নেই বললে, অনেকে এটি নিয়ে তর্কও করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের কোনো ‘ন্যাশনাল ইনভেন্টরি’ই নেই। অর্থ্যাৎ তালিকাই নেই। তালিকা যদি না থাকে, তালিকায় নাম থাকবে কীভাবে?

আমাদের এই দৈন্যতার কথা এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে গেছে যে, আমাদের ন্যাশনাল ইনভেন্টরি নেই। ইউনেস্কোও বাংলাদেশের এই  সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, নিজেদের ঐতিহ্যবাহী উপাদানগুলোকে আগে বাংলাদেশের স্বীকৃতি দিতে হবে। সে লক্ষ্যে একটি ন্যাশনাল ইনভেন্টরি বা জাতীয় পরিসংখ্যানপত্র তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। এমনকি সংস্থাটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, ‘সামান্য এই কাজ সম্পন্ন করা গেলে পাইপ লাইনে থাকা আরো কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জন করতে পারবে’।

শুধুমাত্র এসব কারণেই আমাদের বাংলাদেশের মৌলিক সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী অংশ নকশীকাঁথা এবং যাত্রাপালা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়নি।

ইউনেস্কোর দায়িত্ব হচ্ছে সহিষ্ণুতা ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধার প্রসার ঘটানো। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের অসংখ্য উপাদান। সংশ্লিষ্ট দেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এসব উপাদান যাচাই-বাছাই ও সুনির্দিষ্ট করে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরার কাজ করছে ইউনেস্কো। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির স্বীকৃতি লাভের মধ্যদিয়ে একটি দেশ ওই উপাদানের আঁতুড়ঘর হিসেবে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপিত হয়। মর্যাদা লাভ করে। কিন্তু শুধু স্বীকৃতি পেয়ে খুশি হয়ে বসে থাকলে চলে না। বাউল গানের স্বীকৃতি পেয়েছি আমরা ১১ বছর আগে। কিন্তু বাউল গান নিয়ে সরকারের আগ্রহ এবং কর্মসূচি সর্ম্পকে আমরা খুব বেশি দেখিনি।

আর নিজের দেশেই যদি গুণীর কদর না করা হয়, ঐতিহ্যের স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তাহলে বিশ্ব দরবারে তা মাথা তুলে কিভাবে দাঁড়াবে? ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর পাঁচটি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। অন্যতম প্রধান শর্ত-যে দেশের উপাদান সে দেশকে ওই উপাদানের স্বীকৃতি দিতে হবে আগে। প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, উপাদানটি ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে ওই দেশে স্বীকৃত। আর এ জন্য সে দেশের একটি ন্যাশনাল ইনভেন্টরি বা জাতীয় পরিসংখ্যানপত্র থাকতে হবে।

এ জায়গাটিতে এখনও কাজ বাকি আছে বাংলাদেশের। পূর্ণাঙ্গ ন্যাশনাল ইনভেন্টরি তৈরি হয়নি। ন্যাশনাল ইনভেন্টরি না থাকায় এবং দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ আবেদন ফাইলের কারণে গত দুই বছর বাংলাদেশর অর্জন ছিল শূন্য। জাতীয় স্বার্থে হলেও আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যগুলোর দিকে তাকানো উচিত। একটি ন্যাশনাল ইনভেন্টরি করা উচিত। আগের দেশের ঐতিহ্যকে দেশে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তাহলে বিশ্বজয়েও আমাদের সময় লাগবে না।

লেখক : সাংবাদিক।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ ডিসেম্বর ২০১৬/হাসান মাহামুদ/সাইফ

Skin care of winter M

শীতে পুরুষের ত্বকের যত্ন

আতিকুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:03 Dec 2016   02:38:11 PM   Saturday   

মডেল: তূর্য, ছবি: অপূর্ব খন্দকার

আতিকুর রহমান : আসি আসি বলে শীত কড়া নাড়ছে দরজায়। এখন শুরু হয়ে যাবে ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, ফাটা ঠোঁটের শুকনো হাসি। পায়ের গোড়ালি ফেটে চামড়া উঠা।

শীত মানেই ত্বকের নানান সমস্য। শীত এলেই শুধু মেয়েদের ত্বকের বাড়তি যত্ন নিতে হয়, তা কিন্তু নয় বরং ছেলেদের ত্বকেরও নিতে হয় বাড়তি যত্ন। আসুন জেনে নেওয়া যাক।

