Monday, 14 November 2016

Earth quack and save animal life video


Earth quack and save animal life video 

ভূমিকম্পের পর অলৌকিক বেঁচে থাকা (ভিডিও)

মারুফ খান : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:14 Nov 2016   07:29:26 PM   Monday   ||   Updated:15 Nov 2016   08:39:07 AM   Tuesday
ভূমিকম্পের পর অলৌকিক বেঁচে থাকা (ভিডিও)
সাতসতেরো ডেস্ক : গত রোববার মধ্যরাতে নিউজিল্যান্ডে আঘাত ঘানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এরপর সুনামি ও দফায় দফায় ভূমিকম্পে বিপর্যন্ত দেশটি।

ভূমিকম্পের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেশটির জনগণ তো বটেই গবাদিপশুও দুরবস্থার শিকার হয়েছে। তাদের বিপত্তিও উঠে এসেছে সংবাদ শিরোনাম হয়ে।

ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ভূমিকম্পের বিভিন্ন ভিডিও। তেমনই প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় দুইটি গরু একটি বাছুরসহ একটি টিলায় আটকা পড়েছে। ভূমিকম্পের কারণে সেই টিলার চারপাশ ধসে গেছে। ফলে ছোট একটি উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে গবাদি পশুগুলো অসহায় অবস্থায়। আজ সোমবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভিডিওটি নিউজিল্যান্ডের কাইকোওরার উত্তর অংশ থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  

কাইকোওরা নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের পূর্বঅঞ্চলে অবস্থিত। ভূমিকম্পের কারণে শহরের প্রবশে পথ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধার কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। হেলিকপ্টার থেকেই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। এবং এ দৃশ্য দেখে অনেকেই বিষয়টি অলৌকিক মনে করছেন। কারণ টিলার ওপর গবাদি পশুগুলো থাকা অবস্থাতেই ভূমিকম্প হয়। ভাগ্যগুণে আশপাশের এলাকা ধসে গেলেও টিলার ওই সামান্য অংশটুকু অক্ষত আছে। আর সেখানেই আটকা পড়েছে গবাদি পশুগুলো।

ভিডিও……

 http://www.risingbd.com/%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A7%97%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%93/210110

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ নভেম্বর ২০১৬/মারুফ

Food for life and time pass

ক্ষুধায় যখন তখন

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:14 Nov 2016   07:54:23 AM   Monday   ||   Updated:14 Nov 2016   02:23:26 PM   Monday
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আফরিনা ফেরদৌস : ক্ষুধা মানুষের সাধারণ প্রবৃত্তি। ক্ষুধার তাড়না থেকেই মানুষের চাহিদা এবং জীবিকার জন্ম। ক্ষুধা নিবারণের জন্যই মানুষ খাবার খায়। তবে সেই খাবারকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে।

খাদ্য শুধু মানুষের ক্ষুধা নিবারণ করে না বরং মানুষের শরীরে শক্তি যোগায়। তাই ক্ষুধা লাগলে বাইরের জাঙ্ক ফুড বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া ভালো। তার থেকে সঙ্গে রাখতে পারেন কিছু বিশেষ খাবার যা আপনার ক্ষুধা মেটাবে আবার স্বাস্থ্যকর হবে।

আর যদি বাড়িতেই থাকেন তাহলে ঝটপট হাতের কাছে তৈরি রাখুন কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার। যাতে ক্ষুধা লাগলে যখন তখন খেতে পারেন। আসুন জেনে নিই এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।

বাদাম
বাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার রয়েছে। এটি খুব দ্রুত ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করে। অবশ্য অসাময়িক ক্ষুধা মেটানোর জন্য অনেক খানি বাদাম খাওয়ার দরকার হয় না। খুবই পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার হচ্ছে বাদাম। প্রতিদিন অন্তত ৭টি করে বাদাম খেলে মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং এটি ক্যানসার ও আরথ্রাইটিসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফল
আপনি যদি হালকা নাস্তাতে বা যখন তখন ক্ষুধায় কিছু খাবার চেয়ে থাকেন তাহলে ফল খেতে পারেন। স্বাদ এবং স্বাস্থ্য দুটোই বজায় থাকবে। বিশেষ করে আপেল। বলা হয়ে থাকে যে, প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে শরীরে অনেক রোগ বাসা বাধতে পারে না। এর সঙ্গে যোগ করতে পারে নাট বাটার বা বাদামের মাখন। এটিও খেতে অনেক সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর।

পনির
যখন তখনকার ক্ষুধায় খেতে পারেন এক টুকরা বা স্লাইস পনির। পনিরে প্রচুর ফাইবার থাকে এবং এর অল্প পরিমাণ অংশই আপনাকে ক্ষুধা মুক্ত করে দিতে পারে মুহূর্তে। নিয়মিত পনির খাওয়া হাড়ের জন্য বেশ ভালো। তবে যারা ওজন কমানোর চিন্তা করছেন বা অন্য শারীরিক আছে তারা এই খাবারগুলো বেশ সাবধানতার সঙ্গে বাছাই করুন।

