Monday, 2 May 2016

pink color sea beach

গোলাপী বালুর সৈকত

মারুফ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:01 May 2016   08:23:53 AM   Sunday   ||   Updated:02 May 2016   06:23:11 PM   Monday
গোলাপী বালুর সৈকত
ভ্রমণ ডেস্ক : সমুদ্র দেখতে কে না ভালোবাসেন? সামনে বিশাল জলরাশি। দিগন্ত বিস্তৃত সৈকতে বসে আছেন আপনি। যতদূর চোখ যাচ্ছে শুধু জল আর জল। সৈকতে সচরাচর সাদা অথবা সোনালী বালি দেখে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু একবার ভাবুন তো, এই বালির রং যদি গোলাপী হয় তাহলে কেমন হবে? বালির রঙের কারণে সৈকতটাও সম্পূর্ণ গোলাপী রং ধারণ করেছে।

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন। গোলাপী রঙের সৈকত। বিশ্বের এমন কয়েকটি স্থান রয়েছে যেখানে এমন দেখা যায়। আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে কীভাবে সৈকতের রং গোলাপী হলো। এর ব্যাখ্যাও কিন্তু আছে।

বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর লাল অঙ্গ, আঁশ বা প্রবালের উপরিভাগের মিশ্রণের ফলে এমন ঘটে। সমুদ্রের পানিতে ভেসে এগুলো সৈকতে আছড়ে পড়ে। এরপর বালির সঙ্গে মিশে গোলাপী রং ধারণ করে। এছাড়া মাঝে মাঝে সামুদ্রিক প্রবালের ক্যালসিয়াম কার্বনেটের সঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণীর বিভিন্ন অংশ যেমন কাকড়ার ওপরের লাল রঙের খোসা এবং বালি মিলিয়ে সৈকত গোলাপী হয়ে ওঠে। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের কয়েকটি গোলাপী সৈকতের কথা।

পিংক বিচ অব হার্বার আইল্যান্ড (বাহামাস) : আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত বাহামাসের একটি দ্বীপ হার্বার আইল্যান্ড। বিশ্বের যতগুলো গোলাপী রঙের সৈকত রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এটি। দৈর্ঘ্য প্রায় তিন মাইল। বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর আঁশ এবং বালির মিশ্রণে গড়ে উঠেছে এই গোলাপী রঙের বিচ। বিচের এক গ্রাম পলিতে প্রায় একশরও বেশি জীবন্ত প্রাণী এবং মৃত আঁশ পাওয়া যায়।



বনারে পিংক বিচ-ডাচ ক্যারাবিয়ান আইল্যান্ড : ক্যারিবীয় সাগরের লিওয়ার্ড  অ্যান্টিলসের একটি দ্বীপ বনারে। দক্ষিণ আমেরিকার এবিসি অ্যাইল্যান্ডের আরুবা এবং কিউরাসাওয়ের সঙ্গে মিশেছে এ দ্বীপটি। বিশ্বের যত সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীপ রয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। বৃক্ষরাজি আর গোলাপী বালির বিচ এটির সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। লাখ লাখ সমুদ্র অনুজীবের গোলাপী গুড়ো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিচটিতে। ওয়াটার স্পোর্টসের জন্য বেশ ভালো স্থান এটি।



টাংসি বিচ অব লমবোক-ইন্দোনেশিয়া : পশ্চিম নুসা তেয়গারায় অবস্থিত লমবোক একটি ইন্দোনেশিয়ান দ্বীপ। এটির টাংসি বিচ বা গোলাপী বিচ এটিকে পৃথিবীর অন্যান্য বিচ থেকে আলাদা করেছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য বিচ থেকে। এছাড়া এটির অবস্থান, মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং জনসংখ্যা কম হওয়ায় সবার কাছে এটি বেশ আকর্ষণীয় স্থান।



ব্যালোস ল্যাগুন বিচ অব ক্রিট-গ্রিস : জনশূন্য এ গ্রীক দ্বীপটি ক্রিটের সমুদ্রতীরে অবস্থিত।  এ বিচের অগভীর এবং উষ্ণ পানি পর্যটকদের এক অসাধারণ অনুভূতি দেয়। লাখ লাখ গোলাপী সামুদ্রিক অনুজীব বালির সঙ্গে মিশে এ দ্বীপের রঙ গোলাপী করেছে। এ বিচকে ঘিরে রয়েছে পাহাড়।