ত্বক:
শীতে ত্বক শুষ্ক হয় বেশি। পুরুষেরা বাইরে যান নিয়মিত, থাকেনও বেশি। শীতের শুষ্ক পরিবেশে বাতাসে প্রচুর ধুলা থাকায় রোমকূপে ময়লা বেশি জমে। তাই সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। এর জন্য প্রতিদিন সকালে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। মুখ পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করতে পারেন কুসুম গরম পানি। মুখ পরিষ্কার করার পর টানটান ভাব দূর করার জন্য ভেজা ভাব থাকা অবস্থায়ই ব্যবহার করুন আপনার ত্বক অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ক্রিম। ত্বকের টানটান ভাব বেশি হলে গুড়া দুধ, মধু, আমন্ড অয়েল মিশিয়ে ১০ মিনিট লাগিয়ে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দু-তিনবার করতে পারেন, ভালো ফল পাবেন। শীতে তৃষ্ণা কম পায় বলে পানি কম খাবেন না, পর্যাপ্ত পানি পান ও শাকসবজি খেলে ত্বকে মসৃণতা বজায় থাকবে।

হাত-পা:
শীতে শরীর ও হাত-পা শুষ্ক হয়ে যায়। গোসলের পরে হালকা ভেজা শরীরে লোশন, অলিভ অয়েল, গ্লিসারিনের সঙ্গে পানি বা গোলাপ জল মিশিয়ে লাগাতে পারেন। পা ফাটা বেশি থাকলে পা ফাটা রোধক ক্রিম ব্যবহার করুন। প্রতিদিন গোসলের সময় শক্ত কিছু দিয়ে পায়ের গোড়ালি একটু ঘষে নিতে পারেন, এতে মৃত কোষগুলো উঠে যাবে। রাতে শোবার আগে হাত-পায়ের আঙুলের ফাকে লোশন বা অলিভ অয়েল লাগিয়ে নিন।

শেভিং:
শেভ করার পূর্বে ত্বক খানিক সময় ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ফোম দিয়ে শেভ করুন। শেভ শেষে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। এ সময় আফটার শেভ বাম লাগাতে পারেন। এর পরেও ত্বক বেশি শুষ্ক লাগলে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত লোশন লাগাতে পারেন।

ঠোঁট
: ঠোঁট ফাটা বন্ধ করতে বাজারে যে গ্লিসারিন সমৃদ্ধ লিপবাম পাওয় যায়, তা ব্যবহার করুন। কিংবা রাতে মধু, গ্লিসারিন মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে ঘুমাতে যান।

চুল:
শীতের সময় রোদে বেশি থাকা, গরম পানি দিয়ে গোসল ও পানি কম খাওয়া হয়। ফলে মাথার তালু আর চুল আদ্রর্তা হারাতে থাকে। রুক্ষ হয়ে যায় চুল, খুশকিও একটা বড় সমস্য হয়ে দেখা দেয়। বেশি খুশকি থাকলে মেহেদিপাতা বাটা, টক দই, ডিমের সাদা অংশ ও আধা চা-চামচ মেথি বাটা মিশিয়ে আধ ঘণ্টা চুলে লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের জেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

How to sleep and time !!!!!!!!!

কখন, কোথায়, কীভাবে ঘুমাবেন

ফজলে আজিম : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:04 Dec 2016   07:36:16 AM   Sunday   ||   Updated:04 Dec 2016   08:13:14 AM   Sunday

প্রতীকী ছবি

ফজলে আজিম : সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ঘরে ফিরতেই মন চায় একটু বিশ্রাম, আর সেজন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হচ্ছে ঘুম।

অনেকে আছেন অফিস কিংবা ক্লাস থেকে ফিরে বাইরের পোশাক পরিবর্তন না করেই ঘুমিয়ে পড়েন। এসব কিছুর মূলে একটিই কারণ। তা হচ্ছে শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ। ঘুমের মাধ্যমে ক্লান্তি দূর হয়ে ও মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম পায়।

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমের দরকার হয়। এতে করে দেহ ও মনের ক্লান্তি দূর হয়। মেজাজ ফুরফুরে থাকে। ঠিকমতো ঘুম না হলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। কাজেও মন বসানো সহজ হয় না। ঘুমের মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দেখা যেতে পারে।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘুম সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

কখন ঘুমাবেন?
দুপুরের খাবার পর কিছু সময় ঘুমানো ভালো। পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের ঘুম আপনাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা হতে সহায়তা করবে। এতে করে আপনার চিন্তাশক্তি ও কাজের গতি দুটোই বাড়বে। যদিও অধিকাংশ অফিসে দুপুরের বিরতিতে ঘুমানোর সুযোগ থাকে না।