দই
হালকা খাবার হিসেবে দই বেশ ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। আপনি মিষ্টি এড়াতে চাইলে টক দই খেতে পারেন। আর যদি স্বাদ বাড়াতে চান তাহলে এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন আপনার পছন্দের ফলের টুকরা। দই হজমের জন্যও বেশ ভালো। তাই কোনো বেলায় যদি ভারী খাবার খান এবং পরের বেলার খাবার বাদ দিতে চান সেক্ষেত্রে দই খেতে পারেন। দই পরিমাণে বেশি খেলে সমস্যা নেই তবে টক দইটাই বেশি ভালো।

সবজি
হালকা ক্ষুধায় সবজি খাবেন কথাটা শুনলেই অনেকে হেসে দেন। তবে জেনে রাখুন সবজি সব থেকে ভালো খাবার। যারা ওজন কমাতে চান ডাক্তাররা তাদেরকে বলেন সকাল বা রাতের খাবার বাদ না দিয়ে বরং শুধু সবজি খান। সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে যা অল্প পরিমাণ খেলেই এক বেলার খাওয়ার সমান হয়ে যায় কিন্তু ক্যালরি একেবারেই কম। আর আপনার সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসকল ভিটামিন এবং মিনারেল দরকার তার সবই আছে সবজিতে। তাই নির্দ্বিধায় অল্প ক্ষুধায় খেতে পারেন সবজি।

শুকনা খাবার
শুকনা খাবার বা ড্রাই ফুড আপনার যখন তখন ক্ষুধার সঙ্গী হতে পারে। চেষ্টা করুন বাসায় এই শুকনা খাবারগুলো বানাতে। যেমন অল্প কিছু উপাদান দিয়েই বানাতে পারেন বিস্কুট অথবা ক্রাকারস। আপনি চাইলে এর সঙ্গে পছন্দের ফ্লেবার বা ফল যোগ করতে পারেন। মিষ্টি অথবা নোনতা বানাতে পারেন। এছাড়া ড্রাই ফ্রুটও রাখতে পারেন হাতের কাছে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

machine can read physical problem.

শারীরিক সমস্যা জানাবে পল্লবের উদ্ভাবিত যন্ত্র

স্বপ্নীল মাহফুজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:14 Nov 2016   01:59:28 PM   Monday   ||   Updated:14 Nov 2016   05:16:02 PM   Monday
উদ্ভাবিত নতুন যন্ত্র এবং পল্লব কুমার গাইন

উদ্ভাবিত নতুন যন্ত্র এবং পল্লব কুমার গাইন

স্বপ্নীল মাহফুজ : পল্লব কুমার গাইন, খুলনার নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি তার উদ্ভাবিত যন্ত্র সাড়া ফেলেছে। তার আবিষ্কৃত যন্ত্র মুহূর্তেই জানিয়ে দেবে শরীরের কোন অংশ কতটুকু সুস্থ আছে অথবা কোন অংশে কি ধরনের সমস্যা থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে পল্লবের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘আমাদের কোনো অঙ্গে কোনো প্রকার সমস্যা হলে আমরা সেটা টের পাই। কারণ আমাদের সমস্ত অঙ্গগুলো স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত৷ যখনই দেহের কোনো অঙ্গে সমস্যার সৃষ্টি হয়, তখনই তা স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠাতে থাকে৷

কিন্তু এই সংকেতের মান খুব জোরালো না হলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারেনা৷ যার ফলে আমাদের অগোচরেই কোনো অঙ্গ সমস্যায় থাকলেও আমরা বুঝতে পারিনা যতক্ষণ না সেখানে তা বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে৷ যখন বুঝতে পারি তখন অনেক সময় আমাদের আর করার কিছুই করার থাকেনা, জটিল শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কেননা সেসময় উচ্চমাত্রায় সংকেত মস্তিষ্কে পাঠায় বলে আমরা বুঝতে পারি সমস্যাটা৷

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষে কাজ শুরু করি৷ মানুষের নিউরাল সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারি, যখন কোনো একটা অঙ্গ থেকে কোনো একটা স্নায়ু মস্তিষ্কে যায় তখন সেটা অনেক শাখা প্রশাখায় ভাগ হয়ে যায়, ওই শাখা প্রশাখাগুলো দেহের বিভিন্ন অংশে এসে উন্মুক্ত হয়৷ এমনই ভাবে দেহের ৬৭টা অঙ্গের কানেকশন আমাদের বাম হাতের তালু ও পিঠে উন্মু্ক্ত হয়৷ যে পয়েন্টগুলাতে ওই স্নায়ু উন্মুক্ত হয় তাকে আমরা অ্যাকুপয়েন্ট নামে চিনি৷

ওই পয়েন্টগুলা থেকে আমরা সংকেতটা পেতে পারি যেটা মস্তিষ্কের জন্য পাঠাচ্ছিল কোনো দূর্বল অঙ্গ৷ অঙ্গটার সমস্যা যতই প্রাথমিক পর্যায়ের হোক না কেন, এখান থেকে ইলেকট্রনিক্স বর্তনির মাধ্যমে আমরা সেটা শণাক্ত করতে পারি৷’