পিংক বিচেস অব বারমুডা-ক্যারাবিয়ান সী : বারমুডা এবং অ্যান্টিগুয়া এ দুই বিচের একটি এটি। ক্যারাবিয়ান সাগর এবং অ্যাটলান্টিক সাগরের মাঝে অবস্থিত এ দ্বীপ। গোলাপী বালি এবং গোলাপী বিচ এটিকে অপরূপ সৌন্দর্য দান করেছে। এটি অন্যতম প্রসস্ত একটি বিচ।



পিংক বিচ অব গ্রেট সান্তা ক্রুজ আইল্যান্ড-ফিলিপিাইন : ফিলিপাইনের জামবোঙ্গা শহরের অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ গ্রেট সান্তা ক্রুজ বিচ। এটি গোলাপী বিচগুলোর মধ্যে একটি। ফিলিপাইনের মধ্যে একমাত্র গোলাপী রঙের দ্বীপ এটি।  এ দ্বীপটির রঙ এমন হওয়ার কারণ বিভিন্ন সামুদ্রিক অনুজীব এবং প্রবালের লাল রঙের গুড়ো এবং বালির মিশ্রণ।



হর্সসু বে বিচ-বারমুডা : উত্তর আটলান্টিক সাগরের একটি অঞ্চল বারমুডা। এখানে ছোট বড় বেশ কয়েকটি দ্বীপ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হর্সসু দ্বীপ। সমুদ্রের পানিতে প্রবাল এবং বিভিন্ন অনুজীবের ক্ষুদ্রাংশ এসে বালির সঙ্গে মিশে এ বিচের রঙ গোলাপী হয়েছে। সবুজাভ নীল রঙের পানি এবং গোলাপী রঙের বিচ দ্বীপটিকে অপরূপ সৌন্দর্য দান করেছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ মে ২০১৬/মারুফ

Company registration fee info


Walton BD 5% Discount

কোম্পানি নিবন্ধনে এখন দ্বিগুণ ফি

নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:02 May 2016   05:26:12 PM   Monday   
কোম্পানি নিবন্ধনে এখন দ্বিগুণ ফি
সচিবালয় প্রতিবেদকে : এখন থেকে কোম্পানি নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ‘ফি’ দিতে হবে দ্বিগুণ। যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক (আরজেএসসি) কোম্পানি আইন অনুযায়ী এসব ফি আদায় করা হবে।

ফি দ্বিগুণ করে সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর তফসিল ২ এ উল্লিখিত ফিস (কর বহির্ভূত রাজস্ব) পুনর্নির্ধারণ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ‘ফি’ দ্বিগুণ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে তফসিলটি যখন পুনর্বিন্যাস করা হয়, তখন কিছু ফি বৃদ্ধি করা হয়। এরপর ৮ বছর পর এটা আবার পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শফিউল আলম বলেন, ‘শেয়ার মূলধন সম্পন্ন কোম্পানির নিবন্ধন ফি (কোম্পানির শেয়ার মূলধন সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা) ৩৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। শেয়ার ২০ মূলধন ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি ১০ হাজার টাকা বা এর অংশ বিশেষের জন্য ফি ১৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতি ১০ হাজার বা এর অংশ বিশেষের জন্য নিবন্ধন ফি ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। প্রথম, ১০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতি ১০ হাজার টাকা বা এর অংশ বিশেষের ফিস ২৪ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ টাকা করা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোম্পানি আইনের অধিনে প্রয়োজনীয় বা অনুমোদিত কোনো কিছু রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করানোর ফিস ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে রিসিভার নিয়োগ নিবন্ধন ফি ২০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪০০ টাকা করা হয়েছে।

শেয়ার-মূলধনবিহীন কোনো কোম্পানি এবং ধারা ২৮-এর অধীন দেওয়া লাইসেন্সের ভিত্তিতে নিবন্ধিত কোম্পানির ফি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান সচিব। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সংঘবিধি অনুসারে কোনো কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ জন হলে এ কোম্পানি নিবন্ধন ফিস ৬০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। সদস্য সংখ্যা ২০-এর বেশি কিন্তু ১০০ জনের বেশি না হলে এক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।

শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংঘ স্মারকের ফি ৩০০ টাকার স্থলে ৬০০ টাকা হয়েছে। অন্যান্য দলিলের ফি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ক্ষেত্রে নথিপত্র পরিদর্শন ও সত্যায়িত অনুলিপির জন্য ফি ১০০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা হয়েছে।

তিনি দ্বিগুণ ফি’র যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের রাজস্ব সংগ্রহজনিত বাধ্যবাধকতা আছে। এ খাতে আমরা ৭০ কোটি টাকার মতো পাই। যেহেতু আমাদের অর্থনীতির আকার অনেক বড়, এ জন্য এটাকে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা অনুমোদিত হওয়ার প্রেক্ষিতে এ খাত থেকে রাজস্ব দ্বিগুণ হবে। আমরা আশা করছি, এখন ৭০ কোটির স্থলে দেড়শ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।’