রাতের ঘুম যত তাড়াতাড়ি ঘুমানো যায় ততই ভালো। বিদূষী নারী খনার বচনে আছে, ‘সকালে ঘুমায় আর যে সকালে উঠে তার কড়ি বৈদ্য না লুটে।’ আর তাই রাত ১১টার মধ্যে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। দেরিতে ঘুমালে ঘুম থেকে উঠতে ও দেরি হয়। আমাদের চারপাশে যারা সফল মানুষ তারা সবসময় ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন।

রাত ১০টার পর স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ব্যবহার না করাই ভালো। দীর্ঘ সময় টিভির পর্দা কিংবা মোবাইলের ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে থাকলে পিনিয়াল গ্ল্যান্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে মেলাটনিন হরমোন নি:সরণে অসুবিধা হয়। এতে করে ঘুম ভালো হয় না। অন্ধকার কক্ষ ঘুমের জন্য বেশি উপযোগী। 

কীভাবে ঘুমাবেন?
চিৎ হয়ে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এতে করে শরীরের কোথাও অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। এ সময় দুই পায়ের পাতা দুদিকে ছড়িয়ে দিন। দুই পায়ের মাঝে কিছুটা গ্যাপ রাখতে পারেন। কারো কারো ক্ষেত্রে এতে নাকডাকার সমস্যা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে স্থূলাকারদের।

অনেকে ঘুমানোর সময় উপুড় হয়ে ঘুমান। এ প্রক্রিয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এতে করে পেট ও পাকস্থলির ওপর চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে পাকস্থলির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যায়।

ঘুমানোর সময় খেয়াল রাখুন যাতে আপনার বিছানার সঙ্গে বালিশের সামঞ্জস্য থাকে।  মাথার নিচে একাধিক বালিশ ব্যবহারে কারো কারো ক্ষেত্রে ঘাড়ব্যথা করতে পারে। নিজের বালিশ অদল-বদল না করাই ভালো।

একপাশে কাত হয়ে ঘুমানোর সময় দুই হাঁটুর মাঝে ছোট বালিশ কিংবা কোল বালিশ রাখতে পারেন। এতে শরীরে রক্তসঞ্চালনে ভারসাম্য বজায় থাকবে। শুধু একপাশে কাত হয়ে না ঘুমিয়ে এপাশ ওপাশ করে ঘুমাতে পারেন।

কোথায় ঘুমাবেন ?
সবসময় একই জায়গায় ঘুমানোর অভ্যাস করুন। এতে করে সহজেই ঘুম আসবে এবং খুব ভালো ঘুম হবে। অপরিচ্ছন্ন জায়গায় ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঘুমানোর আগে বিছানা পরিষ্কার করে নিন। অপরিচ্ছন্ন বিছানায় ঘুমালে অ্যালার্জি কিংবা চর্মরোগের আশংকা থাকে। এতে করে ঘুমও ভালো হয় না।

নরম তুলতুলে বিছানার চেয়ে শক্ত বিছানা ঘুমের জন্য ভালো। নরম বিছানায় ঘুমালে স্পাইনে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য থাকে না। এতে করে ঘাঁড়, পিঠ ও মেরুদণ্ডে ব্যথা বেদনা দেখা যেতে পারে। যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে তারা বিছানার নিচে শক্ত কিছু ব্যবহার করতে পারেন।

লেখক: ইয়োগা ও বজ্রপ্রাণ প্র্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ব্যুত্থান ফেডারেশন
রেইকি প্র্যাকটিশনার (সেকেন্ড ডিগ্রি)
 রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ
পড়ুন : * ৬০ সেকেন্ডে ঘুম!

৬০ সেকেন্ডে ঘুম!