অঙ্গের অবস্থা নির্ণয় করার পদ্ধতি
প্রথমে যে অঙ্গের অবস্থা নির্ণয় করতে হবে সেই অঙ্গের সংশ্লিষ্ট পয়েন্টে যন্ত্রের একটা নির্দিষ্ট প্রোব স্থাপন করতে হবে৷ যন্ত্র ওখান থেকে সংকেত গ্রহণ করে সেটাকে কয়েকটা ধাপে ব্যবহারের উপযোগী করে৷ এর মধ্যে থাকা প্রোগ্রামেবল ইন্টেগ্রেটেড সার্কিটের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে সেই তথ্য ব্লুটুথ সিস্টেমের মাধ্যমে পাঠায় একটা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল/ট্যাবে৷

অ্যান্ড্রয়েডের জন্য একটা অ্যাপ্লিকেশনও তৈরি করেছে পল্লব, যেটা ওই তথ্য নিয়ে আবারও বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারিকে শতকরার মাধ্যমে দেখিয়ে দেবে, যে পয়েন্টে সমস্যা ধরা হয়েছে তা যে অঙ্গের, সেই অঙ্গটির শতকরা কত শতাংশ সমস্যায় আছে৷

এই যন্ত্র যে কাজ করতে পারবে তা হল- দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো কেমন আছে তা নির্ণয় করা যাবে, দেহের কোথাও ব্যথা থাকলে যন্ত্রটির মাধ্যমে ব্যথা কমানো যাবে, অ্যালার্জির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, অ্যাজমার সমস্যা কমানো যাবে।

এই উদ্ভাবন নিয়ে সম্প্রতি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তি উৎসবে হার্ডওয়্যারে বিভাগে প্রথম রানার্সআপের পুরস্কার জিতে নেয় পল্লবের টিম গ্রিন টেক।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

life and save by hard work

চোখের পলক ফেলতে দেবে না যে ভিডিও

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:09 Nov 2016   01:14:54 PM   Wednesday   ||   Updated:09 Nov 2016   07:50:54 PM   Wednesday
চোখের পলক ফেলতে দেবে না যে ভিডিও
অন্য দুনিয়া ডেস্ক : বিষাক্ত সাপের এলাকায় একাকী বেখেয়ালে প্রবেশ করেছিল ছোট্ট একটি শিশু গুই সাপ। অসংখ্য ক্ষুধার্ত বিষাক্ত সাপ তাকে মরণকামড় বসানোর অপেক্ষায়।

শিশু গুই সাপটিকে খাদ্য পরিণত করার লক্ষ্যে তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় সাপগুলোর মধ্যে। এদিকে গুই সাপও প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া। শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে চলেছে? – এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে টুইটারে।

চেষ্টার কোনো শেষ নেই সেটাই দেখিয়ে দিয়েছে ছোট্ট গুই সাপ। হার না মানার জোরেই বেঁচে ফিরেছে বিষাক্ত সাপের চক্রব্যুহ থেকে।

হাড়হিম করা এই ভিডিও চোখের পলক ফেলতে দেবে না আপনাকে। দৃশ্যটি ক্যামেরা বন্দী করেছে প্রকৃতি ও প্রাণী জগত নিয়ে অসাধারণ সব ডকুমেন্টারি নির্মাণের জন্য খ্যাত বিবিসি আর্থ। ‘অসংখ্য বিষাক্ত সাপ বনাম শিশু গুইসাপ’ এর ভিডিওটি রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের।

ভিডিও :
http://www.risingbd.com/%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A6%95-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%93/208424

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Sunday, 6 November 2016

How to wealthy and healthy ? 14 points........

ধনী হওয়ার ১৪ লক্ষণ

জামশেদ আলম রনি : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Nov 2016   07:00:05 AM   Sunday   ||   Updated:06 Nov 2016   03:52:24 PM   Sunday
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

জামশেদ আলম রনি : আমাদের অনেকেই ধনী হতে চাই। ধনী ও গরীবদের ওপর ১২ বছর ধরে গবেষণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিয়ার বিষয়ক এক গবেষক থমাস সি. কর্লি। রিচ হ্যাভিট (ধনী স্বভাব বা অভ্যাস) নামক একটি গবেষণা সাইটে এ সংক্রান্ত গবেষণা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন।

সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডারে তিনি লিখেছেন ধনী হওয়ার ১৪টি লক্ষণ নিয়ে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার রিচ হ্যাভিট গবেষণা মতে, ধনী হওয়া অধিকাংশ লোক ৬৭ ভাগ সমস্যার জ্বালাতন থেকে দূর থাকে। সৈকতের পাড়ে বাড়ি কেনার সামর্থ, রোলেক্স ঘড়ি অথবা বিদেশ ভ্রমণ অর্থাৎ ধনী হওয়া মানে হচ্ছে জীবনে কম সমস্যা, কম সমস্যা মানে কম চাপ, কম চাপ একটি সুস্বাস্থ্যময় এবং সুখী জীবনের সমান।