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ মে ২০১৬/নঈমুদ্দীন/বকুল

Sunday, 1 May 2016

HIlsha size look - visit Beautiful Bangladesh

দুই মাস পর শুরু হলো ইলিশ ধরা

জি এম শাহীন : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:01 May 2016   12:02:44 PM   Sunday   ||   Updated:01 May 2016   12:29:09 PM   Sunday
মাছ ধরছেন জেলেরা

মাছ ধরছেন জেলেরা

চাঁদপুর প্রতিনিধি : সরকারি নিষেধাজ্ঞায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় রোববার থেকে শুরু হয়েছে জেলেদের মাছ ধরা।

মৎস্য আইন অনুযায়ী ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল- এই দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ সারা দেশের সাড়ে ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ ছিল । এ সময় ইলিশ মাছ ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা উৎসবমুখর পরিবেশে বিনা বাধায় মাছ ধরা শুরু করেছেন ভোর থেকেই ।

ওই দুই মাস তালিকাভুক্ত জেলেদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা যেমন ছিল, তেমনি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ শিকার করলে শাস্তির বিধানও ছিল। তবে সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য বলে জানান জেলেরা।

মৎস্য বিভাগের হিসাবে জাটকা রক্ষায় অভয় আশ্রম কর্মসূচি চলাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা শিকারের দায়ে গত দুই মাসে ২৯০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২৪০ জেলেকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রাজরাজেস্বরের জেলে হাসিম ব্যাপারী জানান, সরকার যদি পর্যাপ্ত সহযোগিতা দিত তাহলে কোনো জেলেই নিষেধজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরতে যেত না। পেটের দায়েই নদীতে যায় জেলেরা ।

অবশ্য চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা জাটকা রক্ষা টাস্কফোর্সের প্রধান আবদুস সবুর মণ্ডল বলেন, জেলেদের আগামী বছর থেকে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিবছর জেলেদের ব্যাংক হিসাবে নগদ সহায়তা এবং প্রতি মাসে ৪০ কেজি চালের পরিবর্তে ৮০ কেজি চাল দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, গত বছর ১৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ ধরা হয়। আসছে মৌসুমে এর পরিমাণ ৪ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে।


 রাইজিংবিডি/চাঁদপুর/১ মে ২০১৬/জি এম শাহীন/ইভা/ এএন

Saturday, 30 April 2016

BIll gate's vission

বিল গেটসের সাক্ষাৎকার

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অস্ত্র

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:30 Apr 2016   10:52:58 PM   Saturday   ||   Updated:01 May 2016   08:47:33 AM   Sunday
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অস্ত্র
শাহিদুল ইসলাম : বাকি মাত্র সাত মাস। এ বছরের ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র তার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে। আসন্ন এই নির্বাচন নিয়ে দেশটির রাজনীতির মাঠ এখন রীতিমতো গরম।

ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দল থেকে কোন দুই প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ ও জল্পনা-কল্পনা। প্রার্থীরাও রাত-দিন এক করে চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিটি রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত। সম্ভাব্য প্রত্যেক প্রার্থী প্রকাশ করেছেন তাদের প্রাথমিক নির্বাচনী ইশতেহার। এর মাধ্যমে কে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন, কোন কোন খাতে সংস্কার আনবেন- তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রত্যেকের ইশতেহারে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। পুঁজিবাদের তীর্থস্থান মার্কিন মুল্লুকের নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রার্থীরা দেশের জন্য বৈচিত্র্যময় কিছু করতে চাইবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। তবে মার্কিন ধনকুবের মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস মনে করেন, এই বৈচিত্র্যে মধ্যে সব প্রার্থীকে একটি বিষয়ে সিদ্ধান্তে একমত হয়ে তার ওপর জোর দিতে হবে। আর সেটা হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিস্তারে অধিক মনোযোগী হওয়া।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। আমরা প্রায় দুই শতাব্দী পৃথিবীকে উদ্ভাবনী বিশ্বের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। টমাস আলভা এডিসন, মার্গারেট নাইট, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের মতো বিখ্যাত মার্কিন বিজ্ঞানীদের এক একটি আবিষ্কার গোটা বিশ্বকে এক একটি শতাব্দী সামনের দিকে এগিয়ে দিয়েছে।