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:19 May 2016   11:56:33 AM   Thursday   ||   Updated:22 May 2016   08:26:11 PM   Sunday

প্রতীকী ছবি

লাইফস্টাইল ডেস্ক : অনিদ্রায় যারা ভোগেন তারাই এর যন্ত্রণা বোঝেন। সারারাত এপাশ ওপাশ করে কাটিয়ে দেন ঘুমের আশায়। কিন্তু চোখে ঘুম আসে না।

আপনার যদি ঘুম না আসার সমস্যা থাকে, তাহলে আপনার জন্য একটা সুখবর আছে। আর তা হচ্ছে, মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার চোখে ঘুম চলে আসবে, নতুন ও খুবই কার্যকর একটা কৌশল অবলম্বন করলেই।

ঘুমের সমস্যায় ভোগা মানুষদের জন্য হার্ভার্ডের প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ড. অ্যান্ড্রু ওয়েল উদ্ভাবন করেছেন ৪-৭-৮ মেথড। তিনি এই মেথডকে ‘স্নায়ুতন্ত্রের জন্য প্রাকৃতিক ঘুমের ঔষধের’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এক্ষেত্রে তিন ধাপের সহজ একটি অনুশীলন করা লাগবে। ৬০ সেকেন্ডে ঘুমানোর ‘৪-৭-৮ মেথড’ নামক এই মেথডে আপনাকে যা করতে হবে তা হচ্ছে-

* প্রথমে আপনার মুখ বন্ধ করুন এবং ১ থেকে ৪ পর্যন্ত গুনুন মনে মনে ও শান্তভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নিন অর্থাৎ ৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে ভালো করে শ্বাস নিন।

* এরপর ১ থেকে ৭ পর্যন্ত মনে মনে গুনুন ও ওই সময়ে শ্বাস ধরে রাখুন। অর্থাৎ ৭ সেকেন্ড শ্বাস ছাড়বেন না।

* তারপর ৮ সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে বড় শ্বাস ছাড়ুন হুঁশ শব্দে।

তিন ধাপের এই অনুশীলনটি মোট ৪ বার সম্পন্ন করে ঘুমাতে যান। ঘুম চলে আসবে।

ড. অ্যান্ড্রু ওয়েল বলেন, ‘এই ব্যায়ামটি প্রতিদিন দুইবার করে ছয় থেকে আট সপ্তাহ করলে মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া পুরোপুরি আয়ত্ত্বে চলে আসবে। শরীর ও মন থেকে মানসিক চাপ কমাতে এটি খুবই কার্যকরী একটি মেথড।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ মে ২০১৬/ফিরোজ


* অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাবে যা ঘটে

অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাবে যা ঘটে

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:17 Oct 2016   08:18:11 AM   Monday   ||   Updated:19 Oct 2016   12:57:19 PM   Wednesday

প্রতীকী ছবি

আফরিনা ফেরদৌস : একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুমের দরকার। অনেকে আছেন রাতে বসে বসে ঝিমুতে থাকেন তবু ঘুমাতে যান দেরি করে। অনেকে মনে করেন কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়েও তো ভালোভাবে সারা দিন কাজ করা যায়, তাহলে দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমানোর কী দরকার। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাবে বেশ কিছু সমস্যা হয়।

এই সমস্যাগুলো কিন্তু এক বা দুই দিনের অপর্যাপ্ত ঘুমের জন্য খুব একটা বোঝা যায় না। তবে আপনি যদি রাতের পর রাত অপর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান, তাহলে সমস্যাগুলো দেখা দেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময়ের দরকার হবে না।

আমেরিকার একজন নাগরিক র‌্যান্ডি গার্ডনার বিশ্বাস করতেন না যে, সুস্থ থাকার জন্য ঘুমের দরকার রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজেই নিজের ওপর একটি পরীক্ষা করেন। তিনি প্রায় ১১ দিন না ঘুমিয়ে ছিলেন। তাও আবার কোনো প্রকার ওষুধ, মাদক বা অন্য কোনো সহায়ক ছাড়া। কিন্তু একসময় ‌র‌্যান্ডিকে হার মানতেই হয়। তবে তিনি যখন হার মেনেছিলেন তখন তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। প্যারানোয়া, হ্যালুসিনেশন, এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ইন্দ্রিয়গত সমস্যা দেখা দেয় তার এবং খুব দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।

রাতে একটি ভালো ঘুমের যে কী পরিমাণ দরকার তা নতুন করে বোঝানোর মতো কিছু নেই। তবে অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে আপনার শরীরে অনেক প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক দুর্ঘটনার শিকারও হতে পারেন আপনি। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই খারাপ প্রভাব এবং দুর্ঘটনা সম্পর্কে।

প্রচণ্ড ক্ষিপ্ততা
প্রথমত অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে আপনার মানসিক বেশ একটা পরিবর্তন দেখা যাবে। মনে হতে পারে ঘুমানো দরকার বা কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করবে না। কিন্তু যখনই কোনো কাজ আপনার মনের মতো হবে না তখন আপনি হঠাৎ করে অনেক শক্তি পেয়ে যাবেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবেন। এটা মূলত অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে হয়। এই ক্ষিপ্ততা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে যদি আপনি নিয়মিত কম ঘুমান।

মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু
সারা দিনের ব্যস্ততার প্রভাব রাতে ঘুমের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে অনেকে কাজের পরিকল্পনা করতে থাকেন। যা আপনার মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে অকেজো করে দিচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি প্রমাণিত যে, দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে মস্তিষ্কের প্রায় ২০% অকেজো হয়ে পড়ে। বা প্রায় ২০ শতাংশ মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

ঝুঁকিপূর্ণ অনুভূতি
অপর্যাপ্ত ঘুম কি মানুষের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে? হ্যাঁ, করে। এবং খুব খারাপভাবে অপর্যাপ্ত ঘুম আমাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। একটি গবেষণার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে মানুষের অনুভূতির সংবেদনশীলতা কমে যায়।

খাদ্যাভ্যাস 
অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে দিনের বেলা তন্দ্রা আসতে থাকে। এই তন্দ্রার ওপর আমাদের একপ্রকার নিয়ন্ত্রণ থাকে। তখন এই তন্দ্রা এড়ানোর জন্য আমরা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করি। কেউ অনিয়মিত খাবার গ্রহণ করেন। কেউ বেশি বেশি সিগারেট খেতে থাকেন, যাতে করে ঘুমের তন্দ্রা না আসে। মূলত এটি একটি বাজে খাদ্যাভ্যাস তৈরি করে।

পরিকল্পনাহীনতা
প্রায় ৩৬ ঘণ্টা যদি আপনি না ঘুমিয়ে কাটান তাহলে আপনার মস্তিষ্ক কোনো কিছু পরিকল্পনা করার ক্ষমতা হারায়। যেমন কাজের ক্ষেত্রে বারবার থেমে যেতে হয় এবং বেশ সময় নিয়ে চিন্তা করতে হয় যে, ঠিক কীভাবে এই কাজটা করবেন। কারণ আপনার মস্তিষ্ক দ্রুত পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হয়। এতে অনেক সময় জানা জিনিসও ঠিকভাবে করা যায় না।

মনোযোগ হারিয়ে ফেলা
দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে থাকলে আপনার যেসব মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে তার মধ্যে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা অন্যতম। কোনো কাজ করতে করতে হঠাৎ অন্য কথা মনে পড়তে পারে বা অনেক সময় ধরে একই কাজ করছেন কিন্তু কী কাজ করছেন তা ভুলে যেতে পারেন।

স্মৃতিশক্তির বিলুপ্তি
অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে স্মৃতিশক্তির বিলুপ্তি ঘটতে পারে। খুব সহজেই বা অল্প সময়ে আপনি অনেক প্রয়োজনীয় সব তথ্য ভুলে যেতে পারেন।

দুর্বল মস্তিষ্ক
কাজের জন্য আপনি কম ঘুমাচ্ছেন? কিন্তু এটি জেনে আপনি খুব হতাশ হবেন যে, আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে কম ঘুমের কারণে কম দক্ষ করে তুলছে। কাজের সময় খুব অল্পতে আপনার মধ্যে ক্লান্তি, গ্লানি দেখা দিতে পারে কম ঘুমের কারণে। আপনি কাজে খুব দক্ষ হতেই পারেন কিন্তু কম ঘুমের কারণে দুর্বল মস্তিষ্ক আপনার কাজের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি
স্বল্প ঘুমের কারণে আপনার দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিও স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিতে পরিণত হয়ে যায়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে কোনো কথা বা কাজ বেশিক্ষণ মনে থাকে না। ফলে স্মৃতিসমূহ স্বল্পমেয়াদি হয়ে যায়, যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর আর মনে থাকে না।

দুর্ঘটনা
অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে সকালে যখন আপনি গাড়ি বা বাইক চালিয়ে অফিসে যান, তখন ঘুমের তন্দ্রা আসতে পারে এবং যা থেকে ঘটতে পারে নানান দুর্ঘটনা। যা অনেক সময় আপনার মৃত্যুর কারণও হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান। 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ অক্টোবর ২০১৬/আফরিনা/ফিরোজ/এএন

Friday, 2 December 2016

Breath ok info

শ্বাস-প্রশ্বাসকে ঠিক রাখার খাবার

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৬-১২-০২ ৯:১০:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১২-০৩ ৮:৪০:১৯ এএম