বিজনেস ইনসাইডারে লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার গবেষণা থেকে ১৪টি লক্ষণ আপনাকে সফলতা এবং সম্পদের পথে ধাবিত করতে পারে। যদি এই ১৪টি গুণ আপনার অধিকারে থাকে, তবে আপনার ধনী হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ঠ বেড়ে যাবে।’

১. আপনি স্বপ্ন বা জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য অনুসরণকারী
আমার গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের চেষ্টায় ধনকুবেরের আশি শতাংশ কিছু স্বপ্ন বা জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য অনুসরণ করে চলেন।

২. আপনি শেখার জন্য প্রতিদিন পড়েন
আপনি একজন উৎসুক পাঠক। আপনাকে শিখতে হলে প্রতিদিন পড়তে হবে। প্রতিদিন প্রায় ঘন্টাখানেক পড়তে হবে। আমার গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৮ ভাগ ধনী লোক প্রতিদিন ৩০ মিনিট বা তারও বেশি সময় কঠোরভাবে জানতে এবং নিজেকে শিক্ষিত করতে ব্যয় করেন।

৩. আপনি চিন্তা করেন একজন মালিকের মতো
আপনার একটি নিজস্ব মানসিকতা আছে। আপনি বড় চিন্তা করতে পারেন। আপনার একটি বড় কল্পনা শক্তি আছে। আপনি যা কিছু করছেন তার মালিক আপনিই। আমার গবেষণায়, ৯১ ভাগ ধনী ব্যক্তিই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।

৪. আপনি দায়িত্বশীলতার দিকে ধাবিত হন
দায়িত্বজ্ঞান থেকে আপনি লজ্জা পান না। বস্তুত আপনি সুযোগ খোঁজেন, যা আপনাকে আরো দায়িত্ববান করে।

৫. ঝুঁকি গ্রহণে আপনি সতর্ক
আপনি সতর্ক এবং ঝুঁকি নিতে বেপরোয়া নন। সতর্ক ঝুঁকি গ্রহণকারী তাদের বাড়ির কাজ করেন, নতুন ধারণা এবং উদ্যোগ তাদের একটি ব্যবসার মধ্যে চালু করার আগে ঝুঁকি নিতে তারা দক্ষতা এবং জ্ঞানকে কাজে লাগান। প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন এবং বিশেষজ্ঞের প্রতিক্রিয়া নেন।

৬. আপনি পদক্ষেপ নেন
আপনি কোনো পদক্ষেপ নিতে ভীত নন।

৭. আপনি ব্যর্থ হওয়াতে ভয় পান না
ব্যর্থতাকে আপনি অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়া অন্য কিছু হিসেবেই দেখছেন না।

৮. আপনি আউটওয়ার্ক করেন
আপনি দিন, সপ্তাহ, মাস এবং বছরব্যাপী কাজ করতে ভীত নন। আমার গবেষণায় দেখা গেছে, ধনী ব্যক্তিরা সপ্তাহে গড়ে ১১ ঘণ্টা বেশি কাজ করেন ধনহীনদের তুলনায়।

৯. আপনি ক্রমাগত দৃঢ়সংকল্প হন এবং লক্ষ্যের পেছনে ছুটেন
আপনি ক্রমাগত দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হন এবং লক্ষ্যের পেছনে ছুটেন জীবনে নিজেকে সামনে এগিয়ে নিতে। আমার গবেষণায়, ধনীদের ৮০ ভাগই লক্ষ্য কেন্দ্রীক। তারা লক্ষ্য অর্জনে অভ্যস্ত হতে অভ্যাস গড়ে তোলেন।

১০. আপনি প্রত্যাশাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন
আপনি উচ্চমান বজায় রেখে চলেন। আপনি অন্যদের প্রত্যশাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন।

১১. আপনি আপনার সম্পর্কের ব্যাপারে অন্ধবিশ্বাসী
যে সম্পর্ককে আপনি মূল্য দেন সেটিতে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে চলেন। আপনি জন্মদিনে ফোন করা, এমনিতে ফোন করা, জীবন ঘটিত কোনো ব্যাপারেও ফোন করেন। আপনি ধন্যবাদ কার্ড পাঠান। আপনি আপনার মূল্যবান সম্পর্কের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মূল্য স্বীকার করে নেন। আপনার মূল্যবান সম্পর্ককে আপনি সোনার মতো দেখেন। সম্পর্ক আপনার কাছে মুদ্রার মতো।

১২. আপনি অন্যের সঙ্গে একমত হন
লোকজন আপনাকে পছন্দ করে। তারা আপনার সঙ্গে কাজ করতে এবং ব্যবসা করতে পছন্দ করে। আপনি লোকদের প্রফুল্ল হতে, সুখী, উৎসাহী এবং আশাবাদী করে তোলেন।

১৩. আপনি একটি সংগঠিত দলের খেলোয়ারের মতো
আপনি মানুষকে পছন্দ করেন এবং তাদের সঙ্গে একমত হতে পছন্দ করেন এবং একটি দলগত পরিবেশে ভালো কাজ করেন। কেউ আপনাআপনি সফল হয়না। প্রত্যেক উদ্যোগী সফল ব্যক্তিদের সফলতার পেছনে কারো না কারো ভূমিকা আছে।