তিনি আরো বলেন, উদ্ভাবন ও আবিষ্কার খাতে সরকারের বিনিয়োগ শুধু মার্কিন জনগণের কল্যাণে ব্যয় হয় না। তা গোটা মানব জাতির জন্য ব্যয় হয়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার শুধু তার নাগরিকদের নয় গোটা বিশ্ববাসীকে সেবা করে। অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন, নিজ দেশে মার্কিন সরকারের উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগ কীভাবে বিশ্ববাসীর সেবা করে? এ প্রশ্নেরও বিশ্লেষণাত্মক ব্যাখ্যা বিল গেটস তার সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে কম্পিউটার, স্বাস্থ্যসেবা, বিকল্প জ্বালানি, মোটরগাড়ি শিল্প, বিমান শিল্প, ইলেট্রিক ও ইলেকট্রনিকস এবং ওষুধ শিল্পে মার্কিন সরকার ব্যাপকহারে বিনিয়োগ করে আসছে। ফল মিলেছে হাতে হাতেই। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে এসব পণ্য সারা বিশ্বেই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিনিয়োগ ছাড়া তা কখনোই এতটা সহজলভ্য হতো না।

বিল গেটস রয়টর্সকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারে বলেন, ষাটের দশকে কম্পিউটার যখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে তখন যুক্তারাষ্ট্র সরকার কম্পিউটার শিল্পে বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ শুরু করে। ব্যাপক এ বিনিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার শিল্পের বিকাশ ঘটে, আবিষ্কৃত হয় মাইক্রোচিপ, গঠিত হয় মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, ওই সময়ে যদি সরকার কম্পিউটার শিল্পে পৃষ্ঠপোষকতা না করত, তাহলে হয়তো মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানি হতো না। আর পৃথিবীতে কম্পিউটারও এত সহজলভ্য হতো না।

কম্পিউটারের পরই তিনি তার সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য খাতে মার্কিন সরকারের বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগের ফলে যুক্তারাষ্ট্রে বিখ্যাত সব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বায়োটেক কোম্পানি ও গবেষণাগার গড়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ দেশে যেমন সেবা দিচ্ছে পাশাপাশি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগ নিরাময়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে কাজ করছে।

বিল গেটসের মতে, গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে ক্যানসার, ইবোলা, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, জিকা ও পোলিওর মতো প্রাণঘাতী রোগ নিরাময়ে যে গবেষণা হয়েছে, তার বেশির ভাগ কৃতিত্বের দাবিদার মার্কিন গবেষণাগারগুলো, যা প্রকারান্তে মার্কিন সরকারেরই সফলতা। তেল এবং কয়লার বাইরে আজকের দিনে যে বিকল্প জ্বালানি অর্থাৎ সৌরবিদ্যুৎ বা বায়ুবিদ্যুতের কথা ভাবা হচ্ছে তা প্রথম দিকে মার্কিন সরকারের অর্থায়নে বিকাশ লাভ করেছিল। তিনি বলেন, ১৯৭৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মার্কিন সরকার বিকল্প জ্বালানি উদ্ভাবন গবেষণায় প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ সামনের দিনগুলোতে অব্যাহত থাকবে। সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনি বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার ৪৫তম প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করবে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার ভিশন অনুযায়ী তার মিশন পরিচালনা করবেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন-  যিনিই নির্বাচিত হবেন তিনি অবশ্যই উদ্ভাবনী খাতে অন্যান্য প্রেসিডেন্টের মতো তার বিশেষ নজর রাখবেন। কারণ উদ্ভাবনী শক্তিই যুক্তরাষ্ট্রের এগিয়ে যাওয়ার গোপন অস্ত্র।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ এপ্রিল ২০১৬/রাসেল পারভেজ

IPU 2017 assembly in Dhaka

২০১৭ সালে আইপিইউ অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়

নিয়াজ : রাইজিংবিডি ডট কম
Published:30 Apr 2016   03:04:59 PM   Saturday   
২০১৭ সালে আইপিইউ অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়
সংসদ প্রতিবেদক : ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম অ্যাসেম্বলি ২০১৭ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও আইপিইউর এর মধ্যে একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শনিবার সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং আইপিইউর পক্ষে সংস্থাটির মহাসচিব মার্টিন চুংগুং শুক্রবার লন্ডনের হাউজ অব লর্ডসে এই এমওইউ স্বাক্ষর করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জাননো হয়, আইপিইউ অ্যসেম্বলিতে বিশ্বের ১৬৮টি দেশের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আইপিইউর সদস্য পদ লাভ করে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী আইপিইউর বর্তমান প্রেসিডেন্ট।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ এপ্রিল ২০১৬/নিয়াজ/ইভা