আফরিনা ফেরদৌস : আমরা সবাই কমবেশি সতেজ বাতাসের শ্বাস নিতে চাই। কারণ এটি আমাদের শরীরের ভেতর একটি অকৃতিম অনুভূতির সৃষ্টি করে।

তবে ঠান্ডা লাগলে বেশিরভাগ মানুষেরই শ্বাস-প্রশ্বাসজনীত সমস্যা দেখা দেয়। আর এর জন্য আমরা ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। কিন্তু আপনি জানেন কি যে, এমন অনেক খাবার আছে যা খেলে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসজনীত সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক এই খাবারগুলো সম্পর্কে, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসকে সুস্থ ও সতেজ রাখে।

আপেল

একটি ব্রিটিশ গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা নিয়মিত আপেল বা আপেলের জুস পান করেন তাদের শ্বাসজনীত সমস্যা কম। আরো বলা হয় যে, যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন আপেল খান তাদের বাচ্চাদের অ্যাজমা বা শ্বাসজনীত সমস্যা হয় না। আপেলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফেনোলিক এসিড থাকে যা শ্বাসনালীর ইনফেকশনকে রোধ করে।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল এবং ক্যানোলা অয়েলে প্রচুর পরিমাণ মোনো এবং পলি আনস্যাটুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। যা শুধু আপনার ত্বক, চুল ও হার্টের জন্য নয় বরং ফুসফুসের জন্যও বেশ ভালো। ডাক্তার নরমান বলেন, অলিভ অয়েল শরীরের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কার্যক্রম উন্নত করে। সাধারণভাবে আপনি অলিভ অয়েল দিয়ে সবজি রান্না করে অথবা সালাদে অলিভ অয়েল মিশিয়ে খেতে পারেন।

কফি

আপনার যদি অ্যাজমার সমস্যা থেকে থাকে সেক্ষেত্রে কফি আপনাকে সাহায্য করতে পারে। কফি বন্ধ নাক খোলার কাজে বেশ বড় ভুমিকা পালন করে। ডাক্তার মেঞ্চ বলেন, কফি এক ধরনের হালকা ব্রোঙ্কোডিলেটর হিসেবে কাজ করে তাই বলে এটাকে ইনহিলারের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।

মাছ

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবারের মুল উৎস হল মাছ। যা আমাদের শরীরে ইনফেকশন হওয়া রোধ করে। ডাক্তার ইডেলমান বলেন, ইনফেকশন বর্তমান জীববিজ্ঞানের সব থেকে খারাপ রোগ। রোচেস্টার ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা থেকে বলা হয়, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তা প্রদাহ হওয়া রোধ করে।

গ্রীন টি

এক মগ সম্পূর্ণ গ্রীন টি ভালো অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস, যা শরীরকে শান্ত করে তোলে। এছাড়া এটি প্রদাহ কমাতে এবং শরীরের হিলিং পাওয়ার বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শস্য দানা

শস্য দানা দেখতে বেশ ছোট হলেও এর খাদ্য গুণ অনেক বেশি। এটি ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় কাজ করে। শস্য দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম এবং মিনারেল থাকে যা একজন অ্যাজমা রোগীর জন্য বেশ ভালো। তাই শ্বাস-প্রশ্বাসকে সুস্থ রাখতে চাইলে প্রতিদিন অন্তত এক মুঠ শস্য দানা খেতে ভুলবেন না।

কমলা রঙের ফল ও সবজি

কমলা রঙের ফল এবং সবজি যেমন মিষ্টি কুমড়া, কমলা লেবু এবং পেঁপে আমাদের ফুসফুসের জন্য বেশ উপযোগী খাবার। এই খাবারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন রয়েছে, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

রসুন

মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও রসুনের রয়েছে অনেক গুণ। এটি ফুসফুসের জন্য বেশ ভালো। একটি চাইনিজ গবেষণা থেকে বলা হয়, যারা নিয়মিত শুধু তিনটি রসুনের কোয়া খান, তাদের ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ কম। এছাড়া এটি প্রায় ৩০ শতাংশ ধূমপান রোধ করে। ডাক্তার ইডিলমান বলেন, আপনি যদি ধূমপান সাময়িক বন্ধ করতে চান তাহলে নয় বরং পুরোপুরি ছাড়তে চাইলে প্রতিদিন কাঁচা রসুন খান।

তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