১৪. আপনার অধিকাংশ সম্পর্কই সফলমনা লোকদের সঙ্গে
আপনি সমমনা এবং সফল লোকদের চারপাশে রাখেন।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Mobile and electronics radiations. be careful

স্মার্টফোনের আলো যেভাবে শরীর ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Nov 2016   02:02:41 PM   Sunday   ||   Updated:06 Nov 2016   02:09:12 PM   Sunday
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : আমাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপের স্ক্রিন অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী নীল আলো তৈরি করতে সক্ষম হয়। স্ক্রিনের মধ্যে থাকা এই আলো এতটা উজ্জ্বল যে, আমরা রৌদ্রজ্জ্বল দিনেও তা দেখতে পাই। রাতে তা আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

আর তাই রাতের বেলা অবশ্যই স্ক্রিনে চোখ রাখা বন্ধ করতে হবে, রাতের অন্ধকারে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ব্যবহার খুব ভয়ানক একটি ধারণা।

আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই একটি চক্র অনুসরণ করে চলে যা আমাদের সতর্ক রাখে, দিনের বেলায় জেগে থাকতে সহায়তা করে ও রাতের বেলা প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে সহায়তা করে। কিন্তু যখন ঘুমের প্রস্তুতির সময় যখন আপনি স্ক্রিনে চোখ রাখেন তখন মস্তিষ্ক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্ত হয়।

স্ক্রিনে থেকে নির্গত নীল আলোর সঙ্গে সকালের সূর্যের আলোর অনুরুপ প্রভাব রয়েছে, যা মস্তিষ্কে মেলাটোনিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এটি এমন একটি হরমোন যা শরীরকে সময়মতো ঘুমাতে ইঙ্গিত দেয়। স্মার্টফোনের স্ক্রিনের আলো মেলাটোনিন উৎপাদন ব্যাহত করে স্বাভাবিক ঘুম চক্র নষ্ট করে দেয়।  মেলাটোনিন মাত্রা পরিবর্তনের ফলে মানুষের দেহঘড়ির সময়ের হিসেবে গণ্ডগোল হয়। ফলে বিষণ্ণতাসহ নানা মানসিক সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনিদ্রার অভ্যাস হয় এবং যা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনের নীল আলো চোখের রেটিনার ক্ষতি করে। এ নীল আলোতে বেশি সময় থাকলে তা চোখের ‘সেন্ট্রাল ভিশন’ নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে চোখের কাছে নিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। প্রোস্টেট ও ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়ায়।

নিচের ছবি থেকে দেখে নিন, রাতের অন্ধকারে স্মার্টফোনের স্ক্রিনের আলো যেভাবে শরীর ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে
light_inner

তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Pray for My "Dear DR AR Khan "

ডা. এম আর খান

কর্মে খুঁজেছেন জীবনের স্বার্থকতা

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:06 Nov 2016   08:24:51 AM   Sunday   ||   Updated:06 Nov 2016   10:37:13 AM   Sunday
কর্মে খুঁজেছেন জীবনের স্বার্থকতা
হাসান মাহামুদ : চিকিৎসক, গবেষক, সংগঠক, জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান নিজেই একটি ইতিহাস। তবে সবকিছু অতিক্রম করে দেশে তো বটেই এই উপমহাদেশেও তিনি শিশুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের পথিকৃৎ। ‘মা ও শিশু’ স্বাস্থ্যের কল্যাণে নিরলস কাজ করেছেন। তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ রফি খান। শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ সাধনে সহায়ক অবদান রাখাই ছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য।

মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে রাইজিংবিডি ডটকমের সঙ্গে এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন জীবনবোধ, বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা পরিস্থিতি, দেশে শিশু চিকিৎসা প্রচলনে তাঁর বলিষ্ঠ কর্মতৎপরতার কথা। সাক্ষাৎকারটি নিবন্ধ আকারে তুলে ধরা হলো।

ডা. এম আর খান তাঁর আত্মজীবনী ‘জীবনের জলছবি’তে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন ‘এ জীবন লইয়া কী করিব?’ এ প্রসঙ্গে যখন তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নটি জীবনসায়াহ্নে এসেও আমাকে বিচলিত করে। ভাবি, মানুষের জীবনের প্রকৃত সাফল্য ও সার্থকতা কোথায় নিহিত? আমি এখনো এ প্রশ্নের জবাব খুঁজে ফিরি। প্রত্যেক মানুষই তার নিজ নিজ অবস্থান ও ক্ষেত্র থেকে আর্থসামাজিক বিনির্মাণে অবদান রেখে চলেছেন। একজন কৃষক উদয়াস্ত কঠোর পরিশ্রম করে যেমন করে ফসল ফলান, কিংবা একজন শ্রমিক দিনরাত কায়িক পরিশ্রম করে সচল রাখেন কারখানার চাকা। সেভাবে আমিও আমার অবস্থান থেকে মানুষের জন্য সাধ্যমতো কিছু করে যেতে চাই।’

১৯৪৩ সালে মেট্রিক পাস করার পর এম আর খান ভর্তি হন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। কলেজে পড়াকালীন তিনি হাজী মহসীন বৃত্তি লাভ করেন। ড. কুদরত-ই-খুদা ছিলেন তাঁর সরাসরি শিক্ষক। ১৯৪৬ সালে তিনি ভর্তি হন কলকাতা মেডিকেল কলেজে। মাত্র ৩০ জন মুসলমান ছাত্র ভর্তি হবার সুযোগ পেয়েছিল সেবছর। এর আগে মুসলিম ছাত্রদের জন্য কোটা আরও অনেক কম ছিলো। এম আর খানের নেতৃত্বে ছাত্ররা আসন বৃদ্ধির দাবি জানালে পরবর্তীতে মুসলিম ছাত্রদের ভর্তি কোটা বৃদ্ধি করা হয়।

১৯৫২ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন তিনি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়লেন সামাজিক ও সাংস্কৃৃতিক কাজে। স্থানীয় লোকজন এই সুশিক্ষিত তরুণটিকে প্রতিনিধি বানানোর জন্য উঠেপড়ে লাগল। প্রথমে রাজি না হলেও কাছের মানুষের চাপে শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন। ভাবলেন, ভোটে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান হলে উন্নয়নমূলক ও সেবাধর্মী কাজের প্রসার ঘটানো যাবে। কিন্তু ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তাঁর বন্ধু সিএসপি অফিসারের চক্রান্তে তিনি নির্বাচনে হেরে যান। এরপর অভিমান করে সাতক্ষীরা ছেড়ে খুলনায় গিয়ে ডাক্তারি শুরু করেন।

এই গল্প শুনিয়ে এম আর খান মুচকি হেসে বলেন, ‘হতাশ হইনি। নিজেকে নতুন করে গোছালাম। ছুটলাম যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন ভাবি, ভাগ্যিস সেদিন নির্বাচনে পাস করতে পারিনি! কে জানে, তাহলে কী হতো!’

এরপর এম আর খানকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শুধুই এগিয়ে যাওয়ার পালা। ১৯৫৬ সালে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান এবং বৃটেনের এডিনবার্গ স্কুল অব মেডিসিন-এ ভর্তি হন। সে দেশেই তাঁর চিকিৎসাবিষয়ক মূল পড়াশোনা এবং গবেষণা। অর্থাৎ রসুলপুরের ছনপাতার ছাউনি দেয়া এক বিদ্যালয়ে যে পড়াশোনার শুরু হয়েছিল, তার সমাপ্তি হলো লন্ডন আর বৃটেনের নামকরা মেডিকেল কলেজ থেকে।

জীবনের শুরুতে একটি ব্যর্থতা সামলে নিজেকে কীভাবে নতুন করে সাজালেন? কীভাবে পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবনের অভিধান থেকে ‘অসফল’ শব্দটি হারিয়ে গেল? এ ধরনের প্রশ্নে তিনি স্মিত হেসে বলেন, ‘ছোটখাটো ব্যর্থতা যে নেই তা তো নয়, আছে কিছু অতৃপ্তিও। তারপরও যা করতে চেয়েছি মন থেকে চেয়েছি, সফল হব এই মানসিকতা নিয়ে চেষ্টা করেছি। আমার উদ্দেশ্য পরিষ্কার, আমি মানুষের জন্য কিছু একটা করতে আন্তরিক ছিলাম। তারপর সে লক্ষ্যে পরিশ্রম করেছি।’

রসুলপুর সাতক্ষীরা শহরতলীর একটি গ্রাম। ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট এখানেই এম আর খান জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আলহাজ্ব আব্দুল বারী খান, মা জায়েরা খানম। তাঁদের চার ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। বাবা মা, প্রতিবেশী সকলের কাছে ‘খোকা’ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। রসুলপুর গ্রামের মেয়ে তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়া আনোয়ারা বেগম আনুর সাথে ১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ের নাম দৌলতুন্নেসা (ম্যান্ডি)।
ডা. এম আর খানের নামের পরিবর্তন নিয়ে রয়েছে একটি গল্প। তাঁর ভাষায়, ‘১৯৬৪ সালে আমি যখন রাজশাহীতে বদলী হয়ে গেলাম, দেখি এই অঞ্চলে তখন ‘র’ শব্দটির উচ্চারণ নিয়ে সমস্যা আছে। কেউ আমার নাম বলতো ‘লফি খান’, কেউ ‘নফি খান’। আবার কেউ রফি খান। তখন আমি নাম সংক্ষেপ করে দিলাম, এম আর খান। বর্তমানে এই নামে তিনি দেশে তো বটেই বিদেশেও পরিচিত।

খুলনায় ডাক্তারি করার সময়ই এম আর খান অনুভব করেন শিশুদের সঠিক চিকিৎসা এদেশে নেই। এ ব্যাপারে উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেয়া প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ১৯৫৬ সালে তিনি সস্ত্রীক বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশে ভাল চাকরি ছেড়ে নাড়ির টানে চলে আসেন দেশে। বৃটেনে এমআরসিপি পাস করার পর ম্যানচেষ্টার রিজিওনাল হাসপাতাল বোর্ডের কনসালটেন্ট ডা. ডিকশন এম আর খানকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কেন দেশে ফিরতে চাও?’ উত্তরে এম আর খান বলেছিলেন, ‘আপনার দেশে আমার মতো ডাক্তার হাজারটা আছে, কিন্তু আমার দেশে আমার মতো লোক খুব কম আছে’। (সত্যিই তখন বাংলাদেশে শিশু ডাক্তার কেউ-ই ছিল না)। ডা. ডিকশন বললেন, ‘দেশে তোমাকে খুব স্ট্রাগল করতে হবে।’ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ডা. এম আর খান উত্তরে বলেছিলেন- ‘God will help us.’

দেশে ফেরার পর ১৯৬৩ সালে ডা. খান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসোসিয়েট প্রফেসর অব মেডিসিন পদে যোগ দেন। পরের বছর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক (শিশুস্বাস্থ্য) পদে যোগদান করেন। শুরু হয় সংগ্রাম আর বিজয়ের পালা। কারণ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ডা. এম আর খানকে যখন পাঠানো হয়, সেখানে কোনো শিশু ওয়ার্ডই ছিল না। তখন রাজশাহী মেডিকেল মাত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন একটি হাসপাতালে কোনো ওয়ার্ড ছাড়াই তাঁকে বদলি করা হয়। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রুম আছে কিন্তু বেড নেই, রুগী নেই, শুধু আমি একা। ওয়ার্ডে গিয়ে ফিরে আসতাম, কোনো রোগী ছিল না। যেন ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।’

তিনি নিজ হাতে সাজালেন হাসপাতালের ওয়ার্ডটি। পাশাপাশি রাজশাহী শহরে শিশু চিকিৎসার প্রচলন শুরু করলেন। কিন্তু প্রথম দিকে শিশু ডাক্তার হিসেবে তাঁকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। একদিন এক ভদ্রলোক তো বলেই বসলেন, ‘শিশু ডাক্তার আর পশু ডাক্তারের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।’

তিনি কথাটি কানে তুললেন না। বরং সবাইকে বোঝাতে লাগলেন, শুধু বড়দের জন্য নয়, বাচ্চাদের জন্যও আলাদা ডাক্তার লাগে। রাজশাহী হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ড তিনি নিজ হাতে গড়েছেন। বেড ছাড়া শুরু করে তিনি ৩০ বেড-এর একটি পরিপূর্ণ ওয়ার্ডে পরিণত করেছিলেন এটিকে। এভাবেই তিনি দেশে শিশু চিকিৎসার সূচনা করেন। ১৯৭০ সালে তিনি অধ্যাপক হিসাবে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালের নভেম্বরে তিনি ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রিসার্চ (আইপিজিএমআর) বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এ পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্টে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এটি ছিল সারা বাংলাদেশে প্রথম পোস্ট। তিনি যোগ দিয়েই পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স প্রবর্তন করেন। ধীরে ধীরে তিনি পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্ট আরো উন্নত করেন এবং দেশে পেডিয়াট্রিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। যে কারণে তাঁকে ‘ফাদার অব পেডিয়াট্রিকস ইন বাংলাদেশ’ বলা হয়। ১৯৮৮ সালে অধ্যাপক ডা. এম আর খান তাঁর সুদীর্ঘ চাকরি জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর জীবনেও দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চাননি এতটুকু। কাজের মধ্যেই যিনি বাঁচতে চেয়েছেন তাঁর পক্ষে তা সম্ভবও ছিল না। যে কারণে ১৯৮৮ সালের নভেম্বর থেকে আমৃত্যু তিনি আইপিজিএমআর-এর ভিজিটিং প্রফেসর, ১৯৮৯ সালের জুন থেকে আইসিডিডিআর`বি-এর অনারারি কনসালট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউট্রিশন বিভাগের ‘এমএসসি’ ‘এমফিল’ ও পিএইচডি কোর্সের পরীক্ষক ছিলেন। ১৯৭৮ সালে ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও তাঁর ছিলো অনন্য ভূমিকা। তিনি এই হাসপাতালের শিক্ষক, পরিচালক। তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ধীন জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি। তিনি ১৯৬৫ সালের ১৫ জানুয়ারিতে সর্বপ্রথম কোয়াট্র ভিরিলন ভ্যাক্সিনের প্রবর্তন করেন। এর মাধ্যমে পোলিও মুক্ত আন্দেলনের সূত্রপাত হয়। ‘পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়তে এটিই ছিল প্রথম উদ্যোগ। পরে সরকারিভাবে এই কার্যক্রম আরও জোরালো করা হয়। যা এখন জাতীয় ক্যাম্পেইনে পরিণত হয়েছে। তিনি পোলিও রিভাইটেশন সার্টিফিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

যুগোপযোগী চিকিৎসা, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, সোলার রিনোইবল প্রযুক্তি ও শিশু স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তিনি বিভিন্ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের মিরপুরে ১৯৯৮ সালে ২ একর ২৬ শতক জায়গার ওপর তৈরি করেছেন ‘এডভান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশান’। এর অধীনে বর্তমানে ২৬টি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৬৩ সাল থেকে আমাদের দেশের কোনো মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট দেশের বাইরে যেতে পারত না। কারণ আমাদের দেশের মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের সার্টিফিকেটের কোনো মূল্যায়ন ছিল না। তিনিই প্রথম মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট সার্টিফিকেট কোর্স চালু করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৩ হাজার ৩০০ জন টেকনোলজিষ্ট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ১জন ডাক্তারের জন্য ৭জন টেকনোলজিষ্ট প্রয়োজন। সে হিসেবে সারাদেশে এখনো প্রায় ৪ লাখ টেকনোলজিষ্ট প্রয়োজন। দেশের এই মহাশূন্যতা পূরণে তিনি প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

অধ্যাপক ডা. এম আর খান তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে বহু জাতীয় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির সক্রিয় সদস্য,উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত ‘মা ও শিশু’ স্বাস্থ্যের কল্যাণে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন শিশু বিষয়ক সংগঠন, সংস্থা ও হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে এ দেশের শিশুদের কল্যাণে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন। সামাজিক উন্নয়ন কর্মকা-ের অংশ হিসেবে ডা. এম আর খান বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৮৩ সালে তিনি স্থাপন করেন ‘শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ’। এখান থেকে ৫ লাখ নারী এবং শিশু সরাসরি স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, মাইক্রো ক্রেডিট, পরিবেশ, আর্সেনিক মুক্ত বিশুদ্ধ পানি প্রভৃতি খাতে সাহায্য পাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার মহিলা এখান থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বি হয়েছেন। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে মোট ৬টি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ডা. এম আর খানের সৃষ্টিকর্ম এবং চিকিৎসা কর্মের প্রতি সম্মান জানাতে শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ কর্তৃক ইতোমধ্যে তাঁর জন্মদিন ১ আগস্ট ‘শিশু সেবা দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি তার কর্মময় জীবনের উত্তরসূরীদের সেবামূলক কাজে আরও উদ্বুুদ্ধ করতে ২০১০ সাল থেকে দিনটিতে ‘শিশু বন্ধু স্বর্ণপদক’ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের শিশুবন্ধু স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

ডা. এম আর খান ১৯৯৫ সালে ঢাকার মিরপুরে প্রতিষ্ঠা করেন শিশু হাসপাতাল। বর্তমানে এখানে প্রতিবছর ১ লাখ ৮৬ হাজার শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠা করেন শিশু হাসপাতাল। ২০০০ সালে সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠা করেন ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার এবং যশোর শিশু হাসপাতাল। ২০০৬ সালে ঢাকার মিরপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ’ এবং ২০০৮ সালে ‘ইনস্টিটিউট অব নার্সিং’। ২০ শয্যাবিশিষ্ট এই শিশু হাসপাতালে প্রতিবছর প্রায় ২৫ হাজার শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেশের প্রথম নির্ভরযোগ্য বেসরকারি হাসপাতাল ‘সেন্ট্রাল হাসপাতাল লি.’। এছাড়া ১৯৯৫ সালে তিনি ধানমন্ডি ৭নং সড়কে (বর্তমানে ১১ নং সড়ক) প্রতিষ্ঠা করেন নিবেদিতা মেডিকেল ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ লি.। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, এই ‘নিবেদিতা’ নামটি বেগম সুফিয়া কামালের পরামর্শে গৃহীত হয়। এতসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও গবেষণার কাজও চালিয়ে গেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ৩৮টি গবেষণাধর্মী রচনা প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া তিনি শিশুরোগ চিকিৎসা সংক্রান্ত বই লিখেছেন ৮টি। যা দেশে ও বিদেশে বহুল প্রশংসিত।

ডা. এম আর খান কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশে-বিদেশে বহু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে মনোনীত করে তাঁর প্রতি যোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে। ১৯৮৬ সালে শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে অসামান্য অবদানের জন্য স্বর্ণপদক লাভ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানতুল্য এই কর্মবীর মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু রেখে গেছেন সফলতার অজ¯্র উদাহরণ। তাঁর ভাষায়, ‘গুণ ভরে গুনী যারা, কত নত হয় তারা, তোষে সবাকার মন করিয়া বিনয়’। তাঁর মতে, ‘এমন একটি কর্মময় জীবনের স্বপ্নই তো দেখতাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই কাজ করে যেতে চাই। কাজ ছাড়া সাফল্য আসে না। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের রহস্য হলো; ‘কাজ, কাজ আর কাজ।’ তিনি বলেন, ‘কাজের আমি, কাজের তুমি, কাজ দিয়ে যায় চেনা। কারণ মানুষের পরিচয় হলো তার কাজে’।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ নভেম্বর ২০১৬/হাসান মাহামুদ/তারা